ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর – ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে গভীর ও সুসংগঠিত ধারণা অর্জনের জন্য ১ম পত্রের ১ম অধ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পোস্টে আমরা সেই গুরুত্বপূর্ণ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর সহজ ভাষায় উপস্থাপন করেছি । শিক্ষার্থীরা যাতে পরীক্ষায় ভালো করতে পারে, সেই লক্ষ্যেই প্রতিটি উত্তরে রাখা হয়েছে সঠিক ব্যাখ্যা, প্রাসঙ্গিক উদাহরণ এবং পরীক্ষা ভিত্তিক উপস্থাপন। তাই ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক উপকারি হিসেবে কাজ করবে।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন-১ঃ জামান একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের এমএ ক্লাসের ছাত্র। তিনি গ্রামীণ অর্থনীতির উপর মাঠকর্মীর কাজ করতে গিয়ে নদীর তীরে অবস্থিত একটি গ্রামে যান। লক্ষ করেন, অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ নিয়ে ব্যস্ত। মাঠের মাঝে মাঝে ত্রিকোণাকার পাথরের স্থাপনা তার চোখে পড়ে। কৃষকদের সাথে তাদের আয়- রোজগার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দেখেন, তাদের ফসলের যাবতীয় হিসাবে একটি খাতায় যোগ-বিয়োগ করে রেখেছে।
ক. “হায়ারোগ্লিফিক’ শব্দের অর্থ কী?
খ. ফারাও কাদের বলা হতো এবং কেন?
গ. উদ্দীপকে জামান যে গ্রামে গিয়েছিলেন সেই গ্রামবাসীর জীবনযাপনের সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ত্রিকোণাকার পাথরের স্থাপনা পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
০১ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. পবিত্রলিপি ।
খ. ফারাও ছিলেন মিশরীয় রাজা। পবিত্র কুরআনে এদের ‘ফেরাউন’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। প্রচণ্ড ক্ষমতাধর ও বিশাল প্রাসাদে বসবাসকারী রাজার উপাধি ছিল ফারাও; যার অর্থ হলো বৃহৎ গৃহ। প্রাক-রাজবংশীয় যুগের অবসানের মধ্য দিয়ে ‘ফারাও’ যুগের সূচনা হয়। এ বংশ দীর্ঘ ৮০০ বছর অত্যন্ত দাপটের সাথে রাজ্য শাসন করেছে।
মূলকথা : ফারাওরা ছিলেন অত্যন্ত শক্তিশালী শাসক।
গ. উদ্দীপকে জামান যে গ্রামে গিয়েছিলেন সেই গ্রামবাসীর জীবনযাপনের সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সাদৃশ্য রয়েছে। কারণ, উদ্দীপকে উল্লেখিত গ্রামের ন্যায় মিশরীয় সমাজব্যবস্থাও ছিল কৃষিনির্ভর। এ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীলনদকে কেন্দ্র করে।
কৃষি উৎপাদনই প্রাচীন মিশরীয়দের প্রধান জীবিকা হওয়ায় এ সময় কৃষিকে কেন্দ্র করেই বসতি স্থাপন, বাঁধ নির্মাণ, সেচব্যবস্থার বিকাশ ও ক্ষুদ্র শিল্পের বিকাশ অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ছিল। পুনর্জীবনে বিশ্বাসী মিশরীয়রা প্রকাণ্ড সব সৌধ বানাতে ছিল সিদ্ধহস্ত। এসব সৌধ ত্রিভুজাকৃতির ছিল যা পিরামিড নামে পরিচিত ছিল। সভ্যতার বিকাশে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। তারাই সর্বপ্রথম লিখনপদ্ধতি আবিষ্কার করে যা হায়ারোগ্লিফিক নামে পরিচিত।
লিখনপদ্ধতির আবিষ্কৃত হওয়ায় তারা শস্যের উৎপাদনের পরিমাণ, উৎপাদন খরচ, সংসারের খরচ, কারিগরদের বিভিন্ন দ্রব্য তৈরির পরিমাণ ও মূল্যমান ইত্যাদি হিসাব-নিকাশ লিখে রাখত। আর এভাবে তারা যে গণনাপদ্ধতির আবিষ্কার করেছিল তা থেকেই গণিতশাস্ত্রের সৃষ্টি হয়েছিল। তারাই সর্বপ্রথম জ্যামিতি ও পাটিগণিতের উদ্ভাবন করে এবং যোগ-বিয়োগ ও ভাগ পদ্ধতিও আয়ত্ত করেছিল। পিরামিড তৈরির জন্য জ্যামিতিক জ্ঞান অপরিহার্য ছিল; এ থেকে তারা প্রথম কৌণিক, ত্রিভুজ, আয়তক্ষেত্র ও ষড়ভূজের আবিষ্কার করে।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ত্রিকোণাকার পাথরের স্থাপনার সাথে মিশরীয় সভ্যতার পিরামিডের সাদৃশ্য রয়েছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো- মিশরীয়দের শ্রেষ্ঠ স্থাপত্যিক নিদর্শন পিরামিডগুলো। মিশরীয়রা মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস করাত। তারা বিশ্বাস করত ফারাওয়ের মৃত্যুর পর তার আত্মা স্বর্গে চলে যায় এবং সেখানে দেবতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
কিন্তু মৃত ফারাওয়ের শরীর পচে গেলে এ ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। এজন্য তারা মৃতদেহকে প্রক্রিয়াজাত করে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করত। এ মৃতদেহগুলোকে যে স্থানে কবর দেওয়া হতো সেসব স্থান আগে থেকেই তৈরি করে রাখা হতো। এসব কবরে দেওয়া হতো সিন্দুকভর্তি অমূল্য গহনা, ধাতব, দারুণ সব তৈজসপত্র, মুদ্রা এবং দামি কাপড়।
মৃত ফারাওয়ের দেহ ও মূল্যবান এসব সামগ্রীর নিরাপত্তার জন্য প্রাচীন মিশরীয়রা বড় বড় পাথরখণ্ড কেটে এসব পিরামিড নির্মাণ করেছিল, পিরামিডগুলো ছিল জ্যামিতিক ত্রিভুজের আকৃতিতে তৈরি অতি উঁচু সমাধিসৌধ। প্যান্টাজেনেট সমারসেট ফ্রাই (দ্য হিস্ট্রি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড)-এর বর্ণনা মতে, জোসের প্রথম ফারাওর কবরে গড়ে উঠেছে প্রথম পিরামিড। এ পিরামিডের নাম ‘স্টেপ পিরামিড’।
ইসহোটেপ নামে এক প্রভাবশালী ভাস্কর এ পিরামিডটি প্রস্তুত করেন। এ পিরামিডটির উচ্চতা ২০০ ফুট। মিশরে আরও অনেক পিরামিড আছে, এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হলো ফারাও খুফুর পিরামিড। ১.৩ একর জমির উপর নির্মিত এ পিরামিডটির দৈর্ঘ্য ৭৫৫ ফুট ও ৪৮১ ফুট যা নির্মাণ করতে ১ লাখ শ্রমিকের ২০ বছর সময় লেগেছিল।
মূলকথা : মিশরীয় স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন হলো পিরামিড।
সৃজনশীল প্রশ্ন-২। গ্রামের ছেলে রহিম প্রথমবার শহরে আসে। শহরের অদূরে একটি ব্যাপক পরিসর জায়গায় লোকজনের সমাগম দেখে উৎসুকচিত্তে সেখানে যায়। সে দেখে, একটি মঞ্চে একজনের পর একজন কবিতা আবৃত্তি করছে। আবৃত্তি শেষে সাতজনকে পুরস্কৃত করা হয়। রহিম লক্ষ করে, মঞ্চের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের জিনিসের পসরাও বসানো হয়েছে। বইয়ের প্রদর্শনীও রয়েছে। সে একটি বই পড়ে দেখে, সেখানে কবিতার ছন্দে লেখা হয়েছে বংশের গৌরবগাথা, বীরত্বপূর্ণ কাহিনি ।
ক. ত্রিত্ববাদে বিশ্বাসী কারা?
খ. হানিফ সম্প্রদায়ের পরিচয় বর্ণনা কর।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত কবিতা আবৃত্তির সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের কোন প্রতিযোগিতার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে শহরের অদূরে কেন কবিতা আবৃত্তির আয়োজন, বিভিন্ন জিনিসের পসরা, কবিতার ছন্দে লেখা বইয়ের প্রদর্শনী বসানো হয়েছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে তুলে ধর।
০২ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. খ্রিষ্টানগণ।
খ. অন্ধকার যুগেও আরবের মদিনা নগরীতে মুষ্টিমেয় কিছু লোক একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। তারা যতন্ত্রভাবে ধর্মীয় জীবনযাপন করতেন এবং কোনো প্রকার পূজায় অংশ নিতেন না। পৌত্তলিক আরবে এই শ্রেণির জনগোষ্ঠী ‘হানিফ সম্প্রদায়’ নামে পরিচিত ছিল। তারা বিশ্বাস করতেন যে, তারা হজরত ঈসা (আ) ও হজরত ইদ্রিস (আ) এর অনুসারী। বিবি খাদিজার চাচাতো ভাই ওরাকা-বিন-নওফেল, উমাইয়া-বিন আবি-সালাত, জায়েদ, কবি জুহাইর প্রমুখ হানিফ সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ।
মূলকথা : হানিফা সম্প্রদায় একেশ্বরবাদে বিশ্বাসী ছিল।
গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত কবিতা আবৃত্তির সাথে প্রাক-ইসলামি আরবের উকাজ মেলায় অনুষ্ঠিত কাব্য প্রতিযোগিতার সাদৃশ্য রয়েছে। গীতিকাব্য ও সাহিত্যচর্চা : প্রাক-ইসলামি যুগে আরবরা গীতিকাব্য ও সাহিত্যচর্চায় ব্যাপক ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিল। এ সময় অনেক আরবি গীতিকাব্য বা কাসিদা রচিত হয়েছিল। নিজ বংশের গৌরবগাথা ও বিভিন্ন যুদ্ধের বর্ণনার উপর ভিত্তি করে এসব গীতিকাব্য রচিত হতো।
কবিতাচর্চা ও কবিতা প্রতিযোগিতা : আধুনিক যুগের ন্যায় শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জাগরণ না থাকলেও এ সময় আরবগণ কাব্যচর্চার প্রতি বিশেষ মনোযোগী হয়ে পড়েছিল। তাদের ভাষাজ্ঞান উন্নত ছিল, কবিতা রচনা সাহিত্য ও বাগ্মিতায় তারা বিশেষ প্রতিভার স্বাক্ষর বহন করত। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে। কবিতাচর্চা করত। এ সময় আরবগণ উকাজ মেলায় তাদের রচিত কবিতা নিয়ে কবিতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করত এবং শ্রেষ্ঠ কবিতার লেখককে পুরস্কৃত করা হতো।
প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সাতটি কবিতা সোনালি অক্ষরে লিপিবদ্ধ করে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো-এ জন্য একে বলা হতো সাব’আ- মুয়াল্লাকাত। ঐ সময়কার উল্লেখযোগ্য কবি ছিলেন আমর ইবন ‘ কুলসুম, লাবিদ ইবন রাবিয়া, আনতারা ইবন শাদ্দাদ, ইমরুল কায়েস, তারাফা ইবন আল-আদ, হারিস ইবন হিল্লিজা, জুহাইর ইবন আবি সালমা প্রমুখ। এদের কবিতাগুলো কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল । সুতরাং বলা যায় উদ্দীপকে উল্লেখিত কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার সাথে উকাজ মেলায় আয়োজিত কাব্য প্রতিযোগিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
মূলকথা : উকাজ মেলার কাব্য প্রতিযোগিতার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. প্রাক-ইসলামি আরবে অনুষ্ঠিত উকাজ মেলার ন্যায় উদ্দীপকে শহরের অদূরে আয়োজিত মেলায় কবিতা আবৃত্তির আয়োজন, বিভিন্ন জিনিসের পসরা, কবিতার ছন্দে লেখা বইয়ের প্রদর্শনী বসানো হয়েছে।
প্রাক-ইসলামি যুগে আরবদের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল তাদের বাগ্মিতা। তাদের ভাষাজ্ঞান ছিল উন্নত। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কবিতাচর্চা ও বাগ্মিতায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। এ সময় আরবগণ মক্কার অদূরে উকাজের বার্ষিক মেলায় তাদের রচিত কবিতা নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করত। পি. কে. হিট্টি উকাজ মেলাকে আরবের ‘Academic Franchise’ বলে অভিহিত করেন ।
তাই প্রাক-ইসলামি যুগে আরবদের সাংস্কৃতিক জীবনে উকাজ মেলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। প্রতিবছর হজ মৌসুমে মক্কার নিকটবর্তী উকাজ নামক স্থানে এ মেলা বসত। এ মেলায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বিভিন্ন পণ্যদ্রব্য প্রদর্শিত হতো। তবে এ মেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল এর কাব্য প্রতিযোগিতা। প্রতিবছর এখানে কবিতা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতো এবং শ্রেষ্ঠ কবিতাকে কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো যা ‘সাব’আ-মুয়াল্লাকাত’ নামে পরিচিত ছিল।
পি.কে হিট্টির মতে, “ইসলাম পূর্ব দিনগুলোতে উকাজ মেলা আরবে একধরনের মতবিনিময়ের শিক্ষায়তন বলে গণ্য হতো।” অনুরূপভাবে উদ্দীপকে রহিম শহরের অদূরে ব্যাপক পরিসর জুড়ে কবিতা আবৃত্তির মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে আবৃত্তি শেষে সাতজনকে পুরস্কৃত করা হয়। তাছাড়া সেখানে উকাজ মেলার ন্যায় বিভিন্ন ধরনের জিনিসেরও পসরা বসানো হয়। সুতরাং বলা যায়, সেখানে উকাজ মেলার ন্যায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
মূলকথা : উকাজ মেলার ন্যায় মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -৩। শাহিন একটি বিশেষ এলাকার জাতি-গোষ্ঠীর সম্পর্কে পর্যালোচনা করেন। এই জাতির লোকেরা প্রাচীনকালে বায়দা ও বাকিয়া নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে তারা আরিবা ও মুস্তারিবা | নামে খ্যাতি লাভ করে। এই জার্ভি অবস্থান অনুসারে উত্তর ও দক্ষিণ- এই দুই ভাগে বিভক্ত।
ক. পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম উপদ্বীপের নাম কী?
খ. উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হয় কেন?
গ. শাহিনের পর্যালোচনাকৃত জাতির পরিচয় কোন জাতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? দেখাও
ঘ. শাহিনের পর্যালোচনাকৃত জাতির উপর ভৌগোলিক প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ০৩
ক. পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম উপদ্বীপ আরব দেশ।
খ. উটকে মরুভূমির জাহাজ বলা হতো। কারণ, মরুভূমির বিস্তীর্ণ তার পথে উটই আরববাসীর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল। শুধু যাতায়াতের প্রয়োজনেই নয়, উটের দ্বারা মেয়ের বিয়ের যৌতুক পরিশোধ করা এবং রক্তপাতের মূল্য দেওয়া হতো। আরবের জীবনযাত্রাকে বেগবান করতে এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। এমনকি বিজয় অভিযানেও এই উট ব্যবহৃত হতো। এককথায়, উট ছিল যাযাবর আরবদের কাছে ধাত্রীসম/
মূলকথা : উট বেদুইন আরবদের জীবনযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
গ. শাহিনের পর্যালোচনাকৃত জাতির মধ্য দিয়ে প্রাচীন আরব জাতির পরিচয় পাওয়া যায়। আরব উপদ্বীপের আদিম অধিবাসীরা স্বকীয়তা এবং স্বাতন্ত্র্যবোধে উদ্দীপ্ত হয়ে অধুনালুপ্ত ‘বায়দা’ ও ‘বাকিয়া’ এই দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। পরবর্তীতে আদ ও সামুদ এবং তাসম ও জাদিস প্রভৃতি জাতিগুলোর অভ্যুত্থানে প্রাচীন ‘বায়দা’ গোত্রগুলো বিলুপ্ত হয়।
তবে অধুনালুপ্ত বায়দা গোত্রের উত্তরাধিকারী বাকিয়া জাতি বর্তমান আরব ভূখণ্ডের প্রধান অধিবাসী এবং এই বাকিয়া জাতি আবার প্রকৃত আরব বা আরিবা এবং আরবিকৃত আরব বা ‘মুস্তারিবা’ এই দুই ভাগে বিভক্ত। সর্বাপেক্ষা আদিম ও নিষ্কলুষ রক্তের অধিকারী আরিবা গোত্র কাহতানের বংশোর ত। কাহতান বংশের অভ্যুত্থান হতেই আরব জাতির প্রকৃত ইতিহাসের সূত্রপাত হয়।
রক্তের পবিত্রতা রক্ষার জন্য মুস্তারিবা গোত্রের তুলনায় আরিবা গোত্র অধিক ক্ষমতাশালী ছিল। মদিনায় হিজরতের পর মহানবি (স.) মূলত এদেরই সহায়তা লাভ করেন। অপরদিকে মোস্তারিবা গোত্রের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ইসমাঈল (আ)-এর একজন বংশধর। তাই হেজাজ, নেজদ, পেত্রা, পালমিরা অঞ্চলে বসবাসকারী মুস্তারিবা গোত্রের নিযারী থেকে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর কুরাইশ বংশের উর্ধ্ব হয়।
পরবর্তীতে জাতি, কৃষ্টি, ভাষা প্রভৃতি দিক থেকে বৈষম্যের কারণে ইসলামের ইতিহাসের প্রাথমিক যুগ উত্তর ও দক্ষিণ আরবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। উত্তর আরব গোত্র যারা নিযারী বা মুদারী নামে পরিচিত, তারা আরবিতে কথা বলত। অপর হিমারীয়/ইয়েমেনি নামে পরিচিত দক্ষিণ আরবরা সেমেটিক, সাবেয়ী, হিমাইয়ারী ভাষায় কথা বলত। মুদারীরা যাযাবর ছিল বিধায় তাদের বহুপূর্বে দক্ষিণ আরবে সভ্যতার উন্মেষ ঘটে। সুতরাং বলা যায়, সময়ের পরিবর্তনে একটি জাতি বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপ লাভ করে ।
মূলকথা : সময়ের বিবর্তনে একটি জাতির বৈশিষ্ট্যও পরিবর্তিত হয়।
ঘ. শাহিনের পর্যালোচনাকৃত জাতি ভৌগোলিক প্রভাব দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছিল । পৃথিবীর সব দেশের অদিবাসীর জীবনযাত্রা ও চরিত্র, দেহ, মনের উপর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব যেমন লক্ষণীয়; তৈমনি শাহিনের পর্যালোচনাকৃত প্রাচীন আরব জাতির উপরও ভৌগোলিক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
শাহিনের পর্যালোচনাকৃত . দেশটি তথা প্রাচীন আরব মরুময় বলে সে দেশের রুক্ষ-শুষ্ক আবহাওয়া, অনাবৃষ্টি, ভূমির অনুর্বরতা, নদ-নদীর অপ্রতুলতা, লবণাক্ততা ইত্যাদি প্রতিকূলতা স্বভাবতই উক্ত এলাকাবাসীকে নির্মম, দুর্ধর্ষ, দুঃসাহসিক যোদ্ধা, কিংবা কষ্টসহিষ্ণু জাতিতে পরিণত করেছে।
আবার প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সাথে অনবরত সংগ্রাম তাদেরকে পরিশ্রমী ও ধৈর্যশীল হতে সাহায্য করেছে। খাদ্য, পানীয় ও চাষাবাদের জলের অভাব তাদের যাযাবর বৃত্তি গ্রহণে বাধ্য করেছে। আবার তাদের সহজ-সরল জীবনযাপনের প্রেরণা দান করেছে। দিগন্ত বিস্তৃত ধু-ধু বালুময় প্রান্তর আর মা উন্মুক্ত আকাশ তাদেরকে কাব্যপ্রেমিক করে তুলেছে।
তবে উক্ত মরুবাসীদের আরেকটি অন্যতম গুণ ছিল তাদের আতিথেয়তা ও গোত্রানুগত্যশীলতা। নিরাপত্তার তাগিদেই তারা গোত্রপতির সর্বদা অনুগত থাকত জন্মগতভাবেই তারা গণতন্ত্রমনা ছিল, আবার যুদ্ধপ্রিয়তাও তাদের অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য ছিল। ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণেই তাদের গুণগুলো বিকশিত হয়েছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সহজ-সরল জীবনের অধিকারী উক্ত প্রাচীন আরব মরুবাসীদের কাজে-কর্মে, জীবন- জীবিকায়, অতিথি আপ্যায়ন প্রভৃতি প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ছাপ সুস্পষ্ট।
মূলকথা : জীবনব্যবস্থার প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভৌগোলিক প্রভাব লক্ষণীয়।
সৃজনশীল প্রশ্ন -৪। মিতুল ভারতের দিল্লিতে বসবাস করে। তার পরিবার একটি প্রাচীন ধর্মমতের অনুসারী। তারা অগ্নিপূজা করে। তার বন্ধু জনি ভিন্ন একটি ধর্মের অনুসারী। ওল্ড টেস্টামেন্ট তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম মানবসভ্যতার বিকাশে এ দুই ধর্মমতের অবদান অপরিসীম।
ক. প্রাচীন মিশরের লিখনপদ্ধতির নাম কী?
খ. মিশরীয় সভ্যতা কীভাবে গড়ে উঠে?
গ. উদ্দীপকের মিতুল ও জনির ধর্মমতের তুলনা করে দেখাও।
ঘ. মানবসভ্যতার বিকাশে মিতুল ও জনির ধর্মমতের অবদান বিশ্লেষণ কর ।
০৪ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. প্রাচীন মিশরের লিখন পদ্ধতির নাম ছিল ‘হায়ারোগ্লিফিক’ (চিত্রলিখন পদ্ধতি)।
খ. প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা পৃথিবীর ইতিহাসে সুসমৃদ্ধ সভ্যতা। এ সভ্যতার উন্মেষ হয় মিশরের নীলনদের অববাহিকায়। ঐতিহাসিক ফ্লিন্ডার্স পেট্রি মিশরীয় সভ্যতাকে খ্রিষ্টপূর্ব ১০ হাজার বছরের প্রাচীন বলে চিহ্নিত করেছেন। খ্রিষ্টপূর্ব ৪,০০০ অব্দের পূর্বে মিশরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন নগর রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। এর আগেই মিশরীয়গণ শিক্ষা-সংস্কৃতি ও সভ্যতায় সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল।
মূলকথা : খ্রিষ্টপূর্ব ১০,০০০ বছরের দিকে এ সভ্যতার উন্মেষ।
গ. উদ্দীপকের মিতুল একটি প্রাচীন ধর্মমতে বিশ্বাসী। তারা অগ্নিপূজা করে। তার বন্ধু জনি ভিন্ন ধর্মের অনুসারী। ওল্ড টেস্টামেন্ট তাদের ধর্মগ্রন্থের নাম। এ বিবরণ থেকে বোঝা যায় মিতুল জরথুস্ত্র ধর্মের অনুসারী আর তার বন্ধু জনির ধর্ম ইহুদি।
পারসিক বা সাসানীয় সভ্যতার জনগণ জরথুস্ত্র ধর্মের অনুসারী ছিল। জরপুত্র এ ধর্মের প্রবর্তক এবং তার নামানুসারেই এ ধর্মের নামকরণ করা হয়েছে জরথুস্ত্র ধর্ম। পারসিকদের ধারণা, জরঘুত্র আল্লাহর কাছ থেকে কথোপকথনের মাধ্যমে যে প্রত্যাদেশ লাভ করেন, সেগুলোই তাদের ধর্মগ্রন্থ ‘জেন্দ- আভেস্তা’ এ সংরক্ষিত আছে। তাদের মতবাদ হলো- মঙ্গলের দেবতা ‘অহোর মাজদা’ ও অমঙ্গলের দেবতা ‘আহরিমান কর্তৃক বিশ্বজগৎ নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। পারসিকদের নিকট অগ্নি ছিল শক্তির আধার। সে কারণে তারা অগ্নিপূজা করত ।
অপরদিকে হিব্রুদের ধর্মগ্রন্থের নাম তাওরাত বা ওল্ড টেস্টামেন্ট। তারা বিশ্বাস করে, দেবতা জহোবা মানবজাতিকে সৎ পথে পরিচালনার উদ্দেশ্যে সিনাই পর্বতে মোসেজের (মুসা আ) হাতে এ ধর্মীয় বিধানাবলি প্রদান করেছিলেন। কালক্রমে এ হিব্রু জাতিই আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করে। পারসিকদের ধর্ম জরথুস্ত্র এবং হিব্রুদের ধর্ম ইহুদি উভয় ধর্ম মানবসভ্যতার বিকাশে বিরাট অবদান রেখেছে।
মূলকথা : মিতুল জরপুত্র এবং জনি ইহুদি ধর্মে বিশ্বাসী
ঘ. উদ্দীপকে মিতুলের ধর্ম জরথুস্ত্র এবং জনির ধর্ম ইহুদি। হিব্রুদের ধর্মগ্রন্থ ওল্ড টেস্টামেন্ট। ওল্ড টেস্টামেন্ট ১। ঐতিহাসিক গ্রন্থ হিসেবেও মূল্যবান। নিকট প্রাচ্যের হিব্রু ও তাদের প্রতিবেশী জাতিসমূহ সম্বন্ধে এটি মূল্যবান তথ্য সরবরাহ করে। সাহিত্যিক মূল্য বিচারেও এটি অতুলনীয়।
তাওরাতের ১০টি অনুশাসনের ভিত্তিদের তাদের নৈতিক মান নির্দিষ্ট হতো। ধর্মভিত্তিক সাহিত্যদর্শনের সার ওল্ড চা টেস্টামেন্টে নিহিত ছিল। গ্রিকদের পূর্বে হিবুরাই বিস্ময়কর দর্শনের জন্ম দিতে পেরেছিল। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের গঠন প্রকৌশল, অদৃষ্টবাদ, সন্দেহবাদ, দুঃখবাদ ও পরিমার্জনা প্রভৃতি তাদের জন্য দর্শনের বিবেচিত বিষয় ছিল।
একেশ্বরবাদ এবং আল্লাহ সম্বন্ধে তাদের উচ্চ ধারণা বিশ্ব কৃষ্টিতে তাদের অমূল্য অবদান। তাদের একেশ্বরবাদের সাথে পরবর্তীকালে খ্রিষ্ট ও ইসলাম ধর্মের একেশ্বরবাদের মিল খুঁজে পাওয়া যায় ।
এদিকে জরথুত্র ধর্মেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। পারস্যের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং শাসনসংক্রান্ত ব্যাপারে জরথুস্ত্র ধর্মমতেরই প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়। তাদের শাসন, সাহিত্য ও শিক্ষা সবকিছুরই ভিত্তি ছিল ধর্ম। ঐতিহাসিক সউইনের মতে, “রোমের পতনে যেমন রোমান সভ্যতার বিনাশ সাধিত হয়নি, ঠিক তেমনি পারসিক সভ্যতার একমাত্র ধারক ও বাহক জরঘুত্র ধর্মমতের প্রভাব তার পতনের পরও বিনষ্ট হয়নি।”
ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের নরক ও শয়তানের ধারণা জরথুস্ত্র ধর্মমত থেকে নেওয়া হয়েছে। নৈতিক চরিত্র গঠনে ও সততা রক্ষার মূলে জরথুস্ত্র ধর্মের অবদান অনস্বীকার্য। সুতরাং বলা যায় যে, মানবসভ্যতার বিকাশে উভয় ধর্মেরই যথেষ্ট অবদান রয়েছে।
মূলকথা : বিশ্ব কৃষ্টিতে জরপুত্র ও ইহুদি ধর্মের প্রভাব অনস্বীকার্য ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫। স্বপনের বাবা একজন আইনজীবী। সেদিন বাসায় এসে তিনি একটি আলোচিত মামলার বিষয়ে গল্প করছিলেন । তিনি বলছিলেন, আইনের শাসন না থাকলে কোনো দেশে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব নয়। স্বপন সভ্যতা ও আইন বিষয়ে জানার আগ্রহ প্রকাশ করে। তিনি বলেন, খ্রিষ্টপূর্বাব্দ বহুকাল আগে থেকে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন স্থানে কিছু নিয়মের উর্ধ্ব ঘটে, যা পরবর্তীকালে আইনে পরিণত হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রয়োজনে আইনের’ পরিবর্তন বা নতুন আইন হয়। এক্ষেত্রে তিনি প্রাচীন রোমানদের আইনের উদাহরণ দেন ।
ক. ইসলাম-পূর্ব আরবে ‘কাহিন’ কাদেরকে বলা হতো?
খ. প্রাক-ইসলাম আরবে কুসিদজীবী কারা ছিল?
গ. স্বপনের বাবা সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য আইনের প্রয়োজন কেন বললেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. আইন ও রাষ্ট্রের বিকাশে স্বপনের বাবার দেওয়া উদাহরণ সম্পর্কে মতামত দাও।
০৫ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. ভাগ্য গণনাকারী ও ভবিষ্যদ্বক্তাগণকে ‘কাহিন’ বলা হতো।
খ. প্রাক-ইসলামি যুগে ধনী আরবগণ বিশেষ করে ইহুদিরা সুদের ব্যবসায় করত। তারা মানুষকে সুদের ভিত্তিতে অর্থ ঋণ দিত। ঋণের দায়ে অনেকে সর্বস্ব হারাত। এমনকি সুদসমেত ঋণ ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিকে মহাজন বলপূর্বক দাস-দাসীরূপে বিক্রয় করত। শোষণের এ ঘৃণ্য পন্থায় যারা ব্যবসায় করত, তাদের বলা হয় কুসিদজীবী।
মূলকথা : প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের ধনী লোকেরা বিশেষ করে ইহুদিরা ছিল কুসিদজীবী।
গ. উদ্দীপকে স্বপনের বাবা একজন আইনজীবী। তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। আইনের ইতিহাস পর্যালোচনা করে তিনি দেখেছেন যে খ্রিষ্টপূর্ব বহুকাল আগে থেকে প্রথমে সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সামাজিক নিয়ম-কানুন ছিল। এগুলো সামাজিক মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত হতো।
রোমানরা এই নিয়মগুলোকে রাষ্ট্রীয় আইনের পর্যায়ে নিয়ে আসে। সেজন্যই তিনি বলেছেন যে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশের জন্য আইনের প্রয়োজন। সভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সবচেয়ে গৌরবজনক অবদান ছিল আইনের ক্ষেত্রে।
যুক্তি ও প্রথার সমন্বয়ে রোমান আইনের সৃষ্টি। সে কারণেই এ আইনের বস্তুনিষ্ঠ, কার্যকারিতা লক্ষণীয় । প্রাথমিক যুগে মৌলিক আইন দ্বারাই রোমানরা তাদের সমস্যা মিটাতো। ৪৫০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জ পাত্রে সংকলিত আইনের দৃষ্টিতে সাম্যের স্বীকৃতি ছিল। বেসামরিক আইন, জনগণের আইন ও প্রাকৃতিক আইনের আওতায় সমগ্র রাজ্য শাসিত হতো। নিরপেক্ষ, উদার ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন আইনগুলোতে দেখা যেত।
তাই মানবসভ্যতা বিকাশে রোমান আইন ও দর্শনের প্রভাব খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী। অধ্যাপক মনরু সত্যই বলেছেন, “সভ্য মানুষ প্রাচ্য হতে তার ধর্মীয় অনুপ্রেরণা, মিশর হতে বর্ণমালা, মুরদের নিকট হতে বীজগণিত, গ্রিসের নিকট হতে ভাস্কর্য, রোমের নিকট হতে আইন এবং রাষ্ট্র সংগঠনের ধ্যান- ধারণা গ্রহণ করেছে।”
রাষ্ট্র গঠনকাজে রোমানদের বিশ্ব সাম্রাজ্যের ধারণা বহুকাল যাবত বলবৎ থাকে। হুটনের মতে, “আইন, শাসন ও সরকারের ক্ষেত্রে রোমানদের প্রতিভা পোপতন্ত্রের জন্মদান করে।”
মূলকথা : মানবসভ্যতার বিকাশে রোমান আইন ও দর্শনের প্রভাব সুদূরপ্রসারী ছিল।
ঘ. উদ্দীপকে স্বপনের বাবা আইন ও রাষ্ট্রের বিকাশে রোমানদের উদাহরণ দিয়েছেন। আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা রোমানদেরই। জনগণের ইচ্ছাই যে রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের চালিকাশক্তি, সে ধারণাও রোমানগণ পরবর্তী সভ্যজগৎকে প্রদান করে। জৌলুস ও প্রতিপত্তির দিক দিয়ে এটি ছিল অনন্য সভ্যতা। ল্যাটিন ভাষা, রোমানদের আদর্শ, আইন, সামরিক সংগঠন এবং প্রকৌশলবিদ্যা বিশ্বের ভাবী বংশধরদের জন্য ছিল অত্যন্ত মূল্যবান অবদান।
লিপইয়ারের (অধিবর্ষ) বাস্তব ধারণা, ‘পৃথিবীর ঘূর্ণয়ন প্রক্রিয়া তাদের সৃষ্টি। রোমের তৈরি পঞ্জিকা পৃথিবীর অনেক দেশই ব্যবহার করে। বারো মাসের নাম ইংরেজি ও ল্যাটিন ভাষা থেকে উদ্ভূত। প্রকৌশল বিদ্যায় তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল।
রোমানদের খিলান ও গম্বুজ নির্মাণের কৌশল পৃথিবীর স্থাপত্যশিল্পের বিকাশে অমূল্য অবদান রেখেছে। এ সভ্যতার আলোকমালায় উদ্ভাসিত হয়ে বাইজান্টাইন সভ্যতা গড়ে উঠে। বস্তুত জ্ঞানরাজ্যে ব্রোম এমন একটি সেতু নির্মাণ করেছে, যার মাধ্যমে প্রাচীন জ্ঞান ও শিল্পের সর্বোৎকৃষ্ট ধারা এবং সূক্ষ্মতম নিদর্শনসমূহ মধ্যযুগে এবং তথা হতে আধুনিক যুগে পদার্পণ করে ।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয়, যুগ সমাজের আবহে রোম- সভ্যতার সৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠা জগৎবাসীকে সম্মুখপানে এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল। সুতরাং আইন ও রাষ্ট্রের বিকাশে উদ্দীপকের স্বপনের বাবার দেওয়া উদাহরণটি যথার্থ হয়েছে। মূলকথা : আইন ও রাষ্ট্রের বিকাশে রোমানদের অবদান অপরিসীম।
সৃজনশীল প্রশ্ন -৬। জনাব আলী আকবর একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তার দলের ইশতেহার ঘোষণা করেন, যা নিম্নরূপ :
তার দল ক্ষমতায় গেলে-
১। একটি বিখ্যাত আইন সংহিতা প্রণয়ন করা হবে।
২। কৃষিকাজের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে ।
৩। কৃষিকাজে অবহেলা কিংবা খাল খনন বা বাঁধ নির্মাণে অবহেলার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করা হবে।
৪। নির্দিষ্ট ওজন ও পরিমাণ পদ্ধতি প্রচলিত হবে।
ক, মিশরীয় সভ্যতার প্রধান উৎস কী?
খ. সুমেরীয় সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ব্যাখ্যা কর ।
গ. জনাব আলী আকবরের ঘোষিত ইশতেহারের সাথে তোমার পঠিত কোন সভ্যতার নীতিমালা সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. জনাব আলী আকবরের ঘোষণা উক্ত সভ্যতার আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে— এর যথার্থতা মূল্যায়ন কর ।
০৬ সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ক. নীলনদ।
খ. সুমেরীয় সভ্যতার অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো- সুমেরীয় সভ্যতায় প্রত্যেক নাগরিক ভূমির স্বত্বাধিকার ভোগ করত, তারা প্রত্যেকে অবাধ ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনা করার সর্বপ্রকার সুযোগ লাভ করত। ব্যবসায়-বাণিজ্য উপলক্ষে সুমেরীয়রা দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গমনাগমন করতে পারত। সোনা ও রূপার মাধ্যমে সে যুগে লেনদেন কাজ সম্পন্ন হতো, দেশের উর্বর অববাহিকায় প্রচুর রবিশস্য উৎপন্ন হতো। দেশে ভূমিদাস প্রথা বিদ্যমান ছিল।
মূলকথা : প্রত্যেক নাগরিক ভূমির স্বত্বাধিকার ভোগ করত।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আলী আকবরের ঘোষিত। ইশতেহারের সাথে আমার পঠিত ব্যাবিলনীয় সভ্যতার নীতিমালা সামঞ্জস্যপূর্ণ । নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
বিশ্বসভ্যতার ক্রমবিকাশের ইতিহাসে ব্যাবিলনীয়দের অপরিসীম অবদান রয়েছে। সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাবিলনীয় সম্রাট হাম্মুরাবি (খ্রিষ্টপূর্ব ২১২৩-২০৮১ অব্দ) শুধু একটি বিরাট সাম্রাজ্যের অধিকারীই ছিলেন না, তিনি একটি বিখ্যাত ‘আইন সংহিতা’ প্রণয়ন করে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেছেন ।
ব্যাবিলনীয় সভ্যতায় নদীর বন্যার প্রকোপ হতে শস্যক্ষেতে রক্ষার জন্য এবং অনাবৃষ্টির সময় ভূমিতে জল সেচের জন্য উপযুক্ত বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কৃষিকাজে অবহেলা কিংবা খাল খনন ও বাঁধ নির্মাণে অবহেলার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান ছিল।
সামন্ত ভূমি ব্যবস্থায় কৃষকগণ উৎপন্ন শস্যের দুই- তৃতীয়াংশ জমির মালিককে দিতে বাধ্য থাকত।
ব্যাবিলনীয় পঞ্জিকা মিশরীয় পঞ্জিকা অপেক্ষা উন্নত ধরনের ছিল । তারা দশমিক গণনা পদ্ধতি আবিষ্কার করে অঙ্কশাস্ত্রে মৌলিক অবদান রেখেছেন। তারা ওজন, দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, শক্তি পরিমাপক প্রথার উদ্ভাবন করার গৌরব ও কৃতিত্ব অর্জন
করেছেন ।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, আইন সংহিতা, কৃষিব্যবস্থা ও গণিতশাস্ত্রে ব্যাবিলনীয়দের অবদান অনস্বীকার্য। মূলকথা : ব্যাবিলনীয় সভ্যতার নীতিমালা সামঞ্জস্যপূর্ণ। আইন সংহিতা, কৃষিব্যবস্থা ও গণিতশাস্ত্রে তাদের অবদান অনস্বীকার্য।
ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত ঘোষণার সাথে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার সামঞ্জস্য রয়েছে। জনাব আলী আকবরের ঘোষণা উক্ত সভ্যতার আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে। নিচে এর যথার্থতা মূল্যায়ন করা হলো-
উদ্দীপকের ঘোষিত ইশতেহারে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার আইন সংহিতা, কৃষিব্যবস্থা ও গণিতশাস্ত্রের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া লিখন পদ্ধতি, ধর্ম, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সাহিত্য ও শিক্ষাব্যবস্থা, চিত্র ও অঙ্কনবিদ্যা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন।
প্রাচীন ব্যাবিলনে ‘কিউনিফর্ম’ নামে কীলক আকারে এক অভিনব লিখন পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। ঐতিহাসিক মায়ার্সের মতে, পশ্চিম এশিয়ার জনগণের মধ্যে ব্যাবিলনীয় লিখন’ পদ্ধতি খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ অব্দ হতে খ্রিষ্টীয় শতাব্দী পর্যন্ত প্রচলিত ছিল। প্রাচীন ব্যাবিলনবাসী বহু দেব-দেবীর পূজা অর্চনা করত। সূর্যদেব মারদুক ছিল তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ দেবতা
ব্যবসায়-বাণিজ্যেও তারা উন্নত ছিল।
হাম্মুরাবির আইনের নির্দেশ মোতাবেক অবগত হওয়া যায় যে, অসাধু ও অতিরিক্ত মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা ছিল। ব্যবসায়-বাণিজ্য, ব্যাংক-শিল্প সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীনে ছিল।
গদ্য ও পদ্য সাহিত্যেও তারা কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। জনপ্রিয় ও বিখ্যাত “গিলগামেশ উপাখ্যান’ সুমেরীয়দের নিকট হতে সংগ্রহ করে ব্যাবিলনের কবিগণ অপূর্ব সাহিত্য সৃষ্টি করেন। মহাকাব্য ও পৌরাণিক কাহিনি-সংবলিত সাহিত্য রচনায় তারা ছিল সিদ্ধহস্ত।
চিত্র ও অঙ্কনবিদ্যায়ও তারা পারদর্শী ছিল। পাথর, চুনাপাথর এবং ধাতব বস্তুর উপর, তারা খোদাই করে সুন্দর মূর্তি অঙ্কন করত। চিকিৎসাবিদ্যায়ও তারা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল। সে যুগে তাদের দেশে কমপক্ষে ৫০০ রকম ওষুধের প্রচলন ছিল। উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, জনাব আলী আকবরের ঘোষণা উক্ত সভ্যতার আংশিক প্রতিনিধিত্ব করে।
মূলকথা : লিখন পদ্ধতি, ধর্ম, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সাহিত্য ও শিক্ষাব্যবস্থা, চিত্র ও অঙ্কনবিদ্যা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিল।
সৃজনশীল প্রশ্ন -৭। সালাউদ্দিন বিভিন্ন সাহিত্য বই পাঠ করে। কিছুদিন যাবৎ সে দুটি বিখ্যাত সাহিত্য গ্রন্থ ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ পাঠ করে। গ্রন্থ দুটি একজন বিখ্যাত লেখকের। এ দুটি গ্রন্থ একটি প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম নিদর্শন। এ দুটি গ্রন্থকে কেন্দ্র করে আরও বহু সাহিত্য, মহাকাব্য ও গাথা রচিত হয় ।
ক. আরববাসীদের জীবনের মহান গুণ কী?
খ. নগররাষ্ট্রের আকার কেমন ছিল?
গ. সালাউদ্দিনের পঠিত গ্রন্থ দুটি কোন প্রাচীন সভ্যতাকে নির্দেশ করে? নিরূপণ কর ।
ঘ. সালাউদ্দিনের পঠিত গ্রন্থ দুটি যে সভ্যতার নিদর্শন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেই সভ্যতার আরও অবদান বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ০৭
ক. গোত্রপ্রীতি ও আতিথেয়তা আরববাসীদের জীবনের এক মহৎ গুণ ।
খ. দেশের ভূপ্রকৃতি ও জাতিগত বৈশিষ্ট্যের ফলে গ্রিসে নগররাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটে। প্রত্যেকটি নগররাষ্ট্রের নিজস্ব সরকার, দেব-দেবী, ধর্মীয় উৎসব এবং নিজস্ব স্বাতন্ত্র্যবোধ ছিল। নগররাষ্ট্রগুলো আয়তনে প্রায় ১০০ বর্গমাইল ছিল, লোকসংখ্যা ১০/১৫ হাজার থেকে ৬০/৭০ হাজার পর্যন্ত ছিল। জি অধিকাংশ নগররাষ্ট্র পাহাড়-পর্বত দ্বারা বেষ্টিত ছিল। নগররাষ্ট্রগুলোতে প্রথম দিকে রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
মূলকথা : নগররাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
গ. উদ্দীপকে সালাউদ্দিন ‘ইলিয়ড’ এবং ‘ওডিসি’ নামক দুটি বিখ্যাত মহাকাব্য পাঠ করেন। এ দুটি গ্রন্থ প্রাচীন গ্রিক সভ্যতাকে নির্দেশ করে। প্রখ্যাত গ্রিক দার্শনিক হোমার ‘ইলিয়ড’ এবং ‘ওডিসি’ নামক দুটি মহাকাব্য রচনা করেন। এই গ্রন্থগুলো দ্বারা প্রাচীন গ্রিক সমাজব্যবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। গ্রিকরা স্বাধীনচেতা ছিল। কোনো রাজনৈতিক সংগঠন না থাকায় ক্ষুদ্র গোষ্ঠীগুলো ছিল স্বায়ত্তশাসিত।
হোমারিয় যুগে কোনো ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং আচার-অনুষ্ঠান প্রচলিত ছিল না, বহু দেবতায় বিশ্বাসী গ্রিকগণ মনে করত যে, তাদের দেবতারা অলিম্পাস পর্বতে বাস করে। তাদের দেবতাদের মধ্যে সর্বশক্তিমান ছিলেন জিউস। তিনি ছিলেন আকাশের_দেবতা; ঝড়-বৃষ্টির মালিক।
গ্রিকগণ শয়তান ও ভাগ্যে বিশ্বাস করত না, পরকাল সম্পর্কে তাদের ৪) কোনো ধারণা ছিল না, অবশ্য অসৎ কাজের জন্য নরকবাসের কথা জানত তারা। গ্রিক মন্দির ছিল কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে উপাসনার জন্য নির্দিষ্ট ছিল না। তারা ছিল মানবতাবাদী। এ কারণে তারা প্রকৃতি ও সসীমের পূজা করত। পরিশেষে বলা যায়, যেহেতু ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ হোমারিক যুগে রচিত, তাই এ গ্রন্থ দুইটি দ্বারা গ্রিক হোমারিক যুগের পরিচয় পাওয়া যায় ।
মূলকথা : ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ দ্বারা গ্রিক (হোমারিক যুগ) সভ্যতার পরিচয় পাওয়া যায়।
ঘ. উদ্দীপকে সালাউদ্দিনের পঠিত গ্রন্থ দুটি থেকে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়। সভ্যতার বিকাশে গ্রিকরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। গ্রিকদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল দর্শনচর্চায় । পৃথিবীর সৃষ্টি, এর পরিভ্রমণ, চন্দ্রগ্রহণ, সূর্যগ্রহণ ইত্যাদি কারণ খুঁজতে গিয়েই শুরু হয় দর্শনচর্চার।
প্রথম দিকে, বিখ্যাত দার্শনিক ছিলেন থালেস, পরবর্তীকালে গ্রিসে যুক্তিবাদী দার্শনিকের আবির্ভাব ঘটে । তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন সক্রেটিস। আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলাই ছিল তাঁর দর্শনচিন্তার অন্যতম দিক। পরবর্তীকালে তাঁর শিষ্য পেটোর রচিত গ্রন্থ ‘রিপাবলিক’ এবং ‘ডায়ালগস অব সক্রেটিস’ এবং তাঁর শিষ্য এরিস্টটলের ‘পলিটিক্স’ নামক গ্রন্থ দর্শনশাস্ত্রের অন্যতম গ্রন্থ হিসেবে বিশ্বসমাজে বেশ সমাদৃত।
সাহিত্য ক্ষেত্রেও তাদের অনবদ্য অবদানের পরিচয় পাওয়া যায় হোমারের ‘ইলিয়ড’ ও ‘ওডিসি’ নামক কাব্যগ্রন্থে। গ্রিসের উন্মুক্ত মঞ্চে নাট্যচর্চাও হতো। শিক্ষা ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। লেখার প্রয়োজনে তারা ২৬টি বর্ণমালা উদ্ভাবন করেছিল। তারাই প্রথম বাদ্যযন্ত্র সহকারে সংগীতচর্চা করত। এছাড়া গ্রিকরা ইতিহাসচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। গ্রিক ইতিহাসবেত্তা হেরোডোটাসকে আধুনিক ইতিহাসের জনক বলা হয়।
বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও তারা অগ্রসর ছিল, তারাই প্রথম পৃথিবীর মানচিত্র অঙ্কন করে। পৃথিবীর কক্ষপথে পরিভ্রমণের কথা তারাই প্রমাণ করে। গণিতশাস্ত্রে বিখ্যাত পণ্ডিত ছিলেন পিথাগোরাস। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হিপোক্রেটিসের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।
‘সুতরাং বলা যায় যে, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে গ্রিকদের অবদান অতুলনীয়। বিশ্ব যখন সভ্যতার দিকে হাঁটি-হাঁটি পা-পা করছিল, গ্রিক জাতি তখন জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে চারদিক আলোকিত করছিল।
মূলকথা : সভ্যতায় গ্রিকরা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন -৮। সার্কভুক্ত দেশগুলোর মহিলা পরিষদের অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ক্রিষ্টিন মেডোনা অধিকার রক্ষায় নারী আন্দোলনে কার্যকর ভূমিকার জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে একটি সময় ছিল যখন কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। তাদের কোনো অধিকার ছিল না। একজন পুরুষ একই সাথে অনেকগুলো স্ত্রী রাখতে পারতো। তারা “জোর যার মুল্লুক তার” এ নীতিতে বিশ্বাসী ছিল।
ক. কইয়েমেন শব্দের অর্থ কী?
খ. উটকে কেন মরুভূমির জাহাজ বলা হয়, ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি আরবের নারীদের যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. ‘জোর যার মুল্লুক তার’- উক্তিটি তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ০৮
ক. ‘ইয়েমেন’ শব্দের অর্থ সুখী ও সৌভাগ্যবান।
খ. উট আরবদের সবচেয়ে প্রিয় গৃহপালিত জন্তু। এটি দুর্ধর্ষ আরব বেদুইনদের একমাত্র বাহন ছিল। ব্যাবিলনীয় ও পারস্য সভ্যতার নথিপত্রে আরবদের অশ্বারোহীর পরিবর্তে উস্ট্রারোহীরূপে চিহ্নিত করা হয়। উটকে যানবাহন হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়াও এর মাংস ও দুধ খাদ্য হিসেবে এবং ক্রয়- বিক্রয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাই উটকে মরুভূমির জাহাজ বা The ship of the Desert’ বলা হয় ।
মূলকথা : আরবদের অর্থনৈতিক জীবনে উট বিশেষ ভূমিকা পালন করতে বলে একে মরুভূমির জাহাজ বলা হতো।
গ. উদ্দীপকে প্রাক-ইসলামি আরবের নারীদের অবস্থার অত্যন্ত শোচনীয় দিকটি ফুটে উঠেছে। নিচে বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো- ইসলাম-পূর্ব আরবে পাপাচার, কুসংস্কার, অন্যায়, অবিচার, দাসপ্রথা, কন্যাসন্তান ও নারীর অবমূল্যায়ন, নৈতিক অবক্ষয় ইত্যাদি প্রচলিত ছিল। এ যুগে আরবের নারীদের সামাজিক মর্যাদা বলে কিছুই ছিল না।
তাদের জীবন এবং সম্মান ছিল খুবই সামান্য। তারা মৃত স্বামী, পিতা ও নিকটাত্মীয়র সম্পত্তি থেকে ছিল বঞ্চিত। সাধারণভাবে নারীরা ছিল সমস্ত অধিকার থেকে বঞ্চিত এবং নির্যাতিত। তাই তাদেরকে ইচ্ছামতো ব্যবহার করাই ছিল তৎকালীন ভোগবিলাসী আরব পুরুষের কাজ। এসব কারণে নারীদের অবস্থান ও জীবনমান অত্যন্ত অবহেলার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।
প্রাক-ইসলামি বর্বর সমাজে নারী জাতি ছিল ঘৃণিত, অবহেলিত এবং ভোগ্যসামগ্রী। পুরুষরা একাধিক নারীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করতো কিন্তু তাদেরকে বৈবাহিক মর্যাদা দিত না। এছাড়া বিমাতা, সহোদর ভগ্নিকে বিবাহ করার মতো ঘৃণ্য প্রথা প্রচলিত ছিল।
নারীরা পণ্যদ্রব্যের মতো হাটে-বাজারে বিক্রি হতো। ইসলাম পূর্ব আরবে কন্যাসন্তান জন্মদান ছিল একটি লজ্জার বিষয় তাই অনেক পিতা দারিদ্র্য ও লজ্জার ভয়ে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত। এছাড়া বনু কুরাইশ, বনু তামিম ও বনু আসাদ প্রভৃতি গোত্রের লোকেরা কন্যাসন্তানকে হত্যা করে গর্ববোধ করত।
উপর্যুক্ত ব্যাখ্যা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে জাতিসংঘের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ক্রিষ্টিন মেডোনা ভারতীয় উপমহাদেশে নারীদের অধিকার সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, একটি সময় কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো; তাদের কোনো অধিকার ছিল না; একজন পুরুষ একাধিক স্ত্রী রাখতে পারতো প্রভৃতি; যা প্রাক-ইসলামি যুগের আরবের নারীদের শোচনীয় অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ।
মূলকথা : প্রাক-ইসলামি যুগে আরবে নারীদের সামাজিক মর্যাদা অধিকার বলতে কিছুই ছিল না।
ঘ. “জোর যার মুল্লুক তার”- উক্তিটি আমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো- প্রাক-ইসলামি আরবে সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতা ছিল না।
ইসলামপূর্ব যুগে আরবের সামাজিক ও নৈতিক অবস্থা, ছিল জঘন্য ও ভয়াবহ। বংশগত ও গোত্রগত অহংকার, আভিজাত্য, ঈর্ষা, হিংসা-বিদ্বেষ, কুসংস্কার প্রভৃতি নেতিবাচক দিক সমাজজীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। অজ্ঞতা, বর্বরতা, নিষ্ঠুরতা, পাশবিকতা সমাজজীবনকে কলুষিত করে ফেলে।
আরব উপদ্বীপের ভৌগোলিক পরিবেশ সেখানকার অধিবাসীদের পেশা নির্বাচনে এবং অর্থনৈতিক অবস্থা নির্ধারণে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেছে। শহরবাসী আরবদের অর্থনৈতিক অবস্থা মরুবাসী যাযাবর বেদুইনদের তুলনায় ভালো ছিল। অবস্থানগত কারণে বিভিন্ন শহরবাসীর অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আবার ভিন্নতর ছিল, অন্যদিকে মরুবাসী বেদুইনদের জীবিকা অর্জন ছিল কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ ।
নিজ নিজ গোত্রের নিয়মের প্রতি তারা প্রন্থাশীল ও অনুগত ছিল এবং গোত্রীয় নিয়মেই তাদের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। কেন্দ্রীয় শাসন প্রচলিত না থাকায় গোরকলহ ভয়াবহ আকার ধারণ করত ফলে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দীর্ঘদিন ধরে চলত।
মক্কার বিবদমান গোত্রগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য ‘আল-মালা’ নামে একটি রাজনৈতিক সংগঠন বা মা সভ্য ছিল। কিন্তু এ পরিষদের কোনো কার্যনির্বাহী ক্ষমতা ছিল না, এটি কেবল পরামর্শ দিতে পারত।
এছাড়া ইসলামপূর্ব যুগে আৱৰে ধৰ্মীয় অবস্থা ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। তারা একই সাথে প্রকৃতিপূজক, পৌত্তলিক এবং ভাগ্যগণনায় বিশ্বাসী ছিল এবং দুর্ভিক্ষ, মহামারি ও রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির আশায় উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক দেবতার জন্য রেখে দিত। এক কথায় প্রাক-ইসলামি যুগে আরবের গোত্রীয় কোন্দল এবং নৈরাজ্যবাদ এমন পর্যায়ে পৌঁছে ছিল যেখানে। শক্তি প্রদর্শনই ছিল মূল কথা।
উপর্যুক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, সন্ত্রাসবাদ, সহিষ্ণুতা, গোত্রীয় যুদ্ধ ইত্যাদি পন্থায় আরবরা একে অপরের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত ফলে আরবের ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা গোত্র দুর্বল ব্যক্তি বা গোত্রকে বিভিন্ন উপায়ে অন্যায়ভাবে প্রাধান্য বিস্তার করতে কুণ্ঠাবোধ করত না। সুতরাং বলা যায় ইসলামপূর্ব যুগের আরবদের মূলনীতি ছিল জোর যার মুল্লুক তার।
মূলকথা : মিনিষ্ট সরকার কাঠামো, শাসন বা বিচারপদ্ধতি না থাকায় আরবরা ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি গ্রহণ করত।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৯। সিন্ধু সভ্যতা প্রাচীন সভ্যতাগুলোর অন্যতম। এটি একটি নগরভিত্তিক সভ্যতা। তাদের লিখন পদ্ধতি ছিল চিত্রভিত্তিক। সিদ্ সভ্যতা নগর সভ্যতা হলেও তারা উন্নত কৃষিব্যবস্থারও প্রচলন করেছিল। যব, গম, ভূলাসহ নানা প্রকার ফসল তারা উৎপন্ন করত। ফলন বৃদ্ধির জন্য জমিতে বাঁধ দিত। বন্যার পানিকে সংরক্ষণ করে কাজে লাগাত। আবার জলসেচ এর জন্য নালা কেটে পানি এনে ফসলে দিত।
ক. ‘মেমফিস’ কী?
খ. রাজা মেনেস ফেরাউনের মর্যাদা লাভ করেন কীভাবে? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন কোন সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. সিন্ধু সভ্যতার কৃষিব্যবস্থা মিশরীয় সভ্যতার কৃষি ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি।- উক্তিটি ব্যাখ্যা কর
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ০৯
ক. মেমফিস প্রাচীন মিশরের রাজধানী শহরের নাম।
খ. প্রাচীন মিশরীয়দের বিশ্বাস ছিল মিশরের রাজারা ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য শাসন করেন। তাই তিনি দেশের শাসনব্যবস্থার প্রধান এবং সর্বময় ক্ষমতার উৎস। তাদের উপাধি ছিল ‘ফারাও’ বা ‘ফেরাউন’। খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ অব্দে উত্তর মিশর ও দক্ষিণ মিশরকে একত্রিত করে মেনেস এর শাসক নিযুক্ত হন। এভাবেই মেনেস ফেরাউনের মর্যাদা লাভ করেন।
মূলকথা : প্রাচীন মিশরের প্রশাসক হিসেবে মেনেস ফেরাউনের মর্যাদা লাভ করেন।
গ. উদ্দীপকে সিন্ধু সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাথে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার লিখন পদ্ধতির সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার লিখন পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো :
মনের ভাব প্রকাশের প্রয়োজনে সম্ভবত তারাই সর্বপ্রথম লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
এই পদ্ধতিতে ২৪টি চিহ্ন ছিল এবং প্রত্যেকটি চিহ্ন বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করত। প্রাচীন মিশরীয়রা ছবির সাহায্যে লেখার কাজ পরিচালনা করত। ছবিগুলো এমনভাবে আঁকা হতো যাতে মনের ভাব ঠিকভাবে প্রকাশিত হয়।
কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, মিশরে তিন ধরনের লিখন পদ্ধতির নিদর্শন পরিলক্ষিত হয়; যথা- চিত্র লিখন, হিরাটিক (দ্রুত লিখন পদ্ধতি) ও ডেমোটিক (যা জনসাধারণ ব্যবহার করত)। ঐতিহাসিক মায়ার্স বলেন, “সম্ভবত প্রাচীন মিশরীয়দের সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ অবদান হচ্ছে একপ্রকার লিখন পদ্ধতির প্রচলন। যিশু খ্রিষ্টের জন্মের ৪ হাজারের অধিক বছর পূর্বে তারা আংশিকভাবে ছবির সাহায্যে এবং আংশিকভাবে অক্ষরের সাহায্যে এক প্রকার কৌতূহল উদ্দীপক ও জটিল লিখন পদ্ধতির প্রবর্তন করেছিল।”
তারা ‘প্যাপিরাস’ নামক একপ্রকার ঘাস হতে কাগজ প্রস্তুত করত এবং শাকসবজির রস দ্বারা কালি প্রস্তুত করে তীক্ষ্ণ শলাকাকে কলমরূপে ব্যবহার করত। উল্লেখ্য যে, মিশরীয়রা ডান হতে বাম দিকে লিখত।
মূলকথা : প্রাচীন মিশরীয়রা ছবির সাহায্যে লেখার কাজ করত
ঘ. উদ্দীপকে মিশরীয় সভ্যতার ইঙ্গিত করে প্রশ্নে বলা হয়েছে, “সিন্ধু সভ্যতার কৃষিব্যবস্থা মিশরীয় সভ্যতার কৃষি উক্তিটি যথার্থ । ব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি।” আমার কাছে মনে হয়, নিচে এটি ব্যাখ্যা করা হলো-
মিশরকে নীলনদের দান’ (The Gift of the Nile) বলা হয়। কারণ নীল নদের অভাবে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রতিবছর জুন হতে অক্টোবর মাসের মধ্যে নীলনদের উভয় তীর প্লাবিত হয়। প্লাবন শেষে পলিমাটিতে উভয় তীর দৈর্ঘ্যে ৬০০ মাইল এবং প্রস্থে ১০ মাইল পর্যন্ত ভরে যায়। এরূপে সঞ্চিত পলিমাটির গুণে উভয় ভূভাগ অত্যন্ত উর্বর হয়। ফলে প্রচুর শস্য, তুলা প্রভৃতি উৎপন্ন হওয়ায় মিশর একটি সমৃদ্ধিশালী দেশে পরিণত হয়েছে।
এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকা এ তিনটি মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকায় এবং ভূমধ্যসাগরের উপকূলে বিদ্যমান হওয়ার ফলে মিশরের ভৌগোলিক অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীলনদের তীরে সিনাই পাহাড় ও অন্যান্য পর্বতমালা এবং চূনাপাথরের পাহাড়গুলো বিদ্যমান থাকায় শিল্পদ্রব্য ও অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করার জন্য মিশরবাসীকে বিভিন্ন প্রকার ধাতু সরবরাহ করেছে।
মিশরের সমৃদ্ধি, আড়ম্বর ও প্রগতি এসকল দ্রব্যসামগী এবং উল্লেখিত সুযোগ-সুবিধার জন্য সম্ভব হয়েছে। এক কথায়, গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও নীল নদের দানের ফলে মিশরেই বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন সভ্যতার উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটে।
মূলকথা : নীল নদের উভয় তীরের উর্বর জমিতে প্রচুর শস্য উৎপন্ন হতো।
সৃজনশীল প্রশ্ন-১০। সিফাত একটি ছোট শহরে বাস করে। ওর শহরের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাটগুলো ভালো। যদিও নদীর প্লাবনে ফসলের ক্ষতি হয় এবং শহর প্লাবিত হয়। কিন্তু শহরবাসী বসে না থেকে সরকারের সাহায্য নিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে এবং এ পানির দ্বারা সেচ দিয়ে প্রচুর ফসল ফলায় এবং নদীপথে বাণিজ্য করে আর্থিক উন্নতি লাভ করে। তাদের বসতবাড়িগুলা তারা খুব যত্নসহকারে তৈরি করে। তবে মসজিদ ও মন্দির নির্মাণে তারা তেমন যত্নশীল ছিল না। তাদের শহর ছিল ধর্মীয় কুসংস্কার ও সাম্প্রদায়িকতামুক্ত।
ক. সুমেরীয়দের ধর্ম মন্দিরকে কী বলা হয়?
খ. ক্যালডীয়রা ভাগ্যের উপর বিশ্বাসী ছিল কেন?
গ. মিশরীয়দের কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সিফাতের শহরের মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. মিশরীয়দের ধর্ম ও স্থাপত্যশিল্পের সাথে উদ্দীপকের শহরের তুলনামূলক আলোচনা কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ১০
ক. জিগুরাত ।
খ. ক্যালডীয়রা ভাগ্যে বিশ্বাসী ছিল। কারণ, তারা বিশ্বাস করত যে, দেবতাদের চিন্তাভাবনা ও অনুভূতি মানুষের মতোই। বিভিন্ন গ্রহকে তারা দেবতা ভাবত। পরবর্তীকালে তাদের ধর্মচিন্তা ও সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে পারস্যের উপর। তাই ভাগ্যের উপর বিশ্বাস করেই তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের ছাপ রাখে।
মূলকথা : ক্যালডীয়রা ভাগ্যের উপর বিশ্বাস রেখে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে।
গ. উদ্দীপকে সিফাতের শহরের মানুষের মধ্যে মিশরীয়দের যে বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায় তা হলো- বিপদে বসে না থেকে সবাই মিলে কাজ করে বিপদ থেকে উদ্ধারের প্রচেষ্টা।
কারণ, প্রত্যেক বছর জুন থেকে অক্টোবরের মধ্যে নীলনদের উভয় তাঁর প্লাবিত হয়, ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়।
এতে ঘরবাড়ি, ফসল প্রভৃতির ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিন্তু মিশরবাসী এতে অসহায় বোধ করে না। কারণ, নীলনদের অভাবে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। তাই দুকূল প্লাবিত হওয়ার ফলে যে দীর্ঘ সীমানা পলিমাটি দ্বারা ভরে যায়, তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। কারণ, পলিমাটির কারণে জমি উর্বর হয়। ফলে প্রচুর শস্য, তুলা প্রভৃতি উৎপন্ন হয়, যা মিশরবাসীর অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিয়ে আসে।
অনুরূপভাবে সিফাতের শহরের লোকেরা বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও তা নিয়ে শুধু দুশ্চিন্তা করে সময় কাটায় না। বরং সরকারের সাহায্য নিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করে এবং এ পানিকে কাজে লাগিয়ে প্রচুর ফসল ফলায় এবং নদীপথে বাণিজ্য করে আর্থিক এক উন্নতি লাভ করে।
সুতরাং বলা যায়, বিপদে অন্যের জন্য বসে না থেকে সবাই চা মিলে উদ্ধারের প্রচেষ্টার এই বৈশিষ্ট্যগত মিলটি মিশরবাসী ও ১. সিফাতের শহরবাসীর মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।
মূলকথা : বিপদে অসহায় বোধ না করে তা প্রতিহত করার চেষ্টা
করতে হয়।
ঘ. মিশরীয়দের ধর্ম ও স্থাপত্যশিল্পের মধ্যে ধর্মীয় গোঁড়ামি ও কুসংস্কার বিদ্যমান। এ ক্ষেত্রে সিফাতের শহরবাসী পুরোটাই ভিন্ন প্রকৃতির। কারণ, প্রাচীন মিশরীয়গণের জীবনে ধর্মের প্রভাব ছিল খুবই প্রকট। শুধু ধর্মীয় শাসন বা পুরোহিততন্ত্রেই নয়, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং বিশেষ করে সাংস্কৃতিক জীবনেও ধর্মের অনুশাসনের প্রতিফলন দেখা যায়।
প্রাচীন জাতিসমূহের মধ্যে তারাই প্রথম ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচলন করে। তাদের প্রধান দেবতার নাম ছিল আমন। এছাড়া তারা বহু দেবতায় বিশ্বাসী ছিল। তাদের মধ্যে পুনর্জীবনের প্রতি বিশ্বাস ছিল। তাদের ধর্মীয় জীবনে ‘বা’ অর্থাৎ আত্মা এবং ‘কা’ অর্থাৎ কায়ার প্রভাব ছিল সর্বাধিক।
মৃত্যুর পর ‘বা’ অন্তর্ধান করে পুনরায় তারই কায়া বা কা-তে আশ্রয় নিত। এ বিশ্বাস থেকে তারা ফেরাউনের মৃতদেহ ‘মমি’ করে সমাহিত করত। তবে খ্রিষ্টপূর্ব ১৩৭৫ অব্দে রাজা চতুর্থ আমেনহোটেপের নেতৃত্বে একেশ্বরবাদের মতবাদ প্রচারিত হয়।
অপরদিকে, সিফাতের শহরবাসী মিশরবাসীর ন্যায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্মে বিশ্বাস করে না। তাই মসজিদ ও মন্দির চ নির্মাণে তারা তেমন যত্নশীল নয়। এ কারণে তারা সাম্প্রদায়িকতামুক্ত ঠাক সুতরাং বলা যায়, ধর্মীয় বিশ্বাসের দিক থেকে সিফাতের শহরবাসী ও মিশরবাসীর মধ্যে অনেক পার্থক্য বিদ্যমান ।
মূলকথা : মিশরবাসীর ধর্মীয় অনুভূতিতে কুসংস্কার বিদ্যমান কিন্তু সিফাতের শহরবাসী কুসংস্কারমুক্ত।
সবশেষে বলা যায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ভালো ভাবে আয়ত্ত করতে হলে নিয়মিত অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই। এই পোস্টে দেওয়া সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তরগুলো মনোযোগ সহকারে পড়লে শিক্ষার্থীরা সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারবে এবং পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হবে। তাই নিয়মিত পড়াশোনা করুন, নিজেকে যাচাই করুন এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে এগিয়ে যান।

