অনুধাবনমুলক প্রশ্ন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৭ম অধ্যায়
প্রশ্ন-১। ফাতেমিয় খিলাফতের অভ্যুদয়ের বর্ণনা দাও ।
উত্তর : ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতবিরোধ সত্ত্বেও এ কথা ঠিক যে, বিবি ফাতেমার নামানুসারে শিয়া বংশ ফাতেমিয় বংশ নামে অভিহিত হয়।
নবম শতাব্দীর মধ্যভাগে দক্ষিণ পারস্যের আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন আব্বাসীয় স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকেন এবং পারস্যের আহওয়াজ ও সিরিয়ার সালামিয়াতে প্রচারকাজের কেন্দ্র স্থাপন করে আব্বাসীয় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে শিয়া মতবাদ প্রচারের জন্য প্রচারক (দাঈ) প্রেরণ করেন।
৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য প্রতিনিধি ও শিষ্য আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন আশ-শিয়ী ইসমাইলী প্রচারকাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে আগলাবী সুলতান জিয়াদাতউল্লাহকে তিনি পরাজিত ও বিতাড়িত করেন।
অতঃপর তিনি কায়রোয়ান জয় করে সায়ীদ ইবন হুসাইন ওবায়দুল্লাহকে সিংহাসনে বসিয়ে ফাতেমিয় রাজবংশের সূত্রপাত করেন।
প্রশ্ন-২। আৰু আব্দুল্লাহ আশ-শিয়ী সম্পর্কে কী জান?
উত্তর : নবম শতাব্দীর মধ্যভাগে দক্ষিণ পারস্যের আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন পারস্যের আহওয়াজ ও সিরিয়ার সালমিয়াতে প্রচার কেন্দ্র স্থাপন করে আব্বাসীয় সাম্রাজ্যে শিয়া মতবাদ প্রচারের জন্য প্রচারক (দাঈ) প্রেরণ করেন।
তখন তাঁর একজন সুযোগ্য প্রতিনিধি ও শিষ্য ছিলেন আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিল্পী। ৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল্লাহ বিন-মায়মুনের মৃত্যুর পর আবু আব্দুল্লাহ ইসমাইলী মতবাদ প্রচারকাজের দায়িত্ব নেন।
তিনি ছিলেন ইয়েমেনের অন্তর্গত সানার অধিবাসী। তিনি একসময় বসরার মুহতাসিব ছিলেন । ফাতেমিয়দের ইতিহাসে তিনি আশ-শিয়ী (সর্বোত্তম শিয়া) ও মুআল্লিম (উপদেষ্টা) নামে পরিচিত।
প্রশ্ন-৩। ইসমাইলিয়রা কীভাবে ক্ষমতায় আসে?
উত্তর : উত্তর আফ্রিকায় ফাতেমিয় খিলাফতের অংশীদারগণ সকলেই ছিলেন ইসমাইলিয় শিয়া। এদের মধ্যে আব্দুল্লাহ বিন মায়মুন নবম শতাব্দীর মধ্যভাগে বিভিন্ন স্থানে শিয়া মতবাদ প্রচারের জন্য দাঈ নিযুক্ত করেন।
৮৭৪ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য | প্রতিনিধি ও শিষ্য আবু আব্দুল্লাহ আশ-শিল্পী উত্তর আফ্রিকায় গমন করে এ মতবাদের ব্যাপক প্রচার শুরু করেন।
এ প্রচারে ব্যাপক সাড়া দেখে তিনি রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন এবং সামরিক প্রস্তুতিও নেন। ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে আগলাবীয় বংশের শেষ শাসক জিয়াদাতউল্লাহকে যুদ্ধে পরাজিত করেন ও বিতাড়িত করেন।
তিনি ওবায়দুল্লাহকে মাহদি ঘোষণা দিয়ে তাঁকে প্রথম ফাতেমিয় খলিফা হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এভাবে ইসমাইলিয় শিয়াগণ ক্ষমতায় আরোহণ করে।
প্রশ্ন-৪। আল-কাহেরা সম্পর্কে কী জান?
উত্তর : আল-মুইজের প্রখ্যাত সেনাপতি মিশর বিজয় করে মিশরের | রাজধানী ফুসতাতের সন্নিকটে আল-কাহেরা বা বিজয়িনী (কায়রো) নগরীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। শহরের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে হেলিওপোলিসের রাস্তার ধারে বালুকাময় প্রান্তরে একটি নতুন নগরের নকশা প্রস্তুত করা হয়।
মুইজের নির্দেশে ১২০০ গজ দীর্ঘ একটি বর্গক্ষেত্র চিহ্নিত হয়। এ নগরীর নামকরণ করা হয় আল-কাহেরা আল- মাহফুজা, অর্থাৎ (মঙ্গল গ্রহের) রক্ষিত বিজয়ী নগরী।
প্রশ্ন-৫। ফাতেমিয় খলিফা আল হাকিমের চরিত্র বর্ণনা কর ।
উত্তর : ফাতেমিয় খলিফাদের মধ্যে আল-হাকিম ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী শাসক । আল-হাকিমের যে মানসিক ভারসাম্যের অভাব ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় কতগুলো অস্বাভাবিক ঘটনায়।
তিনি জিম্মিদের প্রতি অসহিষ্ণু ছিলেন, মিশরে খ্রিষ্টান গির্জাসমূহ ধ্বংস করে তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন।
আবার উৎপীড়ন করলেও অমুসলমানদের তিনি দায়িত্বপূর্ণ উচ্চপদে নিয়োগ দিতেন। তাঁর চরিত্রে কিছু ত্রুটি থাকলেও তিনি জ্ঞানবিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন ।
প্রশ্ন-৬। দারুল হিকমা কী? বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর : ফাতেমিয় খলিফা আল-হাকিম বাগদাদের বায়তুল হিকমার অনুকরণে ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে ‘দারুল হিকমা’ নামে একটি বিজ্ঞান ভবন নির্মাণ করেন। দারুল হিকমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শিয়া ধর্ম বিষয়ে আলোচনা ও গবেষণা।
কিন্তু এখানে কবিতা, আইন, ব্যাকরণ, সমালোচনা, আয়ুর্বেদ, জ্যোতির্বিদ্যা, শব্দবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিদ্যা প্রভৃতি বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হতো।
দেশ-বিদেশের বহু প্রখ্যাত পণ্ডিত ব্যক্তি সেখানে হাজির হতেন এবং জ্ঞানবিজ্ঞানের বিভিন্ন আলাপ-আলোচনায় অংশগ্রহণ করতেন। সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবির রাজত্বকালে সুলতানের আদেশে এ ভবনটি ধ্বংস করা হয়।
প্রশ্ন-৭। আল-মুইজের শাসনকালকে স্বর্ণযুগ বলা হয় কেন?
উত্তর : আল-মুইজ ৯৫২ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন। সিংহাসন আরোহণের পর রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য কঠোর নীতি অনুসরণ, বিদ্রোহ নির্মূল করে গোত্রীয় নেতাদের বশ্যতা স্বীকারে বাধ্য, রাজ্য জয়, যেমন- মরক্কো বিজয়, ক্রিট হস্তচ্যুত, বিজয়, শাসনব্যবস্থার বিন্যাস এবং শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপনে তিনি অশেষ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন।
এ কারণে হিট্টি বলেন, ফাতেমিয় মিশরের স্বর্ণযুগ আল-মুইজের রাজত্বে শুরু হয়। প্রজারঞ্জক শাসক, বিদ্যোৎসাহী এবং বিচক্ষণ খলিফা আল-মুইজ ফাতেমিয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি অম্লান থাকবে। অতুলনীয় অবদানের জন্য তাঁর শাসনকালকে স্বর্ণযুগ বলা হয়।
প্রশ্ন-৮। খলিফা আল-মুইজের মরক্কো বিজয় সম্পর্কে ধারণা দাও ।
উত্তর : আল-মুইজের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হচ্ছে দেশ জয়। ৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তাঁর সুদক্ষ সেনাপতি জওহার আল-সিকিলিকে মরক্কো অভিযানের সর্বাধিনায়ক নিযুক্ত করেন। জওহর বীরবিক্রমে মরক্কো অধিকার করে স্পেনীয় উপকূলে যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন।
৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে মুসলমানগণ আটলান্টিক মহাসাগরের দিকে নৌ- অভিযান পরিচালিত করতে সক্ষম হন। কথিত আছে, মুসলিম নৌ- অধ্যক্ষ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে জীবন্ত মাছ ধরে বোতলে করে আল-মুইজের নিকট প্রেরণ করেন ।
প্রশ্ন-৯। খলিফা আল-মুইজের সময় সংঘটিত বিদ্রোহ কীভাবে দমন করেন?
উত্তর : খলিফা আল-মুইজের রাজত্বকালে বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। তিনি জওহরের অনুরোধে-৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোয়ান থেকে মিশরের আল-কাহেরায় আগমনের পর জওহরকে সমস্ত বিদ্রোহ দমনের জন্য বললে জওহর বিদ্রোহ দমন করে এ বংশকে সুসংহত করেন।
মিশরের খারিজি, কারামাতি এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকেরা বিদ্রোহ করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করেন। খলিফা আল-মুইজের সময়ে কারামাতি সম্প্রদায় অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করেন । আল-মুইজের প্রতি সিরিয়া, মিশর ও হেজাজ থেকে আগত প্রতিনিধিগণ আনুগত্য প্রকাশ করে।
প্রশ্ন-১০। আল আজিজ তার সময়ে সংঘটিত বিদ্রোহ কীভাবে দমন করেন?
উত্তর : আল-আজিজ ৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করার পর উত্তরাধিকার সূত্রে মারাত্মক রাজনৈতিক অরাজকতার সম্মুখীন হন। সিরীয় অঞ্চলে দুর্ধর্ষ কারামাতীয় নেতা বিদ্রোহী হাফতাসিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ফাতেমিয় বংশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ালে আল-আমিন জওহরকে সিরিয়ায় অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
অভিযানের সংবাদে হাফতাসিন এ এলাকা ছেড়ে তাইবেরিয়াসে চলে যাওয়ার পর পুনরায় সৈন্য সংগঠন করে হাফতাসিন কারামাতীয়দের সহযোগিতায় দামেস্কের অভিমুখে রওনা হন।
জওহর হাফতাসিনের বাহিনীকে পর্যুদস্ত করলেও হাফতাসিনের চতুরতার সাথে টিকতে না পেরে সন্ধির প্রস্তাব করেন। কিন্তু সন্ধির শর্তাদি পালন বিলম্বিত হওয়ায় ফাতেমিয় বাহিনী পলায়নরত হাফতাসিনকে বন্দী করে ।
প্রশ্ন-১১। খলিফা আল আজিজের সময়ে সংঘটিত বার্বারদের বিরোধ সম্পর্কে লেখ।
উত্তর : আল আজিজের রাজত্বকালে বার্বার অসন্তোষ অব্যাহত থাকে। বার্বারদের প্রতি খলিফার কোনো আস্থা ছিল না। এ জন্য তিনি তুর্কি বা দায়লামা বন্দিদের মুক্তি দিয়ে তাদের সাহায্যে একটি দেহরক্ষী, বাহিনী গঠন করেন।
বীরশ্রেষ্ঠ হাফতাসিনকে এ বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করা হয়। ৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত হাফতাসিন এ
পদমর্যাদা ভোগ করেন।
প্রশ্ন-১২। খলিফা আল-মুইজের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ব্যাখ্যা কর ।
উত্তর : জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আল-আমিন সাম্রাজ্যের সকল স্তরের প্রজাদের প্রতি সদয় ও সহিষ্ণু ছিলেন। পরম সহিষ্ণুতা প্রদর্শনই ছিল তাঁর ধর্মীয় নীতির মূল লক্ষ্য।
তাঁর আমলে ইহুদি ও খ্রিষ্টান প্রজাগণ সর্বাধিক অবাধ ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করে। ধর্মীয় নীতির প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে তিনি তাঁর খ্রিষ্টান রুশ রানির দ্বারা প্রভাবান্বিত হন। উদারতা ও সহিষ্ণুতা আল-আমিনে রাজত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল।
প্রশ্ন-১৩। খলিফা আল আজিজ জনহিতকর কার্যকলাপের বর্ণনা দাও।
উত্তর : আল মুইজের মতো আল আজিজ বিভিন্ন ধরনের জনহিতকর কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করেন। তিনি কায়রোতে ২ মিলিয়ন দিনার ব্যয়ে একটি রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করেন এ আশায় যে, তিনি বাগদাদের খলিফাকে বন্দী করে এই গৃহে অন্তরীণ রাখবেন।
৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণ করেন। ফুসতাতের সন্নিকটে এ মসজিদটির ভিত্তি আল-আমিন স্থাপন করলেও তাঁর পুত্র আল- হাকিম এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন বিধায় এটি আল-হাকিমের মসজিদ নামে পরিচিত। তিনি জাহাজ নির্মাণ কারখানাও স্থাপন করেন।
প্রশ্ন-১৪। ফাতেমিয় খিলাফতে সাংস্কৃতিক বিকাশ আলোচনা কর।
উত্তর : ফাতেমিয় খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় চিকিৎসাবিদ ও প্রাকৃতিক | বিজ্ঞানচর্চায় বিশেষ অবদান রাখেন ইহুদি চিকিৎসক মুসা-বিন-আল- সাজ্জান এবং তাঁর দুই পুত্র ইসহাক ও ইসমাইল।
আলেকজান্দ্রিয়ার ইউ টি কিয়াস বা সাঈদ বিন বাতরিক একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক ছিলেন, যাঁর গ্রন্থ ১৬৫৪ খ্রিষ্টাব্দে অক্সফোর্ডে ল্যাটিন ভাষায় প্রকাশিত হয়।
উজির কিল্লিস জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতায় আল-মুসাব্বিহি ২৬০০ পৃষ্ঠায় মিশরের ইতিহাস রচনা করেন। রাজকীয় গ্রন্থাগারে অসংখ্য গ্রন্থ ছিল। যেমন- ২৪০০টি কুরআনের কপি, ৩০০ খানা অভিধান, ১২০০ খণ্ডে সমাপ্ত আত-তাবারীর ইতিহাস গ্রন্থ। ফাতেমিয় কুতুবখানায় সালাহউদ্দীন ১,২০,০০০ পুস্তক দেখতে পান।
প্রশ্ন-১৫। আল-আজহার মসজিদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণনা দাও।
উত্তর : ৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে আল-মুইজের সেনাপতি জওহর বিবি ফাতেমার স্মরণার্থে ‘আল-আজহার’ নামে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন।
‘আল- জাহরা’ শব্দের অর্থ জমকালো। এ মসজিদটি ছিল আয়তাকার। মসজিদটি নবি করিমের মদিনা মসজিদের অনুকরণে চতুরবিশিষ্ট ভূমি নকশার উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল।
ফাতেমি খলিফা আল-আজিজের রাজত্বকালে ইয়াকুব ইবনে কিমিসের পরামর্শে ৯৮৯ সাল থেকে শুধু, মসজিদ হিসেবেই নয়, ইসলামের অন্যতম আকর্ষণীয় বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবেও এ মসজিদটির কৃতিত্ব অসামান্য। ) গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন-১৬। খলিফা আল-মুইজের মিশর বিজয় বর্ণনা কর।
উত্তর : আল-মুইজের অন্যতম কীর্তি হচ্ছে মিশর বিজয়। ইখশীবিয়া শাসনামলে শাসকদের অত্যাচারে মিশর রাজনৈতিক অরাজকতা শুরু হলে মিশরীয় আমীর-ওমরাহগণ আল-মুইজের সাহায্য প্রার্থনা করেন।
মিশরে অভিযানের জন্য ২,৪০,০০,০০০ দিনার সংগৃহীত হলে আল- মুইজ মিশর অভিযানের দায়িত্ব দেন জওহরের উপর।
এক লাখ সুসজ্জিত অশ্বারোহী, ১০০ উষ্ট্র বাহিনী, প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও রসদ নিয়ে জওহর ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে বিরাট বাহিনী নিয়ে নীল নদ পার হয়ে ফুসতাত দখল করেন। ৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশর ফাতেমিয়দের দখলে আসে।
প্রশ্ন-১৭। জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চায় খলিফা আল-হাকিমের অবদান আলোচনা কর।
উত্তর : আল-হাকিম নিঃসন্দেহে জ্ঞান-বিজ্ঞানের একজন শ্রেষ্ঠ পোষক ছিলেন। তাঁর আমলে বহু মাদ্রাসা, মানমন্দির নির্মিত হয়েছিল।
তাঁর সর্বশেষ কীর্তি হচ্ছে বাগদাদের ‘বায়তুল হিকমা’-এর অনুরূপ ‘দারুল হিকমা’ প্রতিষ্ঠা করেন। ১০০৫ খ্রিষ্টাব্দে কায়রোতে গবেষণার জন্য বিজ্ঞান ভবনটি স্থাপন করেন।
আল-হাকিম কায়রোর মুফাত্তাম ” পাহাড়ে একটি মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর সাথে সমসাময়িক জ্যোতিষী আল-হাম্মাদের নাম জড়িত রয়েছে।
আল-হাকিমের দরবারে বহু জ্ঞানী-গুণীর সমাবেশ হতো। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক মুসাব্বিহ, বৈজ্ঞানিক আলী ইবন ইউনুস, পণ্ডিত আবু বকর আল-আনটাকী, চক্ষুরোগ বিশারদ ইবন আল-হায়সাম।





