10টি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর এই পোস্টটি এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেল। এখানে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর ধাপে ধাপে নির্ভুল উত্তর সহজ ভাষায় উপস্থাপন করা হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন-১।
শাপলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাওয়াদ সাহেব তার ইউনিয়নে ‘জ্ঞানের আলো’ নামে একটি পাঠাগার গড়ে তুলেছেন। পাঠাগারটি বিভিন্ন ভাষার বই দ্বারা সমৃদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বইগুলো বাংলায় অনুবাদের ব্যবস্থা করেছেন। অনূদিত বইয়ের মাধ্যমে গবেষণার জন্য একটি গবেষণাগারও প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি এটিকে একটি আন্তর্জাতিক পাঠাগারে পরিণত করতে আগ্রহী ।
ক.আব্বাসি কারা?
খ.আবু জাফর আল মনসুরকে আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় কেন?
গ. উদ্দীপকের ‘জ্ঞানের আলো’ পাঠাগারের সাথে ইতিহাসের কোন প্রতিষ্ঠানের মিল রয়েছে? জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে ঐ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের ন্যায় ঐ প্রতিষ্ঠানটি কি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও ।
সৃজনশীল উত্তর ১
ক. মহানবি হজরত মুহম্মদ (স)-এর চাচা আল-আব্বাসের, বংশধরগণ ‘আব্বাসি’ নামে পরিচিত।
খ. ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে আবুল আব্বাস-আস সাফফার মৃত্যুর পর তার মনোনয়নক্রমে ভ্রাতা আবু জাফর ‘আল মনসুর’ উপাধি ধারণ করে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
তার সিংহাসনে আরোহণ নিষ্কণ্টক ছিল না; কিন্তু তিনি এতে পিছপা না হয়ে নিজ দক্ষতাগুণে অভ্যন্তরীণ গোলোযোগ দমন ও বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে আব্বাসি সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেন। তার অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার বলে . সদ্যপ্রতিষ্ঠিত আব্বাসি বংশের ভিত মজবুত হয়।
যা ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত টিকেছিল। তার ক্ষমতা গ্রহণ আব্বাসি খিলাফতের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচনা করে। এ কারণে তাকে আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
মূলকথা : আল মনসুর আব্বাসি বংশকে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে তাকে এ বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
গ. উদ্দীপকের ‘জ্ঞানের আলো’ পাঠাগারের সাথে ইতিহাসের যে প্রতিষ্ঠানের মিল রয়েছে তা হলো খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত বাইতুল হিকমা।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারে ঐ প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিচে আলোচনা করা হলো- আল মামুন আবু জাফর (কুনিয়াত নাম আবু জাফর) ২৬শে মহররম ১৯৮ হিজরিতে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
তখন থেকে ২০৩ হিজরি বা ৮১৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে খোরাসানের রাজধানী মার্ভে অবস্থান করে দর্শন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা নিয়ে আলোচনায় মগ্ন থাকেন।
৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে আল মামুন জ্ঞান- বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে প্রতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য বায়তুল হিকমা (House of Wisdom) প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত পণ্ডিত, অনুবাদক ও চিকিৎসক হুসাইন ইবনে ইসহাককে বায়তুল হিকমার পরিচালক নিযুক্ত করা হয়।
এ বিশ্ববিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি তিনটি ইউনিটে বিভক্ত করা হয়; যথা- গ্রন্থাগার শিক্ষা নিকেতন ও অনুবাদ বিভাগ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ, জাতি থেকে দূত ও প্রতিনিধি মারফত মূল্যবান গ্রন্থরাজি সংগ্রহ করে অনুবাদ বিভাগকে সমৃদ্ধিশালী করা হয় এবং অনুবাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় ।
পারসিক, গ্রিক, হিন্দু, খ্রিষ্টান ইত্যাদি সম্প্রদায় ও জাতির পণ্ডিতগণ শিক্ষামূলক গবেষণা, জ্ঞান- বিজ্ঞান চর্চা, অনুশীলন ও অনুবাদকার্যে নিযুক্ত থাকতেন। তাদের মধ্যে লিউকের পুত্র কোস্টা (গ্রিক ও সিরিয়াক), মানকাহ ও দুবান (সংস্কৃত), ইসা বিন ইয়াহিয়া মুসা বিন খালিদ (ফারসি) ইয়াকুব আল কিন্দি এবং সাবিত বিন কুররা প্রমুখ ছিলেন প্রধান ।
এ ছাড়া ইহুদি, খ্রিষ্টান এবং সদ্য মুসলিম হওয়া বিদেশিরা প্রচুর অনুবাদকর্মে নিয়োজিত হন। আল মামুন এবং তার উত্তরাধিকারদের আমলেও বায়তুল হিকমাকে কেন্দ্র করে সকল গবেষণা ও অনুবাদকাজ আবর্তিত হয়।
মূলকথা : জ্ঞানবিজ্ঞানের নানা ক্ষেত্রে বিচরণ ছিল প্রতিষ্ঠানটির।
ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের ন্যায় ‘বাইতুল হিকমা’ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য। নিচে আমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দেখানো হলো-
বাইতুল হিকমা প্রতিষ্ঠা: খলিফা মামুন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে বাইতুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রখ্যাত মনীষী হুনাইন-বিন-ইসহাককে এ প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক নিযুক্ত করেন।
জ্ঞান বিকাশের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো- এই তিনটি পৃথক বিভাগ স্থাপন করেন।
বায়তুল হিকমার মাধ্যমে বৈদেশিক প্রভাবে মুসলিম জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা ও অনুশীলনের উন্মেষ ঘটে। বায়তুল হিকমা ছিল গৌরবোজ্জ্বল সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। এখানে পারসিক, হিন্দু, গ্রিক, খ্রিষ্টান, আরবীয় প্রভৃতি সম্প্রদায়ের মনীষী ও পণ্ডিতগণের আনাগোনা ছিল।
তারা শিক্ষামূলক গবেষণা জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, অনুশীলন ও অনুবাদকাজে নিয়োজিত থাকতেন। হুনাইন-বিন-ইসহাক পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল এবং বৈদেশিক রাজ্যে দূত বা প্রতিনিধি প্রেরণ করতেন। প্রতিনিধিগণ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জ্ঞানভাণ্ডারে সঞ্চিত পুস্তকের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করে আনতেন।
বিশেষ করে তারা গ্রিস, স্পেন, সিরিয়া, মিশর, ভারত থেকে গ্যালেন, টলেমি, অ্যারিস্টটল, সক্রেটিস, প্লেটো প্রমুখ মনীষীর দুর্লভ গ্রন্থাবলি সংগ্রহ করেন এবং সেগুলো অনুবাদের ব্যবস্থা করেন।
বহু পণ্ডিত ব্যক্তি তার এ অনুবাদকাজে সহযোগিতা করেন; তাদের মধ্যে ইসা-বিন-ইয়াহিয়া, মুসা-বিন-খালি, কোষ্টা, মানকাহ এবং দুবান নামক ব্যক্তি অনুবাদকাজ পরিচালনা করেন। অনুবাদের পারিশ্রমিক হিসেবে পুস্তকের ওজনে স্বর্ণ দেওয়া হতো।
ঐতিহাসিক উইলিয়াম মূইর বলেন, “এসব মনীষীর পরিশ্রমের ফলে মধ্যযুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন ইউরোপীয় জাতিগুলো তাদের নিজস্ব অথচ হারানো ধন প্রাচীন গ্রিসের বিজ্ঞান ও দর্শনের সঙ্গে পুনরায় পরিচিত হয়।
”খলিফা মামুন বিদেশি মূল্যবান পুস্তক অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, এসব পুস্তকের উপর মৌলিক গবেষণার জন্য বিভিন্ন মনীষীকে নিয়োগ করেন। ফলে বিদেশি ভাবধারায় আরবি ভাষায় এক সৃজনশীল গবেষণার আত্মপ্রকাশ ঘটে।
উপরিউক্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বই অনুবাদ করে। বিভিন্ন বই রচনার মাধ্যমে বা মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে তা বিশ্ব মুসলিম তথা বিশ্ববাসীর নিকট পৌঁছাত, সুতরাং প্রতিষ্ঠানটি নিঃসন্দেহে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ।
মূলকথা : বায়তুল হিকমা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ছিল।
সৃজনশীল প্রশ্ন-২।
‘ক’ দেশের শাসক কর্তৃক ‘খ’ দেশের শাসক পরাজিত হয়ে কর প্রদানে বাধ্য হলে ‘ক’ দেশের শাসক দেশে ফিরে যান। কিন্তু কিছুদিন পর ‘খ’ দেশের শাসক কর প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে পুনরায় ‘ক’ দেশের শাসক আক্রমণ করে তাকে পরাজিত করেন এবং পুনরায় কর প্রদানে রাজি করান। কিন্তু তৃতীয়বারও ‘খ’ দেশের শাসক পুনরায় কর প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানালে পুনরায় পরাজিত হন। এভাবে ‘ক’ দেশের শাসক বারবার ক্ষমা করায় তার দুর্বলতা প্রকাশ পায় ।
ক. খায়জুরান কে ছিলেন?
খ. ক্রুসেড বলতে কী বোঝায়?
গ. উদ্দীপকের সাথে আব্বাসি বংশের যে শাসকের বৈদেশিক নীতির মিল রয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত নীতির মাধ্যমে আব্বাসি বংশের ওই শাসকের দুর্বলতা কি প্রকাশ পেয়েছে? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল উত্তর ২
ক. আব্বাসি খলিফা আল মাহদির স্ত্রী।
খ. মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে বিভিন্ন কারণে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয় পৃথিবীর ইতিহাসে তা ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ নামে পরিচিত।
বিশেষ করে জেরুজালেমের দখলকে কেন্দ্র করে মুসলিম- খ্রিষ্টান যুদ্ধকে ইতিহাসে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ বলে। খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতীক হলো ‘ক্রুস’, এ শব্দ থেকে ক্রুসেড কথাটির উৎপত্তি হয়েছে।
একাদশ থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত তিনশত বছর ধরে ঈর্ষাপরায়ণ এবং বিক্ষুব্ধ খ্রিষ্টান জগৎ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ পরিচালনা করে। ধর্মের ডাকে বক্ষে ক্রুস চিহ্ন ধারণ করে অসংখ্য খ্রিষ্টান ধর্মযোদ্ধা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।
মূলকথা : ক্রুসেড হলো ধর্মযুদ্ধ।
গ. উদ্দীপকের সাথে আব্বাসি বংশের অন্যতম শাসক খলিফা। হারুন অর রশিদের বাইজান্টাইন বা বৈদেশিক নীতির মিল পাওযা যায়। বাইজান্টাইন খ্রিষ্টানদের সঙ্গে যুদ্ধ হারুনের রাজত্বকালের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য।
পূর্ববর্তী খলিফা মাহদীর সময় রোমান সম্রাজ্ঞী আইরিন যে সন্ধি করেছিল তা ভঙ্গ করে রোমানগণ ৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম সাম্রাজ্য আক্রমণ করে মুসলমানদের ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন।
মুসলিম সেনাবাহিনী তাদের আক্রমণ প্রতিহত করে ‘মাতারা’ ও ‘আনসিরা’ শহর দুটি অধিকার করেন। অতঃপর সাইপ্রাস ও ক্রীট দ্বীপ পুনরাধিকার করে রোমানদের পূর্ব সন্ধি অনুযায়ী কর দানে বাধ্য করেন।
৮০২ খ্রিষ্টাব্দে নাইসিফোরাস সম্রাটের দায়িত্ব গ্রহণ করে মুসলমানদের সঙ্গে পূর্বের সকল সন্ধি ভঙ্গ করেন এবং আরবদের খলিফা হারুনের নিকট পত্র প্রেরণ করেন যার ভাষ্য ছিল, “আমার পূর্ববর্তী সম্রাজ্ঞী আপনাকে অনর্থক প্রভুর মর্যাদা দান করেছেন এবং অনেক সম্পদ আপনার নিকট প্রেরণ করেছেন; এটি নারীসুলভ দুর্বলতা মাত্র।
সুতরাং আপনি পত্র পাওয়া মাত্র কালবিলম্ব না করে প্রেরিত অর্থের দ্বিগুণ প্রত্যর্পণ করুন; অন্যথায় তরবারিই আপনার ও আমার মধ্যকার মীমাংসা করবে।
ঐতিহাসিকগণ মনে করেন, হারুন এ পত্র হস্তগত হওয়ার পর পাঠ করে ক্রোধান্বিত হয়ে পড়েন; অতঃপর পত্রের উল্টা পৃষ্ঠায় জবাব দেন-“আমিরুল মুমিনীন হারুনের নিকট হতে রোমান কুকুর নাইসিফোরাসের নিকট”, “আমি তোমার পত্র পাঠ করেছি। উত্তর চোখে দেখবে, না কর্ণে শুনবে ।”
খলিফা হারুন যখন ট্রান্স অক্সিয়ানের বিদ্রোহ দমনে ব্যস্ত ঠিক তখন সুযোগ বুঝে নাইসিফোরাস সব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে মুসলিম সাম্রাজ্য আক্রমণ করে লুটতরাজ ও অত্যাচার শুরু এবার বিশ্বাসঘাতক ও সন্ধি ভঙ্গকারী নাইসিফোরাসকে সমুচিত শাস্তি দানের জন্য ১,৩৫,০০০. হাজার সৈন্যসহ হারুন গ্রিক দেশ আক্রমণ করেন।
এবারও খলিফার বাহিনীর নিকট গ্রিক সম্রাট পরাজিত হয়ে সন্ধি করেন। ১৮ প্রার্থনা করলে খলিফা তার মহানুভবতার দ্বারা নাইসিফোরাসকে ক্ষমা করেন। তবে এবার বর্ধিত কর ছাড়াও – রাজপরিবারের প্রত্যেক সদস্যের উপর কর বসান। এভাবে জয় গ্রিকদের বারবার পরাজিত করে তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল ০ নীতি প্রদর্শন ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
মূলকথা : বাইজান্টাইনদের প্রতি খলিফা হারুন অর রশিদ বারবার ক্ষমা প্রদর্শন করেছেন।
ঘ. খলিফা হারুন-অর-রাশিদের বাইজান্টাইন নীতির মধ্য দিয়ে তার দুর্বলতা নয় বরং অদূরদর্শিতা প্রকাশ পেয়েছে। নিচে আমার মতের পক্ষে যুক্তি দেখানো হলো-
বাইজান্টাইন খ্রিষ্টানদের যুদ্ধ খলিফা হারুন-অর-রশিদের শাসনামলে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। পূর্ববর্তী খলিফা মাহদীর সময় রোমান সম্রাজ্ঞী আইরিন যে সন্ধি করেছিল। ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে নাইসিফোরাস ক্ষমতা গ্রহণের পর তা ভঙ্গ করে। ফলে খলিফা হারুনের সাথে নাইসিফোরসের দ্বন্দ্ব বাধে।
নাইসিফোরাস পরপর চারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। প্রত্যেক বার নাইসিফোরাস পরাজিত হয় এবং প্রত্যেকবরে পূর্বের তুলনায় বেশি করদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। অপরদিকে প্রত্যেকবার তার আবেদন মঞ্জুর করে। কিন্তু খলিফা রাজধানীতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই নাইসিফোরাস সন্ধির শর্তসমূহ ভঙ্গ করত।
গ্রিকদের নিকট আরবদের বিজয় অভিযান আব্বাসীয় খেলাফতের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। রোমানদের (গ্রিকদের) সাথে বার বার সন্ধি খলিফা হারুনের অজ্ঞতার পরিচায়ক। মূলত গ্রিক বা রোমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে খলিফা হারুন-অর-রশিদের চরিত্রের তিনটি দিক স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে, সমরকুশলতা, অজ্ঞতা ও অদূরদর্শিতা।
সৈয়দ আমীর আলী প্রাগুক্ত গ্রন্থে বলেন, “বাইজান্টাইন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আরবরা তখন কনস্টান্টিনোপল দখল করলে তা …..পৃথিবীর শান্তি ও সভ্যতার পক্ষে কতই না মঙ্গলজনক হতো।” খলিফা হারুন-অর-রশিদ পূর্বের চেয়ে বেশি এবং রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি ব্যক্তিগত কর ধার্য করে নাইসিফোরাসকে ক্ষমা করেন কিন্তু নাইসিফোরাস সুযোগ পেলেই খলিফার বিরুদ্ধাচরণ করেছে। ঐতিহাসিক মুইর বলেন, ‘এসব যুদ্ধের তিক্ত ফলাফলে জ্বলে উঠে ধর্মযুদ্ধ বা ক্রুসেড।’
৮০৮ খ্রিষ্টাব্দে নাইসিফোরাস পুনরায় বিশ্বাসঘাতকতা করে মুসলিম রাজ্য আক্রমণ করে; এবার খলিফা নিজ সাম্রাজ্যকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমনে এত বিব্রত ছিলেন যে, নাইসিফোরাসের দুষ্কৃতির দিকে আপাতত নজর রাখতে পারলেন না ।
পরের বছর অর্থাৎ ৮০৯ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা হারুন-অর-রশিদ মৃত্যুমুখে পতিত হন। এর ফলে খলিফা হারুনের সাথে বাইজান্টাইনদের বৈদেশিক নীতি বিশ্বাসঘাতকতা আর সন্ধি ভঙ্গ, অপরদিকে খলিফার অদূরদর্শিতা, অজ্ঞতার মাধ্যমে শেষ হয়।
মূলকথা : খলিফা হন-অর-রশিদের বাইজান্টাইন নীতিতে তার দুর্বলতা না, বরং অদর্শিতা প্রকাশ পেয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৩।
শামসুন্নাহার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের ছাত্রী। সে একটি বই পড়ে জানতে পারে, হজরত মুহম্মদ (স.)-এর এক চাচার বংশধরগণ তাদের পূর্বের শাসকবর্গকে পরাজিত করে নিজেদের শাসন পরিচালনা করেন। তাদের এক ব্যক্তিকে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে এক স্থানের খলিফা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি পরিকল্পিতভাবে পূর্বের শাসক বা বংশের নিধনযজ্ঞের আয়োজন করেন। তিনি এক স্থানে ৮০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। তার প্রতিষ্ঠিত রাজবংশ ইসলামের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।
ক. ৭৭২ খ্রিষ্টাব্দে কোন শাসক রাস্তায় একটি রাজপ্রাসাদ এবং মসজিদ নির্মাণ করেন?
খ. সম্রাজ্ঞী যুবাইদার প্রজারঞ্জক ও জনদরদি কার্যক্রমের ব্যাখ্যা দাও।
গ. উদ্দীপকে রাসুল (স.)-এর চাচার বংশের যে শাসকের পরিচয় পাওয়া যায় তার খিলাফত প্রতিষ্ঠার বর্ণনা দাও।
ঘ. তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের পূর্বের শাসকদের সাথে পরবর্তী শাসকদের আচরণ ইসলামসম্মত ছিল? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল উত্তর ৩
ক. আবু জাফর আল-মনসুর ৭২২ খ্রিষ্টাব্দে রাক্কায় একটি রাজপ্রাসাদ ও মসজিদ নির্মাণ করেন।
খ. খলিফা হারুনের রাজত্বকালে তাঁর সকল সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যকলাপ ও পৃষ্ঠপোষকতাদানের ক্ষেত্রে সম্রাজ্ঞী যুবাইদা অংশগ্রহণ করতেন।
সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, সেতু, রাস্তাঘাট, এতিমখানা, সরাইখানা’ প্রভৃতি নির্মাণে যথেষ্ট পরিমাণে সাহায্য প্রদান করতেন।
এ ছাড়া সম্রাজ্ঞী যুবাইদা হজব্রত পালনে মক্কায় আগত মুসলমানদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য ২০ লাখ দিনার খরচ করে পঁচিশ মাইল দূর থেকে একটি নহর খনন করে মক্কা নগরীতে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেন। এটি ‘নহর-ই- যুবাইদা’ নামে পরিচিত ছিল।
সুতরাং বলা যায়, সম্রাজ্ঞী যুবাইদা অত্যন্ত প্রজারঞ্জক ছিলেন এবং বেশকিছু জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন।
মূলকথা : সম্রাজ্ঞী যুবাইদা অত্যন্ত প্রজারঞ্জক ছিলেন।
গ. উদ্দীপকে রাসুল (স.)-এর চাচার বংশের যে শাসকের পরিচয় পাওয়া যায় তিনি হলেন আবুল আব্বাস-আস-সাফফাহ। নিচে তাঁর খিলাফত প্রতিষ্ঠার বর্ণনা দেওয়া হলো-
৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে উমাইয়াদের পতনের মধ্য দিয়ে আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হয়। আবুল আব্বাসকে এ সময় কৃষ্ণার খলিফা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি উমাইয়াদের নিধনযজ্ঞের আয়োজন করেন এবং ফ্রুটস নামক স্থানে উমাইয়া বংশীয় ৮০ জনকে হত্যা করেন।
এই হত্যাকাণ্ডের জন্য আবুল আব্বাস ‘রক্তপিপাসু’ বা ‘আস সাফফাহ’ নামে পরিচিত হন। পরবর্তীকালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশই আব্বাসীয় বংশ হিসেবে ইসলামের ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।
তাই আবুল আব্বাসকে নিঃসন্দেহে আব্বাসীয় খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা বলা যায়। হিট্টির ভাষায়, “আস-সাফফাহ ইসলামের সর্বাপেক্ষা গৌরবোজ্জ্বল এবং দীর্ঘতম রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।”न
পরিশেষে বলা যায়, উমাইয়া বংশের ধ্বংসযজ্ঞের উপরই মূলত আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ আব্বাসীয় বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। আর সদ্যজাত এ শিশু বংশটিকে স্থায়ী ও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ তাঁকে গ্রহণ করতে হয়।
মূলকথা: আবুল আব্বাস- আস-সাফফাহ আব্বাসীয় খিলাফত প্রতিষ্ঠা করেন।
ঘ. উদ্দীপকের পূর্বের শাসক ও তাদের বংশধরদের উপর পরবর্তী শাসক পরিকল্পিতভাবে যে হত্যাযজ্ঞ চালায় সেটি মোটেও ইসলামসম্মত নয়। নিচে আমার মতের সপক্ষে যুক্তি দেখানো হলো-
উদ্দীপকের প্রথম বংশটিতে উমাইয়া এবং পরবর্তী বংশটিতে আব্বাসীয় বংশের চিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে আব্বাসীয়রা নিজেদেরকে মহানবি (স.)-এর চাচা হাশেমের বংশধর বলে দাবি করত।
আর এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তারা উমাইয়াদের অনৈতিক কার্যকলাপ, অন্যায়, অনাচার প্রভৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে।
অবশেষে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে উমাইয়াদেরকে পরাজিত করে আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় বসে। এরপর তারা পরিকল্পিতভাবে ফ্রুটস নামক স্থানে আব্বাসের অভিষেক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে উমাইয়া বংশীয় ৮০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে।
উদ্দীপকে প্রথম বংশটির উপর দ্বিতীয় বংশটি যে ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করে তা পুরোপুরি ইসলামবহির্ভূত। কারণ, ইসলাম প্রতিহিংসা, ফিতনা-ফ্যাসাদকে সমর্থন করে না।
আর উমাইয়াদের উপর আব্বাসীয়রা যে ধ্বংসযজ্ঞ চালায় তা ছিল * মূলত প্রতিহিংসার ফল। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের পূর্বের শাসকদের সাথে পরবর্তী শাসকদের আচরণ ইসলামসম্মত ছিল না।
মূলকথা : পরবর্তী শাসকদের নৃশংস আচরণ ইসলাম সম্মত ছিল না।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৪।
হিন্দু-বৌদ্ধ ধর্মযুদ্ধ ইতিহাসে খুবই আলোচিত। ধর্মের ডাকে এ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধ ইতিহাসে চরম উগ্রতাপূর্ণ অধ্যায়। এ যুদ্ধের ফলাফল ছিল বীভৎস, ব্যাপকবিধ্বংসী এবং রক্তপাতে পরিপূর্ণ।
ক. সালাউদ্দিন কোথায় রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন?
খ. মালিক শাহ সেলজুকের পরিচয় দাও।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের আলোকে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত যুদ্ধের কারণ বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের ফলাফলের আলোকে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত যুদ্ধের ফলাফলের মন্তব্য কর।
সৃজনশীল উত্তর
ক. কায়রোতে।
খ. আলপ আরসালানের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মালিক শাহ ‘জালাল– উদ-দৌলা’ উপাধি নিয়ে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি সুলতানদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। সেলজুকদের ইতিহাসে মালিক শাহের রাজত্বকাল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।
তাঁর রাজত্বকালে সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করত। মালিক শাহের রাজত্বের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান হলো জালালী পঞ্জিকা নামক গণনার প্রথা প্রবর্তন ।
মূলকথা : সেলজুক বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন মালিক শাহ।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের আলোকে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত যুদ্ধ হলো ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ । নিচে এর কারণগুলো আলোচনা করা হলো :
১. ধর্মীয় উন্মাদনা : ১০০৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের ফাতেমি খলিফা আল হাকিম কর্তৃক জেরুজালেমের পবিত্র গির্জাসহ কয়েকটি গির্জা বিনষ্ট হলে এবং সেলজুক তুর্কিগণ খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীগণকে সহৃদয়তার সঙ্গে দেখতে না পারায় ইউরোপের খ্রিষ্টান যুবকগণ ধর্মযুদ্ধের জন্য উন্মাদ হয়ে ওঠে। রোমান খ্রিষ্টান ও গ্রিক খ্রিষ্টানদের দ্বন্দ্ব: রোমান ধর্মগুরু সমগ্র খ্রিষ্টান জগতে তার প্রভুত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে মুসলিম জগতের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করেন।
৩. সামস্তপ্রথার বিষময় ফল : অধ্যাপক আর্নেস্ট বার্কারের মতে, “গির্জার প্রভাবে সামন্তপ্রথা যে সামাজিক রূপ ধারণ করে তা ধর্মযুদ্ধ সংঘটনের অনুকূলে ছিল।” ৪. ধর্মীয় ও পার্থিব সুবিধা লাভ : ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, ধর্মাচ্ছতাই ক্রুসেডের অন্যতম কারণ। সংক্রামক ধর্মোন্মাদনার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির সর্বপ্রকার উপায় অবলম্বিত হয়েছিল।
৫. অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কারণ : দশম শতাব্দী থেকে মুসলমানগণ ভূমধ্যসাগরের উপর কর্তৃত্ব লাভ করায় ইতালির ভেনিস, পিসা, জেনোয়ার ফরাসি বণিকগণের ব্যবসায়-বাণিজ্যের যথেষ্ট ক্ষতিসাধিত হয়েছিল। রুদ্ধ বাণিজ্যপথ উন্মুক্ত করার জন্য ক্রুসেড সংঘটিত হয় ।
৬. গ্রিক সম্রাট কমনেনাসের প্রত্যক্ষ আবেদন : ১০৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সম্রাট কমনেনাস পোপ দ্বিতীয় আরবানের কাছে মুসলমানদের কাছ থেকে এশিয়া মাইনর পুনরুদ্ধারের জন্য আবেদন করেন। সম্রাটের এ আহ্বানে পোপের সুযোগ মিলে গেল।
পরিশেষে বলা যায়, জেরুজালেমের দখলকে কেন্দ্র করে মুসলিম- খ্রিষ্টান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইতিহাসে ক্রুসেড হয়েছিল।
মূলকথা : ক্রুসেডসমূহ ইতিহাসের একটি চরম ক্ষিপ্ততাপূর্ণ অধ্যায় ।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধের ফলাফলের আলোকে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত ক্রুসেডের ফলাফল আলোচনা করা হলো :
ক্রুসেড একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে ব্যাপক ধ্বংসলীলা ও রক্তপাতের জন্ম দেয়।
এ ক্রুসেডের ফলে খ্রিষ্টানগণ লাখ লাখ মুসলিম নর-নারী ও শিশুকে হত্যা করে এক বীভৎস ঘটনা ঘটায়। ক্রুসেডের ফলে ইউরোপে রেনেসাঁ সৃষ্টি হয় এবং সামন্তপ্রথা দুর্বল হয়ে পড়ে ।
শক্তিশালী রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক টয়েনবি বলেন, “ক্রুসেডের ফলেই আধুনিক ইউরোপ জন্মলাভ করেছে।” ধর্মযুদ্ধের ফলে সামন্তপ্রথার বিলুপ্তি ঘটার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উর্ধ্ব হয় এবং দেশে রাজকীয় কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে।
ক্রুসেডের ফলে ভূমধ্যসাগরে খ্রিষ্টান বণিকগণের সামুদ্রিক ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছিল। ফলে ভূমধ্যসাগরের উপর মুসলমানদের কর্তৃত্ব লোপ পায়।
মধ্যযুগের পোপ ও খ্রিষ্টান ধর্মযাজকগণ এতই গোঁড়া ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলেন যে, ক্রুসেডের ভয়াবহতা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং তাঁরা পোপের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হন। ক্রুসেডের ফলে অসংখ্য মুসলমান প্রাণ হারায়।
অপরপক্ষে, খ্রিষ্টানগণ বিপুল ধন ও লাখো প্রাণের বিনিময়েও মুসলমানদের হাত থেকে জেরুজালেম উদ্ধার করতে পারেনি । তাই প্রাচ্য অপেক্ষা প্রতীচ্যের জন্য ক্রুসেড ছিল অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ।
মূলকথা : ক্রুসেডের ফলেই আধুনিক ইউরোপের জন্মলাভ ঘটে।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৫।
শাসক হিসেবে আকাব্বর সাহেব ছিলেন খুবই জনপ্রিয় এবং দক্ষ। কিন্তু তার মৃত্যুর পর ক্ষমতা ও রাজ্য শাসনের বিভিন্ন কারণ নিয়ে তার দুই পুত্রের মধ্যে সংঘর্ষ ও গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়। এর অন্যতম কারণগুলো হলো পুত্র টেলু মিয়ার অনিশ্চিত চরিত্র, অনৈসলামিক কার্যকলাপ, সুরা পান, নারী ও সংগীতে মগ্নতা ইত্যাদি। অপরদিকে পুত্র বাদল ছিল কর্মঠ, সুদক্ষ শাসক, ধৈর্যশীল, ধর্মভীরু, জ্ঞানী, চরিত্রবান, সৎ ইত্যাদি গুণের অধিকারী।
ক. ৮২২ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল্লাহ-বিন-তাহির মেসোপটেমিয়ার বিদ্রোহী নসর উকায়লীকে পরাজিত ও বন্দি করে কার নিকট প্রেরণ করেন?
খ. ক্রুসেডের কারণ হিসেবে জেরুজালেমের পবিত্রতার ব্যাখ্যা দাও।
গ. টেলু ও বাদলের গৃহযুদ্ধ পাঠ্যপুস্তকের যে গৃহযুদ্ধের সাথে মিল রয়েছে তার কারণ বর্ণনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের বাদলের চরিত্র পাঠ্যবইয়ের খলিফা আল-মামুনের চরিত্রের অনুরূপ।- মতামত প্রদান কর।
সৃজনশীল উত্তর ৫
ক. ৮২২ খ্রিষ্টাব্দে আব্দুল্লাহ-বিন-তাহির মেসোপটেমিয়ার বিদ্রোহী নসর উকায়লীকে পরাজিত ও বন্দি করে খলিফা আল-মামুনের নিকট প্রেরণ করেন।
খ.প্যালেস্টাইন বা জেরুজালেম ছিল যিশুখ্রিষ্টের জন্মভূমি। তা ছাড়া এটি ছিল মহানবি (স.)-এর মিরাজ গমনের স্থান এবং * মুসা ও দাউদ (আ)-এর বহু স্মৃতিবিজড়িত স্থান, অনেক নবি- রাসুলের জন্মস্থান। কাজেই জেরুজালেম খ্রিষ্টান, মুসলমান ও ইহুদি এই তিন সম্প্রদায়ের নিকটই সমানভাবে পবিত্র।
হজরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলে ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে আমর ইবন-আল- আস সর্বপ্রথম খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে প্যালেস্টাইন দখল করেন।
পরবর্তীকালে খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের হাত থেকে জেরুজালেম উদ্ধার করতে সচেষ্ট হয়, ফলে উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। সুতরাং বলা যায়, ক্রুসেডের অন্যতম কারণ ছিল জেরুজালেমের পবিত্রতা রক্ষা করা।
মূলকথা : জেরুজালেম ছিল খ্রিষ্টান, ইহুদি ও মুসলমানদের পবিত্র স্থান।
গ. টেলু ও বাদলের গৃহযুদ্ধের সাথে পাঠ্যপুস্তকে আমিন-মামুনের গৃহযুদ্ধের মিল পাওয়া যায়। মূলত টেলু ও বাদলের গৃহযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আব্বাসীয় খলিফা হারুনের দুই পুত্র আল-আমিন ও আল-মামুনের মধ্যকার উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের চিত্র ফুটে উঠেছে।
এ যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পশ্চাতে অনেক কারণ ছিল। সম্রাজ্ঞী যুবাইদা ও তাঁর ভাই ঈশা ইবন-জাফরের প্রভাবে ৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে পাঁচ বছরের পুত্র মুহম্মদকে আল-আমিন উপাধি দিয়ে প্রথম এবং পারস্য স্ত্রীর গর্ভজাত পুত্র আব্দুল্লাহকে ‘আল-মামুন’ উপাধি দান করে।
দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী মনোনয়ন করেন। তৃতীয় পুত্র কাশিমকে মামুনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী মনোনীত করায় খলিফা হারুনের মৃত্যুর পর তিন ভাইয়ের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
তা ছাড়া “আল-আমিনের চারিত্রিক দুর্বলতা, বংশগত ও শিক্ষাগত পার্থক্য, আরব-পারস্য বৈষম্য, আল-আমিনের কপটতা ও বিশ্বাসঘাতকতা, আল-আমিনের উজির ফজল বিন রাবীর ষড়যন্ত্র, আল-আমিনের অদূরদর্শিতা প্রভৃতি কারণে দ্বন্দ্ব, অনিবার্য হয়ে ওঠে।
উপর্যুক্ত কারণে ৮১২ খ্রিষ্টাব্দে আমিন মামুনের দ্বন্দ্ব সংঘটিত হয়। অবশেষে আল-মামুনের বাহিনীর নিকট আল-আমিন আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন এবং ৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে একজন ঘাতকের আঘাতে প্রাণ ত্যাগ করেন।
খলিফা আল-আমিন এবং খোরাসানের শাসনকর্তা আল-মামুনের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধকে আরব ও পারস্য জাতীয় সংঘর্ষ বলে অভিহিত করা হয়। ধর্মীয় দিক থেকে বিচার করলে এ যুদ্ধকে শিয়া-সুন্নি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘটিত মারাত্মক যুদ্ধ বলে অভিহিত করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, এ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে খলিফা আল- আমিনের পতন ঘটে এবং আল-মামুনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় । মূলকথা :- উত্তরাধিকার দ্বন্দ্ব যেকোনো রাজবংশের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
ঘ. উদ্দীপকের বাদলের চরিত্রের সাথে খলিফা আল-মামুনের চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। খলিফা আল-মামুন ৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদের খিলাফতে আরোহণ করেন।
তিনি আব্বাসীয় বংশের স্বর্ণযুগের সূচনা করেন। তিনি ছিলেন কর্মঠ, সুদক্ষ শাসক, ধৈর্যশীল, ধর্মভীরু,জ্ঞানী, চরিত্রবান, সৎ ইত্যাদি গুণের অধিকারী।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোনো ক্ষেত্র ছিল না যাতে মামুনের যুগে কবি, দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ, অঙ্কশাস্ত্রবিদ, আইনজ্ঞ, ধর্মবেত্তা, চিকিৎসক, স্থপতি, চারু ও কারুশিল্প, ঐতিহাসিক ও রসায়নবিদ প্রমুখ মনীষী অবদান রাখেননি।
তাঁর শাসনামলে বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে সর্বাধিক মানসিক জাগরণ ঘটে ইউরোপের নবজাগরণ ও আধুনিক সভ্যতা তাঁরই সুচিন্তিত ভাবধারা ও দূরদর্শিতার ফল।
খলিফা মামুনের সময় এথেন্স, আলেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়া, এশিয়া মাইনর প্রভৃতি স্থান থেকে বহুমূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ সংগ্রহ করে তা অনুবাদ করা হয়।
তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় গ্যালেন, ইউক্লিড, ইলেসী প্রমুখ মনীষীর বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি এবং বিখ্যাত দার্শনিক অ্যারিস্টটল ও প্লেটোর বইগুলো আরবি ভাষায় অনূদিত হয়ে সভারণ্যে প্রকাশিত হয়েছিল।
অনুবাদকাজ পরিচালনার জন্য তিনি ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে বায়তুল হিকমা বা জ্ঞানগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। আবুল হাসান নামক এক বিজ্ঞানী তাঁর শাসনামলে দূরবীক্ষণ যন্ত্র ও নৌ- কম্পাস আবিষ্কার করেন। এ কারণে খলিফা মামুনের যুগকে অগাস্টাস যুগ বলা হয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বাদল চরিত্রটি খলিফা আল- … মামুনের প্রতীক। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাদল চরিত্র পাঠ্যবইয়ের খলিফা আল-মামুনের চরিত্রের অনুরূপ।
মূলকথা : খলিফা মামুনের সময় জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলমানরা আরেক ধাপ এগিয়ে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৬।
ধর্ম এবং রাজনীতি শীর্ষক এক আলোচনায় ঢাকা প্রেসক্লাবে বক্তারা বলেন, ধর্মকে শান্তির পথে ব্যবহার না করে যুগে যুগে মানুষ ধর্মান্ধ হয়ে যুদ্ধ করেছে এবং মানবতার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। এ রকম একটি ঘটনা ঘটেছিল সাতশ শতাব্দীতে খ্রিষ্টান যুবকরা বর্মে ক্রুস চিহ্ন ব্যবহার করে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং অসংখ্য মুসলমানকে হত্যা করে। এই ধর্মযুদ্ধ ছিল আফ্রিকা ও এশিয়া অঞ্চলের মুসলমানদের বিরুদ্ধে।
ক. ১০৯০ খ্রিষ্টাব্দে সমুদ্রের উপরিভাগ থেকে কত ফুট উঁচুতে আলামৃত পর্বতে ঘাঁটি স্থাপন করা হয়?
খ. লুটতরাজ ও নৃশংসতা সেলজুক বংশের পতনের অন্যতম কারণ।- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের যুদ্ধটির সাথে পাঠ্যপুস্তকের যে যুদ্ধের মিল রয়েছে তার কারণগুলো বর্ণনা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর, ধর্মান্ধতাই এই ধরনের যুদ্ধের প্রধান কারণ? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল উত্তর ৬
ক. ১০৯০ খ্রিষ্টাব্দে সমুদ্রের উপরিভাগ থেকে প্রায় ১০,২০০ ফুট উঁচুতে আলামৃত পর্বতে ঘাঁটি স্থাপন করা হয়।
খ. সেলজুক বংশের পতনের অন্যতম কারণ ছিল গুপ্তঘাতক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব। নিজাম-উল-মুলকের অন্তরঙ্গ বন্ধু হাসান-বিন-সাবাহ কর্তৃক এ দলটি গঠিত হয়, যাদের প্রধান কাজ ছিল হত্যা, লুণ্ঠন ও শিশু অপহরণ দ্বারা সমাজে মারাত্মক নৈরাজ্য ও ব্রাসের সঞ্চার করা।
তাদেরকে দমন করা কষ্টসাধ্য ছিল। অতঃপর হালাকু খান তাঁর সাম্রাজ্যে বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য কয়েকবার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তাদের ধ্বংস করেন। সুতরাং বলা যায়, লুটতরাজ ও নৃসংশতা ছিল সেলজুক বংশের পতনের অন্যতম কারণ।
মূলকথাঃ রক্ষক যখন ভক্ষকে পরিণত হয় তখন তার পতন অবশ্যহারী।
গ. উদ্দীপকের যুদ্ধটির সাথে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভুক্ত ক্রুসেড যুদ্ধের মিল রয়েছে। ধর্মের নামে বর্মে ক্রুস চিহ্ন ধারণ করে অসংখ্য হতভাগ্য খ্রিষ্টান যুবককে এই ঘৃণ্য যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য প্ররোচিত করা হয়।
এ যুদ্ধ আফ্রো-এশিয়ান মুসলমানদের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টীয় ইউরোপের আজন্ম ঘৃণা, বিদ্বেষ ও দ্বন্দ্ব-কলহের বহিঃপ্রকাশ। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মধ্যে সংঘটিত এই ধর্মযুদ্ধের কারণ বিবিধ এবং এর ফলাফলও সুদূরপ্রসারী।
জেরুজালেমের পবিত্রতা, ফাতেমীয় খলিফা আল-হাকিম কর্তৃক জেরুজালেমের পবিত্র গির্জা (Holy Church) ধ্বংস সাধন, রোমান পোপের বাসনা, সামন্ততন্ত্রের বিলোপ সাধন, ভূমধ্যসাগরে মুসলমানদের একচেটিয়া বাণিজ্য, পার্থিব সুখ ভোগ, মনস্তাত্ত্বিক বিরোধ, সম্রাট কমনেনাসের আবেদন, তীর্থযাত্রীদের প্রতি অসদ্ব্যবহার, পোপ আরবানের ধর্মযুদ্ধের আহ্বান প্রভৃতি ছিল এই ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের অন্যতম কারণ।
এই যুদ্ধ তিনটি পর্যায়ে সংঘটিত হয় যথাক্রমে ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১৪৪ খ্রিষ্টাব্দ, ১১৪৪ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ এবং ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১২৯১ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত। পাশ্চাত্য দেশসমূহের প্রাচ্যে ধর্মপ্রচার ও বাণিজ্যের প্রসারতার পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
ইউরোপীয় রাজন্যবর্গ এই সময় অঙ্কশাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র প্রভৃতির উপর লিখিত বহু আরবি পুস্তক ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদে পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তারা সিরিয়ার বিভিন্ন সরঞ্জামের সংস্পর্শে আসে।
তবে এ কথা সত্য, ধর্মযুদ্ধের ফলে পাশ্চাত্য প্রাচ্য থেকে সভ্যতা নিয়ে গিয়েছে আর প্রাচ্য গ্রহণ করেছে পাশ্চাত্যের আরামপ্রিয় দিকগুলো। যার ফলে পরবর্তীকালে পাশ্চাত্য উন্নত সভ্যতার পীঠস্থানে পরিণত হয়। আর প্রাচ্য তার পূর্ব জৌলুস হারায়।
মূলকথা : ধর্মের দোহাই দিয়ে এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তবে আর্থসামাজিক কারণও ছিল।
ঘ. ধর্মান্ধতাই ছিল ক্রুসেডের প্রধান কারণ। ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা ওমরের সময় ওমর-বিন-আল-আস সর্বপ্রথম খ্রিষ্টানদের নিকট থেকে প্যালেস্টাইন দখল করেন।
এর ফলে খ্রিষ্টান জগতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে খ্রিষ্টান, ইহুদি ও মুসলমান তিনটি সম্প্রদায়ের জন্যই জেরুজালেম বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই ধর্মীয় স্বাধীনত অর্জন করেও খ্রিষ্টানগণ মুসলিম শাসনে সন্তুষ্ট ছিল না।
তা ছাড়া ১০০৯ খ্রিষ্টাব্দে মিশরের ফাতেমীয় খলিফা আল-হাকিম জেরুজালেমের * পবিত্র গির্জার (Holy Church) ধ্বংস সাধন করলে এবং খ্রিষ্টান তীর্থযাত্রীদের প্রতি সেলজুক তুর্কিদের অনুদার ব্যবহারে ইউরোপীয় খ্রিষ্টানরা বিচলিত ও ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠে।
একাদশ শতাব্দীতে খ্রিষ্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক গির্জা ও গ্রিক গির্জার মধ্যে প্রভাব ও প্রতিপত্তি বিস্তারকে উপলক্ষ করে। দ্বন্দ্ব বাধে। রোমান ক্যাথলিকগণ গ্রিক খ্রিষ্টানদিগকে অধার্মিক, পাপাসক্ত ও নাস্তিক বলে অভিহিত করে।
গ্রিক গির্জার উপর * প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার জন্য রোমান ক্যাথলিক গির্জার ধর্মগুরু পোপ মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্রুসেড ঘোষণা করেন। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি ও বাসনা চরিতার্থ করার জন্য ইউরোপীয় খ্রিষ্টানদের উত্তেজিত করতে থাকেন।
সুতরাং বলা যায়, ধর্মান্ধতাই এ যুদ্ধের প্রধান কারণ। মূলকথা : ধর্মকে কেন্দ্র করেই ক্রুসেড যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৭।
জনাব রাশেদ মিয়া আলমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান। প্রপ্রাসাধারণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য ছদ্মবেশে গ্রামভ্রমণ করতেন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ছাড়াও প্রতি রাতে একশত প্রকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। জনসাধারণের উন্নতি এবং স্বার্থ সংরক্ষণে তার জেলার কোনো চেয়ারম্যানই তার মতো যত্নবান ছিলেন না।
ক. আফাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কাকে বলা হয়?
খ. কাকে এবং কেন আসসাফফাহ বলা হয়?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাশেদ মিয়ার সাথে আব্বাসীয় কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত চারিত্রিক গুণাবলির কারণেই উত্ত খলিফাকে ইতিহাসে বিখ্যাত বলা হয় কি? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল উত্তর ৭
ক. আব্বাসীয় বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন আবু জাফর আল মনসুর।
খ. গ্রাবুল আব্বাসকে ‘আসসাফফাহ’ বলা হয়। আবুল আব্বাস ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে পরিকল্পিতভাবে উমাইয়াদের নিধনযজ্ঞের আয়োজন করেন।
তিনি ফিলিস্তিনের আৰু ফুট্রস নামক স্থানে উমাইয়া বংশীয় ৮০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। বসরাতেও অনুরূপ হত্যাযজ্ঞ সাধিত হয়।
শুধু তাই নয় আস-সাফফাহর আদেশে উমাইয়াদের মৃতদেহ কবর থেকে উঠিয়ে নিয়ে হাড়গুলো ভস্মীভূত করে বায়ুতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব হত্যাযজ্ঞের কারণে আবুল আব্বাসকে ‘আসসাফফাহ’ বা রক্তপিপাসু বলা হয়ে থাকে।
মূলকথা: আবুল জব্বাস পরিকল্পিতবাবে উমাইয়াদের নিষ্ঠুরতম নিধনয়াজের আয়োজন করেন বসে তাকে আসসাফফাহ বা রক্তপিপাসু বলা হয়।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাশেদ মিয়ার সাথে আব্বাসীয় খিলাফতের খলিফা হারুন-অর-রশিদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-
খলিফা হারুন-অর-রশিদ ছিলেন দয়ালু, ধর্মভীর ও দানশীল। তিনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়তেন। তেইশ বছরের শাসনামলে নিজে নয় বার হজব্রত পালন করেন।
যে বছর তিনি নিজে হজে যেতে পারতেন না সে বছর তিনি ৩০০ লোককে নিজের খরচে হজে পাঠাতেন। তিনি প্রতিদিন ১০০০ দিরহাম দান করতেন, তার চরিত্রে ছিল কঠোরতা ও কোমলতার এক অপূর্ব সংমিশ্রণ, অন্যায়কারী এবং বিদ্রোহীদের প্রতি তিনি যেমন কঠোর ছিলেন তেমনি বন্ধু ও গরিব-দুঃখীদের প্রতি ছিলেন অভ্যন্ত কোমল।
দয়া ও দানশীলতা ছিল তার চরিত্রের অন্যতম গুণ। ন্যায়পরায়ণ, মহানুভব, দানবীর, বিচক্ষণ ও ধর্মভীরু এই শাসকের কৃতিত্ব পর্যালোচনা করলে তার রাজত্বকালকে আব্বাসি খিলাফতের স্বর্ণযুগ বলা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রাশেদ মিয়ার পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, উপরিউক্ত খলিফা হারুন-অর-রশিদের বৈশিষ্ট্যের সাথে তা সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই উদ্দীপকের রাশেদ মিয়া খলিফা হারুন-অর-রশিদের প্রতিচ্ছবি।
মুলকথা: খলিফা হানুন অর রশিদের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. হ্যা, আমি মনে করি উদ্দীপকে উল্লিখিত চারিত্রিক গুণাবলির কারণেই খলিফা হারুন-অর-রশিদকে ইতিহাসখ্যাত বলা যায়। নিচে আমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো-
রূপকথার রাজা, কিংবদন্তীর নায়ক, ইতিহাসের গৌরব ও ইসলামের মুকুটমণি খলিফা হারুন-অর-রশিদ। তিনি দীর্ঘ তেইশ বছর ছয় মাস আবাদি বিসফেতে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
তার চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। অন্যায়কারী ও বিদ্রোহীদের প্রতি তিনি যেমন ছিলেন কঠোর, গরীব-দুঃখীদের প্রতি তিনি তেমনি ছিলেন পুষ্পের মতো কোমল। তার মতো ন্যায়পরায়ণ, মহানুভব, দানবীর ও বিচক্ষণ নরপতি সে যুগে ছিল না বললেও অত্যুক্রি হয় না।
বাক্তিগত জীবনে হারুন ছিলেন দয়ালু, দানবীর এবং ধর্ম। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ মাড়াও তিনি প্রতি রাতে একশ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তার চরিত্রে নানাবিধ গুণাবলির সমাবেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি বংশানুক্রমিক ধৈর্যহীনতা এবং সন্দেহপরায়ণতা দোষ হতে মুক্ত ছিলেন না।
আনুগত্য স্বীকারের পর বিদ্রোহী ইয়াহিয়ার প্রতি তার ব্যবহার সমর্থনযোগ্য নয়। অন্যথায়, তিনি আত্মসংযমী, প্রজাহিতৈষী, সাহিত্য ও শিল্পানুরাগী ছিলেন।
চরিত্রবলে ও বৃদ্ধির মাহাত্যে সে যুগে কেউই তাকে অতিক্রম করতে পারেনি। তার দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও অসাধারণ শাসন প্রতিভা তার চরিত্রের দোষ-ত্রুটিসমূহকে বহুলাংশে ঢেকে দিয়েছে।
ঐতিহাসিকগণ তাকে আব্বাসি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান খলিফা বলে অভিহিত করেছেন। হারুন-অর-রশীদের সময় বাগদাদ নগরী জাঁকজমকপূর্ণ ও ঐশ্বর্যশালী নগরীতে পরিণত হয়েছিল।
বাগদাদের বণিকগণ বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল ঐশ্বর্য দিয়ে বাগদাদকে সমৃদ্ধ করেছে। এছাড়া তিনি সব ক্ষেত্রেই অসাধারণ শ্রেষ্ঠত্ব ও শৌর্যবীর্যের পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি ন্যায়বিচারক, প্রজারঞ্জক শাসনকর্তা হিসেবে বিশ্বে সমধিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। রাজ্যে অরাজকতা দমন করতে এবং প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য তিনি ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করতেন।
খলিফা স্বয়ং সাম্রাজ্যের প্রান্তসীমা ও গিরিপথগুলো দর্শন করতেন এবং তিনি কখনো শাসনকাজে কষ্ট স্বীকার বা শ্রমের ত্রুটি করতেন না
সুতরাং বলা যায়, খলিফা হারুন-অর-রশিদের চরিত্রের কঠোরতা ও কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ তাকে ইতিহাসে বিখ্যাত করে রেখেছে।
মূলকথাঃ খলিফা হারুন-অর-রশীদের কঠোরতা, কোমলতা, দানশীলতা, ধর্মভীর, কর্তব্যপরাণ, সখ ও স্বল্পভাষী ইত্যাদি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সংমিশ্রণের জন্য তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৮।
রোমান রাজা ফিউডাল খুবই ধার্মিক ছিলেন। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি খুবই নৃশংস ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে ভেবে তিনি তার প্রধান সেনাপতিকে হত্যা করলে সেনাপতির সমর্থকদের দ্বারা যে বিদ্রোহ দেখা দেয় রাজা তাও অতি কঠোরহস্তে দমন করেন। তার ধার্মিকতার সুযোগ নিতে একদল প্রজা তাকে প্রভু বলে পূজা করতে এলে এক মারাত্মক পরিস্থিতির তৈরি হয়। সৌভাগ্যক্রমে রাজা সবকিছু মোকাবিলা
করতে সক্ষম হন।
ক . ‘বাগদাদ’ নগর কে প্রতিষ্ঠা করেন?
খ. খলিফা মনসুর কর্তৃক আলী বংশীয়দের প্রতি দুর্ব্যবহারের কারণ ব্যাখ্যা কর। ২
গ. উদ্দীপকে রাজা ফিউডাল তার প্রধান সেনাপতির প্রতি যে ব্যবহার করেছেন খলিফা আল মনসুর তার কোন সেনাপতির প্রতি সে আচরণ করেছিলেন?
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত ধর্মীয় ঘটনার মতোই রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল রাজা ফিউডালের মতোই খলিফা আল-মনসুর তা দমনে সক্ষম হয়েছিলেন- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল উত্তর ৮
ক. খলিফা আল মনসুর বোগদাদ’ নগর প্রতিষ্ঠা করেন।
খ. আব্বাসিদের পক্ষে শক্তিশালী জনমত গঠন ও এ বংশকে শাসন ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আলী বংশীয়রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর স্বীকৃতি স্বরূপ উমাইয়াদের পতনের পর ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহম্মদকে খলিফা নিযুক্ত করার কথা ছিল। কিন্তু উমাইয়াদের পতনের পর আব্বাসিরা কৌশলে খিলাফত করায়ত্ত করেন এবং মুহাম্মদকে ভবিষ্যৎ বিপদের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
নানা অজুহাতে খলিফা আল মনসুর আলী বংশীয় মুহম্মদ ও তাঁর পরিবারকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। ফলে তারা বিদ্রোহী হয়ে উঠলে খলিফা আল মনসুর নৃশংস দমন নীতি অবলম্বন করেন।
মূলকথা: আলী বংশীয় মুহম্মদকে আব্বাসিরা ভবিষ্যৎ বিপদের কারণ ভেবে তাদের প্রতি দুর্ব্যবহার করেন।
গ. উদ্দীপকে রাজা ফিউডাল তার প্রধান সেনাপতির প্রতি যে । ব্যবহার করেছেন খলিফা আল মনসুর তার ‘সেনাপতি আবু চাত মুসলিমের প্রতি সেই আচরণ করেছিলেন।
আবু মুসলিম আব্বাসি যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ সংগঠক ছিলেন। একমাত্র তার ড: সুযোগ্য নেতৃত্ব ও রণনৈপুণ্যেই উমাইয়া বংশের পতন ঘটিয়ে আব্বাসিদের সিংহাসনে বসানো সম্ভব হয়েছিল।
কথিত আছে – যে, আব্বাসিগণকে খিলাফতে প্রতিষ্ঠিত করতে তাকে প্রায় ছয় ক্যালক্ষ উমাইয়ার প্রাণ নাশ করতে হয়েছিল। পরে আবদুল্লাহ- বিন আলী খলিফা মনসুরের বিরোধিতা করলে আবু মুসলিম ঠিক তাকেও পরাজিত করে। আব্বাসি খিলাফতকে কণ্টকমুক্ত করেন।
আবু মুসলিম খোরাসানের শাসনকর্তা ছিলেন। ১। নাসিবিনের যুদ্ধের পর তিনি খোরাসানে প্রত্যাবর্তন করতে চাইলে খলিফা তাকে দূত মারফত খোরাসানের পরিবর্তে দি সিরিয়া ও তার অধীনস্ত অঞ্চলের শাসনকর্তা নিযুক্ত করার * প্রস্তাব করেন। আবু মুসলিম তা প্রত্যাখ্যান করেন।
১৯৮৯ খোরাসানে আবু মুসলিম অপরিসীম ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। এমনকি সেখানে একদল লোক তাকে নবির মর্যাদা দান করে।
সুতরাং তার অপরিসীম ক্ষমতা, জনপ্রিয়তা, দাম্ভিকতা, রণকৌশল, দৃঢ়তা ইত্যাদি গুণের মধ্যে খলিফা মনসুর আব্বাসি খিলাফতের ভবিষ্যৎ বিপদ দেখতে পেয়ে ষড়যন্ত্র করে সবার অলক্ষে তার প্রাণ সংহার করেন। বস্তুত আবু মুসলিম যত দিন জীবিত ছিলেন, তত দিন মনসুর নিজেকে সিংহাসনে নিরাপদ মনে করেননি।
মূলকথা : আবাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় আৰু মুসলিমের অসাধারণ অবদান থাকার পরও ভবিষ্যৎ বিপদের আশঙ্কায় তাকে হত্যা করা হয়।
ঘ. উদ্দীপকে বলা হয়েছে যে, রোমান রাজা ফিউডাল খুবই ধার্মিক ছিলেন। তবে রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি খুবই নৃশংস ছিলেন। তার ধার্মিকতার সুযোগ নিয়ে একদল প্রজা তাকে প্রভু বলে পূজা করতে এলে এক মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সৌভাগ্যক্রমে রাজা সবকিছু মোকাবিলা করতে সক্ষম হন।
এ ঘটনার মতো রাওয়াদিয়া সম্প্রদায় যে পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল রাজা ফিউডালের মতোই খলিফা আল-মনসুর তা দমনে সক্ষম হয়েছিলেন।
খলিফা আল মনসুর ধর্মের প্রতি বেশি আকৃষ্ট ছিলেন বলে পারসিক সম্প্রদায়ের লোকজন তাকে আল্লাহর অবতার বলে। ঘোষণা করে। এদের রাওয়ান্দিয়া বলা হয়। খলিফার অনুগ্রহ লাভের জন্য এরা ছিল তোষামোদকারী।
একদিন তারা খলিফার প্রাসাদের সামনে একত্রিত হয়ে বলতে থাকে “এই * আমাদের মাবুদের গৃহ, যিনি আমাদের আহারের জন্য খাদ্য এবং পানের জন্য পানীয় দান করেছেন। ” তাদের এরূপ ইসলাম বিরোধী প্রচারণার জন্য খলিফা মনসুর তাদের ২০০ জনকে কারারুদ্ধ করেন।
এ ঘটনার কিছুদিন পর প্রায় ৬০০ রাওয়ান্দিয়ার একটি দল প্রাসাদের সামনে এসে খলিফার দর্শনপ্রার্থী হন। খলিফা তাদের উদ্দেশে বেরিয়ে আসলে তারা … হঠাৎ খলিফাকে আক্রমণ করে বসে।
সৌভাগ্যক্রমে ….. মারওয়ানের বংশধর মায়ান বিন যায়েদা কিছুসংখ্যক সৈনাসহ ঐ পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। খলিফার দুর্গতি দেখে তিনি আক্রমণকারী রাওয়ান্দিয়াদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে খলিফাকে উদ্ধার করেন।
এরপর খলিফা কঠোর হস্তে রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ দমন করেন এবং এ অজ্ঞ কুসংস্কারাচ্ছন্ন ধর্ম সম্প্রদায়কে শহর থেকে বহিষ্কার করেন।
” মূলকথা আল মনসুর রাওয়াদিয়া সম্প্রদায়কে কঠোর হস্তে দমন করেছিলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৯।
করিম সাহেব বাড়িতে বসে টিভি দেখছিলেন। তিনি দেখলেন টিভিতে দুটি রাজবংশের উত্থান ও পতনের বর্ণনা ও চিত্র দেখাচ্ছিল। ‘ক’ নামক রাজবংশটি ৯৪৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসকের ভূমিকায় অবতীর্ণ, থাকে এবং তাদের একজনই পিতার নামানুসারে ঐ স্বাধীন বংশ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্বে ঐ বংশের পতন হয়। অপরদিকে ‘খ’ বংশ একটি বিস্ময়কর অধ্যায়ের সূচনা করে। ‘ক’ বংশের পতন অনেকটা তাদের হাতেই সূচিত হয়। তারা ছিল সুন্নি মুসলমান এবং ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে এর একনিষ্ঠ সেবকরূপে অনেকেই কাজ করেন। এক সময় এ বংশ পাঁচ ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং পতন ঘটে।
ক. ক্রুসেড অর্থ কী?
খ. মামুনের রাজধানী ব্যবসায়-বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র।- ব্যাখ্যা কর।
গ. ‘ক’ বংশের পতনের সাথে পাঠ্যবইয়ের যে বংশের পতনের মিল রয়েছে তা বর্ণনা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর ‘খ’ বংশীয় শাসন ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে? মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল উত্তর ৯
ক. ক্রুসেড অর্থ ধর্মযুদ্ধ ।
খ. মামুনের শাসনকালে শিল্প ও কৃষিকাজ, ব্যবসায়-বাণিজ্য, কারু ও চারুশিল্পের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। বাগদাদের বিপণিগুলোতে মিশরের লিনেন কাপড়, সিরিয়ার ধাতু নির্মিত তৈজসপত্র, লেবাননের কাচের দ্রব্যাদি, বাহরাইনের মুক্তা, ।
ইয়েমেনের সুগন্ধি দ্রব্য (ফ্রান্কিনসিন এবং মশলা), পারস্যের কার্পেট, ব্রকেড ও এমব্রয়ডারি করা বস্ত্রাদি, খোরাসানের সোনা ও রূপার অলংকারাদি প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত।
উপরন্তু বিশ্ববিখ্যাত ভারতীয় রং, ধাতব দ্রব্যাদি, মধ্য এশিয়ার রুবী, ক্রীতদাস-দাসী, বস্ত্রাদি, চীনের মৃৎ পাত্রাদি, সিল্ক, মৃগনাভী, রাশিয়া ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মধু, ফার, পূর্ব আফ্রিকা থেকে কালো ক্রীতদাসী এবং সোনার পাত প্রভৃতি আমদানি করা হতো।
এটি সাম্রাজ্যের আন্তঃ ও বহির্বাণিজ্যের প্রভৃত উন্নতির স্বাক্ষর বহন করে। সুতরাং বলা যায়, মামুনের রাজধানী বাগদাদ ছিল ব্যবসায়- বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র।
মূলকথা : আল-মামুনের রাজধানী বাণিজ্য, শিল্পায়ন এবং জ্ঞান- বিজ্ঞানের কেন্দ্র হিসেবে গৌরব অর্জন করে।
গ. দশম শতাব্দীতে আবু সুজা নামের এক পারসিয়ান, যিনি দাইলামের উপজাতিদের নেতা ছিলেন, নিজেকে প্রাচীন সাসানীয় বংশের উত্তরাধিকারী দাবি করে ‘বুয়াইয়া’ উপাধি ধারণ করেন।
তিনি ৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ইরান, ইস্পাহান, সিরাজ, আহওয়াজ এবং কিরমান প্রভৃতি স্থান সাসানীয়দের নিকট থেকে দখল করে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।
বুয়াইয়ারা ৯৪৫ থেকে ১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসন পরিচালনা করে। তাদের মধ্যে অধিক কৃতিত্বের দাবিদার ছিলেন মুইজ- উদ-দৌলাহ, আজদ-উদ-দৌলাহ, শামস-উল-মিল্লাত প্রমুখ।
পরবর্তী বুয়াইয়ারা ছিল দুর্বল। বুয়াইয়া আমির মালিক এবং রহিমকে বন্দি করার মধ্য দিয়ে বুয়াইয়াদের পতন ঘটে। ১০৪৮-৫৫ খ্রিষ্টাব্দে । বুয়াইয়াদের পতনের কারণ শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব। ১০৯৫ খ্রিষ্টাব্দে তারা ইমাম হুসাইনের সমাধিতে অগ্নিসংযোগ করে।
ফলে বাগদাদ সাম্রাজ্যে বিদ্রোহ দেখা দেয়। আরব-পারস্য প্রতিযোগিতা ছিল তাদের পতনের অন্যতম কারণ। তা ছাড়া বুয়াইয়া আমিরদের নিষ্ঠুরতা, বিশ্বাসঘাতকতা, স্বার্থান্বেষী মনোভাব, হিংসাদ্বেষ, সেলজুকদের সুন্নি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা প্রভৃতি ছিল তাদের পতনের কারণ। সুতরাং বলা যায়, ‘ক’ বংশের পতনের সাথে বুয়াইয়া বংশের চার পতনের মিল রয়েছে।
মূলকথা : রাজ্যের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কলহ একটি জাতির পতনের অন্যতম কারণ।
ঘ. ‘খ’ বংশ হলো সেলজুক বংশের প্রতীক ইসলামের ইতিহাসে ও খিলাফত ‘খ’ বংশ তথা সেলজুক তুর্কিদের অভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এরা অবুজ বংশোদ্ভূত ছিল।
এ বংশের প্রতিষ্ঠাতা তৃপ্রিল ১০৫৫ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদ নগরী দখল করে বুয়াইয়া বংশের উচ্ছেদ সাধন করে আব্বাসীয় খলিফার হৃত গৌরব ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।
তার বংশধরগণ পরবর্তীকালে ‘সুলতান’ উপাধি ধারণ করে এশিয়ার একটি প্রতাপশালী জাতিতে পরিণত হয়। তারা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে এর একনিষ্ঠ সেবকরূপে পরিচিতি লাভ করে। আলপ আরসালান, মালিক শাহ, নিজাম-উল- মূলক ছিলেন এ বংশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন শাসক।
মালিক শাহের শাসনামলে (১০৭২-৯২ খ্রিষ্টাব্দ) সেলজুক ক্ষমতা সর্বোচ্চ শিখরে উপনীত হয়। তার আমলে সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ছিলেন নিজাম-উল-মুলক।
তিনি আব্বাসীয় খিলাফতে সুন্নি ইসলামকে সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠা করেন এবং জনমঙ্গলকর শাসনব্যবস্থা দ্বারা অশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। নিজাম তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সিয়াসতনামায়’ রাজ্যশাসন প্রণালী ব্যাখ্যা করেন। মালিক শাহের রাজত্বকালে শিক্ষা-দীক্ষা, জ্ঞান- বিজ্ঞান চর্চা এবং শিল্পকলার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়।
১০৯২ খ্রিষ্টাব্দে মালিক শাহের মৃত্যু হলে সেলজুক বংশের পতন সূচিত হয়। ১১৯৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সেলজুক বংশ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল এবং পরবর্তীকালে অভ্যন্তরীণ কলহের জের ধরে সেলজুক সালতানাত ৫টি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং বলা যায়, সেলজুকগণের শাসন ইসলামের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে।
মূলকথা : জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার উন্নয়নের উপর সভ্যতার উন্নয়ন নির্ভর করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন-১০।
অষ্টম শতাব্দী থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী পর্যন্ত যে সাম্রাজ্য টিকে ছিল ওই সাম্রাজ্য ছিল মুসলিম শাসনব্যবস্থার স্বর্ণযুগ। এই সাম্রাজ্যের শাসকগণ জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা ও সংস্কৃতির সকল শাখায় অবদান রাখেন। এ যুগে আর্থসামাজিক ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। তবে মদ্যপান ছিল সমাজের প্রায় সর্বস্তরে প্রচলিত।
ক. ইবন-মুকাফফা রচিত ‘খুদাইনামা’ নামক রূপকথাটি কোন ভাষায় লিখিত?
খ. হালাকু খান কর্তৃক বাগদাদ আক্রমণের কাহিনি লেখ ।
গ. উদ্দীপকে আলোচিত মদ্যপান প্রথার সাথে সংগতি রেখে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত মদ্যপান প্রথা সম্পর্কে যা জান লেখ।
ঘ. উদ্দীপকের সাথে সংগতি রেখে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত যুগের আর্থসামাজিক অবস্থার বর্ণনা দাও।
সৃজনশীল উত্তর ১০
ক. ইবন মুকাফতা রচিত ‘খুদাইনামা’ নামক রূপকথাটি পাহলবী ভাষায় লিখিত।
খ. হালাকু খান ১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদ নগরী অবরোধ করেন। খলিফার বাহিনী নগরী রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে খলিফা পরিবার- পরিজন নিয়ে আত্মসমর্পণ করে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন; কিন্তু বাগদাদ নগরী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেল না বরং চলিশ দিন নির্বিচারে নগরী বিধ্বস্ত, জনসাধারণের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হলো।
২০ লাখ লোকের মধ্যে ১৬ লাখ লোককে হত্যা করা হয়। মুসলিম জ্ঞানভাণ্ডার বাগদাদ নগরী মহাশ্মশানে পরিণত হয়।
মূলকথা : হালাকু খান কর্তৃক বাগদাদ ধ্বংস পৃথিবীর ইতিহাসে একটি। কলঙ্কজনক অধ্যায়।
গ. উদ্দীপকে আলোচিত মদ্যপান প্রথার সাথে পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত আব্বাসীয়দের মদ্যপান প্রথার মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
মদ্যপান সমাজের প্রায় সর্বস্তরে প্রচলিত ছিল। মদ্যপান ইসলামে নিষিদ্ধ হলেও সমাজে কঠোর অনুশাসনের মধ্যে মদ্যপান একেবারে বন্ধ করা যায়নি। মদের প্রশংসায় বিভিন্ন কবিতা এবং কিতাবুল আঘানী ও ‘আরব্য উপন্যাসে’ মদ্যপান এবং মদ পানে মাতলামির বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়।
অনেকে ধর্মীয় অনুশাসন পালন করেও মদের উপাদান আঙুরের রস ও বাদাম থেকে উৎপন্ন লবিস’ নামক মদ্যপান করত। ইবনে খালদুন বলেন, খলিফা হারুন ও মামুন এ লবিস পান করতেন।
সাময়িক আনন্দমেলা এবং গানের আসরে মদের প্রচলন ছিল। মূলত এ মেলাকে মাতাল মেলা বলা হতো। মেলার পায়িকা বা মদ ও গানের মাধ্যমে মুরদের নৈতিক স্খলন ঘটে, যা সে যুগের সাহিত্যে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়।
মূলকথা : মদ্যপান ছিল সর্বস্তরে প্রচলিত।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে সংগতি রেখে পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত আব্বাসীয়দের আর্থসামাজিক অবস্থার বর্ণনা নিচে দেওয়া হলো :
আব্বাসীয় খলিফাগণ সাম্রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নের ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হয় এবং সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি হয়। গোত্রপ্রথা প্রাচীন আরব সমাজের একটি উলেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য।
বৈদেশিক প্রভাবের ফলে আব্বাসীয় আমলে সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। পারসিক ও তুর্কিদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনের ফলে আব্বাসীয়দের সঙ্গে আরবদের রক্তের সংমিশ্রণ ঘটে।
স্বামীর সেবা, সন্তান পালন, ঘরের কাজকর্ম করার নীতি থেকে দূরে এসে নারী রাষ্ট্রব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে নারীসমাজের উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে সমাজে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে, যার সমর্থন পাওয়া যায় আরব্য উপন্যাস থেকে।
আরবীয় সমাজের গঠন প্রকৃতিতে খলিফা ছিলেন সর্বোচ্চ স্তরে। তাঁর পরিবারবর্গ, রাজকর্মচারী, কৃষক, অন্যান্য পেশাজীবী মানুষ এবং সর্বনিম্ন ছিল দাস-দাসীরা।
ভূতাগণ সাধারণত অমুসলিম এবং যুদ্ধবন্দিদের মধ্য থেকে সংগৃহীত হতো। খোজা ভৃত্যগণ রাজদরবার ও হেরেমের পরিচর্যায় থাকত। দাসীদের অনেকেই গায়িকা ও উপপত্নী হিসেবে ব্যবহৃত হতো। পরিশেষে বলা যায়, আব্বাসীয় আমলে সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়।
মূলকথা : আব্বাসীয় সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নতি হয়।
এই ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৫ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পোস্টটি নিয়মিত অনুশীলন করলে তোমরা সহজেই সৃজনশীল অংশে ভালো নম্বর অর্জন করতে পারবে। পরীক্ষার আগে বারবার রিভিশন করলে গুরুত্বপূর্ণ Question গুলো মনে রাখা সহজ হবে। নতুন নতুন পোস্ট পেতে Bangla Data ভিজিট করুন ।





