ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন-১।
ভোলানাথপুরের ফরাজি বংশের জমিদার জামাল ফরাজি চৌধুরী বংশের রায়হান চৌধুরীর নিকট এক সংঘর্ষে পরাজিত হয়ে জমিদারি হারান। বিজয়ী রায়হান চৌধুরী ফরাজি বংশের লোকদের উপর নির্মম অত্যাচার চালান। তাঁর অত্যাচার থেকে কোনোক্রমে রেহাই পেয়ে ফরাজি বংশের সন্তান জাওয়াদ ফরাজি মাতুলালয়ে আশ্রয় নেন। সেখান থেকে ভাগ্যান্বেষণ করে পার্শ্ববর্তী ঝোপখালীতে তিনি একটি স্বাধীন জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন।
ক. কোন মুসলিম শাসকের আমলে স্পেন মুসলিম সাম্রাজ্যভুক্ত হয় ?
খ. তারিক-বিন-জিয়াদ ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত কেন?
গ. উদ্দীপকে জাওয়াদ ফরাজির সাথে স্পেনের কোন উমাইয়া শাসকের মিল রয়েছে? আলোচনা কর।
ঘ. উক্ত শাসকের কৃতিত্ব বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল উত্তর ১
ক. উমাইয়া খলিফা প্রথম ওয়ালিদ ।
খ. স্পেন বিজয়ী সেনাপতি হিসেবে তারিক বিন জিয়াদ ইসলামের ইতিহাসে বিখ্যাত। কারণ, তার রণনৈপুণ্যে স্পেন খুব সহজেই মুসলমানদের নিয়ন্ত্রণে আসে।
জিব্রান্টার প্রণালি অতিক্রম করার সময় তিনি যে পর্বতে অবতরণ করেছিলেন সে স্থানের নাম হয় জাবালুত তারিক বা তারিকের পাহাড়।
বর্তমানে এটি জিব্রাল্টার প্রণালি হিসেবে পরিচিত। স্পেনে মুসলিম আধিপত্য বিস্তারে যে কয়েক জন সেনাপতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তারিক-বিন-জিয়াদ ছিলেন তাদেরই একজন।
মূলকথা : স্পেন বিজয়ী বীর হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত।
গ. উদ্দীপকে জাওয়াদ ফরাজির সাথে সেপনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা আবদুর রহমান আদ-দাখিলের সাদৃশ্য রয়েছে। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে সর্বশেষ উমাইয়া খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ান জাবের যুদ্ধে পরাজিত হলে আব্বাসিগণ ক্ষমতা দখল করে।
তদের প্রথম খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফফাহ সিংহাসনকে কন্টকমুক্ত করতে উমাইয়া নিধনযজ্ঞ শুরু করেন; এ নিধনযজ্ঞ থেকে খলিফা হিশামের দৌহিত্র বিশ বছর বয়সী আবদুর রহমান ইবনে মুয়াবিয়া সৌভাগ্যবশত বেঁচে যান।
প্রথমে তিনি ইউফ্রেটিস নদীর তীরবর্তী শহর রাহ’তে আত্মগোপন করেন; অতঃপর তিনি ইউফ্রোটিস নদী পাড়ি দিয়ে আপন ভূত্য বদরসহ প্যালেস্টাইন হয়ে মিশর ও উত্তর আফ্রিকায় গমন করেন। এরই মধ্যে তিনি স্পেনে উমাইয়া সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন দেখেন।
এ উদ্দেশ্যে তিনি তার ভগ্নির মুক্তদাস সেলিমের কাছে থেকে স্পেন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং ভৃত্য বদরকে এলভিরা, জায়েন ও দক্ষিণ স্পেনের জেলাগুলোতে দামেস্ক শাখার উমাইয়াগণের নিকট প্রেরণ করেন।
অতঃপর সিরিয়া, প্যালেস্টাইন হয়ে উত্তর আফ্রিকায় শাসন প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়ে তিনি স্পেনে মনোনিবেশ করেন। আলোচিত সময়কালে স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ায় সে সময় মুদারীগণ স্পেনের তৎকালীন শাসনকর্তা ইউসুফের কুশাসন অতিষ্ঠ হয়ে আবদুর রহমানকে স্পেনে আগমনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
এ সকল পরিপ্রেক্ষিতে আবদুর রহমান ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেন উপকূলের আল মুনিকার নামক স্থানে অবতরণ করেন। স্পেনে তিনি বিপুল সমর্থন ও অভিনন্দন লাভ করেন। ৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে স্পেনের শাসনকর্তা ইউসুফের সঙ্গে আবদুর রহমানের ‘মাসারা’ নামক যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
যুদ্ধে ইউসুফ পরাজিত এবং পরে নিহত হলে আবদুর রহমান স্পেনের রাজধানী কর্ডোভা দখল করে নেন। এ বিজয়ের ফলে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠিত হয় ।
মূলকথা : উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা আবদুর রহমান আদ- দাখিলের চিত্র ফুটে উঠেছে।
ঘ. পৃথিবীর ইতিহাসে যেসব ব্যক্তি কপর্দকহীন অবস্থা থেকে সৌভাগ্যের উচ্চশিখরে আরোহণ করেছেন তাদের মধ্যে আবদুর রহমান আদ-দালিল অন্যতম।
তিনি নিজ যোগ্যতাবলে ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করে ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করেন ।
নিচে উক্ত শাসকের কৃতিত্ব আলোচনা করা হলো- দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, বিদ্রোহ দমন, বহিরাক্রমণ প্রতিহতকরণের লক্ষ্যে আমির আবদুর রহমান বাবার ও মুক্ত দাসদের সমন্বয়ে ২ লাখ সৈন্য নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী গঠন করেন। তার প্রশিক্ষিত ও দক্ষ সেনাদের মধ্যে বদর, তামামা, হাবিব ও আসিম ছিলেন অন্যতম।
আমির আবদুর রহমান আদ-দাখিল জ্ঞান-বিজ্ঞানের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জ্ঞানী-গুণীদের সমাদর করতেন। এ সময়ে স্পেনে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা চরম শিখরে উন্নীত হয়।
তার রাজত্বে সাহিত্যিক, ভাষাবিদ, আইনবিদ, ধর্মতত্ত্ববিদগণ তার পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন, তাদের মধ্যে কবি আল- মুতাহাসাসা, আইনজ্ঞ শেখ আবু মুসা হাওয়ারি, ধর্মতত্ত্ববিদ শেখ গাজী-বিন-কায়েস অন্যতম।
আবদুর রহমান স্পেনে জনকল্যাণমুখী শাসন প্রবর্তন করেন। কৃষিকাজের সুবিধার্থে খাল খননের মাধ্যমে সেচ প্রকল্পের প্রবর্তন করেন। ফলে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।
জনসাধারণের যাতায়াত ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের সুবিধার্থে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার করেন। কর্ডোভার প্রাসাদ, সরকারি ইমারত, মসজিদ, সেতু ও প্রাসাদের চারপাশে মনোরম উদ্যান নির্মাণ করে রাজধানীকে সুসজ্জিত করেন।
এস. এম. ইমামুদ্দীন বলেন, “এই আমির কর্ডোভার বিখ্যাত মসজিদ নির্মাণে ৮০ হাজার দিনার ব্যয় করেন, যেটি সৌন্দর্য ও জাঁকজমকের দিক দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অন্য যেকোনো স্থাপত্যের সাথে তুলনীয়।” তিনি নগরবাসীর সুবিধার জন্য পয়ঃপ্রণালি এবং স্নানাগার নির্মাণ করেন। পরিশেষে বলা যায়, আমির আবদুর রহমান আদ-দাখিল ছিলেন একজন সুযোগ্য শাসক।
মূলকথা : আমির আবদুর রহমান ছিলেন একজন যোগ্য ও দক্ষ শাসক।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -২।
ইসলামপুর একটি জনবহুল এলাকা। এখানকার জনগণের প্রায় সবাই অশিক্ষিত। শিক্ষার অভাবে তাদের সামাজিক জীবন খুবই অন্ধকারাচ্ছন্ন ছিল। এই গ্রামেরই শিক্ষিত সন্তান জারিফ গ্রামের উন্নয়নের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি গ্রামে স্কুল- পাঠাগার, দাতব্য চিকিৎসালয়, মসজিদ প্রভৃতি স্থাপনে অবদান রাখেন। তাঁরই প্রচেষ্টায় গ্রামটি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। পরবর্তীকালে তাঁর বংশধরগণও এর ধারাবাহিকতায় এলাকার উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখেন ।
ক. জাবালুত তারিক কী?
খ. দ্বিতীয় আবদুর রহমান মেরিদার বিদ্রোহ কীভাবে দমন করেন ?
গ. উদ্দীপকের ইসলামপুরের মতো স্পেনের কোন এলাকায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. তুমি কি মনে কর তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের উক্ত এলাকায় স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়? বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল উত্তর ২
ক. একটি পাহাড়ের নাম।
খ. আমির প্রথম হাকামের মৃত্যুর পর তার দ্বিতীয় পুত্র আবদুর রহমান আল-আসওয়াত ৮২২ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে উপবিষ্ট হন। সিংহাসনে আরোহণ করেই তিনি বিদ্রোহ ও ষড়যন্ত্রের শিকার হন।
মেরিদার বিদ্রোহ সেসবের মধ্যে অন্যতম। অকিটেন অধিপতি লুইসের উসকানিতে মাহুমুদ বিন আব্দুল জব্বার ও সুলায়মান-বিন-মারাভিনের নেতৃত্বে অধিক কর নির্ধারণ ও কর সংগ্রাহকদের নির্যাতন’ প্রতিরোধের দাবিতে প্রায় ৪০,০০০ ইহুদি ও খ্রিষ্টান মেরিদাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন।
আবদুর রহমান অভ্যন্ত যোগ্যতার সাথে তাদের পরাজিত করে এবং ৭,০০০ বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে এ বিদ্রোহ দমন করেন।
মূলকথা : কঠোর হস্তে বিদ্রোহ দমন করেন।
গ . উদ্দীপকের ইসলামপুরের মতো স্পেনের কর্ডোভায় সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে। নিচে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করা হলো-কর্ডোভা একটি জাতির পরিচয়, একটি যুগ, বিপ্লব, উৎস একটি যুগ মানস চেতনাবহ্নি, যুগব্যাপী তমসাচ্ছন্ন একটি মহাদেশের আলোকোজ্জ্বল বাতিঘর।
আচার বর্জিত কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অশিক্ষা ও কুশিক্ষায় অন্ধকারাচ্ছন্ন এক বিশাল মানবসমাজ অধ্যুষিত মহাদেশ তদানীন্তন ইউরোপ।
৭১১ সালে তারিক বিন জিয়াদের আগমনের ফলে মুসলিম শাসনের শুভ সূচনা হয়। প্রথম আবদুর রহমান এর ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে তার শৌর্য-বীর্য, সাধনা পরিশ্রম আর রাজনৈতিক অবকাঠামো, সড়ক, সেতু, মসজিদ, প্রাসাদ, বাসগৃহ, মিনার বিপণিবিতান, মক্তব, মাদ্রাসা, স্নানাগার, কালেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রন্থাগার, পাঠাগার, এতিমখানা, মুসাফিরখানা, মোহাফেজখানা ইত্যাদি গড়ে ওঠে।
১,০০,১৩,০০০ বাড়ি, ২১টি মাদ্রাসা, ৭০টি গ্রন্থাগার এবং অসংখ্য গ্রন্থাগারবিশিষ্ট এই শহরটি আন্তর্জাতিক খ্যাতি ও পর্যটকদের মনে সম্ভ্রম ও শ্রস্থা জাগিয়েছিল।
মাইলের পর মাইল বাঁধানো রাস্তা এবং বাড়ি থেকে রাস্তায় আলো ফেলার ব্যবস্থা উন্নত জীবনযাপনের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন বহন করে; অথচ তার প্রায় ৭০০ বছর পরেও লন্ডনে একটিও আলোর ব্যবস্থা ছিল না।
এজন্য। কর্ডোভাকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হতো। কর্ডোভার দৈর্ঘ্য ২৪ মাইল, প্রস্থ ৬ মাইল এবং ১৪ মাইল পরিধি ছিল; জনসংখ্যা ছিল ১০ লাখ। ৯০০টি সরকারি গোসলখানা, ৫০টি সরকারি হাসপাতাল, ৩০০টি মসজিদ, ২৭টি অবৈতনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১০০টি প্রাসাদ কর্ডোভা নগরীকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করেছিল।
এ সময় উমাইয়াদের রাজধানী কর্ডোভা সংস্কৃতিতে ইউরোপের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ উন্নত শহর ছিল এবং কনসটান্টিনোপল, বাগদাদসহ বিশ্বের সর্বশেষ্ঠ তিনটি উন্নত (Cultured) শহরের মধ্যে ছিল একটি, শিল্পবাণিজ্য কর্ডোভার খ্যাতি ছিল সুদূরপ্রসারী; বসত্রশিল্প, চর্মশিল্প, লৌহশিল্প এবং অলংকার তৈরি কর্ডোভাকে সমৃদ্ধ করেছিল। মূলকথা: কর্ডোভা উমাইয়া শাসনের রাজধানী, ইউরোপের বাতিঘর এবং ইউরোপের গৌরব ছিল।
ঘ. হ্যাঁ আমি মনে করি, তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের অন্যতম শহর কর্ডোভাতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়।
স্পেনীয় মুসলিমগণ স্থাপত্য ও শিল্পকলায় অসামান্য অবদান রেখে গেছেন, যার পরিচয় এখনও কর্ডোভা বহন করছে। মুসলিম স্থাপত্যকৌশল মসজিদ ও বাসগৃহকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
এসবের মধ্যে কর্ডোভার জামে মসজিদ, আজ-জোহরা প্রাসাদ, গ্রানাডার আল-হামারা প্রাসাদ, সেভিলের জিরাল্ডা মিনার উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়াও রয়েছে অসংখ্য প্রাসাদ, মসজিদ, হাম্মাম, জলাধার মাদ্রাসা ইত্যাদি। কর্ডোভা জামে মাসজিদের সস্থাপত্যশিল্পের সৌন্দর্য ছিল মনোহর।
৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আবদুর রহমান আদ দাখিল জেবুজলেম ও মক্কার দুটি মসজিদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এ মসজিদ নির্মাণ করেন।
অসংখ্য জমকালো সঞ্চ (১২৯৩টি) এবং একটি বিশাল উদ্যানের উপর মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। সেভিলের আল কাজার ও গ্রানাডার আল হামরা ছিল স্মৃতিসৌধের স্থাপত্যশিল্পের অন্য কৌশলে নির্মিত। লতাপাতার নকশা
সংবলিত আল-হামরা প্রাসাদ অলংকরণের দিক থেকে ছিল।
অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মদিনাতে খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমান আল জাহারা নামে (বর্তমানে কর্ডোভা লাভিয়েজা নামে পরিচিত) একটি বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করেন; ১০,০০০ শ্রমিক ও ১৫০০ ভারবাহী পশুর ২০ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে এ প্রাসাদ।
কারুশিল্পেও ম্যুরগণ কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন। সোনা, রুপা, তামা, ও পিতলের তৈজসপত্র, শৌখিন দ্রব্যাদি ছাড়াও মৃৎপাত্র, কাচের ঝাড়বাতি বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ছিল।
দারু বা খোদাই শিল্পেও তারা ব্যাপকভাবে সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়। স্পেনে হাতির দাঁতের উপর বিভিন্ন নকশা বা শিল্পসামগ্রী তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়; এ ছাড়াও চামড়ার উপর নকশা করে মূল্যবান দ্রব্যাদি তৈরি হতো। এসময় লোকজশিল্প ও ক্যালিগ্রাফির ব্যাপক প্রচলন ছিল। কুফি, নাসক, তাওকি, নয়াতাপিক রীতিতে হরফ খোদাই করা হতো।
সুতরাং বলা যায়, তৎকালীন ইউরোপে স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়।
মূলকথা : স্পেনের কর্ডোভা নগরীতে স্থাপত্য ও শিল্পকলায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি সাধিত হয়।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -৩।
নোয়াখালীর কিবরিয়া ২০০৪ সালে ইউরোপ গমন করে এবং সেখানে মুসলমানদের সংখ্যা দেখে অবাক হয়। সে তার বন্ধু দেলোয়ারকে জিজ্ঞাসা করে, এখানে মুসলমানদের সংখ্যা এত কম কেন? দেলোয়ার তাকে উত্তর দেয়, কোনো এক সময় এই ইউরোপের কোনো এক দেশে মুসলিম সম্প্রদায় আগমন করেছিল এবং শাসন করেছিল। তবে তা আরব মুসলিমদের সর্বশেষ এবং নাটকীয় ও গুরুত্বপূর্ণ অভিযান।
ক. প্রথম হিশাম কত বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন?
খ. প্রথম হিশামের সময়ের ভ্রাতৃযুদ্ধের ব্যাখ্যা দাও।
গ. দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি রয়েছে পাঠ্যবইয়ের আলোকে তার তৎকালীন রাজনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও ।
ঘ. আরবদের এই অভিযানে ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হয় মতামত দাও।
সৃজনশীল উত্তর ৩
ক. প্রথম হিশাম ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে ৩২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
খ. প্রথম আবদুর রহমানের মৃত্যুর পর তাঁর সুযোগ্য পুত্র প্রথম হিশাম স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন। কিন্তু আবদুর রহমানের সিরীয় স্ত্রীর গর্ভে সুলাইমান ও আব্দুল্লাহ নামে দুই পুত্র ছিল।
সিংহাসন লাভের জন্য তারা প্রথম হিশামের বিরুদ্ধাচরণ করেন। ৭৯০ খ্রিষ্টাব্দে এক বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে টলেডোতে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। প্রথম হিশাম বুলক (Boulk) প্রান্তরে বিদ্রোহী ভ্রাতৃদ্বয়ের মোকাবিলা করে তাদের পরাজিত করেন এবং স্পেন থেকে বিতাড়িত করেন।
মূলকথা : সিংহাসন বা ক্ষমতার লোভ আপন পর মানে না।
গ. উদ্ধৃত উদ্দীপকে দেলোয়ার সাহেবের উত্তরে যে দেশের প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে সেটি হলো ইউরোপের একটি দেশ স্পেন। উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদের রাজত্বকালে মুসলিম শাসন সুদূর স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও সংঘাতপূর্ণ। এই সুযোগে খলিফা আল- ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও সেনাধ্যক্ষ মুসা বিন নুসাইর ও তাঁর অধীনস্থ সেনাপতি তারিক ইবন- জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন দখল করে। স্পেনের তৎকালীন অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খলাপূর্ণ।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না। সামন্ত রাজা রডারিক স্পেনের রাজ্য উইটিজাকে হত্যা করে বলপূর্বক সিংহাসন দখল করে স্বৈরাচারীভাবে দেশ শাসন করতে থাকেন।
ফলে অনেকেই তার শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ ছিলেন। উইটিজার জামাতা সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তাঁর কন্যা ফ্লোরিন্ডাকে রাজকীয় রীতিনীতি শেখবার জন্য রডারিকের প্রাসাদে পাঠান।
কিন্তু লম্পট রডারিক কাউন্ট জুলিয়ানের মেয়ে ফ্লোরিন্ডার শ্রীলতাহানি করেন। এতে কাউন্ট জুলিয়ান আক্রোশে ফেটে পড়েন।
তিনি মুসা বিন- নুসাইরকে স্পেন আক্রমণ করার জন্য আমন্ত্রণ জানান এবং তাঁর শ্বশুর উইটিজার নির্মম হত্যা ও কন্যার শ্লীলতাহানির প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য মুসলিম বাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ রকম অরাজক পরিস্থিতি মুসলমানদের স্পেন অভিযানে উৎসাহিত করে।
মূলকথা : অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অরাজকতা বহিঃপর আক্রমণকে উদ্বুদ্ধ করে।
ঘ. ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলমানরা স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে ইউরোপে এক বিশৃঙ্খল ও অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শাসকদের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না, সমাজের নিম্নশ্রেণি ও দাসদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি ছিল না, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ছিল না। জ্ঞান- বিজ্ঞান, শিল্পচর্চা ইত্যাদি ক্ষেত্রে এক স্থবিরতা বিরাজ করছিল। সমগ্র ইউরোপ ছিল অশান্তিময় ও কলুষিত।
মুসলিম বিজয় সমগ্র স্পেনে রাজনৈতিক ঐক্য, সংহতি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করে, মুসলিম শাসনের প্রভাবে সামাজিক বৈষম্য দূর হয় এবং সাধারণ প্রজাদের করভার লাঘব হয়।
স্পেনে মুসলিম বিজয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। মুসলিম শাসনামলে স্পেনে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও অন্য ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে থাকে।
ক্রীতদাসদের মানবিক অধিকার দেওয়া হয়। মুসলিম শাসিত স্পেনে শিল্পকলা, স্থাপত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প-সাহিত্য, সংগীত প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা অসামান্য অবদান রাখে।
স্পেনীয়রা মুসলমানদের কাছ থেকে এসব আত্মস্থ করে ইউরোপের জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার . কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ইউরোপের অন্যান্য জাতিও তাদের কাছ থেকে এসব শিক্ষা লাভ করতে থাকে।
P. K. Hitti যথার্থই বলেছেন যে, “মধ্যযুগীয় ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে স্পেন একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে।” সুতরাং দেখা যায় যে, মুসলমানদের স্পেন অভিযানের ফলে তাদের উন্নতমানের ভাবধারা, আচার-অনুষ্ঠান, বিশ্বাস ও নীতি স্পেনসহ সমগ্র ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।
ইউরোপীয়রা . মুসলমানদের কাছ থেকে এসব শিক্ষা গ্রহণ করে উন্নত সংস্কৃতির বিকাশ ঘটায় এবং শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল সমাজ প্রতিষ্ঠা করে সভ্য জাতিতে পরিণত হয়। তাই বলা যায়, আরবদের এই অভিযানের ফলে ইউরোপে শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপিত হয়।
মূলকথা : ইউরোপে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষার্ডার বিকাশে মুসলিমদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -৪।
জিন্নাহ ইউরোপের একটি দেশে রেলভ্রমণ করছিল। সে পাশের যাত্রীর কাছে শুনতে পেল সেই দেশটি এক সময় মুসলমানরা শাসন করত। যখন মুসলমানরা দেশটি শাসন করতে এলো এর পূর্বমুহূর্তে গোত্রীয় ও ব্যক্তিগত কলহ দেশটির শৃঙ্খলা নষ্ট করে দেয়। দেশটির তখনকার রাজধানী ছিল টলেডো। দেশটির কেন্দ্রীয় শাসন স্বৈরাচারী ছিল বলে একজন শাসক সেই দেশটিতে মুসলমানদের অভিযানের আমন্ত্রণ জানায়।
ক. প্রথম হাকাম কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
খ. ধর্মান্য খ্রিষ্টানদের ইসলাম ধর্মের প্রতি যতটা বিদ্বেষ ছিল তার চেয়ে বেশি বিদ্বেষ ছিল আরবীয়করণের প্রতি- ব্যাখ্যা কর।
গ. পাঠ্যপুস্তকের আলোকে জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার বর্ণনা দাও।
ঘ. জিন্নাহর ভ্রমণকৃত দেশটিতে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল, যাদের মধ্যে বৈষম্য ছিল প্রকট- মতামত প্রদান কর।
সৃজনশীল উত্তর ৪
ক. প্রথম হাকাম ৮২২ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন ।
খ. মুসলিম বিজয়ের পর থেকে স্পেনীয় খ্রিষ্টানগণ শুধু ধর্মীয় নয়, আর্থসামাজিক ও নাগরিক স্বাধীনতাও ভোগ করত এবং মুসলমানদের ধর্মীয় উদারনীতির ফলে অনেক খ্রিষ্টান স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে।
আর যারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেনি তারাও আরবদের সুশাসন । উন্নত জীবনযাত্রায় মুগ্ধ হয়ে আরবীয় ভাবধারা, রীতিনীতি, শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুসারী হয়।
তারা নিজেদের শিল্প, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দৈন্যতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল এবং বিকাশমান আরবীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি এতই আকৃষ্ট হয়ে পড়েছিল যে, ধর্মীয় দিক থেকে ইসলামপন্থি না হলেও রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের দিক দিয়ে আরবীয় হয়ে গিয়েছিল।
ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানগণ সব ক্ষেত্রে এ আরবীয়করণের ফলে শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারা ইসলাম ধর্মের চেয়ে আরবীয়করণের প্রতি বেশি বিদ্বেষী হয়ে ওঠে এবং মুসলমান শাসকদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে।
মূলকথা : স্পেনের সামাজিক জীবনের সবক্ষেত্রে আরবীয় ভাবধারার এক বিরাট আধিপত্য পরিলক্ষিত হয়, যা স্বভাবতই ধর্মান্ধ খ্রিষ্টানদেরকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে।
গ. জিন্নাহ মূলত ইউরোপের একটি দেশ স্পেনে রেল ভ্রমণ করেছিল। ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিমদের স্পেন বিজয়ের প্রাক্কালে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এ সংকটের একটি কারণ ছিল ঐতি উৎপাদনব্যবস্থায় চরম অব্যবস্থাপনা। আদিম পদ্ধতিতে কৃষকরা চাষাবাদ করত; চাষাবাদ সম্পর্কে তাদের কোনো বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছিল না। ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম।
যথেষ্ট পরিমাণ কাঁচামাল না থাকায় কলকারখানায় উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি চালু থাকায় শিল্প গ কারখানার প্রতি তেমন একটা নজর দেওয়া হয়নি।
এসময় জার্মান বার্বাররা ইউরোপের বিভিন্ন শহর, নগর, বন্দর, লোকালয় আক্রমণ করলে তা ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হয়, ইউরোপের যে ব্যবসায়-বাণিজ্য ও যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা ধ্বংস হয়ে যায়।
এদিকে, ভূমধ্যসাগরীয় ও উত্তর আফ্রিকায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ইউরোপের ব্যবসায়িক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো মুসলমানদের অধীনে চলে যায়।এন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এর প্রভাব পড়ে স্পেনেও।
তাছাড়া স্পেনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে শাসকরাও অর্থনৈতিক উন্নয়নে মনোযোগ দেয়নি। ফলে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকট আকার ধারণ করে।
মূলকথা : প্রাক-ইসলামি যুগে স্পেনের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত ভঙ্গুর ও সংকটাপন্ন।
ঘ. জিন্নাহর ভ্রমণকৃত ইউরোপের দেশটি হলো স্পেন। প্রাক- ইসলামি যুগে স্পেনে তিনটি পৃথক সামাজিক স্তর ছিল। তা হলো-
(১) সুবিধাভোগী অভিজাত সম্প্রদায়;
(২) মধ্যবিত্ত ভূস্বামীবৃন্দ এবং
(৩) ক্রীতদাস শ্রেণি ।
প্রথম শ্রেণিভুক্ত সুবিধা ভোগকারীদের মধ্যে ছিল- রাজন্যবর্গ, অমাত্যগণ, ধর্মযাজক ও সামন্তরাজাগণ। স্বৈরাচারী রাজন্যবর্গ, ক্ষমতালোভী সামন্ত রাজাগণ, বিলাসপ্রিয় অভিজাতশ্রেণি ও সুবিধা ভোগকারী পুরোহিতবর্গ স্পেনে নৈরাজ্য ও শোষণ দ্বারা সামাজিক অরাজকতা সৃষ্টি করে।
পুরোহিতরা ছিল প্রচুর সম্পদের অধিকারী ও বিলাস-ব্যসনে ব্যস্ত। তাদের অধীনে চার্চে হাজার হাজার পরিচারিকা থাকত। রাজাসহ সবাইকে পুরোহিতদের ধর্মীয় নির্দেশ মেনে চলতে হতো।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে ছিল- মধ্যবিত্ত ভূস্বামীগণ। তারা রাজাকে জমির বিনিময়ে সামান্য পরিমাণ খাজনা প্রদান করত। তারা সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত এবং বিলাস- ব্যসনে দিন যাপন করত।
তৃতীয় শ্রেণি অর্থাৎ সমাজের সর্বনিম্ন স্তরে ছিল- সার্ফ, ভূমিদাস ও ক্রীতদাস। সার্ফ ও ভূমিদাসরা ভূস্বামীদের জমিতে বেগার খাটত; বিনিময়ে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সামান্য পরিমাণ উৎপাদিত ফসল পেত।
তাদের কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। তৃতীয় শ্রেণির আরেকটি গোষ্ঠী ছিল- ক্রীতদাস। হাট-বাজারে পণ্যের মতো তাদের কেনাবেচা করা হতো। এদেরও কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। এরূপ, তিনটি সামাজিক স্তর বিদ্যমান ছিল স্পেনে। যাদের মধ্যে বৈষম্য ছিল প্রকট।
মূলকথা : তৎকালীন স্পেনে শ্রেণিবিভক্ত সমাজব্যবস্থা বহাল ছিল, যা দেশটির সংকটকে আরও শোচনীয় করে তোলে।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -৫।
শাহরান ও ইমরানের মধ্যে একটি দেশে এক উমাইয়া নেতার শাসনকাল ও অভিযান নিয়ে কথা হচ্ছিল। শাহরান বলল, “সেই দেশের সর্বশেষ আমির বেলালের সাথে নবাগত নেতা সালমানের সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে পড়ে। সালমান একটি গোত্রের সমর্থন লাভ করেন এবং নেতা নির্বাচিত হন। এর মধ্যে দুটি অঞ্চলের শাসকগণও তার সাথে যোগ দেন।” ঐতিহাসিকের ভাষার উদ্ধৃতি দিয়ে শাহরান বলে, “একজন অজ্ঞাত, একজন গৃহহীন, পলাতক, সহায়-সম্বলহীন লোক সেখানে উমাইয়া বংশ প্রতিষ্ঠা করে।”
ক. ইতিহাসে কাকে ‘উমাইয়াদের বাজপাখি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে?
খ. বার্বার বিদ্রোহ বলতে কী বোঝ?
গ. শাহরানের বর্ণনায় যে শাসকের পরিচয় পাওয়া যায় পাঠ্যপুস্তকের কর্ডোভা দখলে ঐ ধরনের শাসকের অবদান আলোচনা কর ।
ঘ.শাহরানের বর্ণিত শাসকই ছিল উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠাতা। মতামত প্রদান কর।
সৃজনশীল উত্তর ৫
ক. ইতিহাসে আবদুর রহমান আদ-দাখিলকে (৭৫৬-৮৮ খ্রি.) ‘উমাইয়াদের বাজপাখি’ নামে অভিহিত করা হয়েছে।
খ. আবদুর রহমানের রাজত্বকালের অন্যতম ঘটনা হলো বার্বার বিদ্রোহ দমন। বার্বারদের নেতা ছিলেন আব্দুল্লাহ সুফিয়ান- বিন-আবদুল ওয়ালিদ নামের একজন স্কুল শিক্ষক।
তিনি নিজেকে রাসূল (সা)-এর বংশধর হিসেবে দাবি করেন এবং ফাতেমীয় হিসেবে স্বাধীনভাবে শাসনকাজ পরিচালনা করতে থাকেন।
– আবদুর রহমান বার্বারদের এই বিদ্রোহ দমনের জন্য ৭৬৮ খ্রিষ্টাব্দে এক বিশাল বাহিনী প্রেরণ করেন। কিন্তু বার্বার নেতা সুফিয়ান গুহায় আত্মগোপন করেন। এভাবে নয় বছর অতিবাহিত হলে ৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি তার সঙ্গীদের হাতে নিহত হন।
মূলকথা : আবদুর রহমানের রাজত্বকালে যে কয়টি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম হলো বার্বার বিদ্রোহ।
গ. উদ্দীপকে শাহরানের বর্ণনায় আবদুর রহমানের পরিচয় পাওয়া যায়। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটে আব্বাসীয়দের হাতে এবং আব্বাসীয়রা উমাইয়াদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। আবদুর রহমান কোনোক্রমে পালিয়ে বেঁচে যান ।
এভাবে ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত এই দীর্ঘ পাঁচ বছর নিঃস্ব, সহায়-সম্বলহীন যাযাবর জীবনযাপন করে তিনি স্পেনের সিউটা দ্বীপে উপস্থিত হন।
এসময় স্পেনে মুসলিম শাসনের দুর্দিন চলছিল। আবদুর রহমান উমাইয়া বংশের উত্তরাধিকারী হিসেবে নিজেকে স্পেনের শাসনক্ষমতার দাবিদার ঘোষণা করেন এবং স্পেনের উমাইয়া-সিরীয়- আরবদের সহযোগিতায় নিজের শক্তি বৃদ্ধি করেন।
স্পেনের সর্বশেষ অধীনস্থ আমির ইউসুফ আল ফিহরী আবদুর রহমানের স্পেন আগমনে শংকিত হয়ে পড়েন। আবদুর রহমান প্রথমে আর্চিডোনা এবং সিডোনিয়ায় গমন করে স্থানীয় সিরীয় আরব গোত্রের সমর্থন লাভ করেন এবং সিরীয় ও বার্বারদের নিয়ে গঠিত এক সৈন্যদলসহ তিনি সেভিলে আগমন করেন; সিডোনিয়া ও রন্ডার শাসকগণ তাঁর সাথে যোগ দেন।
এদিকে ইউসুফ রাজধানী কর্ডোভায় তাঁর সৈন্যবাহিনীসহ আবদুর রহমানকে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। টলেডো ও মুর্সিয়া থেকে সৈন্যবাহিনী তলব করে ইউসুফ গুয়াদেলকুইভার নদীর উত্তর তীরে আবদুর রহমানের বাহিনীর গতিরোধ করেন।
আবদুর রহমানও একদল সৈন্য ইউসুফের মোকাবিলা করার জন্য রেখে পশ্চিম দিক দিয়ে রাজধানী কর্ডোভা দখলের জন্য অভিযান করেন।
৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে গুয়াদেলকুইভার নদীর দক্ষিণ তীরে ‘মাসার’ নামক স্থানে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। ইউসুফ তার পরাজিত হয়ে টলেডোতে পালিয়ে যান এবং আবদুর রহমান কর্ডোভা দখল করেন।
মূলকথা : কর্ডোভা দখলের মাধ্যমে স্পেনে পতন হওয়া উমাইয়া বংশের শাসন পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঘ. উদ্দীপকে শাহরানের বর্ণিত শাসক ছিলেন আবদুর রহমান আদ-দাখিল। তিনিই স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয়দের হাতে দামেস্কের উমাইয়া খিলাফতের পতন হয়। আব্বাসীয়রা উমাইয়াদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়।
আবদুর রহমান নামক উমাইয়া বংশের একজন নেতা পালিয়ে স্পেনে আগমন করেন। স্পেনের উমাইয়া-সিরিয়দের সহায়তায় তিনি শক্তি বৃদ্ধি করেন। স্পেনে সর্বশেষ অধীনস্ত আমির ইউসুফ আল ফিহরী আবদুর রহমানের ক্ষমতা বৃদ্ধিতে শংকিত হয়ে পড়েন এবং তাঁকে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।
অতঃপর ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে গুয়াদেলকুইভার নদীর দক্ষিণ তীরে সমগ্র দেশকে কয়েকটি প্রদেশে ভাগ করেন এবং সুযোগ্য গভর্নর নিযুক্ত করে এক সুবিন্যস্ত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বা হাজিব শাসনব্যবস্থার তদারক করতেন। আমিরের প্রধান খাজারি বা অর্থমন্ত্রী ছিলেন জুদাইর। তার শাসনামলে বাৎসরিক রাজস্ব ৬০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকায় বৃদ্ধি পায়।
আবদুর রহমান ছিলেন ন্যায়পরায়ণ এবং তিনি শরীয়ত মতো শাসনকাজ পরিচালনা করেন। তিনি প্রখ্যাত ফকিহ ইয়াহইয়া- ‘বিন-ইয়াহইয়ার পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এসব ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দ্বিতীয় আবদুর রহমান শাসনব্যবস্থাকে একটি দৃঢ়ভিত্তির উপর দাঁড় করান।
মূলকথা : দ্বিতীয় আবদুর রহমান একটি দক্ষ ও সুশৃ প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে তোলেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৬।
প্রথম রুহুল হোসেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র ভালহা বাংলা বাজারের সিংহাসনে আরোহণ করেন। যখন তালহা সিংহাসনে আরোহণ করেন তখন তার বয়স ৩০ বছরের সামান্য কিছু বেশি। তালহা দূরদর্শিতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে বাংলাবাজার পরিচালনা করেন। বাংলাবাজারের ইতিহাসে একাধিক তালহা নামের লোক সিংহাসনে আরোহণ করেন। ক্ষমতাসীন হয়ে তিনি প্রথমে বাংলা বাজারের বিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট হন এবং সামরিক কৌশল দ্বারা শত্রুদের নিধন করেন। পাটওয়ারী ও মিয়া গোত্রের কলহ বন্ধের জন্য সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেন।
ক. প্রথম হাকাম কত বছর রাজত্ব করেন?
খ. আমির হাকামের ফকিহদের বিদ্রোহ দমন বলতে কী বোঝ?
গ. তালহার সাথে পাঠ্যপুস্তকের যে শাসকের মিল রয়েছে তাঁর শাসনকাজের বর্ণনা দাও।
ঘ. “তালহা ছিল বিদ্রোহ দমনে সফল”- পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মতামত দাও।
সৃজনশীল উত্তর ৬
ক. প্রথম হাকাম ৭৯৬-৮২২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মোট ২৬ বছর রাজত্ব করেন।
খ. পিতা হিশামের মৃত্যুর পর ৭৯৬ খ্রিষ্টাব্দে আমির হাকাম সিংহাসনে বসেই সর্বপ্রথম ফকিহদের বিদ্রোহ মোকাবিলা করতে সচেষ্ট হন। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেন ইয়াহইয়া-বিন- ইয়াহইয়া এবং ইসা-বিন-দীনার।
প্রথম হাকাম বিভিন্ন অনৈসলামিক কার্যকলাপ করতে থাকলে ফকিহরা তার বিরুদ্ধে ফতোয়া দিতে থাকেন এবং ফকিহদের আন্দোলনে সমর্থন দেন নবদীক্ষিত মুসলমান ও অভিজাতবর্গ।
আমিরের নির্দেশে কর্ডোভার প্রখ্যাত ফকিহ ও অভিজাতদের মধ্যে অসংখ্য আন্দোলনকারীকে হত্যা করা হলে ইয়াহইয়া ও ইসা টলেডোতে গিয়ে আত্মগোপন করেন। এভাবে ফকিহ বিদ্রোহ দমন করা হয়।
মূলকথা : ফকিহ বিদ্রোহ ছিল প্রথম হাকামের শাসনের প্রতি সতর্কবার্তাস্বরূপ।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত তালহার সাথে দ্বিতীয় আবদুর রহমানের মিল রয়েছে। ৮২২ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম হাকামের মৃত্যুর পর তার পুত্র দ্বিতীয় আবদুর রহমান মাত্র ৩১ বছর বয়সে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে রাজকাজ পরিচালনা করেন। মুসলিম স্পেনের ইতিহাসে একাধিক আবদুর রহমান নামের আমির রাজত্ব করেন।
প্রতিষ্ঠাতা প্রথম আবদুর রহমান ও মহান তৃতীয় আবদুর রহমানের মধ্যবর্তী সময়ে তিনি ‘আল- আওসাত’ বা মধ্যবর্তী দ্বিতীয় আবদুর রহমান নামে পরিচিত ছিলেন।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত তালহা ছিল বিদ্রোহ দমনে সফল’-এর দ্বারা পাঠ্যপুস্তকের দ্বিতীয় আবদুর রহমানের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
হাকামের মৃত্যুর পর দ্বিতীয় আবদুর রহমান সিংহাসনে বসলে প্রথম আবদুর রহমানের পুত্র আব্দুল্লাহ তানজিয়ার হতে ফিরে নিজেকে আমির হিসেবে ঘোষণা করেন।
কিন্তু আবদুর রহমান তাকে পরাস্ত করেন এবং দয়াপরবশ হয়ে তাঁকে মুর্সিয়ার শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন। দ্বিতীয় আবদুর রহমানের রাজত্বের সময় আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো হিমায়ারী ও মুদারীয় গোত্রের দ্বন্দ্ব-কলহ।
আবদুর রহমান এই দুই গোষ্ঠীর কলহ ও সংঘর্ষ বন্ধের জন্য সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করেন। ৭২২ খ্রিষ্টাব্দে মুদারীয়দের নেতা ইব্রাহিমকে রাজকীয় সেনাবাহিনীতে বিশিষ্ট পদ দেওয়া হয়।
অপরদিকে ৮২৮ খ্রিষ্টাব্দে মেরিদায় খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন সুলাইমান বিন মারতিন ও মাহমুদ বিন আবদুল জব্বার। আবদুর রউফের নেতৃত্বে একদল প সৈন্যবাহিনী মেরিদায় পাঠানো হলে কঠোর হস্তে এ বিদ্রোহ দমন করা হয় এবং প্রায় ৭০০০ বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়।
টলেডোতে ইহুদি, খ্রিষ্টান ও নওমুসলিমগণ সম্মিলিতভাবে রাজা বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ৮৩৭ খ্রিষ্টাব্দে আমিরজাদা ওয়ালিদ- বিন-হাকাম টলেডো নগরী বিদ্রোহীদের কবল থেকে উদ্ধার করেন।
স্পেনে মুসলিম শাসনের প্রত্যক্ষ হুমকিস্বরূপ খ্রিষ্টান সম্প্রদায় বিশেষ করে শার্লিমেন ও লিয়োর প্রধান আলফনসো মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলে অভিযান করেন। তাদের অনুসরণে অন্যান্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খ্রিষ্টান রাজ্যের অধিপতিগণও মুসলিম শাসকদের ব্যতিব্যস্ত রাখেন।
আবদুর রহমান সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করে খ্রিষ্টানদের বিদ্রোহের অবসান ঘটান। এক এভাবে দ্বিতীয় আবদুর রহমান বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন করে মা শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনেন এবং মুসলিম শাসনকে বিস্তৃত করেন। তাই বলা যায়, তিনি ছিলেন বিদ্রোহ দমনে অত্যন্ত সফল।
মূলকথা : বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন দ্বিতীয় আবদুর রহমানের অসামান্য সামরিক দক্ষতা ও শৌর্য-বীর্যের প্রতীক।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -৭।
পিতামহের মৃত্যুর পর আবদুর রহিম ১২ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করে রাজ্যের সেচ প্রকল্প ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করে। যার ফলে সাম্রাজ্যের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প যথেষ্ট উন্নতি লাভ করে। তার সময়ে কমপক্ষে ১০০০ জাহাজ এবং শুধুমাত্র রাজধানীতেই ১৩,০০০ তাঁত শিল্প ছিল। তিনি বিভিন্ন দেশের সৈন্যদের সমন্বয়ে একটি বিশাল ও শক্তিশালী সৈন্যবাহিনী গড়ে তোলেন। এ বাহিনী স্লাত বাহিনী নামে পরিচিত ছিল।
ক. স্পেনবিজয়ী মুসলিম সেনাপতির নাম কী?
খ. কর্ডোভাকে ইউরোপের বাতিঘর” বলার কারণ কী? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে স্পেনে উমাইয়া যুগের কোন খলিফার মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে কৃষি ও শিল্পের উন্নতিতে উক্ত খলিফার কৃতিত্ব মূল্যায়ন কর।
সৃজনশীল উত্তর ৭
ক. স্পেনবিজয়ী মুসলিম সেনাপতির নাম হলো তারিক বিন জিয়াদ।
খ. প্রথম আবদুর রহমান কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এবং পরবর্তীকালে পর্যায়ক্রমে তা উত্তরাধিকারীদের দ্বারা সমৃদ্ধ কর্ডোভা ছিল সমসাময়িক যুগের জগৎমণি অনুপম ও ঐশ্বর্যশালী, অপ্রতিদ্বন্দ্বী এক শহর।
মুর সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র কর্ডোভার গৌরব ও বৈভব ছিল অতুলনীয়। কর্ডোভা নগরী ছিল সৌন্দর্যমণ্ডিত ও সুরক্ষিত এবং শহরে পয়ঃপ্রণালি ও রাস্তায় বাতির ব্যবস্থা ছিল।
এর সাতশ বছর পরেও লন্ডনে কোনো সরকারি বাতির ব্যবস্থা ছিল না। অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, হাম্মামখানা, প্রাসাদ, অট্টালিকা পুষ্পউদ্যান ও শিল্পকলার জন্য কর্ডোভাকে ইউরোপের বাতিঘর বলা হতো।
মূলকথা : কর্ডোভা নগরী সমসাময়িক এক সমৃদ্রিশালী নগর ছিল বলে একে ইউরোপের বাতিঘর বলা হতো।
গ. উদ্দীপকে স্পেনে উমাইয়া যুগের তিনজন খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমানের মিল পাওয়া যায়। নিচে এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হলো-
তৃতীয় আবদুর রহমানের আগে তিনজন খলিফা (৮৫২-৯১২ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত স্পেন শাসন করেন। দ্বিতীয় আবদুর রহমানের পুত্র ছিলেন প্রথম (৮৫২-৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দ); প্রথম মুহাম্মদের পুত্র ছিলেন মুনজির (৮৮৬-৮৮৮ খ্রিষ্টাব্দ) এবং মুনজিরের পুত্র ছিলেন আব্দুল্লাহ (৮৮৮-১১২ খ্রিষ্টাব্দ)। আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে তার পুত্র তৃতীয় আবদুর রহমান ৯১২ খ্রিষ্টাব্দে স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
তৃতীয় আবদুর রহমানের শাসনকালে স্পেনের সর্বত্র শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করত। নলযোগে পানি সরবরাহ করার ফলে তার শাসনকালে কৃষিকাজের প্রকৃত উন্নতি সাধিত হয়েছিল।
তাছাড়া শিল্পকলা, ব্যবসায় বাণিজ্য উন্নয়নের জোয়ার এসেছিল তার সময়কার সবচেয়ে লক্ষণীয় দিক ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। এতে করে বণিক ও পথিকগণ সর্বাপেক্ষা দুর্গম অঞ্চলেও অত্যাচার ও বিপদের সামান্যতম আশঙ্কা ব্যতীত ভ্রমণ করতে পারত।
ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নামমাত্র মূল্যে বিক্রয় হতো। তৃতীয় আবদুর রহমানের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হয়।
জনগণের চলাফেরায় সাম্রাজ্যে সমৃদ্ধির ছাপ পরিলক্ষিত হয়েছিল ফলে জনগণ, একস্থান থেকে অন্য স্থানে চলাফেরা করার সময় পদব্ৰজে যেত না। তারা সবসময় এবং প্রায় সবাই খচ্চর কিংবা ঘোড়ায় চড়ে যাতায়াত করত এবং খলিফা নিজেও জনগণের জন্যে ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন করেন।
উপযুক্ত ব্যাখ্যা শেষে বলা যায়, খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমানের চরিত্রে তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, উন্নত মেধা, সুমধুর চরিত্র, মার্জিত আচরণ, নিয়মানুবর্তিতা প্রভৃতি গুণের বিকাশ সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে; যা উদ্দীপকের আবদুর রহিমের মধ্যেও বিরাজমান।
মূলকথা : খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমানের সাথে সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. উদ্দীপকের আলোকে কৃষি ও শিল্পের উন্নতিতে খলিফা তৃতীয় আবদুর রহমানের কৃতিত্ব নিচে মূল্যায়ন করা হলো-
তৃতীয় আবদুর রহমানের সময় স্পেনে কৃষি, ব্যবসায়-বাণিজ্য ও শিল্পের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। সেচ ব্যবস্থার দ্বারা অনুর্বর ও পতিত জমি চাষের ব্যবস্থা করা হলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তৎকালীন স্পেনের কৃষিব্যবস্থায় মুসলিমরা নতুন মাত্রা যোগ করেছিল।
মুসলিমদের প্রচেষ্টায় কৃষি পদ্ধতির উন্নয়ন, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণনে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়। মিশরের জলসেচন পদ্ধতি স্পেনে, আমদানি করা হয়। কূপ, বাঁধ, জলাশয়, পানির নালা ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে পতিত জমিও আবাদি জমির আওতায় আসে।
ধান, খুবানি, পীচফল, ডালিম, কমলালেবু ও আঙুরের চাষ ব্যাপকভাবে চালু হয়। চাষাবাদের জন্য কোথাও কোথাও বাগানবাড়ি গড়ে ওঠে। স্পেনের চাষিরা জমির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য সার প্রয়োগব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা রাখত।
গোবর, ছাই, ফলমূলের খোসা, জীবজন্তুর হাড় ইত্যাদি মাটির নিচে চাপা দিয়ে সার তৈরি করা হতো। এছাড়া কোন গাছের জন্য কোন সার উপকারী তার ব্যবহারও কৃষকগণ জানতো।
এছাড়া ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নয়নের সাথে তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেন। কৃষিজাত ও শিল্পজাত দ্রব্যের আমদানি রপ্তানির জন্য বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল বলেই তার সময়ে কমপক্ষে ১,০০০ জাহাজ ছিল এবং রাজধানীতে ১৩,০০০ তাঁত শিল্প-কারখানা ছিল।
উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, উমাইয়া খলিফা তৃতীয়, আবদুর রহমানের সময় কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায়- বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটে।
ফলে তার সময়ে সাম্রাজ্যের সর্বত্র শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করতে থাকে, বণিকগণ দুর্গম অঞ্চলে বিনা দ্বিধায় ভ্রমণ করত, দ্রব্য-সামগ্রীর দাম কমে যায় এবং ভিক্ষা বৃত্তি উঠে যায় ।
মূলকথা : তৃতীয় আবদুর রহমানের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করা।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -৮।
ভাগ্য বিপর্যয়ের কারণে সুলতানপুরের শাকিল চৌধুরী পূর্বপুরুষের জমিদারি হতে বিতাড়িত হন। তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ সহচরদের কয়েকজনকে নিয়ে দূরবর্তী মামার বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং জমিদারির অংশবিশেষ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন। শাকিল চৌধুরী এখানে অবস্থান গ্রহণের পর পার্শ্ববর্তী শক্তিশালী শাসকের শান্তি প্রস্তাব গ্রহণের ভান করে কৌশলে তার শাসিত অঞ্চল দখল করে নেয়। কিন্তু এতেও তার চূড়ান্ত বিজয় সম্পন্ন হয় না। তাকে একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হয়। অবশেষে শুধু জয়লাভই নয়, বরং তিনি জনগণের আস্থাও অর্জন করেন ।
ক. স্পেন ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী প্রণালির নাম কী?
খ.আবদুর রহমানকে ‘কুরাইশদের বাজপাখি’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের শাকিল চৌধুরীর সাথে কোন উমাইয়া যুবরাজের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকে জমিদারির অংশবিশেষ দখলের মতো উক্ত যুবরাজ দখলিকৃত অঞ্চলে কীভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তা বিশ্লেষণ কর ।
সৃজনশীল উত্তর
ক. স্পেন ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী প্রণালির নাম জিব্রাল্টার প্রণালি।
খ. প্রথম আবদুর রহমান ছিলেন সুবিজ্ঞ, দূরদর্শী, বিচক্ষণ, কর্তব্যপরায়ণ, দানশীল ও উদার। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তিনি সবাইকে গভীরভাবে ভালোবাসতেন।
কিন্তু বিদ্রোহীদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার প্রদর্শনেও তিনি কুণ্ঠাবোধ করতেন না। তার চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তিনি তার গতিপথের যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে একক শক্তি দিয়ে নির্মূল করতেন। খলিফা ‘আল মনসুর আবদুর রহমানের উদ্ধত আচরণের জন্য তাকে ‘আরবদের বাজপাখি’ বলে অভিহিত করেছেন।
মূলকথা আবদুর রহমানের উন্নত আচরণের জন্য খলিফ আল মনসুর তাকে ‘আরবদের বাজপাখি’ বলে অভিহিত করেছেন।
গ. উদ্দীপকের শাকিল চৌধুরীর সাথে উমাইয়া খলিফা হিশামের পৌত্র আবদুর রহমানের মিল রয়েছে। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে উমাইয়া বংশের সর্বশেষ খলিফা দ্বিতীয় মারওয়ানকে পরাজিত করে আব্বাসিগণ খিলাফতে অধিষ্ঠিত হন। আব্বাসি বংশের প্রথম খলিফা আবুল আব্বাস।
আস সাফফাহ তার সিংহাসনকে সম্পূর্ণরূপে কণ্টকমুক্ত করার উদ্দেশ্যে উমাইয়া বংশের উপর বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ চালায়, যাকে যেখানে পায় হত্যা করে।
সৌভাগ্যক্রমে উমাইয়া খলিফা হিশামের পৌত্র আবদুর রহমান এই নিধন যজ্ঞ থেকে বেঁচে যান। পাঁচ বছর পর্যন্ত দেশ থেকে দেশান্তরে পালিয়ে বেড়ান এবং শেষে সিউটায় গিয়ে বার্বার জাতি সম্মুত তার মাতুল বংশে আশ্রয় গ্রহণ করেন।
এ সময় স্পেনে মুদারীয় ও হিমারীয় শাখাদ্বয়ের মধ্যে মারাত্মক অন্তর্দ্বন্দ্ব চলছিল। এ সুযোগে আবদুর রহমান স্বগোত্রীয় হিমারীয়দের সমর্থন ও সাহায্য লাভের আশায় বদর নামক তার এক বিশ্বস্ত অনুচরকে সেখানে পাঠালেন।
“তারা আবদুর রহমানকে সার্বিক সাহায্যদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে স্পেনে আগমনের জন্য আমন্ত্রণ জানান। অতঃপর ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে এ যুবক রাজকুমার স্পেন উপকূলের আল-মুনিকার নামক স্থানে অবতরণ করেন।
সেখানে জনগণের বিপুল সমর্থন ও অভিনন্দন লাভ করলেও স্পেনের শাসনকর্তা ইসুফের সঙ্গে ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মাসারা নামক স্থানে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে ইউসুফ পরাজিত ও পরে নিহত হলে আবদুর রহমান স্পেনের রাজধানী কর্ডোভা দখল করে নেন।
৭৬১ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসি খলিফা আল মনসুর আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে আল-আলী 3 ইবনে মুগিসের নেতৃত্বে বিরাট বাহিনী প্রেরণ করলে আবদুর রহমান তাদেরও পরাজিত করে স্পেনের সিংহাসন নিশ্চিত একা করেন।
মূলকথা : উমাইয়া-যুবরাজ আবদুর রহমানের মিল রয়েছে।
ঘ. স্পেনের সিংহাসনে আরোহণের পরপরই আবদুর রহমানকে নানা ধরনের বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হলো।
আরব অভিজাত সম্প্রদায় ভার কর্তৃত্ব সহ্য করতে পারল না। বার্বারগণও স্পেনকে কতগুলো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উপজাতীয় রাজ্যে বিভক্ত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করল।
উত্তর স্পেনের খ্রিষ্টানগণও আবদুর রহমানের নাগপাশ হতে ভিন্ন হওয়ার জন্য ফ্রাঙ্করাজ শার্লিমানের নিকট হতে সাহায্য ও উস্কানি পেতে থাকে। এরূপ প্রতিকূল অবস্থায় আবদুর রহমান আফ্রিকা হতে সংগৃহীত তার সৈন্যদলকে বর্ধিত বেতন ও খেতাব ইত্যাদি দান করে শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করেন।
আবদুর রহমান ও আরব অভিজাতদের মধ্যে সংঘর্ষ ছিল সামন্ততন্ত্রের সাথে রাজতন্ত্রের লড়াই। সৌভাগ্যবশত আরব সরদারদের মধ্যে কোনো একতা ছিল না এবং একতাবদ্ধ হয়ে কীভাবে কাজ করতে হয় তাও তাদের জানা ছিল না।
দশ বছরের অক্লান্ত চেষ্টায় তিনি আরব অভিজাতদের সম্পূর্ণভাবে পরাজিত ও বিধ্বস্ত করে তাদের বিদ্রোহ দমন করেন। আবদুর রহমান যখন বিদ্রোহী আরব অভিজাতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন স্পেনের মুসলমানগণ তাদের খ্রিষ্টান প্রতিবেশীদের দ্বারা নিগৃহীত হচ্ছিল।
তাদের নগরসমূহ, গৃহ ও শস্যক্ষেত্র ভস্মীভূত ও বিধ্বস্ত হয়েছিল, বহু নগর খ্রিষ্টানরা দখল করে নিয়েছিল। ৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টানদের আহবানে স্পেনে স্বীয় প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার মানসে ফ্রাঙ্করাজ শার্লিমান এক বিপুল বাহিনীসহ পিরেনিজ পর্বত অতিক্রম করে সারাগোসা নগরীর উপকণ্ঠে হাজির হলেন।
এদের সঙ্গে সুলাইমান-বিন- ইয়াকজাম এবং নিহত গভর্নর ইউসুফের পুত্র ও জামাতা যোগ দিলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করে। আবদুর রহমানের পক্ষে হুসাইন-বিন-আনসারী তাদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করলে আবদুর রহমানের সিংহাসন কণ্টকমুক্ত হয়।
মূলকথা : বন্ধু বাধা বিপত্তি পাড়ি দিয়ে আবদুর রহমান স্পেনে মুসলিম রাজত্ব নিশ্চিত করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন-৯।
জনাব ইকরামূল আহসান আনন্দপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নলযোগে পানি সরবরাহ করার ফলে এলাকার কৃষিকাজের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য তিনি সরকারিভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়কেন্দ্র গড়ে তোলেন। ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতই উন্নত হয় যে, ব্যবসায়ীরা গভীর রাতে টাকা-পয়সা নিয়ে এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে যাতায়াত করতে পারতেন। তিনি ভিক্ষাবৃত্তিও উচ্ছেদ করেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের চলাফেরার জন্য তিনি ঘোড়ার গাড়ির ব্যবস্থা করেন।
ক. স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা কে?
খ. কর্ডোভায় মুসলিম সভ্যতার বিকাশ সম্বন্ধে আলোচনা কর।
গ. চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের কোন উমাইয়া শাসকের কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উক্ত শাসকের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করা- মূল্যায়ন কর।
উত্তর
ক. আবদুর রহমান আদ-দাখিল ছিলেন স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা।
খ. কর্ডোভা নগরী ছিল সমসাময়িক যুগের জগৎমণি। প্রায় ৮০০ বছর শাসন করে স্পেনকে গৌরবের শিখরে আরোহিত করে খ্যাতি অর্জন করে মুসলমানরা। পি. কে. হিট্টির মতে, “মধ্যবর্তী ইউরোপের বুদ্ধিবৃত্তিক ইতিহাসে স্পেনের মুসলমানরা এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় লিখেছিলেন।
তিনি কর্ডোভা নগরীকে এমনভাবে সাজান যেমন ২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অসংখ্য লাইব্রেরি, সংগীত একাডেমি, ভাষা, সাহিত্য, দর্শনশাস্ত্র, বিজ্ঞান, ইতিহাস ও ভূগোল ইত্যাদির মাধ্যমে নগরীটিকে বৈচিত্র্যে ভরিয়ে দেন ।
মূলকথা : কর্ডোভায় মুসলিম সভ্যতার বিকাশে উমাইয়াদের অবদান অপরিসীম।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত চেয়ারম্যানের কর্মকাণ্ড পাঠ্যবইয়ের উমাইয়া শাসক আবদুর রহমান আদ-দাখিলের কর্মে প্রতিফলিত | হয়েছে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আবদুর রহমান আদ-দাখিল অনন্য কৃতিত্বের দাবিদার।
দীর্ঘ ৩৩ বছর শাসনকাজ পরিচালনা করে শুধু অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন ও শান্তি-শৃঙ্খলাই তিনি স্থাপন করেননি; বরং একটি দক্ষ ও কার্যকর প্রশাসনব্যবস্থাও গড়ে তোলেন। তারই পৃষ্ঠপোষকতায় স্পেনে বুদ্ধিবৃত্তির চর্চা চরম শিখরে উন্নীত প হয়।
তিনিই স্পেনে ঘোড়ার ডাকের প্রচলন করেন। অসংখ্য মসজিদ, হাম্মাম, দুর্গ, পুল নির্মাণ করে আবদুর রহমান মুসলিম ইতিহাসে এক অক্ষয় কীর্তিময় অধ্যায়ের সংযোজন করেছেন।
তিনি নলযোগে পানি সরবরাহ করার ফলে কৃষিকাজের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছিল। ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নতির জন্য তিনি সরকারিভাবে ব্যবসায়কেন্দ্র গড়ে তোলেন। ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। নাগরিকদের সুবিধার্থে তিনি একটি অনিন্দ্যসুন্দর বৃহৎ জলাধার নির্মাণ করেন।
তিনি একজন প্রকৃতিপ্রেমিক ছিলেন, যা তাঁর প্রাসাদের চারপাশের মনোরম উদ্যান প্রমাণ করে। তাঁর রাজ্যের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সামরিক বাহিনী ছিল শক্তির মূল উৎস।
রাজকাজ সম্পাদনে এবং সব প্রকার সমস্যা সমাধানে পরামর্শ পরিষদের পরামর্শ গ্রহণ করতেন। তার অবদানের জন্য স্টেনলি লেনপুল বলেন, “যৌবনে যে আকাঙ্ক্ষাকে সম্মুখে রেখে আবদুর রহমান কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছিলেন তা এখন বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে এবং তিনি একক শক্তিবলে স্পেনে স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হন।
মূলকথা : স্পেনে উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে আবদুর রহমান আস-দাখিল অনন্য কৃতিত্বের দাবিদার।
ঘ. আবদুর রহমান আদ-দাখিলের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হলো স্পেনে উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করা। স্টেনলি লেনপুল বলেন, “যৌবনে যে আকাঙ্ক্ষাকে সম্মুখে রেখে আবদুর রহমান কর্মক্ষেত্রে অগ্রসর হয়েছিলেন তা এখন বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে এবং তিনি একক শক্তিবলে স্পেনে স্বাধীন রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হন।”
দীর্ঘ ৩৩ বছর শাসনকাজ পরিচালনা করে শুধু অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন, শান্তি-শৃঙ্খলাই তিনি স্থাপন করেননি; বরং একটি দক্ষ ও কার্যকরী প্রশাসনব্যবস্থাও গড়ে তোলেন।
বার্বার, ইয়েমেনি ও খ্রিষ্টানদের দ্বারা বহুবার আক্রান্ত হলেও নিজ বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা এবং সামরিক দক্ষতাবলে এসব বিপদ হতে তিনি মুসলিম রাজ্য স্পেনকে মুক্ত করতে সক্ষম হন। তাঁর প্রশিক্ষিত ও অত্যন্ত দক্ষ সেনাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বদর, তামামা, হাবীব এবং আসীম।
অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন ও রাজা শার্লিমানের পরাস্তকরণে এদের ভূমিকা অনন্য। তিনি …স্পেনে স্বেচ্ছাতন্ত্র এবং একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। তার সেনাবাহিনীতে ২,০০,০০০ সদস্য ছিল, যা মূলত বার্বার ও মুক্ত দাসদের দ্বারা গঠিত ছিল। আর রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য সামরিক বাহিনীই ছিল শক্তির মূল উৎস।
মূলকথা : স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠায় আবদুর রহমান আদ-দাখিল অনন্য কৃতিত্বের দাবিদার।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -১০।
ফজলুল হক কর্তৃক চর এলাহীতে পেশকার বংশের স্বাধীন চরাঞ্চল আলম মিয়ার রাজত্বে চরম সংকট ও ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হয়। ফজলুল হক তার বংশের অস্তিত্ব বিপন্নের হাত থেকে সাফল্যজনকভাবে রক্ষা করেন। তিনি দীর্ঘ ৩৩ বছর শাসনকাজ পরিচালনা করে শুধু অত্র অঞ্চলে গোলযোগ নিরসন ও শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনই করেননি, দেশটিতে সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাঠামোও গড়ে তুলেছিলেন।
ক. ক্ষমতাসীন হয়ে দ্বিতীয় আবদুর রহমান সর্বপ্রথম কোন কাজ করতে সচেষ্ট হন?
খ. আমির আবদুর রহমানের শিল্পকলা ও স্থাপত্যের বর্ণনা দাও ।
গ. আলম মিয়ার ষড়যন্ত্রের সাথে পাঠ্যপুস্তকের আমির আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্রের মিল রয়েছে তা বর্ণনা কর ।
ঘ. শাসক ফজলুল হক বিদ্রোহ দমনে ছিলেন সফল- মতামত দাও।
সৃজনশীল উত্তর ১০
ক. ক্ষমতাসীন হয়ে দ্বিতীয় আবদুর রহমান সর্বপ্রথম বিদ্রোহ দমনে সচেষ্ট হন এবং অসামান্য সামরিক ও শৌর্য-বীর্য দ্বারা শত্রুদের নিধন করেন ।
খ. আমির আবদুর রহমানের রাজত্বকালে মুসলিম স্পেনে শিল্পকলা ও স্থাপত্যের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। তিনি নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি জলাধার (Aqueduct) নির্মাণ করেন এবং প্রাসাদের চারদিকে মনোরম উদ্যান প্রতিষ্ঠা করেন। তিনিই বিশ্ববিখ্যাত কর্ডোভা মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা।
৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে সেন্ট ভিনসেন্ট গির্জার অর্ধেক ১,০০,০০০ দিনারে ক্রয় করে এই মসজিদ নির্মাণ করেন। ১২১ ফুট × ২৪১ ফুট পরিমাপের কর্ডোভা মসজিদের লিওয়ান দশটি খিলানরাজি দ্বারা এগারটি আইলে বিভক্ত ছিল।
মূলকথা : আবদুর রহমানের শাসনকাল ছিল স্পেনের শিল্পকলা ও স্থাপত্যের স্বর্ণযুগ।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত আলম মিয়ার ষড়যন্ত্রের সাথে পাঠ্যপুস্তকের আমির আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে আব্বাসীয় প্র খলিফা আল-মনসুরের ষড়যন্ত্রের মিল রয়েছে। ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে আবদুর রহমান আদ-দাখিল কর্তৃক স্পেনে উমাইয়া বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
আবদুর রহমান আদ-দাখিল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত আইবেরীয় উপদ্বীপের উমাইয়া স্বাধীন আমিরাত আব্বাসীয় খলিফা আল- মনসুরের রাজত্বে চরম সংকটের সম্মুখীন হয়।
দ্বিতীয় আব্বাসীয় খলিফা স্পেনে স্বীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য কায়রোয়ানের শাসনকর্তা আল আলী-বিন মুগিসকে এক বিরাট সৈন্যবাহিনীসহ আন্দালু সিয়া জয়ের জন্য প্রেরণ করেন। ৭৬৩ খ্রিষ্টাব্দে আবদুর রাহমানের বাহিনী কারসোনায় আব্বাসীয় বাহিনীকে অবরুদ্ধ করে এবং দুই মাস অবরোধের ফলে আব্বাসীয় সেনাশিবিরে ভীষণ খাদ্যাভাব ও পানির সংকট দেখা দেয়।
এক রাতে আমির ৭০০ সৈন্যসহ আব্বাসীয় শিবিরে ঝটিকা আক্রমণ করেন। উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ঘটে এবং আল-আলী-বিন মুগিসের সৈন্যবাহিনী শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। মুগিস নিহত হন এবং তাঁর অনুগত ৭০০০ বার্বার সৈন্য নিহত হয়। মুগিসের মস্তক বাগদাদে পাঠানো হয়।
এভাবে আব্বাসীয় খলিফা কর্তৃ ক উমাইয়া রাজবংশের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার আশংকা হলে আবদুর রহমান তা দৃঢ়চিত্তে প্রতিহত করেন। আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর আবদুর রহমানকে তাঁর বীরোচিত কাজের জন্য ‘উমাইয়াদের বাজপাখি’ (Falcon of the Umayyads) নামে অভিহিত করেন।
মূলকথা : আবদুর রহমান তাঁর শৌর্য-বীর্য দিয়ে আব্বাসীয়দের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেন।
ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসক ফজল হক-এর প্রতিচ্ছবি হলেন আবদুর রহমান আদ-দাখিল। ৭৫৬ খ্রিষ্টাব্দে আবদুর রহমান আদ-দাখিল কর্তৃক স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাতের প্রতিষ্ঠা হয়।
স্পেনের সিংহাসনে আরোহণ করার পর আবদুর রহমান নানাপ্রকার বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। বিশেষ করে পরাজিত আমির ইউসুফ পুনরায় এলভিয়াতে। সৈন্যদল সুসংহত করতে থাকেন।
ইউসুফ ২০,০০০ সৈন্য নিয়ে মেরিদায় আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে অবধারণ করেন। ইউসুফ ও আবদুর রহমানের বাহিনীর মধ্যে ৭৫৮ খ্রিষ্টাব্দে লোকসার প্রান্তরে প্রচণ্ড সংঘর্ষ ঘটে। এ যুদ্ধে ইউসুফ পরাজিত ও নিহত হন।
ইউসুফের পরাজয় ও মৃত্যুর পরও রাজনৈতিক সংঘাত দূর হয়নি। উচ্চাভিলাষী ও প্রভাবশালী আরব গোত্রীয় দলপতিদের . বিরোধ ও ষড়যন্ত্রের সম্মুখীন হন তিনি।
৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে আরজাক-বিন-নুমান সেভিলে, ৭৬১ খ্রিষ্টাব্দে হিসাম-বিন- উবরাহ টলেডোতে, ৭৭৪ খ্রিষ্টাব্দে আরবগণ ইয়েমেনে; ৭৭৭ খ্রিষ্টাব্দে বার্বারগণ সান্ডব্রিয়ায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে এবং আবদুর রহমান একে একে সব বিদ্রোহ দমন করেন। এ সময় উত্তর স্পেনের কতিপয় আরব দলপতি সংঘবদ্ধ হয়ে ফ্রান্সের রাজা শার্লিমেনকে মুসলিম রাজ্য আক্রমণের জন্য আমন্ত্রণ জানায়।
৭৭৮ সালে মুসলিম বাহিনীর কাছে শার্লিমেন পর্যুদস্ত হয়ে ফ্রান্সে ফিরে যান। এভাবে তিনি বুদ্ধিমত্তা, বিচক্ষণতা ও সামরিক দক্ষতা দ্বারা বিভিন্ন বিদ্রোহ সফলভাবে দমন করেন। তাই আবদুর রহমান বিদ্রোহ দমনে সফল- এ মতামত যথার্থ।
মূলকথা : আবদুর রহমান তাঁর মেধা, বিচক্ষণতা, সামরিক দক্ষতা দ্বারা সাফল্যজনকভাবে বিদ্রোহ দমন করতে সচেষ্ট হন।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৬ষ্ঠ অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -১১।
৭১১ খ্রিষ্টাব্দ ইতিহাসের অনেক পুরোনো যুগ। পশ্চিমা | বিশ্বে তৎকালীন সময়ে ইসলামি আধিপত্য বিস্তার লাভ করে। এর | কিছুকাল পর মুসলমানদের মধ্যে ব্যক্তিগত, গোত্রীয় কোন্দল ও বিরোধের কারণে সেখানে খ্রিষ্টান প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। মুসলমান শাসকগণ নানা ধরনের অপরাধমূলক কার্যক্রম এবং অলসতার কারণে রাজ্য শাসনের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এবং মুসলমান সম্প্রদায় এতে করে শাসনক্ষমতা হারিয়ে পরাধীন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় ভাগ্যান্বেষী একজন উমাইয়া নেতা স্পেনে এসে নিজ বংশীয় রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। এসব কথা বলছিলেন ঢাকা শহরের একটি স্বনামধন্য কলেজের শিক্ষক জনাব মোহাব্বত আলী।
ক. কত খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে আব্বাসীয়দের হাতে উমাইয়াদের পরাজয় হয়?
খ. উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের রাজত্বকালে স্পেনে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।- ব্যাখ্যা কর।
গ. কলেজ শিক্ষকের বক্তব্যে কোন উমাইয়া নেতার স্পেনে আগমনের অবস্থার মিল খুঁজে পাওয়া যায় তা বর্ণনা কর ।
ঘ. উদ্দীপকের সময়কালে স্পেনে মুসলমানরা বিজয় পায়- মতামত প্রদান কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর -১১
ক. ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে আব্বাসীয়দের হাতে উমাইয়াদের পতন ঘটে।
খ. উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের সময়কালে স্পেনের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল বিশৃঙ্খল ও অরাজকতাপূর্ণ। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না। উইটিজার জামাতা সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান মুসলমানদের স্পেন আক্রমণের জন্য আহ্বান জানান ।
এ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে খলিফা আল-ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও তাঁর অধীনস্থ সেনাপতি তারিক-বিন-জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন আক্রমণ করে বিজয় লাভ করেন। এর ফলে স্পেনে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায় ।
মূলকথা : উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের খিলাফতকালে স্পেনে মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা পায়।
গ. উদ্দীপকে কলেজ শিক্ষকের বক্তব্যে স্পেনে উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা আবদুর রহমান আদ-দাখিলের স্পেনে আগমনের অবস্থার মিল পাওয়া যায়।
স্পেনের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে উমাইয়া খলিফা আল- ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর মুসা বিন নুসাইর ও তাঁর অধীনস্থ সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন আক্রমণ করে সেখানে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
মুসা বিন নুসাইর স্পেন ত্যাগ করার সময় তাঁর পুত্র আবদুল আজীজকে গভর্নর নিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে মুসলিম শাসকরা ইউরোপের আরও কয়েকটি অঞ্চল দখল করে মুসলিম শাসন বিস্তৃত করেন।
৭৩২ খ্রিষ্টাব্দে আবদুর রহমান আল গাফেকী টুরসের যুদ্ধে খ্রিষ্টানদের কাছে পরাজিত হলে স্পেনে ‘রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। মুসলিমদের মধ্যে গোত্রীয় কোন্দল ও গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
একদিকে ইহুদি ও খ্রিষ্টান শক্তি; অপরদিকে আরব-অনারব, মুদারীয় হিমারীয় নবমুসলিম প্রভৃতি গোষ্ঠীর মধ্যে কলহ ও বৈষম্য মুসলিম শাসনের ভবিষ্যতকে শংকায় ফেলে দেয়।
সর্বশেষ অধীনস্ত আমির ছিলেন ইউসুফ-আল-ফিহরী (৭৪৭- ৫৬ খ্রি.)। তাঁর শাসনকে কেন্দ্র করে স্পেনে ইয়েমেনি ও মুদারীয় এই দুই সম্প্রদায় ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। এ সুযোগে খ্রিষ্টানগণ তাদের হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
এদিকে উমাইয়া খিলাফতের পতন ঘটলে আব্বাসীয়রা উমাইয়া বংশের প্রচুর লোককে হত্যা করে। উমাইয়া বংশের একজন আবদুর রহমান আদ-দাখিল ভাগ্যান্বেষণে স্পেনে আগমন করেন।
তিনি স্পেনের উমাইয়া-সিরীয়-আরবদের সহযোগিতায় আমির ইউসুফ আল ফিহরীকে পরাজিত করেন এবং স্পেনে স্বাধীন উমাইয়া আমিরাত প্রতিষ্ঠা করেন।
মূলকথা : আবদুর রহমান আস-দাখিল স্পেনে মুসলিম শাসনকে একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করান।
ঘ. উমাইয়া খলিফা আল-ওয়ালিদের রাজত্বকালে মুসলিম শাসন সুদূর স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। খলিফা আল-ওয়ালিদের নির্দেশে উত্তর আফ্রিকার গভর্নর ও সেনাধ্যক্ষ মুসা বিন নুসাইর ও তাঁর অধীনস্থ সেনাপতি তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী স্পেন আক্রমণ ও দখল করে।.
মুসলিমরা স্পেন অভিযানের আগে স্পেনের তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোনো ঐক্য ছিল না। সামন্ত রাজা রডারিক স্পেনের রাজা উইটিজাকে হত্যা করে বলপূর্বক সিংহাসন দখল করেন।
উইটিজার জামাতা সিউটা দ্বীপের শাসনকর্তা কাউন্ট জুলিয়ান তৎকালীন প্রথা অনুযায়ী তাঁর কন্যা ফ্লোরিন্ডাকে রাজকীয় রীতিনীতি শেখার জন্য রডারিকের প্রাসাদে প্রেরণ করেন। কিন্তু রডারিক তাঁর মেয়ের শ্লীলতাহানি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাউন্ট জুলিয়ান মুসা বিন নুসাইরকে স্পেন আক্রমণের জন্য আহবান করেন।
তিনি রডারিকের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীকে সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ ছাড়া স্পেনের সাধারণ মানুষ শাসকদের প্রতি ছিল চরম অসন্তুষ্ট। এ রকম পরিস্থিতিতে ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম বাহিনী সহজেই স্পেন অধিকার করতে সক্ষম হয়।
সাধারণ মানুষ এর বিরোধিতা করেনি। তারা দেশের সমসাময়িক অবস্থায় অত্যন্ত বিরক্ত ছিল এবং কোনো পরিবর্তনের আশা করছিল। তাই মুসলমানদের একরকম স্বাগতই জানায়। মুসলমানরা স্পেন বিজয় করে সেখানে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করে।
মূলকথা : ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম শাসন সুদূর স্পেন পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।





