শ্রমের মর্যাদা রচনা
ভূমিকা: কর্মই জীবন। পৃথিবীর সকল প্রাণীকেই শ্রমের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে হয়। ছোটো পিঁপড়া থেকে শুরু করে প্রকাণ্ড হাতি পর্যন্ত সবাইকে জীবনধারণের জন্য শ্রমের প্রয়োজন পড়ে। আধুনিক সভ্যতায় আমাদের যা কিছু চোখে পড়ে সবই মানুষের অক্লান্ত শ্রমে ও ঘামে গড়ে উঠেছে। মানুষ যে যন্ত্র চালায়, সুন্দর ও মনোরম ছবি আঁকে, অপরূপ সুর তৈরি করে- তার মূলে রয়েছে শ্রম। এককথায়, মানুষ ও সভ্যতার সকল উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূলে রয়েছে শ্রম।
শ্রম কী: শ্রমের অর্থ মেহনত, দৈহিক খাটুনি। সাধারণত কোনো কাজই হলো শ্রম। পরিশ্রমই হলো পৃথিবীতে মানুষের জীবনসংগ্রামে টিকে থাকার হাতিয়ার। পরিশ্রমের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে নতুন নতুন আবিষ্কার। গড়ে উঠেছে এই সুন্দর ও আশ্চর্যকর সভ্যতা।
শ্রমের প্রকারভেদ: শ্রম দু’ধরনের হয়ে থাকে। এক, মানসিক শ্রম; দুই, শারীরিক বা কায়িক শ্রম। শিক্ষক, ডাক্তার, বৈজ্ঞানিক, সাংবাদিক অফিসের কর্মকতা তথা পেশাজীবী মানুষ যে ধরনের শ্রম দিয়ে থাকেন তা মানসিক শ্রম। অন্যদিকে, কৃষক, মজুর, জেলে, তাতি, কামার, কুমার, রিকশা-ভ্যান-বাংলা দ্বিতীয় পত্ৰ
যমুনা: যমুনার উৎপত্তি হিমালয় পর্বতে। এটি ব্রহ্মপুত্র নদের প্রধান শাখা । যমুনা নদী গোয়ালন্দের কাছে এসে পদ্মা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ধলেশ্বরী যমুনার প্রধান শাখা নদী। ধরলা, তিস্তা, সুবর্ণশ্রী ও আত্রাই যমুনার উপনদী। করতোয়া যমুনার দীর্ঘতম ও বৃহত্তম উপনদী।
কর্ণফুলি: কর্ণফুলি নদীর জন্ম আসামের লুসাই পাহাড়ে। রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এ নদী বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এ নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭৪ কিলোমিটার। কর্ণফুলি নদী অত্যন্ত খরস্রোতা। এ. নদীর উপর বাঁধ দিয়েই নির্মিত হয়েছে কাপ্তাই জল বিদ্যুৎ কেন্দ্র। কর্ণফুলির প্রধান উপনদী হলো হালদা, বোয়ালখালী ও কাসালং ।
ব্রহ্মপুত্র; হিমালয় পর্বতের কৈলাস শৃঙ্গের মানস সরোবরে এ নদীর উৎপত্তি। তিব্বতের পূর্বদিক ও আসামের পশ্চিমদিক দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কুড়িগ্রাম জেলার মধ্য দিয়ে এ নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। বংশী ও শীতলক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান শাখা নদী। ধরলা ও তিস্তা এর উপনদী।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নদনদীর প্রভাব: নদীর সঙ্গে আমাদের জীবন গভীরভাবে জড়িত। আমাদের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো নদীপথ। নদীকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এদেশের অনেক ব্যবসাবাণিজ্যকেন্দ্র। আমাদের কৃষিক্ষেত্র অনেকাংশেই নদীর উপর নির্ভরশীল। এদেশের কবি-সাহিত্যিক ও শিল্পীরা নদীকে নিয়ে সৃষ্টি করেছেন অসংখ্য সাহিত্যকর্ম।
নদনদীর উপকারিতা; বাংলাদেশকে সবুজে-শ্যামলে ভরে তোলার পিছনে নদনদীর ভূমিকা অপরিসীম। নদীর পানিতে বয়ে আসা পলি প্রাকৃতিকভাবে আমাদের মাটিকে উর্বর করেছে। আমাদের কৃষির অগ্রগতিতে তাই নদীর ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিক্ষেত্র ছাড়াও নদীগুলো মিঠা পানির মাছের অন্যতম উৎস। নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে অসংখ্য মানুষ। দেশীয় প্রয়োজন মিটিয়ে মাছ বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হয়। এছাড়া পরিবহণ-সংক্রান্ত কাজেও নদীকে ব্যবহার করা হয়। জেলে, মাঝি শ্রেণির মানুষ নদীকে কেন্দ্র করেই তাদের জীবিকা নির্বাহ করে।
নদনদীর অপকারিতা; নদীর কিছু অপকারিতাও আমাদের চোখে পড়ে। বর্ষাকালে নদীগুলো ফুলে-ফেঁপে ওঠে। তখন বন্যা দেখা দেয়। এছাড়া প্রবল স্রোতে নদী ভাঙন শুরু হয়। কখনো কখনো গ্রামের পর গ্রাম নদীর মাঝে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় মানুষের স্বাভাবিক জীবন। অনেক সময় নদীর প্রবল স্রোতে মানুষের জীবনহানিও ঘটে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় দশ লক্ষ মানুষ নদীভাঙনের শিকার হয়।
উপসংহার: নদনদী বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ, ঘিরে রেখেছে চারদিক থেকে। নদনদীগুলো এদেশের গৌরব। তবে বর্তমানে সে গৌরব স্নান হতে চলেছে। নদীগুলো ভরাট হয়ে হারিয়ে ফেলছে তাদের স্বাভাবিক গতিপথ ! তাই এ বিষয়ে এখনই আমাদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
কতিপয় রচনার নমুনা






