• About Us
  • Contact Us
  • Disclaimer
  • Privacy Policy
  • Terms & Conditions
Friday, April 10, 2026
  • Login
Bangla Data
  • About Us
  • Contact Us
  • Disclaimer
  • Privacy Policy
  • Terms & Conditions
No Result
View All Result
  • About Us
  • Contact Us
  • Disclaimer
  • Privacy Policy
  • Terms & Conditions
No Result
View All Result
Bangla Data
No Result
View All Result
  • About Us
  • Contact Us
  • Disclaimer
  • Privacy Policy
  • Terms & Conditions
Home ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এইচএসসি

ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র ১ম অধ্যায় (সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর - islamer itihas 2nd paper 1st chapter srijonshil question answer

Sojib Hasan by Sojib Hasan
in ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এইচএসসি
A A
0
Share on FacebookShare on Twitter

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর এই পোস্টটি এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রস্তুতি গাইড। এখানে ১ম অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল (CQ) প্রশ্ন এবং ধাপে ধাপে নির্ভুল উত্তর উপস্থাপন করা হয়েছে।

পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর অনুশীলন অত্যন্ত জরুরি আর এই পোস্টটি সেই প্রস্তুতিকে সহজ ও কার্যকর করে তুলবে।

সৃজনশীল প্রশ্ন-১

আনিস সাহেব একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। নিজের প্রতিষ্ঠানটিকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য তিনি বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক শেয়ার হস্তগত করেন এবং এটিকে একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বৃদ্ধি পেলে বহু লোক চাকরি লাভে আগ্রহী হয়। মি. জওহরকে তিনি পদোন্নতি প্রদানের শর্তে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেও তিনি তার খেলাপ করেন । এতে মি. জওহর ক্ষুব্ধ হয়ে তার প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন।

ক. আল বিরুনি কে ছিলেন?

খ. সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা কর ।

গ. উদ্দীপকে আনিস সাহেবের কর্মকাণ্ড প্রাক-সালতানাত যুগের কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মি. জওহরের প্রতি আনিস সাহেবের এরূপ আচরণকে তুমি কীভাবে দেখবে— ইতিহাসের আলোকে মতামত দাও ৷

সৃজনশীল ১ উত্তরঃ

ক. মুসলিম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত।

খ. গজনির সুলতান মাহমুদ কী কারণ ও উদ্দেশ্যে রাজত্বের ২৭ বছরে মোট ১৭ বার ভারত অভিযান করেছেন, তা নিয়ে ঐতিহাসিকগণের মধ্যে মতানৈক্য ও মতভেদ পলিক্ষিত হয়। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, ইসলাম ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে, কারও মতে দক্ষ সামরিক সেনাপতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী বিজেতার আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে, কারও মতে ধনসম্পদ আহরণের উদ্দেশ্যে সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযান করেন।

প্রকৃতপক্ষে, সুলতান মাহমুদ মধ্য এশিয়ায় একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গজনিকে একটি সমৃদ্ধিশালী ও আকর্ষণীয় নগরীতে পরিণত করার জন্য, গজনির শাসনব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে অর্থের বিশেষ প্রয়োজন অনুভব করতেন। সুতরাং বলা যায়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণেই মাহমুদ ভারত অভিযান করেন ।

মূলকথা : রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণার্থেই সুলতান মাহমুদ ভারত অভিযান পরিচালনা করেন।

গ. উদ্দীপকে আনিস সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে প্রাক-সালতানাত যুগের গজনি সাম্রাজ্যের অধিপতি সুলতান মাহমুদের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকের আলোকে সুলতান মাহমুদের কর্মকাণ্ড নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-

একটি স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক আনিস সাহেব নিজের শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক শেয়ার হস্তগত করেন এবং এটিকে একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। অনুরূপভাবে, গজনির অধিপতি সুলতান মাহমুদ নিজ রাজ্যকে একটি বৃহৎ সাম্রাজ্যে পরিণত করতে আগ্রহী ছিলেন । পিতার মৃত্যুর পর স্বীয় ভ্রাতা ইসমাইলকে পরাজিত ও কারারুদ্ধ করে ৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে ২৬ বছর বয়সে মাহমুদ গজনির সিংহাসনে আরোহণ করেন।

তিনি অনেক উচ্চাভিলাষী ও সাম্রাজ্যবাদী শাসক ছিলেন। তিনি মধ্য এশিয়ায় একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী ছিলেন। তিনি গজনিকে একটি সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণতকরণের স্বপ্ন দেখতেন। সদ্য প্রতিষ্ঠিত গজনি রাজ্যের সুদৃঢ়করণ, রাজ্যে নিজ কর্তৃত্ব এবং মুসলিম নৃপতিদের মধ্যে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা, বিরাট সেনাবাহিনীর ব্যয় নির্বাহ, রাজধানী গজনিকে সমৃদ্ধিশালী ও সুসজ্জিতকরণ এবং জ্ঞান- বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা ইত্যাদি কারণে সুলতান মাহমুদের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল। এ কারণে সুলতান মাহমুদ ১০০০–১০২৭ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন।

আর প্রত্যেকটি অভিযানেই তিনি বিস্ময়ের সাথে সফলতা লাভ করেন এবং প্রচুর অর্থসম্পদ নিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন। শুধু পাঞ্জাবকে নিজ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করেন। ভারত থেকে লুণ্ঠিত বিপুল ধনৈশ্বর্য দ্বারা মাহমুদ গজনির উন্নতি ও সমৃদ্ধি সাধন করেন।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে আনিস সাহেবের কর্মকাণ্ডের সাথে প্রাক-সালতানাত যুগের গজনির অধিপতি সুলতান মাহমুদের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।

মূলকথা : উদ্দীপকের আনিস সাহেবের কর্মকাণ্ড গজনির অধিপতি সুলতান মাহমুদের কর্মকাণ্ডের অনুরূপ।

ঘ. উদ্দীপকের মি. জওহরের প্রতি আনিস সাহেবের এরূপ আচরণকে আমি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক আচরণ হিসেবে দেখব । – কারণ, উদ্দীপকের আনিস সাহেব একটি বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া সত্ত্বেও মি. জওহরকে দেওয়া কথা তিনি রাখেননি।

তিনি মি. জওহরকে পদোন্নতি প্রদানের শর্তে তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করলেও পরিবর্তী সময়ে তার প্রতিশ্রুতির খেলাপ করেন। এতে মি. জওহর ক্ষুব্ধ হন এবং তার প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন। অনুরূপ ঘটনা পরিলক্ষিত হয় মহাকবি ফেরদৌসির প্রতি সুলতান মাহমুদের।

সুলতান মাহমুদ শুধু একজন সমরবিশারদ এবং জগদ্বিখ্যাত বিজেতাই ছিলেন না, সাহিত্য ও শিল্পের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কথিত আছে, সুলতান মাহমুদ চারশ’র অধিক কবি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক, বিজ্ঞানী প্রমুখের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন।

এর মধ্যে “শাহনামার” রচয়িতা ফেরদৌসি অন্যতম। ইরানের রাজা, বাদশাহ, বীরপুরুষদের বীরত্বগাথা নিয়ে রচিত এ মহাকাব্য রচনার জন্য সুলতান কবিকে ষাট হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রদানের অঙ্গীকার করেন।

কিন্তু ‘শাহনামা’ রচিত হওয়ার পর আয়াজ নামক প্রিয়পাত্রের প্ররোচনায় সুলতান মহাকবিকে প্রতিশ্রুতি মোতাবেক ৬০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা প্রদান না করে ৬০,০০০ রৌপ্যমুদ্রা প্রদান করতে চাইলে ফেরদৌসি ক্ষুব্ধ হয়ে সুলতানের প্রতি কটাক্ষপূর্ণ একটি ব্যঙ্গ কবিতা রচনা করেন। এরপর চিরকালের জন্য গজনি ত্যাগ করে স্বদেশ খোরাসানের তুস নগরে গমন করেন।

কৃতকার্যের জন্য অনুতপ্ত হয়ে যখন সুলতান মাহমুদ তাকে ৬০,০০০ স্বর্ণমুদ্রা প্রেরণ করেন তখন তার মৃতদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করতে না পারা খুবই গর্হিত কাজ। সুলতান মাহমুদের ন্যায় একজন বিজেতা লোকের পক্ষে এ ধরনের কাজ একেবারেই বেমানান। এক্ষেত্রে মহাকবি ফেরদৌসির প্রতি শুধু অন্যায়ই করা হয়নি, তাকে অপমানও করা হয়েছে। তার কার্যকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

উদ্দীপকের মি. জওহরকে অনুরূপভাবে পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত আনিস সাহেব তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হন । সুতরাং বলা যায়, প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা না করা খুবই গর্হিত, বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও নিপীড়নমূলক কাজ ।

সৃজনশীল প্রশ্ন-২।

সাগর আহমেদ ‘মুনশাইন’ কোম্পানিতে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও তিনি পদোন্নতি লাভে ব্যর্থ হন। বাধ্য হয়ে তিনি উক্ত কোম্পানির চাকরি পরিত্যাগ করে ‘পদ্মা’ কোম্পানির চাকরি গ্রহণ করেন। তার পদোন্নতি ও প্রচেষ্টায় কোম্পানিটি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

ক. শাহনামা কী?

খ. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে ঘুরির জয়লাভের কারণ কী ছিল? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে সাগর আহমেদের কর্মকাণ্ডের সাথে কোন শাসকের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে— ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. উদ্দীপকে সাগর আহমেদের সাফল্যের কারণ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল ২ উত্তরঃ

ক. পারস্যের কবি ফেরদৌসি রচিত মহাকাব্য গ্রন্থ ।

খ. ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে মুহাম্মদ ঘুরী পরাজিত হলেও পরের বছর একই স্থানে ২য় যুদ্ধে তিনি জয়ী হন। তার এ জয়ের প্রধান কারণ ছিল পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার প্রচণ্ড স্পৃহা। তাছাড়া পৃথ্বীরাজের তুলনায় মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিল বেশি এবং তারা ছিল সুসজ্জিত, প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খলিত, দুর্ধর্ষ ও শক্তিশালী।

তাছাড়া ভারতীয়দের চিরাচরিত যুদ্ধরীতি অপেক্ষা ঘুরি শাসকদের যুদ্ধরীতি ছিল শ্রেষ্ঠতর। সর্বোপরি, মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা, ভারতে মুসলিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা মুসলমানদের তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয় নিশ্চিত করে।

মূলকথা : ভারত জয়ের প্রবল ইচ্ছা এবং ইসলাম প্রচারের লক্ষ্যেই মুসলমানরা মরিয়া হয়ে যুদ্ধ করে এবং পরাজয়ের গ্লানি মুছে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে বিজয়ী হয়।

গ. উদ্দীপকে সাগর আহমেদের কর্মকাণ্ডে ঘুরি বংশের প্রতিষ্ঠাতা মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরির ভারত আক্রমণের প্রেক্ষাপট ফুটে উঠেছে।

মুহাম্মদ ঘুরি অনন্যসাধারণ সমর প্রতিভাধর ও ক্ষমতাবান শাসক ছিলেন। তিনি ভ্রাতার নিকট থেকে রাজ্য জয়ের উৎসাহ লাভ করেছিলেন। নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি সুলতান মাহমুদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে ভারতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন।

তিনি মধ্য এশিয়ায় একটি সাম্রাজ্য স্থাপন করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু খাওয়ারিজম শাহ কর্তৃক বারবার পরাজিত হয়ে তিনি মধ্য এশিয়ায় সাম্রাজ্য স্থাপনের আশা ত্যাগ করে ভারতবর্ষের দিকে দৃষ্টিপাত করেন। পরিশেষে ভারতের অফুরন্ত ধনসম্পদ লাভ এবং ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে মুহাম্মদ ঘুরি উত্তর ভারতে রাজ্য বিস্তারে উদ্বুদ্ধ হন।

১১৭৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কারমাতিয়ানদের নিকট থেকে মুলতান অধিকার করেন। এরপর ১১৭৬ খ্রিষ্টাব্দে উচ,১১৭৯ খ্রিষ্টাব্দে পেশোয়ার এবং ১১৮২ খ্রিষ্টাব্দে সমুদ্র উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত সমগ্র সিন্দু ও পাঞ্জাব ঘুরির করতলগত হয়।

এছাড়া ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভের পর মুসলিম সাম্রাজ্য প্রায় দিল্লির উপকণ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং এ সময় আজমির ও কনৌজ, কালিঞ্জর প্রভৃতি দখল করেন। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে সাগর আহমেদ মুনশাইন থেকে পদ্মা কোম্পানির চাকরি গ্রহণের পর উক্ত কোম্পানি তার প্রচেষ্টায় একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে সাগর আহমেদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে মুহাম্মদ ঘুরির ভারত বিজয়ের ইতিহাস ফুটে উঠেছে।

মূলকথা : মুহাম্মদ মুবির সফল অভিযানের ফলে উত্তর ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঘ.  উদ্দীপকে সাগর আহমেদ ‘পদ্মা’ কোম্পানিতে চাকরি গ্রহণের পর তার প্রচেষ্টায় কোম্পানিটি একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। অনুরূপভাবে মুহাম্মদ ঘুরিও মধ্য এশিয়া থেকে ভারতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। নিচে মুহাম্মদ ঘুরির সাফল্যের কারণের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্দীপকের সাগর আহমেদের সাফল্যের কারণ আলোচনা করা হলো-

প্রথমত : এ সময় ভারতে চরম রাজনৈতিক অনৈক্য এবং রাজন্যদের মধ্যে পরস্পর দ্বন্দ্ব ও কলহ বিরাজমান ছিল, যা নিঃসন্দেহে মুসলিম বাহিনীর সাফল্য ও হিন্দুদের ব্যর্থতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।

দ্বিতীয়ত : মুসলমানদের উন্নত সামরিক সংগঠন, আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র, শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতা এবং ক্ষিপ্রগতিসম্পন্ন অশ্বারোহী বাহিনী তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। রাজপুতদের মন্থরগতির হস্তীবাহিনী ক্ষিপ্রগতির অশ্বারোহী বাহিনীর মোকাবিলায় অকার্যকর প্রমাণিত হয়। মুসলমানদের আগ্রাসী (Offensive) নীতি এবং হিন্দুদের আত্মরক্ষামূলক (Defensive) রণনীতিও তাদের ব্যর্থতার অন্যতম কারণ বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন।

তৃতীয়ত : ঈশ্বরী প্রসাদ রাজপুত ও মুসলমানদের মধ্যকার যুদ্ধকে দুটি বিপরীতধর্মী সামাজিক শক্তির মধ্যকার সংঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার একটি হচ্ছে পুরনো অবক্ষয়ী এবং অন্যটি তারুণ্য উদ্দীপ্ত তেজস্বী ও উদ্যোগী। আর তারুণ্য উদ্দীপ্ত নতুনের কাছে জরাগ্রস্ত পুরনো অবক্ষয়ী শক্তির পতন অনিবার্য।

চতুর্থত : জাতি ও বর্ণভেদ প্রথা ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে প্রচন্ড সামাজিক বৈষম্য তৈরি করেছিল; অন্যদিকে ইসলামের সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ মুসলমানরা সংঘবদ্ধভাবে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।

পঞ্চমত: মুসলমানদের মধ্যে ধর্মীয় প্রেরণা ও উদ্দীপনা তাদের সাফল্যের বিশেষ কারণ। মুসলিম যোদ্ধাদের নিকট হিন্দু ভারতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ছিল ধর্মযুদ্ধস্বরূপ।

এতে মৃত্যু হলে শহিদ হিসেবে পারলৌকিক মুক্তি আর বিজয়ী হলে গাজীর মর্যাদা প্রাপ্তির আশা তাদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। প্রতিপক্ষ হিন্দুদের সামনে এরূপ কোনো প্রেরণা ছিল না। তদুপরি, ধনৈশ্বর্যে পরিপূর্ণ ভারতে প্রতিটি অভিযানে বিপুল গণিমত প্রাপ্তির প্রলোভন মুসলিম তুর্কি বাহিনীকে দুর্ভেয় করে তুলেছিল।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৩।

ফারদিন টিভিতে প্রামাণ্যচিত্র দেখছিল। প্রামাণ্যচিত্রের বিভিন্ন দৃশ্য ও বর্ণনায় সে জানতে পারে যে, ‘ক’ দেশের রাজার উদ্দেশে ‘গ’ ‘দেশের রাজা কিছু মূল্যবান উপঢৌকন পাঠায়। পথিমধ্যে ‘খ’ দেশের ডাকাতদল এসব উপঢৌকন লুণ্ঠন করে । তাই ‘ক’ দেশ ‘খ দেশের রাজার কাছে তার ক্ষতিপূরণ দাবি করে। ‘খ’ দেশের রাজা তা দিতে অস্বীকার করলে ‘ক’ দেশের রাজা সৈন্য প্রেরণ করে ‘খ’ দেশ দখল করে নেন ।

ক. কুতুবউদ্দিন আইবেক কে ছিলেন?

খ. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর ।

গ. উদ্দীপকে ফারদিনের দেখা প্রামাণ্যচিত্রের ঘটনার সাথে তোমার পঠিত ভারতবর্ষের ইতিহাসের কোন ঘটনার সামঞ্জস্য রয়েছে- দেখাও ৷

ঘ. উদ্দীপকের কারণের বাইরেও উক্ত ঘটনায় আরও অনেক কারণ বিদ্যমান— কথাটি বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল ৩ উত্তর

ক. কুতুবউদ্দিন আইবেক ভারতে দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ।

খ. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয় লাভের ফলে মুসলিম অধিকার প্রায় দিল্লির উপকণ্ঠ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। এর পর থেকে হিন্দুরা আর মুসলিম আক্রমণের সামনে দাঁড়াতে সক্ষম হয়নি। এই যুদ্ধ উত্তর ভারতে মুসলিম আধিপত্যের ভিত্তি স্থাপন করে।

প্রকৃতপক্ষে তরাইনের এ বিজয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের “ভিত্তি রচনা করেছিল। সুতরাং ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধের গুরুত্ব অপরিসীম।
মূলকথা : তরাইনের এ বিজয়ে মুসলিম শাসনের ভিত্তি রচিত হয় বলে এর গুরুত্ব অপরিসীম ।

গ. উদ্দীপকে ‘খ’ অঞ্চলকে আক্রমণের কারণের সাথে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রধান কারণ সামঞ্জস্যপূর্ণ ।

অষ্টম শতাব্দীর প্রারম্ভে সিংহলরাজ কর্তৃক খলিফা ওয়ালিদ ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নিকট প্রেরিত উপঢৌকনপূর্ণ আটটি আরব জাহাজ দেবলম্ব জলদস্যুগণ কর্তৃক লুণ্ঠনই ছিল আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ।

তবে এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মতভেদ রয়েছে। যেমন- (ক) কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে সিংহলে বাণিজ্য উপলক্ষে অবস্থানরত যেসব বণিক প্ৰাণত্যাগ করেছিল, সিংহলরাজ তাদের নিরাশ্রয় আত্মীয়-পরিজনকে স্বদেশে প্রেরণ করেছিলেন।

কিন্তু পথিমধ্যে দেবলের জলদস্যু জাহাজটি লুণ্ঠন করে। (খ) অন্য একদলঐতিহাসিক মনে করেন, সিংহলরাজ স্বয়ং ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়ে খলিফা ওয়ালিদের নিকট উপঢৌকনপূর্ণ আটটি জাহাজ প্রেরণ করেছিলেন।

কিন্তু সেগুলো উক্ত জলদস্যু কর্তৃক লুণ্ঠিত হয়। (গ) আবার কারও মতে, খলিফা ক্রীতদাসী ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করার জন্য কয়েকজন অনুচরকে ভারতে প্রেরণ করেছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজগুলো সিন্ধুর নিকটবর্তী দেবল বন্দরে জলদস্যুদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়।

হাজ্জাজ এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু সিন্ধুরাজ দাহির এতে কর্ণপাত না করায় হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হন এবং ভারত আক্রমণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। অনুরূপভাবে উদ্দীপকে ফারদিনের দেখা প্রামাণ্যচিত্রে ‘ক’ দেশের রাজার উদ্দেশে ‘গ’ দেশের রাজা কিছু মূল্যবান উপঢৌকন পাঠান।

পথিমধ্যে ‘খ’ দেশের ডাকাতদল এসব উপঢৌকন লুণ্ঠন করে । তাই ‘ক’ দেশ ‘খ’ দেশের রাজার কাছে তার ক্ষতিপূরণ দাবি করে। ‘খ’ দেশের রাজা তা দিতে অস্বীকার করলে ‘ক’ দেশের রাজা সৈন্য প্রেরণ করে ‘খ’ দেশ দখল করে নেন ।

সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের সাথে সিন্ধুর দেবল জলদস্যু কর্তৃক আরব জাহাজ লুণ্ঠনের ঘটনাটির সামঞ্জস্য রয়েছে।

মূলকথা : উদ্দীপকের সাথে আরবদের সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণের সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ . উদ্দীপকের মুহাম্মদ বিন কাসিম কর্তৃক সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ আলোচিত হয়েছে। তবে সিন্ধু বিজয়ের পেছনে আরও অনেক কারণ রয়েছে। নিচে তা দেওয়া হলো-

প্রথমত : বহু প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয়দের সাথে আরবদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাই পুরনো বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে সিন্ধু অভিযান, পরিচালিত হয়।

দ্বিতীয়ত : সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে এ অভিযান প্রেরিত, হয়। খলিফা হজরত ওমর (রা.) এবং খলিফা ওসমান (রা.)- এর সময়ে সমুদ্রপথে ভারতে অভিযান প্রেরিত হলেও তা ব্যর্থ হয়। এরই সূত্র ধরে খলিফা ওয়ালিদের সময় ভারতে অভিযান প্রেরিত হয়। মূলত ভারতের বাইরে সামরিক সাফল্য আরুবগণকে রাজ্যগ্রাসী করে তুলেছিল এবং ভারত আক্রমণের পশ্চাতে তাদের লক্ষ্যই ছিল রাজ্য বিস্তার করা।

তৃতীয়ত : হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নিষ্ঠুরতা থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য কিছুসংখ্যক আরব বিদ্রোহী সিন্ধুতে রাজা দাহিরের আশ্রয় লাভ করে। হাজ্জাজ এই বিদ্রোহীদের প্রত্যর্পণ দাবি জানালে সিন্ধুরাজ দাহির এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হয়ে রাজা দাহিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন ।

চতুর্থত : মুসলমানদের পারস্য বিজয়কালে সিন্ধু রাজা পারস্য বাহিনীকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেছিল। মুসলমানগণ সিন্ধুরাজের এই শত্রুতার কথা বিস্মৃত হননি। ফলে সিন্ধুরাজ আরবদের রোষানলে পড়েন। ভারত উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারই ছিল এ অভিযানের অন্যতম কারণ।

পঞ্চমত : ভারতের অফুরন্ত ধনসম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষা আরববাসীকে ভারত জয়ে প্রলুদ্ধ করে।

ষষ্ঠত : হাজ্জাজের সাম্রাজ্যবাদী নেশাও ভারতের সিন্ধু আক্রমণের অন্যতম কারণ বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। সুতরাং বলা যায় যে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের পেছনে বহুবিধ কারণ বিদ্যমান।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৪।

সাহাদ মাহমুদ ইতিহাস বই পড়ছিল। সে দুজন গজনি শাসকের ভারত অভিযান সম্পর্কে পাঠ করে। একজন ১৭ বার ভারত অভিযান করে ১৭ বার সফল হন। অন্যজন তরাইনের দুইবার যুদ্ধে অবতীর্ণ হন । প্রথমে পরাজিত হলেও দ্বিতীয়বার জয়ী হন ।

ক. সুলতান মাহমুদ কে ছিলেন?

খ. সবুক্তগিনের পরিচয় ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে সাহাদ মাহমুদের পঠিত দ্বিতীয় ব্যক্তির মধ্যে কোন গজনি সুলতানের কোন অভিযান ফুটে ওঠে— নিরূপণ কর।

ঘ. উদ্দীপকে সাহাদ মাহমুদের পঠিত দুজন ব্যক্তির মধ্যে তুলনামূলক আলোচনা কর।

সৃজনশীল ৪ উত্তর

ক. গজনির সুলতান ইতিহাস বিখ্যাত সমরনেতা ছিলেন।

খ. সবুক্তগিন ছিলেন আলপ্তগীনের ক্রীতদাস ও জামাতা। শৈশবে তিনি ক্রীতদাসরূপে আলপ্তগীনের নিকট বিক্রীত হন। কিন্তু শীঘ্রই তিনি তার কর্মদক্ষতা ও প্রভুভক্তির গুণে প্রভুর প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন এবং এরই স্বীকৃতিস্বরূপ আলপ্তগিন তাকে ‘আমিরুল উমরা’ উপাধি প্রদান করেন ও নিজের কন্যার সাথে বিবাহ দেন।

আলপ্তগীনের মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের সুযোগে ৯৭৭ খ্রিষ্টাব্দে সবুক্তগিন গজনির অধিপতি হন। তিনি ছিলেন গজনি অধিপতি সুলতান মাহমুদের পিতা।

মূলকথা : সামান্য ক্রীতদাস থেকে নিজ মেধা ও যোগ্যতাবলে সবুক্তগিন গজনির অধিপতি হন।

গ. উদ্দীপকে সাহাদ মাহমুদের পঠিত ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যক্তিটির সাথে গজনির সুলতান মুহাম্মদ ঘুরির সাদৃশ্য রয়েছে। তিনি তরাইনের প্রান্তরে যুদ্ধ করে উত্তর ভারতে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা
করেন।

মুহাম্মদ ঘুরি ১১৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মুলতান, ১১৭৬ খ্রিষ্টাব্দে উচ্ দখল করেন। এরই প্রভাবে ১১৮২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে গুজরাট, পেশোয়ার সিন্ধু ও পাঞ্জাবকে নিজ রাজ্যের আওতাধীন করেন । এরপর ঘুরি রাজপুত রাজাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

ঘুরির সমর প্রস্তুতির সংবাদে শঙ্কিত হয়ে দিল্লি ও আজমিরের চৌহান বংশীয় রাজা পৃথ্বীরাজ কনৌজ ব্যতীত সমগ্র উত্তর ভারতের রাজপুত রাজাদের সাথে মৈত্রী জোট গঠন করে ঘুরির আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য ১১৯০-৯১ খ্রিষ্টাব্দে দুই লক্ষ অশ্বারোহী ও তিন হাজার হস্তীবাহিনীসহ অগ্রসর হন।

তরাইনের প্রান্তরে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মুহাম্মদ ঘুরি রাজপুত সংঘের কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেন এবং গজনিতে ফিরে যান। তরাইনের প্রথম যুদ্ধের পরাজয়ের গ্লানি মুছে ফেলার জন্য অদম্য মনোভাবের অধিকারী মুহাম্মদ ঘুরি পরের বছর ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে ১,২০,০০০ সৈন্যের এক সুসজ্জিত ও প্রশিক্ষিত বাহিনীর নিয়ে তরাইনের প্রান্তরে পুনরায় পৃথ্বীরাজের সাথে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন।

পৃথ্বীরাজও তার সম্মিলিত জোটের সমন্বয়ে গঠিত বাহিনী নিয়ে ঘুরির মোকাবিলা করেন। ঘুরি বাহিনীর উচ্চমানের রণকৌশল ও সেনাপতিত্বে রাজপুত শক্তি শোচনীয় পরাজয় বরণ করে । এ যুদ্ধ উত্তর ভারতে মুসলিম আধিপত্যের ভিত্তি স্থাপন করে।

সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে সাহাদ মাহমুদের পঠিত ইতিহাসের দ্বিতীয় ব্যক্তিটি সুলতান মুহাম্মদ ঘুরির চরিত্রকেই নির্দেশ করছে।

ঘ. উদ্দীপকে সাহাদ মাহমুদের পঠিত দুই ব্যক্তির সাথে সুলতান | মাহমুদ ও মুহাম্মদ মুবির সাদৃশ্য রয়েছে। নিচে উভয়ের ক. মধ্যকার তুলনামূলক আলোচনা করা হলো-

মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসে গজনির সুলতান মাহমুদ ও সুলতান মুইজউদ্দিন মুহাম্মদ মুবি উভয়ে সমরনায়ক, রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অনন্যসাধারণ প্রতিভাধর ব্যক্তি ছিলেন। অনুপম চারিত্রিক মাধুর্য বিবেচনায়ও তারা ছিলেন বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী।

তবে উভয়ের সামগ্রিক কীৰ্ত্তি বিবেচনায় তাদের মধ্যে বিশেষ কিছু বৈসাদৃশ্য লক্ষণীয়। প্রথমত, ব্যক্তিগত শৌর্যবীর্য ও রণনৈপুণ্যে মাহমুদ ও ঘুরির বিশেষ খ্যাতি ছিল। মাহমুদ ছিলেন অপরাজেয় নেতা, অপরদিকে ঘুরি তরাইনের প্রথম যুদ্ধ এবং মধ্য এশিয়ার সংঘর্ষে পরাজয় বরণ করেন।

দ্বিতীয়ত, তাদের অভিযানের প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন। ভারত জয় করে সেখানে স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা মাহমুদের লক্ষ্য ছিল না। কিন্তু মুহাম্মদ খুবির ধনসম্পদ কুক্ষিগত নয়, বরং সেখানে স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করাই ছিল তার মুখ্য উদ্দেশ্য। সুলতান মাহমুদ অপেক্ষা ঘুরি অধিকতর কুশলী ছিলেন।

তৃতীয়ত, সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের পেছনে খানিকটা ধর্মীয় আবেগ ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন। এমনকি তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসাধনে ধর্মকে ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু মুহাম্মদ ঘুরির ক্ষেত্রে ধর্মান্ধতার কোনো অভিযোগ নেই।

চতুর্থত, উভয় শাসকই জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তবে শিল্প-সংস্কৃতিচর্চা ও পৃষ্ঠপোষকতায় মুহাম্মদ ঘুরি অপেক্ষা অনেক বেশি সফল ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী ছিলেন মাহমুদ।

সর্বশেষ, সমর প্রতিভা, জ্ঞান-গরিমা ও যশ-খ্যাতির সার্বিক বিবেচনায় সুলতান মাহমুদ ইতিহাসে মুহাম্মদ ঘুরি অপেক্ষা খ্যাতিমান ও শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন হয়ে আছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে ভারতে মুসলিম শাসনের ইতিহাসে ঘুরির অবদান সুলতান মাহমুদ অপেক্ষা অনেক বেশি।

পরিশেষে বলা যায় যে, সুলতান মাহমুদ ও মুহাম্মদ ঘুরি উভয়েই তাদের চরিত্র, কৃতিত্ব ও গুণাবলির দ্বারা সমাদৃত হলেও তাদের কৃতিত্বের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৫।

মণিপুরের লোকজন মির্জাপুরের একটি মালবাহী জাহাজ লুণ্ঠন করে ও ক্ষতিপূরণে অস্বীকৃতি জানান। ফলে মির্জাপুরের জমিদার হাসেম খান মণিপুরে অভিযান চালান। মণিপুরের অত্যাচারী’ জমিদারের বিরুদ্ধে সেখানকার লোকজনও মির্জাপুরের সঙ্গে যোগ দেয়, এতে মির্জাপুরের অভিযান সফল হয়।

ক. মুহাম্মদ ঘুরির মৃত্যুর পর কে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হন?

খ. সুলতান মাহমুদের ভারত বিজয়ের অর্থনৈতিক ফল কী ছিল? বুঝিয়ে লেখ।

গ. মণিপুর ও মির্জাপুরের জাহাজ দুষ্ঠন দ্বন্দ্বের সাথে পাঠ্যবিষয়ের . কোন ঘটনার মিল খুঁজে পাও- ব্যাখ্যা কর।

ঘ. মণিপুরের রাজার অত্যাচারই তার পতনের অন্যতম কারণ”- তুমি কি এ বক্তব্যের সাথে একমত? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

সৃজনশীল ৫ উত্তরঃ 

ক .ভ্রাতুষ্পুত্র মাহমুদ ঘুরি।

খ. সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের ফলে ভারতে যুগ যুগ ধরে। সজ্জিত সম্পদের মারাত্মক ক্ষতিসাধিত হয়। উত্তর ভারতীয় ঐশ্বর্য-বৈভব। রাজ্যসমূহ বড় রকমের আর্থিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন। অন্যদিকে সুলতান মাহমুদ অগণিত ধনরত্ন ওকরেন এবং স্বীয় গজনি সাম্রাজ্যকে সমৃদ্ধ ও গৌরবান্বিত কর গড়ে তোলেন।

ভারতবর্ষ থেকে আহরিত সম্পদ মাহমুদের যুদ্ধ ও শান্তিকালীন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আর্থিক সহায়তা দান করেছিল। এ সময় গজনি ইতিহাস প্রসিদ্ধ নগরীতে পরিণত হয়েছিল।

মূলকথা : মূলতান মাহমুদ ভারত অভিযানের মাধ্যমে নিজ উদ্দেশ্যে সফল হলেও উত্তর ভারত অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়ে।

গ.  উদ্দীপকে মণিপুর ও মির্জাপুরের জাহাজ লুণ্ঠন দ্বন্দ্বের সাথে পাঠ্যবিষয়ের দেবল জলদস্যু কর্তৃক আরব জাহাজ লুণ্ঠনের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

উদ্দীপকে মণিপুরের লোকজন মির্জাপুরের একটি মালবাহী জাহাজ লুণ্ঠন করে। কিন্তু তারা ক্ষতিপূরণ দানে অস্বীকৃতি জানায়। এতে মির্জাপুরের জমিদার হাসেম খান মণিপুরে অভিযান চালান। এ সময় মণিপুরের কিছু লোকও মির্জাপুরের সৈন্যদের সাহায্য করে এবং যুদ্ধ করে।

কারণ, তারা মণিপুরের অত্যাচারী জমিদারের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ছিল। অনুরূপভাবে, সিংহলে বসবাসকারী কিছুসংখ্যক আরব বণিকের মৃত্যু হলে সিংহলরাজ সেসব পরিবার এবং খলিফা আল ওয়ালিদ ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জন্য কিছু মূল্যবান উপহার উপঢৌকন আটটি জাহাজে পূর্ণ করে আরবের উদ্দেশে প্রেরণ করেন।

কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজগুলো সিন্ধুর নিকটবর্তী দেবল বন্দরে জলদস্যুদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়। ইরাকের গভর্নর হাজ্জাজ এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু সিন্ধুরাজ দাহির এতে কর্ণপাত না করায় হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হন এবং ভারত আক্রমণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।

এ লক্ষ্যে তিনি ৭১০ খ্রিষ্টাব্দে ওবায়দুল্লাহ ও বুদায়েলের নেতৃত্বে অভিযান প্রেরণ করে ব্যর্থ হন। কিন্তু ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে তৃতীয় অভিযান প্রেরণ করেন।

এ অভিযান সফল হয় এবং রাজা দাহিরের পতন ঘটে। এ যুদ্ধে দাহিরের নির্যাতনে অতিষ্ঠ স্থানীয় জাঠ ও মেডদের অনেকেই আরব বাহিনীতে যোগ দিয়ে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে। ফলে খুব সহজেই মুসলিম বিজয় সূচিত হয় ।

সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে দেবল জলন কর্তৃক আরব জাহাজ লুণ্ঠন ও তৎপরবর্তী দেবলের পতনে ইতিহাস ফুটে উঠেছে।

মূলকথা : দেবলের জলদস্যু কর্তৃক আরব জাহাজ মুসলমানদের সিন্ধু বিজয়ের প্রধান কারণ।

ঘ. মণিপুরের রাজার অত্যাচারই তার পতনের অন্যতম কারণ। নিচে আমার মতের সপক্ষে যুক্তি দেখানো হলো-

উদ্দীপকে মণিপুরের রাজা ছিলেন অনেক অত্যাচারী এবং তর কুশাসনে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। ঠিক তেমনি সিন্ধুরাজ সাহির ছিলেন অত্যাচারী শাসক। প্রাক-মুসলিম যুগে অন্যান্য রাজ্যের ন্যায় সিন্দুক ছিল হিন্দুপ্রধান রাজ্য এবংভারত হিন্দুধর্মই ছিল এর প্রধান ধর্ম।

জাতিভেদ প্রথা ছিল হিন্দু সমাজের মূলভিত্তি। পুরোহিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ব্রাহ্মণরা ছিল উচ্চ মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী। একই ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্য ও শূদ্ররা ছিল নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত। সিন্ধু রাজ্যেও অনুরূপ অবস্থা বিরাজমান ছিল। রাজা দাহিরের স্বৈরশাসনে স্থানীয় জাঠ ও মেডরাও অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।

রাজা দাহিরের সময় হিন্দু ব্রাহ্মণগণ বৌদ্ধ ও নিম্ন শ্রেণির হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন চালাত। এতে তারাও ক্ষিপ্ত হয়ে রাজা দাহিরের পতন প্রার্থনা করে। এ সময় অত্যাচারিত জাঠ ও মেডরা মুসলমানদের দলে যোগ দান করলে মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি পায়। নিম্নবর্ণের হিন্দু ও বৌদ্ধরাও পরবর্তী সময়ে যোগ দেয়।

ফলে সিন্ধুরাজের একটি বিরাট অংশ মুসলমানদের পক্ষে কাজ করে। তাই রাজা দাহির বিপদের সময় এদের সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়। অপরদিকে মুসলমানরা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এতে রাজা দাহিরের মনোবল ভেঙে যায় এবং দাহির প্রাণপণ চেষ্টা করেও পরাজিত হন।

সুতরাং বলা যায় যে, একটি দেশের প্রতিরক্ষার জন্য যেমন প্রতিরক্ষা বাহিনীর দরকার তেমনি, সাধারণ জনগণের সমর্থনেরও দরকার। যেকোনো একটির অভাব হলে কখনো সফলতা লাভ করা সম্ভব হয় না। আর এ কারণেই রাজা দাহিরের ন্যায় মণিপুরের রাজার পতন ঘটে। সুতরাং বলা যায় যে, মণিপুরের রাজার অত্যাচারই তার পতনের অন্যতম কারণ।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৬।

আবরার নামক একজন সেনাপতি বারবার অন্য একটি দেশে অভিযান পরিচালনা করেন এবং অভিযান শেষে দেশে ফিরে যান। তিনি অভিযানে যে ধনসম্পদ অর্জন করতেন, তা শিক্ষা বিস্তার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিজ্ঞানচর্চা ইত্যাদিতে ব্যয় করতেন। তিনি ছিলেন একজন ভালো বিজেতা এবং সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা ।

ক. সুলতান মাহমুদের অভিযানগুলোর অন্যতম কারণ কী ছিল?

খ. মুহাম্মদ ঘুরির ধর্মীয় নীতি কেমন ছিল?

গ. উদ্দীপকে যে সেনাপতির ধারণা পাওয়া যায়, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার কৃতিত্ব পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. তুমি কি মনে কর, উদ্দীপকের ব্যক্তিটি সৎ চরিত্রবান? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও ।

সৃজনশীল ৬ উত্তর

ক. অর্থসম্পদ লুণ্ঠনই ছিল সুলতান মাহমুদের সবগুলো অভিযানের একটি অন্যতম কারণ।

খ. সুলতান মুহাম্মদ ঘুরি ধর্মপরায়ণ ছিলেন, কিন্তু ধর্মান্ধ ছিলেন না, বিজিত হিন্দুদের প্রতি তিনি বিদ্বেষ পোষণ করতেন না। শুধু অন্য ধর্মের হওয়ার কারণে কোনো শাস্তি দিতেন না, শাস্তি দিতেন কোনো অপরাধ করলে।

তার সেনাদলে হিন্দু সৈন্যও ছিল। পৃথ্বীরাজকে পরাজিত করার পর মুহাম্মদ ঘুরি পৃথ্বীরাজের পুত্রকে বিজিত আজমিরের শাসক নিযুক্ত করেন। বন্দি হিন্দু, বিশেষত মহিলাদের সাথে তিনি সদ্ব্যবহার করতেন।

গ. উদ্দীপকে সেনাপতি সুলতান মাহমুদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন দিগ্বিজয়ী, সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাতা ও শ্রেষ্ঠতম বিজেতা ।সুলতান মাহমুদের দেশ বিজেতা হিসেবে গৌরব ও প্রতিপত্তি লাভ করাই ছিল লক্ষ্য।

সুদূর কাস্পিয়ান হ্রদ থেকে গঙ্গা নদীর তীর পর্যন্ত বিশাল ভূভাগের সব রাজাকে তিনি পরাজিত করেছিলেন। উত্তম সমরপ্রস্তুতি ও পরিচালনা ছিল তার বিজয় অভিযানের চাবিকাঠি। ৩২ বছর রাজত্বকালে তিনি বহু স্থান জয় করেছিলেন। বর্তমান আফগানিস্তান বলে পরিচিত ভূখণ্ডে তার সাম্রাজ্য বিস্তার লাভ করে।

পারস্যের অধিকাংশ অঞ্চল ট্রান্সঅক্সিয়ানা এবংপাঞ্জাব তার করতলগত হয়। শুধু সামরিক শক্তির জোরেই গজনির মতো একটি ক্ষুদ্র পার্বত্য রাজ্যকে তিনি – বিশাল ও সমৃদ্ধিশালী একটি সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেন ।এসব বিবেচনা করলে সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তার কৃতিত্বের পরিচয় পাওয়া যায়।

তিনি শুধু একজন বিজেতাই ছিলেন না, সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সমধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। মূলকথা : সামরিক শক্তির জোরেই গজনিকে তিনি একটি সমৃদ্ধিশালী সাম্রাজ্যে রূপান্তরিত করেছিলেন।

ঘ. উদ্দীপকের ব্যক্তিটি সুলতান মাহমুদকে নির্দেশ করে। সুলতান মাহমুদ মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে এক অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বেরঅধিকারী।

হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকের ব্যক্তিটি সৎ চরিত্রবান। চারিত্রিক গুণাবলি ও কৃতিত্বের দিক দিয়ে তিনি বিশ্বের শ্রেষ্ঠশাসকদের মধ্যে অন্যতম ।

ঐতিহাসিকগণ তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রকৃতপক্ষেই যুদ্ধকৌশল, যুদ্ধ পরিচালনা ও সুষ্ঠু শাসনব্যবস্থার প্রবর্তক হিসেবে সুলতান মাহমুদ ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। অর্থসম্পদের লোভে তিনি ভারতে অভিযান চালালেও এর সদ্ব্যবহার করতেও তিনি জানতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন ধর্মনিষ্ঠ, আত্মপ্রত্যয়ী, অধ্যবসায়ী, কর্তব্যপরায়ণ এবং ধর্মসহিষ্ণু। যুদ্ধক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোথাও কখনো তিনি বিধর্মীদের প্রতি অত্যাচার করেননি।

তিনি ছিলেন ন্যায়বিচারক। অপরাধী আত্মীয়স্বজনকে শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি ছিলেন একজন দয়ালু শাসক। প্রজাগণ তাকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করত। প্রতিটি অনুচরের প্রতি তার স্নেহ ছিল পিতৃতুল্য। তিনি একজন সুশাসকও ছিলেন। সুষ্ঠু শাসনের ফলে সাম্রাজ্যের সর্বত্রই শান্তি বিরাজ করছিল।

সুতরাং সুলতান মাহমুদ ‘যে একজন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। ছিলেন, এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ থাকে না।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৭।

রূপক মনে করে, প্রত্যেক দেশেরই অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলার উপর ওই দেশের নিরাপত্তা নির্ভর করে। এমন এক সময় ছিল, যখন আমাদের এই উপমহাদেশে সামাজিক অনাচার, জাতিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ, কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছিল। নিজেদের মধ্যে কোনোরূপ ঐক্য ছিল না এবং হিন্দুসমাজ নানা শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। তখনই মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একজন তুর্কি শাসক বহুবার এখানে আক্রমণ করেন।

ক. ভারতবর্ষের ইতিহাসে কাকে শ্রেষ্ঠতম বিজেতা বলা হয়?

খ. সাম্রাজ্য বিস্তার বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের আক্রমণের কারণ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর । ৩

ঘ. “যেকোনো তুর্কি সেনাধ্যক্ষের স্বপ্ন থাকত সাম্রাজ্য গঠন”- সপক্ষে যুক্তি দাও ৷

সৃজনশীল ৭ উত্তর

ক. তুর্কি বংশীয় সুলতান মাহমুদকে ভারতবর্ষের একজন শ্রেষ্ঠতম বিজেতা বলা হয় ।

খ. সাম্রাজ্যের বিস্তার বলতে রাজ্যের সীমানা বৃদ্ধি বোঝায় । প্রাচীনকাল থেকে ভারতে শক্তিশালী ও ক্ষমতাশালী রাজাগণ তাদের রাজ্যের পরিধি ও শাসনক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য দুর্বল অঞ্চলগুলোতে আক্রমণ চালাতেন এবং নিজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতেন।

পরবর্তীকালে মধ্যযুগেও ভারতীয় উপমহাদেশে আরবদের সাম্রাজ্য বিস্তারের ইতিহাস জানা যায়। মুহাম্মদ বিন কাসিম, সুলতান মাহমুদ, মুহাম্মদ ঘুরিসহ অন্যান্য মুসলিম শাসক ভারতবর্ষে স্বীয় ক্ষমতা ও শক্তি দ্বারা বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

মূলকথা : দিগ্বিজয়ী নেশাই সাম্রাজ্য বিস্তারে অনুপ্রেরণার উৎস।

গ. উদ্দীপকে ভারতীয় উপমহাদেশে সুলতান মাহমুদের আক্রমণের বর্ণনা পাওয়া যায়। তিনি সতেরোবার ভারতবর্ষে সমরাভিযান পরিচালনা করেন। প্রতিবারই তিনি যুদ্ধে জয়ী হন, তবে বিজিত সব অঞ্চলে শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেননি। এজন্য এসব অভিযানের কারণ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণসমূহ নিচে বর্ণনা করা হলো- ড. ঈশ্বরী প্রসাদের মতে, আব্বাসীয় শাসক কাদির বিল্লাহ মাহমুদকে “ইয়ামিন-উদ-দৌলা’ ও ‘আমির-উল-মিল্লাত’ উপাধি প্রদান করলে তিনি স্বাধীন সুলতানরূপে উপমহাদেশে পৌত্তলিকতা ও বর্ণবাদ ধ্বংস করে দীন-ই-ইসলাম প্রচারের জন্য যুদ্ধাভিযানে প্রবৃত্ত হন।

এ বক্তব্য পুরাপুরি সঠিক নয়; কারণ তিনি মুসলিম শাসকদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালাতেন এবং অমুসলিমদের পূর্ণ স্বাধীনতা ছিল। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে তিনি উপমহাদেশে অভিযান চালিয়েছিলেন।

সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা, রাজন্যবর্গের বিশ্বাসঘাতকতামূলক আচরণ এর মূল কারণ। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অপেক্ষা অর্থলিপ্সাই অভিযানের মূল কারণ। তিনি ভারতে অভিযান চালিয়ে প্রচুর অর্থসম্পদ নিয়ে নিজ সাম্রাজ্যে ফিরে যেতেন।

সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের কারণ সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও তার এসব সফল অভিযানে স্বীয় শৌর্যবীর্য প্রকাশ পেয়েছিল এবং গজনি সমৃদ্ধিশালী রাজ্যে পরিণত হয়েছিল।

মূলকথা : গৌৱৰ ও সম্পদ লাভের জন্য সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষে অভিযান চালান।

ঘ.  ভারতবর্ষে মুসলিম অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে তুর্কিরা অভিযান পরিচালনা করে।নবদীক্ষিত তুর্কিরা প্রথমে খলিফাদের দেহরক্ষী হিসেবে ক্ষমতার স্বাদ পায়। পরে তারা ক্ষমতাবান হয়ে নিজেদেরশাসন প্রতিষ্ঠা করে। তুর্কি সেনাধ্যক্ষদের স্বপ্ন থাকত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা। নিচে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

তুর্কি তথা গজনি বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলপ্তগিন বুখারার শাসনকর্তা আবদুল মালিকের ক্রীতদাস ছিলেন। প্রভুর মনোরঞ্জন দ্বারা খোরাসানের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন এবং প্রভুর মৃত্যুর পর গজনির সিংহাসন দখল করেন তিনি। তিনি দোর্দন্ত প্রতাপের সাথে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর রাজত্ব করেন।

এরপর তার পুত্র আবু ইসহাকের দুর্বলতার সুযোগে, জামাতা সবুক্তগিন সিংহাসনে বসেন এবং গজনিতে তুর্কি বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। সবুক্তগিন উচ্চাভিলাষী ছিলেন এবং ভারতীয় উপমহাদেশ জয়ের উদ্দেশ্যে সৈন্যবাহিনী গঠন করেন।

তিনি চতুর্দিকে রাজ্য বিস্তারে প্রয়াসী হন এবং খোরাসান ও সিজিস্তান জয় করে পূর্বদিকে লামাদান পর্যন্ত রাজ্য বিস্তার করেন এবং ৯৯১ খ্রিষ্টাব্দে জয়পালকে পরাজিত করে পেশোয়ার পর্যন্ত এলাকা জয় করেন। সবুক্তগীনের মৃত্যুর পর সুলতান মাহমুদ তার ভাইকে পরাজিত করে সিংহাসনে বসেন।

নিজ রাজ্যের শ্রীবৃদ্ধির সাথে সাথে তিনি ভারতের উদ্দেশে বহুবার অভিযান পরিচালনা করেন। ভারতবর্ষে অভিযানের মাধ্যমে তিনি প্রচুর অর্থসম্পদের অধিকারী হন।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় যে, সব তুর্কি সেনাধ্যক্ষেরই সাম্রাজ্য বিস্তারের নেশা বিদ্যমান ছিল এবং নিজ নিজ দক্ষতা ও উত্তম সমরনীতি দ্বারা তারা রাজ্যের বিস্তার ঘটাতে সক্ষম হয়েছেন।

মূলকথা : তুর্কি শাসকরা গজনি রাজ্যের সীমানার বিস্তার ঘটান এবং ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৮। 

মাহিত টিভিতে একটি ঐতিহাসিক নাটক দেখছিল। নাটকের ঘটনায় দেখা যায়, একটি দেশ অন্য একটি দেশ যুদ্ধের মাধ্যমে দখল করে নেয়। ফলে বিজয়ী দেশটির জন্য অনেক বাণিজ্যপথ খুলে যায়। বিজিত দেশে দুটি জাতির সহাবস্থানের ফলে সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তন আসে। উভয়ের সংমিশ্রণে নতুন জাতির উদ্ভব হয়।

ক. ভারতবর্ষের ইতিহাসে কাকে শ্রেষ্ঠতম বিজেতা বলা হয়?

খ. সাম্রাজ্য বিস্তার বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের আক্রমণের কারণ পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা কর । ৩

ঘ. “যেকোনো তুর্কি সেনাধ্যক্ষের স্বপ্ন থাকত সাম্রাজ্য গঠন”- সপক্ষে যুক্তি দাও ৷

সৃজনশীল ৮ উত্তর

ক. ভারতে স্থায়ী মুসলিম শাসনের প্রতিষ্ঠাতা ।

খ. মধ্যযুগীয় ভারবর্ষের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে মুহাম্মদ ঘুরির নাম সর্বাগ্রে অসাধারণ রণনৈপুণ্য, নির্ভীকতা, সাহসিকতা, ধার্মিকতা ও . বিদ্যোৎসাহিতায় তিনি ছিলেন অনন্য। তিনি ছিলেন পরমতসহিষ্ণু, খোদাভীরু, সত্যনিষ্ঠ ও প্রজারঞ্জক শাসক।

ভ্রাতার প্রতি আনুগত্য, নিজ আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা প্রভৃতি গুণ তাকে সমসাময়িক মুসলিম রাজাগণের বহু ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছিল। তাঁর চারিত্রিক গুণাবলির জন্য তিনি সবার কাছে শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।

মূলকথা : মুহাম্মদ ঘুরি অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

গ. উদ্দীপকে মাহিতের দেখা নাটকটিতে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের আর্থসামাজিক ফলাফল চিত্রিত হয়েছে। নিচে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের আর্থসামাজিক ফলাফল তুলে ধরা হলো-

উদ্দীপকে মাহিমের দেখা নাটকে বিজয়ী দেশটির বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের পথ উন্মোচন হয়। বিজয়ী ও বিজিত দেশ দুটির সহাবস্থানের ফলে সমাজব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে এবং উভয় জাতির সংমিশ্রণে নতুন জাতির উদ্ভব হয়। অনুরূপভাবে, সিন্ধু বিজয়ের ফলে ভারতের সাথে আরবীয়দের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হয়।

বিশেষ করে এই বিজয়ের ফলে আরবীয় মুসলমানদের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথ সুগম হয়। মফিজুল্লাহ কবিরের ভাষায়, অষ্টম ও নবম শতাব্দীতে আরব সমুদ্র বাণিজ্যপথ বঙ্গদেশের উপকূল দিয়ে গিয়েছিল এবং আরব সওদারগণ বঙ্গদেশের উপকূলে সমুদ্রবন্দরে আগমণ করে, এমনকি তারা সন্দ্বীপ ও রুহমী দ্বীপেও পদার্পণ করেন।

তদুপরি এ বিজয়ের মাধ্যমে আরববাসী সর্বপ্রথম হিন্দুদের সংস্পর্শে আসে এবং দুটো জাতির সহাবস্থানের ফলে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন সাধিত হয়।

সামাজিক জীবনে তারা একে অন্যের রীতিনীতি অনেকাংশে গ্রহণ করে। মুসলমানরা বিজিত অঞ্চলে অভিজ্ঞ ব্রাহ্মণ প্রশাসক নিযুক্ত করে তাদের নিকট থেকে ভারতীয় শাসন পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করে।

উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন ও সামাজিক রীতিনীতি ও ভাবের আদান- প্রদানের ফলে একটি নতুন জাতির উদ্ভব ঘটে, যারা ভারতে পরবর্তীকালে ইন্দো-আরবীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছিল।

মূলকথা : সিন্ধু বিজয়ের ফলে আরব বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হয় এবং দুই জাতির সংমিশ্রণে নতুন জাতির উদ্ভব ঘটে।

ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি যে, আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল উদ্দীপকে মাহিতের দেখা নাটকের ঘটনার চেয়ে ব্যাপক ও বিস্তৃত। নিচে আমার মতের পক্ষে আলোচনার প্রয়াস করা হলো-

আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের ফলাফল ও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যদিও ঐতিহাসিকদের মধ্যে এর ফলাফল ও গুরুত্ব সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ কোনো পরিবর্তন সাধন করতে পারেনি। আরব আধিপত্য কেবল সিন্ধু ও মুলতানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এতদসত্ত্বেও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিন্ধু বিজয়কে ভারতের ইতিহাসে উপাখ্যান বলাটা একেবারে সংগত বলে মনে করা হয় না।

কেননা, সিন্ধু ও মুলতান বিজয় তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও আরব বিজয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই গজনভী ও ঘুরিরা ভারতে মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। সিন্ধু বিজয়ের সূত্র ধরেই ভারতবর্ষে ইসলামের বীজ রোপিত হয়েছিল।

আরবদের সিন্ধু বিজয়ের সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ভারতীয়রা আরবীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে যেমন গ্রহণ করেছিল, তেমনি আরবীয়রাও দীর্ঘদিন এ দেশে বসবাসের ফলে এ দেশের ধর্ম, দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, সংগীত ইত্যাদি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলাকে গ্রহণ করে জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছিল।

জানা যায়, জনৈক আরব পণ্ডিত আবু মাশর বানারসে এসে দীর্ঘ ১০ বছর জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা লাভ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আব্বাসীয় শাসনামলে বহু সংস্কৃত গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। আরবের বহু শিক্ষার্থী ভারতে এসে জ্ঞানার্জন করত।

তেমনি ভারতের বহু পণ্ডিত আব্বাসীয় রাজধানী বাগদাদে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। আর্যদের আগমণের পর ভারতবর্ষের ইতিহাসে একে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

সুতরাং বলা যায় যে, আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সুদূরপ্রসারী ছিল।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৯।

মাহিমদের সমাজে নানা শ্রেণিবৈষম্য বিদ্যমান। তাদের সমাজে উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ইত্যাদি শ্রেণির মানুষ রয়েছে সমাজে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত লোকদের প্রভাব শীর্ষে। সমাজের অধিকাংশ লোক মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেণির। সমাজে তাদের কোনো মর্যাদা নেই। তারা নানাভাবে অধঃপতিত ও নিষ্পেষিত।

ক. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ কবে সংঘটিত হয়?

খ. বখতিয়ার খলজি কীভাবে বাংলা জয় করেন?

গ. উদ্দীপকে মাহিমদের সমাজের অবস্থা যেন মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষের সামাজিক অবস্থার মতো— কথাটি প্রমাণকর।

ঘ.তুমি কি মনে কর মাহিমদের সমাজব্যবস্থা প্রাক-মুসলিম ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থাকে প্রতিনিধিত্ব করছে? মতের সপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।

সৃজনশীল ৯ উত্তর

ক. ১১৯১ খ্রিষ্টাব্দে।

খ. কুতুবউদ্দিন আইবেক যখন উত্তর ভারত অভিযানে ব্যস্ত তখন পূর্ব ভারতে বাংলা ও বিহারে যথাক্রমে পাল ও সেন বংশীয় রাজাগণ ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।

আইবেকের সেনাপতি বখতিয়ার খলজি প্রথমে বিহার আক্রমণ করে মদনপাল ও কুমার পালকে পরাজিত করে তা দখল করেন। এ সময় বাংলার সেন বংশীয় রাজা লক্ষ্মণসেনের বার্ধক্যজনিত দুর্বলতার কারণে বাংলার শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়।

সে সুযোগে বখতিয়ার খলজি ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বাংলায় অভিযান পরিচালনা করেন এবং লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে বাংলা অধিকার করেন। বখতিয়ার খলজির বাংলা বিজয়ের ফলেই সর্বপ্রথম বাংলায় মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

গ. উদ্দীপকে মাহিমদের সমাজের অবস্থার সাথে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষের সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য
রয়েছে।

মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষের সামাজিক অবস্থার বর্ণবৈষম্যের চিত্র ফুটে ওঠে। প্রথমদিকে হিন্দুদের সামাজিক জীবন একসূত্রে গাথা থাকলেও পরবর্তীকালে বর্ণপ্রথার উদ্ধ ও বিস্তারের ফলে সমাজে বর্ণবৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করে।

সমাজে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের প্রভাব শীর্ষে থাকলেও বৈশ্য ও শূদ্ররা ছিল অধঃপতিত ও নিষ্পেষিত। পার্থিব সকল সুখ-সম্পদ ভোগের অধিকারী ব্রাহ্মণগণ ধর্ম-কর্ম, যাগযজ্ঞ ও আচার-অনুষ্ঠানে নিয়োজিত থাকত।

আইনকানুন প্রণয়ন ও শাসনদণ্ড পরিচালনায় তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করত। ক্ষত্রিয়গণ যুদ্ধ-বিগ্রহ, বৈশ্যরা ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং শূদ্রগণ কৃষিকাজ ও সাধারণ কাজকর্ম করত। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র- এই চারটি শ্রেণি ছাড়া বাকি হিন্দুদের অচ্ছ্যুৎ মনে করা হতো।

সমাজের মেয়েদের কোনো সম্মাজনক স্থান ছিল না। হিন্দু সমাজে বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। সমগ্র দেশেই মূর্তি পূজার প্রচলন ছিল।

হিন্দুধর্ম ও সমাজের অধঃপতনের উপর মন্তব্য করে ড. ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, “ধর্ম কুসংস্কারে ভারাক্রান্ত ছিল এবং সমাজ একটি কঠোর বর্ণ- নীতির আওতায় আবদ্ধ ছিল। যা বিভিন্ন দলের মধ্যে ঐক্য স্থাপনকে অসম্ভব করে তুলেছিল।”উদ্দীপকে মাহিমদের সমাজেও শ্রেণিবৈষম্য পরিলক্ষিত হয়।

সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে মাহিমদের সামাজিক অবস্থার সাথে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতবর্ষের সামাজিক অবস্থার সাদৃশ্য রয়েছে।

মূলকথা : মাহিমদের সমাজে প্রাক-মুসলিম ভারতের সমাজব্যবস্থার ন্যায় শ্রেণিবৈষম্য বিরাজমান ছিল।

ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি, মাহিমদের সমাজব্যবস্থা প্রাক-ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থাকে প্রতিনিধিত্ব করছে। কারণ, উদ্দীপকে মাহিমদের সমাজে উচ্চবিত্ত, উচ্চ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত শ্রেণির লোক বসবাস করে।

সমাজে উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্ত লোকদের প্রভাব শীর্ষে। কিন্তু সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেণির লোক । এদের সমাজে কোনো মর্যাদা ছিল না।

কিন্তু সমাজে এই শ্রেণি বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে মূলত অর্থনীতিকে কেন্দ্র করেই। কারণ, পার্থিব সকল সুখ-সম্পদ ভোগের অধিকারী ছিলেন তথাকথিত উচ্চবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তশ্রেণি ।প্রাক-মুসলিম ভারত প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধিশালী ছিল।

এ দেশের অতুল ধনৈশ্বর্যে আকৃষ্ট হয়ে যেমন বিদেশি বণিকগণ এসেছে, ঠিক তেমনি আবার বিদেশি আক্রমণকারীগণও এই দেশ লুণ্ঠন করতে এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে বারবার এই দেশে আগমন করেছে।

এই উপমহাদেশে আগত দ্রাবিড়, আর্য, শক্, হূণ, কৃষাণ প্রভৃতি জাতি প্রাচীন হিন্দু সমাজের উদারতায় মুগ্ধ হয়ে তাদের পৃথক সত্তা হারিয়ে হিন্দু সমাজের সাথে এক হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু কালক্রমে বর্ণপ্রথা প্রকট আকার ধারণ করে এবং অষ্টম শতাব্দীর প্রারম্ভে হিন্দু সমাজ ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র-এই চারটি বর্ণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। সমাজে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের প্রভাব ছিল অত্যধিক। ধর্মকর্ম, যাগযজ্ঞ এবং অন্যান্য সকল কাজে তাদের প্রতিপত্তি ও অধিকার ছিল একচ্ছত্র।

অপরদিকে বৈশ্য ও শূদ্ররা ছিলঅধঃপতিত ও অসহায়। বৈশ্যরা ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং শূদ্ররা কৃষিকাজ ও অন্যান্য সেবামূলক কাজ করত। এই চতুর্বর্ণভুক্ত ছাড়া হিন্দুগণ সমাজের অবশিষ্ট সকলকে অপবিত্র মনে করত। অধিকার ও মর্যাদা বঞ্চিত এই শ্রেণি মানবেতর জীবনযাপন করত।

সুতরাং বলা যায় যে, মাহিমদের সমাজব্যবস্থা প্রাক-মুসলিম ভারতের অর্থনৈতিক বৈষম্যেরই প্রতিনিধিত্ব করছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন-১০।

রমেশ যে দেশে বসবাস করত, সে দেশটি সামাজিক ক্ষেত্রে নানা বর্ণে ও শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনৈক্য ছিল আরও প্রকট। এ পরিস্থিতির সুযোগে পার্শ্ববর্তী রাজ্যের সাম্রাজ্যবাদী শাসক তার একজন তরুণ সেনাপতির নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে দেশটি করায়ত্ত করেন। কিন্তু সেখানে বিজয়ী শক্তির দীর্ঘস্থায়ী শাসনব্যবস্থা কায়েম করা সম্ভব হয়নি। তবে এ বিজয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল গভীর ও সুদূরপ্রসারী ।

ক. সুলতান মাহমুদ কোন রাজবংশের শাসক ছিলেন?

খ. ভারতবর্ষকে ‘নৃতত্ত্বের জাদুঘর’ বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকের সেনাপতির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন সেনাপতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের ফলাফল উক্ত সেনাপতির বিজয়ের ফলাফলের আংশিক প্রতিফলন- মন্তব্য কর।

সৃজনশীল ১০ উত্তর

ক. সুলতান মাহমুদ গজনি রাজবংশের শাসক ছিলেন।

খ. ৩,৪০০ মাইল সমুদ্র সমতটসংবলিত ভারতবর্ষে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বাস। আর্যদের আগমন থেকে শুরু করে আধুনিককালে ইউরোপীয়দের আগমন পর্যন্ত বহু জাতি ভারতে প্রবেশ করেছে।

প্রাচীন যুগে আর্য, দ্রাবিড়, পারসিক, গ্রিক, শক, কুষাণ, জুন, মধ্যযুগে আরব, তুর্কি, আফগান, মুঘল এবং আধুনিক যুগে পর্তুগিজ, ইংরেজ, ফরাসি প্রভৃতি ইউরোপীয় বণিকদের আগমন ভারতবর্ষকে এক মহামানবের সাগরে পরিণত করেছে।

এ দেশে কমপক্ষে ১৭৯টি ভাষা এবং ৫৪৪টি আঞ্চলিক ভাষা প্রচলিত আছে। এ জন্যই ঐতিহাসিক স্মিথ ভারতবর্ষকে ‘নৃতত্ত্বের জাদুঘর’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মূলকথা : বন্ধু ভাষাভাষী ও ধর্মের জাতিগোষ্ঠী বসবাস করার কারণে ভারতবর্ষকে নৃতত্ত্বের জাদুঘর বলা হয়।

গ. উদ্দীপকের সেনাপতির সাথে পাঠ্যপুস্তকের সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের “মিল খুঁজে পাওয়া যায়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-

উদ্দীপকে উল্লিখিত রমেশের দেশের রাজনৈতিক অনৈক্য, সামাজিক শ্রেণিভেদ, বর্ণপ্রথা প্রভৃতি বিশৃঙ্খলার সুযোগে পার্শ্ববর্তী শাসক একজন তরুণ সেনাপতির মাধ্যমে রমেশের দেশে অভিযান চালান।

এ ঘটনার সাথে আরবদের সিন্ধু অভিযান ও উমাইয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ কর্তৃক প্রেরিত তরুণ সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের মিল রয়েছে। মুহাম্মদ বিন কাসিম ৬৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১শে ডিসেম্বর বর্তমান সৌদি আরবের তায়েফে জন্মগ্রহণ করেন।

পিতা কাসিম বিন ইউসুফ তার বাল্যকালে মৃত্যুবরণ করেন। চাচা উমাইয়া গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ তাকে যুদ্ধবিদ্যা প্রশিক্ষণ দেন। রাজা দাহিরের ঔদ্ধত্যে ক্ষুদ্ধ হয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মদ বিন কাসিমকে দাহিরের বিরুদ্ধে অভিযানে পাঠান।

মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধুর রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু দখল করেন। সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের অসামান্য সাফল্যের পর মুহাম্মদ বিন কাসিম সমগ্র ভারত বিজয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। কিন্তু ইতিমধ্যে খলিফা ওয়ালিদ মৃত্যুমুখে পতিত হলে তিনি নতুন খলিফা সুলায়মানের রোষানলে পড়েন।

কথিত আছে, মুহাম্মদ বিন কাসিম রাজা দাহিরের দুজন কন্যা সূর্যদেবী ও পরমল দেবীর প্রতি অশোভন ‘আচরণ করায় তারা খলিফা সুলায়মানের কাছে অভিযোগ করেন। এতে খলিফা ক্রুদ্ধ হন এবং কাসিমকে লবণ মাখানো গরুর চামড়ায় আবদ্ধ করে দামেস্কে আনার নির্দেশ দেন।

এভাবে নেওয়ার সময় দামেস্কের পথেই ৭১৫ খ্রিষ্টাব্দে জুলাই মাসে তিনি মারা যান। উল্লেখ্য যে, কাসিমের ভারত বিজয়ের ফল রাজনৈতিকভাবে সুদূরপ্রসারী না হলেও সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী।উপর্যুক্ত ব্যাখ্যার আলোকে বলা যায়, উদ্দীপকের সেনাপতির সাথে পাঠ্যপুস্তকের সিন্ধু বিজয়ী সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

মূলকথা : মুহাম্মদ বিন কাসিমের সাথে উদ্দীপকের সেনাপতির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

ঘ. হ্যাঁ, উদ্দীপকের ফলাফল উক্ত সেনাপতি অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফলের আংশিক প্রতিফলন । উদ্দীপকে বর্ণিত সেনাপতি কর্তৃক রমেশের দেশ বিজিত হলেও সাম্রাজ্যবাদী শাসকগোষ্ঠী রমেশের দেশে দীর্ঘস্থায়ী শাসন কায়েম করতে পারেনি।

তবে এ বিজয়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। মুহাম্মদ বিন কাসিম কর্তৃক আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ক্ষেত্রেও উদ্দীপকের সামগ্রিক ফলাফল প্রতিফলিত হয়েছে; তবে তা আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফলের আংশিক প্রতিফলন।

উদ্দীপকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ফলাফলের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলে উক্ত বিষয়গুলো ছাড়া অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের ফলাফল ও গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। যদিও ঐতিহাসিকদের মধ্যে এর ফলাফল ও গুরুত্ব সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয় ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষ কোনো পরিবর্তন সাধন করতে পারেনি।

আরব আধিপত্য কেবল সিন্ধু ও মুলতানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এতদসত্ত্বেও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সিন্ধু বিজয়কে ভারতের ইতিহাসে উপাখ্যান বলাটা একেবারে সংগত বলে মনে করা হয় না।

কেননা, সিন্ধু ও মুলতান বিজয় তাৎক্ষণিকভাবে ভারতের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বিস্তার করতে না পারলেও আরব বিজয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই গজনি ও ঘুরিরা ভারতে মুসলিম কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। সিন্ধু বিজয়ের সূত্র ধরেই ভারতবর্ষে ইসলামের বীজ রোপিত হয়েছিল।

আরবদের সিন্ধু বিজয়ের সাংস্কৃতিক ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ভারতীয়রা আরবীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে যেমন গ্রহণ করেছিল, তেমনি আরবীয়রাও দীর্ঘদিন এ দেশে বসবাসের ফলে এ দেশের ধর্ম, দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত, সংগীত ইত্যাদি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্পকলাকে গ্রহণ করে জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছিল।

জানা যায়, জনৈক আরব পণ্ডিত আবু মাশর বানারসে এসে দীর্ঘ ১০ বছর জ্যোতির্বিদ্যা শিক্ষা লাভ করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে আব্বাসীয় শাসনামলে বহু সংস্কৃত গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়েছিল।

আরবের বহু শিক্ষার্থী ভারতে এসে জ্ঞানার্জন করত। তেমনি ভারতের বহু পণ্ডিত আব্বাসীয় রাজধানী বাগদাদে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। আর্যদের আগমনের পর ভারতবর্ষের ইতিহাসে .একে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে অভিহিত করা হয়ে থাকে।

সুতরাং বলা যায় যে, আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলাফল রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে সুদূরপ্রসারী ছিল; যা উদ্দীপকে সম্পূর্ণ প্রতিফলিত হয়নি।

সৃজনশীল প্রশ্ন-১১।

সুলতান সুলেমান বারবার অন্য একটি দেশে অভিযান পরিচালনা করেন এবং অবশেষে দেশে ফিরে আসেন। অভিযানে তিনি যে ধনসম্পদ অর্জন করেন তা শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করেন। একপর্যায়ে তিনি তার রাজ্যকে একটি সমৃদ্ধিশালী বাজ্যে পরিণত করেন ।

ক. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

খ. সতীদাহ প্রথা কী? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে তোমার পঠিত কোন শাসকের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত শাসক শুধু সেনানায়কই ছিলেন না, একটি রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতাও ছিলেন।’- এ কথাটি ব্যাখ্যা কর।

সৃজনশীল ১১ উত্তর

ক. ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে।

খ. প্রাচীন ভারতে হিন্দুসমাজে সতীদাহ প্রথা চালু ছিল। স্ত্রী মারা যাওয়ার পূর্বে স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীর সতীত্ব বজায় রাখার জন্য স্ত্রীকে জীবন্ত অবস্থায় স্বামীর সাথে চিতায় দাহ করা হতো। এ প্রথাকে সতীদাহ প্রথা বলে। রাজা রামমোহন রায়ের প্রচেষ্টায় ইংরেজ গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে সতীদাহ প্রথা বাতিল করেন ।

মূলকথা : স্বামীর চিতায় জীবন্ত স্ত্রীকে দাহ করাকে সতীদাহ প্রথা বলে।

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আমার পঠিত গজনির সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে। নিচে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযান সম্পর্কে আলোচনা করা হলো-

সুলতান মাহমুদ ৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা সবুক্তগিনের মৃত্যুর পর ৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি গজনির সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি গজনিকে সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত করার জন্য পার্শ্ববর্তী রাজ্য আক্রমণ করে ধনসম্পদ লুণ্ঠন করেন।

এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৭ বার ভারতবর্ষে অভিযান চালিয়েছিলেন। ১০০০ খ্রিষ্টাব্দে সর্বপ্রথম তিনি খাইবার গিরিপথের সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে অভিযান চালান। ১০০১ খ্রিষ্টাব্দে তিনি পেশোয়ারে দ্বিতীয় অভিযান চালান।

এভাবে তিনি ১০০০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে পাঞ্জাব, ভিরা, মুলতান, নগরকোট, থানেশ্বর, কাশ্মীর, কনৌজ, গোয়ালিয়র, কালিঞ্জর, সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে অনেক ধনসম্পদ লুণ্ঠন করেন।

সুলতান মাহমুদের সবচেয়ে বীরত্বের –অভিযান হচ্ছে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ। হিন্দুরা মনে করত সোমনাথ মন্দির বিজয় তুর্কিদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সবাই সোমনাথ মন্দিরে ধনসম্পদ গচ্ছিত রাখত।

কিন্তু সুলতান মাহমুদ ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করে সব ধনসম্পদ লুন্ঠন করে নিয়ে যান। আলোচনা শেষে বলা যায়, সুলতান মাহমুদ ছিলেন একজন দক্ষ সেনাপতি। তিনি অর্থলিপ্সা চরিতার্থ করার জন্য বারবার ভারত আক্রমণ করেন এবং সেই ধনসম্পদ দিয়ে গজনি নগরীকে সুশোভিত করেন।

মূলকথা : উদ্দীপকের সুলতান সুলেমানের সাথে গজনির সুলতান মাহমুদের মিল রয়েছে।

ঘ. সুলতান মাহমুদ একজন দক্ষ সেনাপতি ছিলেন এবং তিনি একজন সুশাসকও ছিলেন। নিচে একটি রাজ্যের সফল প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সুলতান মাহমুদের কৃতিত্ব ব্যাখ্যা করা হলো- সুলতান মাহমুদ পিতার কাছ থেকে প্রাপ্ত ক্ষুদ্র রাজ্যকে গজনি সাম্রাজ্যে পরিণত করেন।

ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, “একটি ক্ষুদ্র পার্বত্য রাজ্যকে শুধু অস্ত্রের জোরে একটি বিশাল ও উন্নতশীল সাম্রাজ্যে উন্নীত করা কোনো নগণ্য কৃতিত্ব নয়।” শাসক হিসেবে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

প্রজাদের ধন- প্রাণ রক্ষা ও বিচারকাজে ন্যায় ও সততা রক্ষা করার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তিনি প্রজাদের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছিলেন। একটি সুগঠিত, সুশৃঙ্খ সুনিয়ন্ত্রিত সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে তিনি তার গজনি রাজ্যকে গৌরবের শীর্ষে উপনীত করেছিলেন।

বিচারের ব্যাপারেও তিনি ছিলেন কঠোর ও অনমনীয়। প্রজাদের জানমাল রক্ষার্থে তিনি সদা প্রস্তুত ছিলেন। বিচারকাজে হিন্দু-মুসলমানদের মধ্যে কোনো পার্থক্য ছিল না। শিক্ষা ও সাহিত্যের প্রতি তার অসাধারণ ঝোঁক ছিল।

কবি ও ধর্মশাস্ত্রীদের একজন পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তিনি প্রশংসা অর্জন করেন। প্রাচ্যের বিখ্যাত ব্যক্তি, গণিতবিদ, দার্শনিক, জ্যোতির্বিদ ও পণ্ডিত ব্যক্তিগণ তার রাজসভা অলংকৃত করেছিলেন।

এদের মধ্যে আল বিরুনি ও ফেরদৌসির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ‘শাহনামা’ রচয়িতা ফেরদৌসি মাহমুদের রাজত্বকালকে অমরত্ব দান করেছেন। মাহমুদ নিজেও একজন কবি ছিলেন। তার রচিত ‘তাফরিদুল ফুরু’ ফিকাহ শাস্ত্রের প্রামাণ্য দলিল বলে বিবেচিত হয়।

গজনিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, পাঠাগার ও জাদুঘর নির্মাণ করে ইতিহাসে তিনি বিশেষ স্থান লাভ করে আছেন। এছাড়া ‘স্বৰ্গীয় বধূ’ নামে গজনিতে যে বৃহৎ মসজিদটি তিনি নির্মাণ করেছিলেন, ঐতিহাসিকগণ তাকে প্রাচ্যের বিস্ময় বলে বর্ণনা করেছেন ।

উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, সুলতান মাহমুদ একজন দক্ষ শাসক ছিলেন। স্বীয় যোগ্যতাবলে সামান্য পার্বত্য রাজ্যকে একটি সমৃদ্ধিশালী নগরীতে পরিণত করেছিলেন। মূলকথা : সুলতান মাহমুদ গজনি বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক।

আপনি এগুলোও পড়তে পারেন

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় mcq প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় mcq প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)

15 hours ago
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিঃ ২য় পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর

1 day ago

সৃজনশীল প্রশ্ন-১২।

অজয়নগর ও বিজয়নগর পাশাপাশি অবস্থিত দুটি গ্রাম। শাহাদৎ সাহেব অজয়নগর গ্রামের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি, অন্যদিকে আমিন সাহেব বিজয়নগরের একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। দুজনেরই শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী আছে, যারা ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। কিছুদিন আগে শাহাদৎ সাহেবের এলাকা থেকে আমিন সাহেবের লোকজন শস্য ও গবাদি পশু জোর করে নিয়ে যায়। শাহাদৎ সাহেব আমিন সাহেবের কাছে এর বিচার চান। আমিন সাহেব তাতে কর্ণপাত করেননি। আমিন সাহেব তা প্রতিহত করতে গিয়ে পরাজিত হন এবং তিনি নিজেও প্রাণ হারান।

ক. দেবল বন্দর কোথায় অবস্থিত?

খ. আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের সামাজিকঅবস্থার বিবরণ দাও।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত শস্য ও গবাদি পশু জোর করে ধরে নিয়েযাওয়ার সাথে সিন্ধু বিজয়ের কোন কারণটির সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. ‘উদ্দীপকের ন্যায় উক্ত ঘটনাটি সিন্ধু বিজয়ের একমাত্র কারণনয়।’- বিশ্লেষণ কর।

সৃজনশীল ১২ উত্তর

ক. সিন্ধুতে।

খ. প্রাক-মুসলিম শাসনামলে ভারতের সামাজিক অবস্থাসন্তোষজনক ছিল না। সমাজে হিন্দুদের প্রবল প্রাধান্য ছিল এবংহিন্দুসমাজে সংকীর্ণ জাতিভেদ প্রথা বিস্তার লাভ করেছিল।বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল, তবে অসমবর্ণ বা আন্তঃ সাম্প্রদায়িকবিবাহ এবং বিধবাবিবাহ নিষিদ্ধ ছিল।

সহমরণ বা সতীদাহ, নরবলি এবং গঙ্গায় শিশুসন্তান বিসর্জন ইত্যাদি অমানবিককাজকে ধর্মীয় পুণ্যের কাজ বলে বিবেচনা করা হতো। মৌর্য যুগে দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল, দাস-দাসী ক্রয়-বিক্রয় করা হতো এবং তাদের প্রাসাদের কাজে নিয়োজিত করা হতো।

মূলকথা : প্রাক-মুসলিম শাসনামলে ভারতের সামাজিক অবস্থা সন্তোষজনক ছিল না।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত লুন্ঠনের ঘটনার সাথে আরবদের সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণটির মিল রয়েছে।
অতি প্রাচীনকাল থেকেই আরব বণিকরা সিংহলের সাথে বাণিজ্য করত।

সিংহলে অবস্থানরত কিছুসংখ্যক আরব ব্যবসায়ীর মৃত্যু হলে সিংহলরাজ মৃত বণিকদের বিধবা স্ত্রীদের নিজ দেশে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে সাথে মৃত বণিকদের স্ত্রী- সন্তানের জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জন্য অনেক মূল্যবান উপঢৌকনপূর্ণ আটটি জাহাজ পাঠান।

কিন্তু পথিমধ্যে জাহাজগুলো সিন্ধুর দেবল বন্দরে পৌঁছলে জলদস্যুরা লুণ্ঠন করে। রাজা দাহিরের কাছে এর ক্ষতিপূরণ চাইলে তিনি দিতে অস্বীকার করেন। ফলে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধুর রাজা দাহিরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য মুহাম্মদ বিন কাসিমকে সিন্ধু আক্রমণে পাঠান।

মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধুর রাজা দাহিরকে পরাজিত করে সিন্ধু দখল করেন। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনার সাথে মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণটির মিল রয়েছে।

মূলকথা : উদ্দীপকের ঘটনাটি সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণের সাথে মিল রয়েছে।

ঘ. সিন্ধুর জলদস্যু কর্তৃক জাহাজ লুণ্ঠন মুসলমানদের সিন্ধু বিজয়ের প্রত্যক্ষ কারণ হলেও এর পেছনে আরও অনেক কারণ ছিল। নিচে সিন্ধু বিজয়ের কারণসমূহ আলোচনা করা হলো- সিন্ধু বিজয়ের কারণগুলোকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা- পরোক্ষ কারণ

প্রথমত : প্রাচীনকাল থেকেই ভারতীয়দের সাথে আরবদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাই পুরনো বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও সম্প্রসারিত করার উদ্দেশ্যে সিন্ধু অভিযান পরিচালিত হয় ।

দ্বিতীয়ত : সাম্রাজ্য বিস্তারের উদ্দেশ্যে ভারতবর্ষে অভিযান প্রেরিত হয়। খলিফা হজরত ওমর (রা.) এবং খলিফা ওসমান (রা.)-এর সময়ে সমুদ্রপথে ভারতে অভিযান প্রেরিত হলেও তা ব্যর্থ হয়। এরই সূত্র ধরে খলিফা ওয়ালিদের সময় ভারতে অভিযান প্রেরিত হয়। ডক্টর অতুল চন্দ্র রায় বলেন, “ভারতের বাইরে সামরিক সাফল্য আরবগণকে রাজ্যগ্রাসী করে তুলেছিল এবং ভারত আক্রমণের পশ্চাতে তাদের লক্ষ্যই ছিল রাজ্য বিস্তার করা।”

তৃতীয়ত : ‘হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নিষ্ঠুরতা থেকে পরিত্রাণ লাভের জন্য কিছুসংখ্যক আরব বিদ্রোহী সিন্ধুতে রাজা দাহিরের আশ্রয় লাভ করে। হাজ্জাজ এ বিদ্রোহীদের প্রত্যর্পণের দাবি জানালে সিন্ধুরাজ দাহির এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। এতে হাজ্জাজ ক্ষুদ্ধ হয়ে দাহিরের বিরুদ্ধে যুদ্ধাভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন।

চতুর্থত : মুসলমানদের পারস্য বিজয়কালে সিন্ধু রাজা পারস্য বাহিনীকে সৈন্য দিয়ে সাহায্য করেছিলেন। মুসলমানরা সিন্ধুরাজের এ শত্রুতার কথা বিস্মৃত হয়নি। ফলে সিন্ধুরাজ আরবদের রোষানলে পড়েন।

পঞ্চমত : ভারত উপমহাদেশে ইসলাম ধর্ম প্রচার ও প্রসারই ছিল এ অভিযানের অন্যতম কারণ।

ষষ্ঠত: সে সময় ভারত উপমহাদেশ অর্থনৈতিকভাবে অনেক সচ্ছল ছিল। ভারতের অফুরন্ত ধনসম্পদ লাভের আকাঙ্ক্ষা আরববাসীকে ভারত জয়ে প্রলুদ্ধ করে। উমাইয়া খলিফাগণের বিশ্বাস ছিল রাজ্য সম্প্রসারণের মাধ্যমেই ইসলামের প্রচার ও প্রসার ঘটানো সম্ভব।

সপ্তমত : হাজ্জাজের সাম্রাজ্যবাদী নেশাও ভারতের সিন্ধু আক্রমণের অন্যতম কারণ বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। প্রত্যক্ষ কারণ

জলদস্যু কর্তৃক আরব জাহাজ লুণ্ঠনই সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল। সিংহলে বসবাসকারী কিছুসংখ্যক আরব বণিকের মৃত্যু হলে সিংহলরাজ সেসব পরিবার এবং খলিফা আল ওয়ালিদ ও হাজ্জাজ বিন ইউসুফের জন্য কিছু মূল্যবান উপহার- উপঢৌকনপূর্ণ আটটি জাহাজ আরবের উদ্দেশে প্রেরণ করেন। পথিমধ্যে জাহাজগুলো সিন্ধুর নিকটবর্তী দেবল বন্দরে জলদস্যুদের দ্বারা লুণ্ঠিত হয়। হাজ্জাজ এর ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। কিন্তু সিন্ধুরাজ দাহির এতে কর্ণপাত না করায় হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হন এবং ভারত আক্রমণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। পরিশেষে বলা যায়, সিন্ধু বিজয়ের অনেক কারণ থাকলেও সিন্ধুর জলদস্যুগণ কর্তৃক হাজ্জাজের জন্য প্রেরিত উপঢৌকনপূর্ণ জাহাজ লুণ্ঠনই এর প্রধান কারণ।

এই ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর পোস্টটি নিয়মিত অনুশীলন করলে তোমরা সহজেই srijonsil অংশে ভালো নম্বর পেতে পারবে। পরীক্ষার প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত এই প্রশ্ন গুলো অনুশীলন করো।

Previous Post

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিঃ ২য় পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর

Next Post

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় mcq প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)

Sojib Hasan

Sojib Hasan

Related Posts

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় mcq প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এইচএসসি

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় mcq প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)

15 hours ago
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এইচএসসি

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিঃ ২য় পত্র ১ম অধ্যায় অনুধাবন প্রশ্ন উত্তর

1 day ago
ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র ১ম অধ্যায় জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এইচএসসি

ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র ১ম অধ্যায় জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

1 day ago
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র ৩য় অধ্যায় জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এইচএসসি

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র – ৩য় অধ্যায় জ্ঞানমূলক প্রশ্ন উত্তর

6 days ago
Next Post
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় mcq প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র ২য় অধ্যায় mcq প্রশ্ন উত্তর (গুরুত্বপূর্ণ)

Please login to join discussion
  • Paragraphবাংলা অনুচ্ছেদ
  • Composition / Essayবাংলা রচনা
  • Email / Letterইমেইল / চিঠি
  • Dialogue Writingসংলাপ
  • Completing Storyগল্প সম্পূর্ণ
  • Applicationআবেদন পত্র
  • Flow Chartফ্লো চার্ট
  • Graph & Chartগ্রাফ লেখা
  • Summaryসারাংশ
  • Report Writingপ্রতিবেদন
  • Speechভাষণ
  • Dinlipiদিনলিপি
তৃতীয় শ্রেণি

সব সাবজেক্টের অধ্যায়ভিত্তিক সমাধান ও পরীক্ষা প্রস্তুতি

চতুর্থ শ্রেণি

সব সাবজেক্টের অধ্যায়ভিত্তিক সমাধান ও পরীক্ষা প্রস্তুতি

পঞ্চম শ্রেণি

সব সাবজেক্টের অধ্যায়ভিত্তিক সমাধান ও পরীক্ষা প্রস্তুতি

ষষ্ঠ শ্রেণি

সব সাবজেক্টের অধ্যায়ভিত্তিক সমাধান ও পরীক্ষা প্রস্তুতি

সপ্তম শ্রেণি

সব সাবজেক্টের অধ্যায়ভিত্তিক সমাধান ও পরীক্ষা প্রস্তুতি

অষ্টম শ্রেণি

সব সাবজেক্টের অধ্যায়ভিত্তিক সমাধান ও পরীক্ষা প্রস্তুতি

নবম-দশম শ্রেণি

SSC প্রস্তুতি, MCQ, সৃজনশীল প্রশ্ন ও সমাধান

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি

HSC প্রস্তুতি, বোর্ড প্রশ্ন ও সমাধান

  • About Us
  • Contact Us
  • Disclaimer
  • Privacy Policy
  • Terms & Conditions
Bangla Data Devoloper

© 2026 Bangla Data All Rights Reserved.

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
No Result
View All Result
  • Home
  • Contact Us

© 2026 Bangla Data All Rights Reserved.