ফাগুন মাস কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর সহ
প্রশ্ন ০১ নং বিষয় : একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব।
একুশে নিহিত মাতৃভাষাকে
পাপনের নিরাপত্তা,
একুশে নিহিত অনুভূতি আর
আমাদের জাতিসত্তা।
এরুপ রেখেছে বাংলা ভাষাকে
সুন্দর পরিপূর্ণ,
একুশে রেখেছে আমাদের যত
চেতনাকে অক্ষুণ্ণ।
ক. হুমায়ূন আজাদ কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
খ. ফাগুন তার আগুন দেয় জ্বেলে।”- ব্যাখ্যা কর ।
গ. উদ্দীপকে ফাগুন মাস’ কবিতার কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে?
ঘ. একুশে ফেব্রুয়ারিই বাঙালির জীবনে সাহসের উৎস ” উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার এটিই মূল বিষয়। মন্তব্যটি বিচার কর।
১নং প্রশ্নের উত্তর
ক • হুমায়ূন আজাদ ২০০৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন
খ • “ফাগুন তার আগুন দেয় জ্বেলে।”— এ চরণটিতে ফাগুন মাসে অন্তরের ক্রোধ প্রকাশের কথা বলা হয়েছে । ফাগুন মাসেই ভাষা আন্দোলনে কয়েকজন দামাল ছেলে শহিদ হয়েছিলেন। ফাগুন মাসের বুকে সে ক্রোধ সজ্জিত আছে। তাই ফাগুন মাস পলাশ ফুলের রঙে রঙে আগুন জ্বেলে তা প্রকাশ করে ।
গ • উদ্দীপকে ফাগুন মাস’ কবিতার ভাষা আন্দোলনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলা ভাষা আমাদের অহংকার। এই ভাষার জন্য বাংলার সূর্যসন্তানরা জীবন দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই মাতৃভাষা বাংলা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে একুশে ফেব্রুয়ারির মাহাত্ম্যের কথা প্রকাশ পেয়েছে। কবি মনে করেন একুশে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নিহিত রয়েছে মাতৃভাষাকে লালন করার নিরাপত্তা, আমাদের অনুভূতি, জাতিসত্তা ও চেতনা। কারণ আমরা অনেক ত্যাগের বিনিময়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছি। ‘ফাগুন মাস’ কবিতায়ও ভাষা আন্দোলনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। এ কবিতায় বলা হয়েছে, ফাগুন মাসে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার জন্য আমাদের পূর্বপুরুষরা আত্মত্যাগ করেন।
তাঁদের আত্মত্যাগের গৌরবে আমরা সাহসী হয়ে উঠি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার ভাষা আন্দোলনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ • “একুশে ফেব্রুয়ারিই বাঙালির জীবনে সাহসের উৎস”— উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতার এটিই মূল বিষয়।- মন্তব্যটি যথার্থ। আমাদের পূর্বপুরুষরা আমাদের জন্য নানা রকম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ ত্যাগের মহিমায় আমরা তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা আমাদের শক্তি ও সাহস জোগায় ।
উদ্দীপকের কবিতাংশের কবি মাতৃভাষার প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ করেছেন। কবির মতে ভাষা আন্দোলন আমাদের অনুভূতিতে জড়িয়ে রয়েছে, মিশে আছে আমাদের জাতিসত্তার সঙ্গে। আমাদের যত সংগ্রামী চেতনা জাগ্রত হয়েছে সেগুলোর পেছনে কাজ করেছে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগের চেতনা।
ফাগুন মাস’ কবিতায়ও কবি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেছেন। কবি বলেছেন ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে এদেশের সাহসী সন্তানদের রাজপথে রক্তদানের কথা। পূর্বপুরুষদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সাহসী করে তোলে। তাঁরা আমাদের সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন সব সময় ।
উদ্দীপক ও আলোচ্য কবিতা উভয় জায়গায় ভাষা আন্দোলনের কথা ব্যক্ত হয়েছে। ব্যক্ত করা হয়েছে ভাষাশহিদদের গৌরবময় আত্মত্যাগ যা আমাদের চেতনাকে জাগ্রত রাখে, আমরা সাহস আর শক্তি পাই । তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।
প্রশ্ন ০২ বিষয় : রক্তাক্ত একুশে ফেব্রুয়ারি।

ক. ফাগুন মাসে কেমন আগুন জ্বলে?
খ. “বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে” বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের চিত্রে ফাগুন মাস’ কবিতার কোন দিকটির মিল রয়েছে?
ঘ. উদ্দীপকের চিত্রে “ফাগুন মাস’ কবিতার মূল বিষয়বস্তু প্রতীয়মান।”- মন্তব্যটি যাচাই কর।
২নং প্রশ্নের উত্তর
ক • ফাগুন মাসে সবুজ আগুন জ্বলে।
খ. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে আত্মদানকারী শহিদদের স্মরণে প্রতিটি বাঙালির হৃদয়ে শহিদ মিনার জেগে ওঠে। “বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে। এ চরণটিতে শহিদদের আত্মীয়স্বজন যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে এবং বাঙালির হৃদয়ে যেন এক একটি শহিদ মিনার গড়ে উঠেছে এই অনুভূতিই প্রকাশ পেয়েছে। ফাগুন মাস এলে প্রকৃতিতে বসন্তের হাওয়া লাগে। কিন্তু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে বাঙালির বুক ছিঁড়ে আসে কান্নার শব্দ। বাঙালির বুকের ভেতর গড়ে ওঠে শহিদ মিনার। গ. গ গ
গ. উদ্দীপকের চিত্রে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার ভাষা আন্দোলনের দিকটির মিল রয়েছে। ভাষা একটি জাতির আসল পরিচয়। কোনো জাতিই তার ভাষা ছাড়া নিজের অস্তিত্ব বজায় রাখতে পারে না। তাই মাতৃভাষার প্রতি সকলেরই শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।
উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যায়, বাংলা ভাষার রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাবিতে আন্দোলনকারীদের মিছিলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করছে। চিত্রটি আমাদেরকে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির কথা মনে করিয়ে দেয়। ‘ফাগুন মাস’ কবিতায়ও ভাষা আন্দোলনের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয় ফাগুন মাসে, কবিতায় তাই ফাগুন মাস দিয়ে ভাষা আন্দোলনের দিকটিই তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের চিত্র প্রকাশিত হয়েছে আর কবিতায় ভাষা আন্দোলনের শোক তথা ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ফুটে উঠেছে।
ঘ • “উদ্দীপকের চিত্রে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার মূল বিষয়বস্তু প্রতীয়মান।”- মন্তব্যটি যথার্থ। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য গৌরবের দিন। কারণ এই দিনে কিছু মানুষের নিঃস্বার্থ ত্যাগের কারণে আমরা পেয়েছি আমাদের মুখের ভাষার মর্যাদা।
উদ্দীপকের চিত্র ভাষা আন্দোলনের পুরো স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দেয়। ‘ফাগুন মাস’ কবিতায় ফাগুন মাসের মধ্য দিয়ে কত শোক প্রবাহিত হয় সেই কথা প্রকাশ করা হয়েছে। আমাদের ভাষা আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল ইংরেজি ফেব্রুয়ারি ও বাংলা ফাল্গুন মাসে। তাই ফাল্গুন বা ফাগুন মাসে চারদিকের সমস্ত কিছু যেন সেই দিনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকের চিত্রটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের বাস্তব চিত্র মনে করিয়ে দেয়। আর ‘ফাগুন মাস’ কবিতা আমাদের ভাষা আন্দোলনের শোকের স্মৃতি বহন করে। কবিতায় যে দিকটির ইঙ্গিত রয়েছে, উদ্দীপকের চিত্রটি সেই দিকটিরই বহিঃপ্রকাশ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের চিত্রটিতে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার মূল বিষয়বস্তু প্রতীয়মান।
প্রশ্ন ০৩ বিষয় : বাক-প্রতিবন্ধীর মাতৃভাষাপ্রীতি।
ভিড়ের মধ্যে ক্ষুদে টোকাই পথাকে ঠিকই দেখা যাচ্ছে। তাকে চিনতে কষ্ট হয় না । … সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে গেয়ে চলছে— আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি? কিন্তু তার গলা দিয়ে কথা তো ফোটে না, শুধু শব্দ হয় আঁ আঁ আঁ।
ক. কেমন ভাল ফেড়ে সবুজ পাতা বেড়ে ওঠে?
খ. কান্নারা সব ডুকরে ওঠে মনে।”- কবি কেন এ কথাটি বলেছেন?
গ. উদ্দীপকের টোকাই লখার মাঝে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘ফাগুন মাস’ কবিতার আংশিক ভাবের ধারক।” মন্তব্যটি সম্পর্কে তোমার মতামত তুলে ধর।
৩নং প্রশ্নের উত্তর
ক . হাড়ের মতো শক্ত ডাল ফেড়ে সবুজ পাতা বেড়ে ওঠে।
খ. ১৯৫২ সালের ভাষাশহিদদের জন্য এ দেশবাসীর প্রাণ ডুকরে কেঁদে ওঠে। ১৯৫২ সালের ইংরেজি ফেব্রুয়ারি এবং বাংলা ফাগুন মাসেই এদেশের ছাত্রসমাজ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে প্রাণ বিসর্জন দেয়। ফাগুনের সমস্ত সৌন্দর্য ও রূপবৈচিত্র্য মুহূর্তেই শোকের সাগরে পরিণত হয়। তাঁদের কথা মনে উঠলে ফাগুন মাসে বাঙালির কান্না আসে শোকে। তাই কবি বলেছেন, “কান্নারা সব ডুকরে ওঠে মনে। “
গ. উদ্দীপকের টোকাই লখার মাঝে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার মাতৃভাষাপ্রীতির দিকটি ফুটে উঠেছে। মনের ভাব প্রকাশ এবং যোগাযোগ রক্ষার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো ভাষা। তবে মাতৃভাষার মাধ্যমে যদি মনের ভাব ও যোগাযোগ রক্ষা করা যায়, তাহলে তার মর্যাদাও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
উদ্দীপকের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে লখা বাকপ্রতিবন্ধী হলেও ভাষাশহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা প্রদর্শন করার জন্য সেও শহিদ মিনারের বেদিতে ফুল দিতে যায়। সে বোবা হওয়া সত্ত্বেও পাওয়ার চেষ্টা করে একুশের অমর গানটি। তার আঁ আঁ গোঙানো আওয়াজে বাংলা ভাষাপ্রেমের চেতনাটি ফুটে ওঠে।
‘ফাগুন মাস’ কবিতায় দেখা যায়, বসন্তের আনন্দ বাঙালিদের মনে ম্লান হয়ে গেছে। কারণ ফাগুন মার্সে ‘রাষ্ট্রভাষা’ হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য এদেশের ছাত্ররা শহিদ হন। তাদের শোক আমাদের মনে অভিনব সাহস ও প্রেরণা জোগায় এবং আমরা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে পেয়ে ধন্য হই। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের লখার মাঝে ‘ফাগুন মাস’ কবিতায় বাংলা ভাষার চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ • উদ্দীপকটি ‘ফাগুন মাস’ কবিতার আংশিক ভাবের ধারক।”- মন্তব্যটি যথাযথ। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা করলে এদেশের যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ সংগ্রামী মনোভাব নিয়ে প্রতিবাদ মিছিল করতে থাকে। সালাম, জব্বার, রফিক, বরকতসহ নাম না-জানা অনেকেই শহিদ হন। অবশেষে বাংলা পায় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা।
উদ্দীপকের লখা অসংখ্য মানুষের সঙ্গে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে যায়। বোবা হওয়ার কারণে লখা অমর একুশের গান গাইতে পারে না। তবুও তার গোঙানো আওয়াজে বাংলা ভাষার চেতনা ফুটে ওঠে। ‘ফাগুন মাস’ কবিতায় বসন্তের সঙ্গে শোকের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য এদেশের ছাত্রসমাজ প্রাণ দেয়, বুক খালি হয় অনেক মায়ের। তবুও সমস্ত মানুষ শোক ভুলে সাহসী চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়।
উদ্দীপকে টোকাই লখার মাঝে ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী অনুভবে প্রকাশিত হয়েছে। পক্ষান্তরে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার ভাষাগত চেতনার দিকটিই শুধু বর্ণিত হয়নি, বরং তৎকালের নানা ঘটনা উঠে এসেছে। অতএব বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘ফাগুন মাস’ কবিতার আংশিক ভাবের ধারক। সুতরাং মন্তব্যটি যথাযথ।
০৪ বিষয়: একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা।
তুমি আজ জাগো তুমি আজ জাগো
একুশে ফেব্রুয়ারি
আজো জালিমের কারাগারে মরে
ধীর ছেলে বীর নারী
আমার শহিদ ভাইয়ের আত্মা ডাকে
জাগো মানুষের সুপ্ত শক্তি হাটে
মিঠে ঘাটে বাঁকে
ক. কবি কোন মাসকে ভীষণ দস্যি বলেছেন ?
খ. “ফাগুন মাসে বোনেরা ওঠে কেঁদে।”- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকটি ‘ফাগুন মাস’ কবিতার কোন বিষয়টির ইঙ্গিত দেয়? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. বিষয়গত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের মূলভাব ‘ফাগুন মাস’ কবিতার মূলভাবের সঙ্গে একাত্ম নয়।”- মূল্যায়ন কর।
৪নং প্রশ্নের উত্তর
ক • কৰি ফাগুন মাসকে ভীষণ দস্যি বলেছেন।
খ • ফাগুন মাসে ভাই হারানোর বেদনায় বোনেরা কেঁদে ওঠে। আলোচা অংশে এ বিষয়টিকেই বোঝানো হয়েছে। ফাগুন মাসে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা ভাষার জন্য প্রাণ দেন। মা হারায় সন্তানকে, বোন হারায় ভাইকে। তাই ফাগুন মাস এলেই ভাই হারানোর ব্যথায় বোনের প্রাণ কাঁদে। আলোচ্য চরণে এমন ভাবই বোঝানো হয়েছে।
গ • উদ্দীপকটি ‘ফাগুন মাস’ কবিতায় বর্ণিত ভাষার জন্য বাংলা মায়ের সন্তানদের আত্মত্যাগের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে। ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। রাষ্ট্রভাষা বিষয়ে তাদের অন্যায় সিদ্ধান্ত মাথা পেতে মেনে নেয়নি বাঙালি ছাত্রসমাজ। বুকের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করে তাঁরা বাংলাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
“ফাগুন মাস’ কবিতায় কবি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির এই রকরা দিনটির স্মৃতিচারণ করেছেন। ফাগুন মাসে বাংলার দামাল ছেলেরা ভাষার জন্য আত্মত্যাগ করেন। তাই ফাগুন মাস এলেই তাদের জন্য আমরা অনুভব করি দঃখ ও মমতা। ভাষা আন্দোলনের আত্মত্যাগের এই মহান ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত উদ্দীপকেও প্রদান করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন যে বাঙালির শক্তির উৎস তা কবি এখানে
প্রকাশ করেছেন।
ঘ • “বিষয়গত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের মূল ভাব ‘ফাগুন মাস’ কবিতার মূলভাবের সঙ্গে একাত্ম নয়।”- মন্তব্যটি যথার্থ। একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা মায়ের সন্তানের আত্মত্যাগের মহিমায় ভম্বর। এই আত্মত্যাগ একই সঙ্গে বেদনার এবং গৌরবের। ভাষা আন্দোলন আজও এদেশের মানুষকে পথ দেখিয়ে চলছে।
মান’ কবিতায় কবি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির স্মৃতিচারণ করছেন। ফাগুন মাস বাঙালির জীবনে সাধারণ কোনো মাস নয়। বাংলাদেশে ফাল্গুন মাসে মা-বোনের হৃদয় কেঁদে ওঠে ভাষাশহিদদের জন্য। উদ্দীপকেও এই আত্মদানকারী মহান পুরুষদের কথা বলা হয়েছে। একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জীবনে শক্তির উৎস, সংগ্রামের উৎস- এ বিষয়টি কবি এখানে প্রকাশ করেছেন। তবে বিষয়গত সাদৃশ্য থাকলেও মূলভাবের ক্ষেত্রে উভয় কবিতা একাত্ম নয় ।
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের শক্তিতে, প্রেরণায় অত্যাচারীর বিরুদ্ধে জেগে ওঠার কথা বলা হয়েছে। আর ‘ফাগুন মাস’ কবিতায় ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করা হয়েছে, তাঁদের আত্মত্যাগের শক্তিতে সাহসী হয়ে ওঠার কথা বলা হয়েছে। তবে উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলন নিয়ে যে শোক ও স্মৃতিচারণ রয়েছে তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই ভাষা আন্দোলনের বিষয়ে মিল থাকলেও বিষয়টি ‘ফাগুন মাস’ কবিতার সঙ্গে একাত্ম নয় ।
প্রশ্ন ০৫ বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
এ ভাষারই মান রাখিতে
হয় যদি বা জীবন দিতে
কোটি ভাইয়ের রক্ত দিয়ে
পুরাবে এর মনের আশা।
ক. ‘লাল নীল দীপাবলি’ হুমায়ুন আজাদের কোন ধরনের রচনা?
খ. ফাগুন মাসে মায়ের চোখে জল আসে কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার কোন বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘ফাগুন মাস’ কবিতার আলোকে বাঙালির আত্মদানের স্বরূপ বিশ্লেষণ কর।
৫নং প্রশ্নের উত্তর
ক • ‘লাল নীল দীপাবলি’ হুমায়ুন আজাদের কিশোরদের জন্য লেখা একটি গ্রন্থ ।
খ • সন্তান হারানোর বেদনায় ফাগুন মাসে মায়ের চোখে জল আসে। ফাগুন মাসে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রাণ দেন। মা হারান সন্তানকে। তাই ফাগুন মাস এলেই সন্তান হারানোর ব্যথায় মায়ের প্রাণ কাঁদে। আর এ কারণেই ফাগুন- মাসে সন্তান হারা মায়ের চোখে জল আসে।
গ. উদ্দীপকে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বাঙালির আত্মত্যাগের বিশেষ দিকটি ফুটে উঠেছে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বিভিন্নভাবে বাংলার মানুষকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছে। যার ধারাবাহিকতায় তারা ১৯৫২ সালে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে। বাংলার মানুষ সেই অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে। বুকের রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে আত্মত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। ভাষার মান রক্ষার্থে মানুষ জীবন দিতেও প্রস্তুত। কোটি ভাইয়ের রক্তের বিনিময়ে তাঁরা মনের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা পুরণে বদ্ধপরিকর।
‘ফাগুন মাস’ কবিতায়ও কবি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারির সেই রক্তঝরা দিনটির স্মৃতিচারণ করে বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের কথা বলেছেন। বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে তাঁরা রক্ষা করেছেন মাতৃভাষার মর্যাদা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘ফাগুন মাস’ কবিতার মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগের দিকটি ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপক ও ‘ফাগুন মাস’ কবিতার আলোকে বলা যায়, ভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের বিষয়টি সার্থকভাবে প্রকাশ পেয়েছে। বাংলা মায়ের সাহসী সন্তানদের আত্মত্যাগের মহিমায় বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুদ্রত রয়েছে। এই আত্মত্যাগ একই সঙ্গে বেদনার ও গৌরবের। ফাগুন মাস’ কবিতায় কবি ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করেছেন। যাদের আত্মত্যাগের
মহিমা আজও চিরজা। তাদের অসামান্য ত্যাগে রক্ষা পেয়েছে ‘বাংলা ভাষার’ মর্যাদা। বাংলার দামাল ছেলেদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে প্রিয়জন হারানোর বেদনায় কেঁদে ওঠেন এদেশের মায়েরা- বোনেরা। উদ্দীপকের কবিতাংশেও ভাষার মর্যাদা রক্ষা করার জন্য আত্মত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
ভাষার মান রক্ষার্থে জীবনদানের জন্য তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। উদ্দীপকের কবিতাংশে ভাষার মান রক্ষার্থে বাঙালির স্বরূপ প্রকাশ পেয়েছে। ফাগুন মাস’ কবিতায়ও কবি আত্মদানকারী সন্তানদের জন্য দুঃখ অনুভব করেছেন। সম্মান রক্ষার্থে তাঁদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ কর এভাবেই উদ্দীপক ও ‘ফাগুন মাস’ কবিতায় ভাষার জন্য আত্মদানের বিষয়টি সার্থকভাবে প্রকাশ পেয়েছে।






