‘Divide and Rule’ কী? ইংরেজদের এ নীতির প্রভাব বর্ণনা কর
উত্তর : ‘Divide and Rule’ এর বাংলা প্রতিশব্দ দাঁড়ায় ‘বিভাজন এবং শাসন’। ইংরেজরা খুব ভালো করেই জেনেছিল যে এদেশের মানুষ ধর্মের বিষয়ে খুবই আবেগপ্রবণ। বিশেষ করে হিন্দু-মুসলিম তাদের স্ব স্ব ধর্ম বিষয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। নিজ ধর্মের কোনো অবজ্ঞা কেউই সহ্য করতে পারে না।
সুতরাং এ আবেগকে জিইয়ে রাখতে পারলে তারা কখনোই একত্রিত হতে পারবে না। আর ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন না করতে পারলে ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজদের কেউ তাড়াতে পারবে না। সুতরাং ইংরেজগণ দেশ শাসনের কৌশল হিসেবে ‘Divide and Rule’ পলিসি গ্রহণ করে।১৯৬
এদেশবাসী তাদের কূটকৌশলে বা ফাঁদে পা দিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এছাড়াও এদেশবাসীর ধর্মীয় গোঁড়ামি ধর্মান্ধতা, নির্বুদ্ধিতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণ হিসেবে বিবেচ্য।
যে কারণেই হোক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিতে এবং হিন্দু- মুসলমানের ঐক্যে ফাটল ধরাতে, সর্বোপরি ইংরেজ বিতাড়নে আন্দোলন ভণ্ডুলের উপায় হিসেবে ইংরেজ শাসক এদেশবাসীর ধর্মান্ধতা, কূপমণ্ডূকতাকে সবসময় ব্যবহার করেছে।
কেননা ধর্মকে এ জাতি জীবনের অধিক জ্ঞান করে। ধর্মের ইজ্জত রক্ষার্থে তারা প্রাণোৎসর্গে সর্বদা প্রস্তুত। মানুষ, মনুষ্যত্ব, সমাজ সংস্কৃতি, দেশ জাতি প্রভৃতির চেয়ে ধর্ম পর্যবেক্ষণ নয়, বিশ্বাস নির্ভর ধর্মই তাদের চালিকাশক্তি।
ধর্মরাজ্য, গো-দেওতা-কা দেশ, লিডরে কওম প্রভৃতি গল্পে তাদের কাছে প্রধান এবং একমাত্র। কর্মে চিন্তায় ধর্মানুশাসন তাদের পাথেয়। জ্ঞানবিজ্ঞান, পরীক্ষা নিরীক্ষা, বিশ্লেষণ- ইংরেজের – Divide and Rule’ পলিসির প্রভাব সুস্পষ্ট।


