আমার পড়া একটি বইয়ের গল্প রচনা
ভূমিকা: বই পড়তে কে না ভালোবাসে! কোনো বই পড়ার পর বইটি ভালো লেগেছে, এ কথাটি বলা অত্যন্ত সহজ। কিন্তু বইটি ভালো লাগার কারণ নির্দেশ করা অনেকটা কঠিন। কারণ ভালো লাগা ব্যাপারটি একান্তভাবেই ব্যক্তিগত রুচির উপর নির্ভর করে। কোনো একটি বই একজনের ভালো লাগলেও অন্য একজনের পুরোপুরি ভালো না-ও লাগতে পারে। তবে ভালো বইয়ের মধ্যে এমন কিছু গুণ থাকে যা সহজেই সহৃদয় পাঠকচিত্তের উপর প্রভাব বিস্তার করে।
বইটির পরিচয়: আমি যে বইয়ের কথা বলছি সেটি একটি ক্ষুদ্র বই। এমন একটি বই আমার প্রিয় বললে অনেকে হয়তো আমাকে সমর্থন করবেন না। তবু আমি আমার প্রিয় বইটির নাম সগর্বে প্রকাশ করছি। বইটি হলো অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রামের সুমতি’। সুযোগ পেলেই এ বইটির গল্প করতে আমার ভালো লাগে।
ভালো লাগার কারণ: পৃথিবীতে বন্ধু বিখ্যাত বই থাকতে ‘রামের সুমতি’ আমার কেন ভালো লাগল তা ঠিকমতো বলতে পারব না। তবে আমার মনে হয় আমি বইটির প্রধান চরিত্র রামকে ভালোবেসেছি। কমবয়সি রামের দুষ্টবুদ্ধির নানারকম চিত্র শরতন্ত্রের “রামের সুমতি’র মধ্যে খুঁজে পাওয়া যায়। রামের মাতাপিতা ছিল না। বৌদি নারায়ণীর স্নেহ ও শাসনের ছায়াতলে সে বেড়ে উঠেছিল।
রাম পৃথিবীর একজন মানুষকেই কেবল ভর করত। সে মানুষটি এই নারায়ণী। সে নারায়ণীকে ভয় পেত ঠিকই কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভালোবাসত। তাই গ্রামের নীলমণি ডাক্তার যখ নারায়ণীর অসুখের সময় আসতে চায় না তখন রাম তার দুষ্টুবুদ্ধি নিয়ে ডাক্তারের কাছে হাজির হয়। তাত্তারের মুখে ঘুষি দিয়ে দাঁত ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। কিংবা তার কথা না শুনলে ডাক্তারের আমবাগান উপড়িয়ে দেবে ইত্যাদি হুমকি দিয়ে রাম ডাক্তারকে আসতে বাধ্য করে। এ ঘটনা হে রামকে গোয়ার বা ডানপিটে বলে মনে হয়।
কিন্তু আসলে রাম তেমন নয়। রাম নিপীড়িতের সেবা এবং অত্যাচারীকে শায়েস্তা করা কর্তব্য বলে মনে করেছে। গ্রামের কিপটে, অত্যাচারী ও ফাঁকিবাজ ডাক্তার রামকে যমের মতো ভয় করত। রামের শুভচেতনার জন্যই আমি রামকে ভালোবেসেছি। রামের | মতো সহজ বুদ্ধিতে কাজ করার ইচ্ছে আমার সবসময় হয়। আমি মনে মনে রাম হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করি। কিন্তু বাস্তব জীবনে রামের মতো হতে পারিনি। এজন্যই রাম চরিত্রটি আমাকে প্রচণ্ড আকর্ষণ করে। আর সে । কারণেই এ বইটি আমার কাছে এত প্রিয়।
উপসংহার: ‘রামের সুমতি’ পড়তে বসলে একেবারে শেষ না করে ওঠা 3 যায় না। বইটি পড়ে আমি অপরিসীম আনন্দ পেয়েছি। তাই বারবার পড়া সত্ত্বেও এ বইটি আবার পড়তে ইচ্ছা করে।






