৭টি মরু ভাস্কর গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ০১ বিষয় : নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে পরিচয় দান ।
হজরত আবুবকরের গম্ভীর উক্তিতে সকলেরই চৈতইল। হজরত ওমরের শিথিল অঙ্গ মাটিতে লুটাইল। তাঁহার স্মরণ হইল হযরতের বাণী : আমি তোমাদেরই মতো একজন মানুষ মাত্র। তাঁহার মনে পড়িল কুরআনের আয়াত : মুহম্মদ, মৃত্যু তোমারও ভাগ্য, তাহাদেরও ভাগ্য। তাঁহার অন্তরে ধ্বনিয়া উঠিল মুসলিমের গভীর প্রত্যয়ের স্বীকারোক্তি- অমর সাক্ষ্য : মুহম্মদ (স.) আল্লাহর দাস (মানুষ) ও রাসুল।
ক. ওমর ফারুক’ জীবনীগ্রন্থটি কে লিখেছেন?
খ. হযরতের জীবন দেখে আমাদের অবাক হতে হয় কেন?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্য ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের যে বিশেষ দিকটির প্রতি আলোকপাত করেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চারিত্রিক পরিচইয় ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের মহানবি (স.)-এর পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি”- যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
১নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. ‘ওমর ফারুক’ জীবনীগ্রন্থটি হবীবুল্লাহ্ বাহার লিখেছেন।
খ. ৬৩ বছরের ক্ষুদ্র পরিসর জীবনে হজরতকে অনেক পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে হয়েছে বলেই তাঁর জীবন দেখে আমাদের অবাক হতে হয়। হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স.) মানবতার ইতিহাসে গৌরবের আসনে উপনীত হয়ে আছেন।
হজরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহর নবি হওয়ার পরও নিজেকে সাধারণ মানুষের মতো ভাবতেন। সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন। তিনি এতিম ছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে সারা আরবভূমির অবিসংবাদিত নেতা হয়েছিলেন। তারপরও তাঁকে অনেক সময় অনাহারে থাকতে হতো, তাঁর বিছানা ছিল খেজুর পাতার। আর এ কারণেই তাঁর জীবন দেখে আমাদের অবাক হতে হয়।
গ. উদ্দীপকের বক্তব্য ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের যে বিশেষ দিকটির প্রতি আলোকপাত করেছে তা হচ্ছে নবী হয়েও হজরত মুহম্মদ (স.)- এর সহজ সরল অনাড়ম্বর জীবনযাপন । ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধটি রচিত হয়েছে মহাপুরুষ ও (স.) মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনকে কেন্দ্র করে। মহানবি তার জীবন ও আদর্শের জন্য সবকালে ও যুগে অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন।
উদ্দীপকের বক্তব্যে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণীর মধ্য দিয়ে তাঁর চরিত্রের মহান দিক ফুটে উঠেছে। মুহাম্মদ (স.) মহানুভব ব্যক্তি হয়েও নিজের পরিচয় দিয়েছেন সাধারণ একজন মানুষ বলে। মুহাম্মদ (স.) ছিলেন আল্লাহর রাসুল, যার ভাগ্যেও রয়েছে সাধারণ মানুষের মতো মৃত্যু।
‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধেও হযতর মুহাম্মদ (স.)-এর মহানুভবতা প্রতিফলিত হয়েছে। সারা আরবভূমির অবিসংবাদিত নেতা হয়েও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের মতো মনে করেছেন। আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষ মনে করে অতি সাধারণ জীবনযাপন করেছেন। তিনি নিজেই বলেছেন, আমি রাজা নই, কারও মুনিবও নই। উদ্দীপকের বক্তব্য প্রবন্ধে আলোচিত হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রের এই বিশেষ দিকটির প্রতি আলোকপাত করেছে ।
ঘ. মূলভাবের দিক থেকে বলা যায়, “উদ্দীপকে বর্ণিত হজরত মুহাম্মদ (স.) এর চারিত্রিক পরিচয় ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের মহানবি এর পরিচয়ের প্রতিচ্ছবি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে মহানবির জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে। মহানবির জীবন ছিল মানবপ্রেমে ও জীবপ্রেমে মহীয়ান। তিনি সমগ্র জীবন দিয়ে সাম্যের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
উদ্দীপকে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল হওয়ার পরও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষের মতো মনে করেছেন। সবার কাছে নিজেকে সাধারণ মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য হজরত মুহাম্মদ (স.) কুরআনের আয়াতের কথা বলেছেন। মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহম্মদ (স.)-এর পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষ বলে মনে করতেন এবং সাধারণ মানুষের মতোই জীবনযাপন করতেন।
উদ্দীপকে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সাধারণ মানুষের পরিচয় বর্ণিত হয়েছে। যার ভাগ্যেও রয়েছে সাধারণ মানুষের মতো মৃত্যু। উদ্দীপকে বর্ণিত হজরত মুহাম্মদ (স.) এর চারিত্রিক পরিচয় ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে আলোচিত মহানবি (স.)-এর প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে সমস্ত আরবভূমির অবিসংবাদিত নেতা হওয়ার পরও তাঁর মাঝে গর্বের লেশমাত্র ছিল না। মক্কা বিজয়ের পর নিজের মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে তিনি বলেন, আমি রাজা নই, কারও মুনিবও নই- এমন মায়ের সন্তান আমি, শুষ্ক খাদ্যই যার আহার্য। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০২
ধার্মিক মনোয়ার মিয়া সাধারণভাবে জীবনযাপন করেন। কখনো তিনি নিজেকে বড়ো মনে করেন না বা বংশ মর্যাদা নিয়ে গৌরব করেন না। নিজেকে তিনি অতি সাধারণ মানুষের মতোই ভাবেন। তাই খুব সহজেই তিনি মিশতে পারেন সবার সাথে। সবার সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ান বন্ধুর মতোই।
ক. ‘লহু’ শব্দের অর্থ কী?
খ. আমি রাজা নই, কারো মুনিবও নই’- উক্তিটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে।
গ. উদ্দীপকের মনোয়ার মিয়ার চরিত্রে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর কোন গুণটি উপস্থিত? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকের মূলভাব ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
২নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. ‘লহু’ শব্দের অর্থ— রক্ত।
খ. ‘আমি রাজা নই, কারো মুনিবও নই’- এ কথা বলেছেন। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন মানবতার গৌরব ক্ষমা। উদারতা, ধৈর্য, সত্যবাদিতা ইত্যাদি মানবীয় গুণের আধার। তিনি তর জীবদ্দশায় মানবকল্যাণ নিশ্চিত করে শান্তি স্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন এবং সফল হয়েছেন। মক্কা বিজয়ের পর তিনি একদিন সাফা পর্বতের পাদদেশে বসে বক্তৃতা করছিলেন। তখন একজন লোক তর সামনে এসে ভয়ে কাঁপতে লাগল। মহানবি (স.) তাকে অভয় দেওয়ার জন্য এবং লোকটির মতো যারা মহানবি (স.)-কে ভয় পান, তাদের
উদ্দেশে তিনি প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেন।
গ. উদ্দীপকের মনোয়ার মিয়ার চরিত্রে মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সহজ-সরল অনাড়ম্বর জীবনযাপনের এবংপরোপকারী গুণাবলি উপস্থিত। মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে মানবতার গৌরব মহানবি হজরত মুহাম্মাদ (স.)-এর মহিমান্বিত জীবনকে তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিজেকে সাধারণ মানুষই মনে করতেন এবং। সেভাবেই তিনি জীবনযাপন করেছেন। তিনি এতিম হয়েও হয়ে উঠেছিলেন সারা আরব ভূমির অবিসংবাদিত নেতা।
উদ্দীপকে মনোয়ার মিয়ার জীবনাচরণের কথা বলা হয়েছে। তিনি বংশগৌরবের বড়াই না করে সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকেন সুখ-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়ান। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধেও বলা হয়েছে মহানবি কখনো আড়ম্বরপূর্ণ বিলাসী জীবন পছন্দ করতেন না। সবসময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। তাদের দুঃখ মোচনের চেষ্টা করতেন। মহানবির এই গুণাবলি উদ্দীপকের মনোয়ার মিয়ার চরিত্রে উপস্থিত।
ঘ. ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সকল দিক উদ্দীপকে উপস্থিত না থাকায় বলা যায় “উদ্দীপকের মূলভাব ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের আংশিক প্রতিফলন” মন্তব্যটি যথার্থ। মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সামগ্রিক জীবন আদর্শকে তুলে ধরা হয়েছে। ধৈর্য, উদারতা, পরোপকার, অনাড়ম্বর জীবনযাপন প্রভৃতি গুণে গুণান্বিত ছিলেন মহানবি। তার জীবনের এই আদর্শ নিয়েই প্রবন্ধটি রচিত।
উদ্দীপকে মনোয়ার মিয়ার নানাবিধ গুণের কথা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি যেমন অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন তেমনি বিপদের সময় সবার পাশে থাকেন। তার এই গুণাবলি হজরত মুহাম্মদ (স)-এর গুণাবলির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে উক্ত বিষয় ছাড়াও আরও বিষয় উপস্থাপিত হয়েছে।
‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে উদ্দীপকের বিষয় ছাড়াও মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর মানবপ্রেম, শত্রুর প্রতি ক্ষমাশীলতা, নারীশিক্ষা, নারীর মর্যাদা, উদারতা, ক্ষমা ইত্যাদি গুণাবলির কথা আলোচিত হয়েছে। উদ্দীপকে মনোয়ার মিয়ার জীবনাচরণের কথা প্রকাশ পেয়েছে। তবে প্রবন্ধের বিবিধ বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০৩ বিষয় : হজরত মুহম্মদ (স.)-এর জীবনাদর্শ ও তার প্রভাব ৷
খ্রিষ্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে আরবের বুকে বিরাজ করতে থাকে অজ্ঞতার ভয়াবহ অন্ধকার, বল্গাহীন অনাচার আর জুলুম। মুক্তির বাণী নিয়ে আসেন মরুসূর্য মুহাম্মদ (স.); নতুন আলোকের পরশে আরবের বালুকারাশি পর্যন্ত জ্বলে ভাস্বর হয়ে উঠে। দিকে দিকে গড়ে উঠে নতুন নতুন জাতি, নতুন নতুন রাজ্য, নতুন নতুন সভ্যতা। তারপর মুসলমানের জাতীয় জীবনে শুরু হয় অবনতির ভাটা, ইসলামের সত্য সনাতন আদর্শ ভুলে তারা চলে ভুল পথে, ডেকে আনে নিজেদের মৃত্যু। আজরাইল শিয়রে এসে বসে জান কবজ করতে তৈরি হয় ।
ক. বন্ধু বিয়োগে কার চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়?
খ. “হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনযাপন ছিল অতি সাধারণ।”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের কোন চরিত্রের মিল পাওয়া যায়?
ঘ. “উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ দিক ফুটে ওঠেনি।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
৩নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. বন্ধু বিয়োগে মহানবি (স.)-এর চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়।
খ. মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনযাপন ছিল অতি সাধারণ তিনি কখনো বিলাসী জীবনযাপন করেননি। মহানবি (স.) ছিলেন মানবকল্যাণ সাধনে ব্রতী, শান্তির বার্তাবাহক। আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো অহংকার বোধ করেননি। মদিনার অধিনায়ক হলেও তাঁর ঘরে আসবাব বলতে কিছুই ছিল না। তাঁর ছিল একখানা খেজুর পাতার বিছানা আর একটি পানির সুরাহি। বহু দিন তিনি অনাহারে কাটিয়েছেন। এমনকি অনেক সময় তাঁর উনুনে আগুনও জ্বলত না ।
গ. উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের হযরত মুহাম্মদ (স.) চরিত্রের মিল পাওয়া যায়। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে লেখক তুলে ধরেছেন মহানবির জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক। আরবের বুকে যখন বিরাজ করতে থাকে ভয়াবহ অন্ধকার তখন শান্তির বার্তা নিয়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.)।
উদ্দীপকে মহানবি (স.) আরবে মুক্তির বাণী আনার আগে আরব ডুবে ছিল ভয়াবহ অন্ধকার আর অজ্ঞানতার মাঝে। তাঁর আবির্ভাবেই মুসলমান জাতি জ্ঞান ফিরে পায়। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনাদর্শের দিকটি উপস্থাপিত হয়েছে। মহানবি তাঁর আদর্শে ছিলেন মহীয়ান। তিনি চারিদিকে তাঁর আদর্শ ও নীতির আলো ছড়িয়ে দিতেন। তিনি আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও কত সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং মানুষের সাথে সৌহার্দ বজায় রেখে চলতেন সেই দিকগুলো প্রবন্ধে প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘মরু- ভাস্কর’ প্রবন্ধের হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রের মিল পাওয়া যায়।
ঘ. ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সকল দিক উদ্দীপকে উপস্থিত না থাকায় বলা যায় “উদ্দীপকে মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সম্পূর্ণ দিক ফুটে ওঠেনি।”- মন্তব্যটি যথার্থ। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের মূলভাব হচ্ছে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)- এর সামগ্রিক জীবনাদর্শ। একজন আল্লাহর নবি হয়েও তিনি সহজ সরল জীবনযাপন করেছেন। তার চরিত্রে সংমিশ্রণ হয়েছিল কোমল আর কঠোরের। তিনি সারা জীবন জ্ঞানের আলোয় মানুষের হৃদয়কে উজ্জ্বল করার প্রেরণা দিয়ে গেছেন।
উদ্দীপকে আরবের বিভীষিকাময় দিনের কথা বলা হয়েছে। আর এই বিভীষিকা থেকে মানুষকে মুক্তির পথ দেখান হজরত মুহাম্মদ (স.)। তিনিই মানুষকে সঠিক পথনির্দেশ করেন। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনযাপন ও আদর্শগত দিকগুলো উপস্থাপিত হয়েছে। তিনি অসাধারণ মানুষ হয়েও অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন।
উদ্দীপকে হজরত মুহাম্মদ (স.) সম্পর্কে আংশিক আলোচনা রয়েছে। কিন্তু ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে রয়েছে তাঁর জীবন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। তিনি একাধারে ছিলেন কুসুমের মতো কোমল অন্যদিকে ছিলেন বজ্রের মতো কঠিন। তিনি অন্যায়কারীকে কখনো অভিশাপ দেননি, বরং তাদের জন্য স্রষ্টার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। আলোচ্য প্রবন্ধে তাঁর জীবনের আদর্শিক দিক বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের … সম্পূর্ণ দিক ফুটে ওঠেনি।
প্রশ্ন ০৪ বিষয় : ক্ষমার মহত্ত্ব ।
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা, আমি বাঁধি তার ঘর,
আপন করিতে কাঁদিয়া বেড়াই যে মোরে করেছে পর।
যে মোরে করিল পথের বিবাগী,
পথে পথে আমি ফিরি তার লাগি।
দীঘল রজনী তার তরে জাগি ঘুম যে হরেছে মোর
আমার এ ঘর ভাঙিয়াছে যেবা আমি বাঁধি তার ঘর।
ক. মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (স.) কোন পর্বতের পাদদেশে বক্তৃতা করেন?
খ. “এমন মায়ের সন্তান আমি, শুষ্ক খাদ্যই যাঁর আহার্য।” উক্তিটিতে কী প্রকাশ পেয়েছে?
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি মুহাম্মদ (স.)-এর কোন বৈশিষ্ট্যটি প্রকাশ করে? তা তুলে ধরো।
ঘ. “উদ্দীপকের চেতনা মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর একটি গুণমাত্র, সম্পূর্ণ পরিচয় নয়।”— স্বীকার করো কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও ৷
৪নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. মক্কা বিজয়ের পর মহানবি (স.) ‘সাফা’ পর্বতের পাদদেশে বক্তৃতা করেন ।
খ. “এমন মায়ের সন্তান আমি, শুদ্ধ খাদ্যই যাঁর আহার্য।”– উক্তিটিতে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর উদারতা ও নিরহংকারী সাধারণ জীবনযাপন প্রকাশ পেয়েছে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) কখনো বংশমর্যাদার বড়াই করতেন না।
তিনি নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং অন্যকে তাঁর চেয়ে ছোট মনে করতেন না। তাঁর কাছে সব মানুষের মর্যাদা ছিল সমান। তাঁকে কেউ ভয় পেলে অথবা বংশমর্যাদায় উঁচু বলে তাঁর কাছে যেতে সাহস না পেলে তিনি তাদের সাহস ও অভয় দিতেন। তিনি তাদের বলতেন- তিনি কোনো রাজা বা বাদশা নন, কিংবা তিনি কারও প্রভু নন।
গ. উদ্দীপকের কবিতাংশটি মুহাম্মদ (স.)-এর উদারতা মহানুভবতা ও সহমর্মিতার বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রকাশ করে। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনাদর্শ তুলে ধরা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (স.) জীবনে কাউকে কড়া কথা বলেননি । কাউকে অভিশম্পাত করেননি। শত্রুকেও তিনি প্রতিদানে উপকার করেছেন।
উদ্দীপকে মহানুভবতা ও সহানুভূতির কথা প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে পরোপকারী ব্যক্তিটি নিজে কষ্ট-যন্ত্রণা সহ্য করে কষ্টদাতাকে ক্ষমা করে দেন। তাকে আপন করতে কেঁদে বেড়ান যে তাকে দূরে সরিয়ে রাখে। যে তাঁকে আশ্রয়হীন করে, তার জন্য কেঁদে বুক ভাসান, তার আশ্রয় গড়ে দেওয়ার জন্য কাজও করেন। উদ্দীপকের ব্যক্তির এ অপূর্ব প্রতিদানের প্রতিফলন লক্ষ করা যায় ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে।
সেখানে মহানবি (স.) শত্রুর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েও তাদের জন্য অভিসম্পাত করেন না। তিনি তাদের জন্য প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। যার মধ্য দিয়ে তাঁর ক্ষমাশীলতা ও মহানুভবতা প্রকাশ পেয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকের কবিতাংশটি মুহাম্মদ (স.)-এর যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে তা হলো মহানুভবতা ও সহমর্মিতা।
ঘ. উদ্দীপকে শুধু ক্ষমার মহত্ত্ব প্রকাশ পাওয়ায় বলা যায়, উদ্দীপকের চেতনা মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর একটি গুণ মাত্র, সম্পূর্ণ পরিচয় নয়। মন্তব্যটি যথাযথ। মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের মরুভাস্কর বলতে বুঝানো হয়েছে মহানবিকে । যিনি আরবের মরুময় জীবনে নিয়ে এসেছিলেন শান্তির বার্তা। তারই কল্যাণে মানুষের জীবনে এসেছে সৌষ্ঠব ও লাবণ্য।
উদ্দীপকে পরোপকারী, উন্নত চরিত্রের, মানবতাবোধসম্পন্ন একজন মানুষের স্বভাববৈশিষ্ট্যের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তিনি আঘাতের প্রতিদানে আঘাতকারীকে বুকভরা ভালোবাসা দেন। তিনি মানবকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করেন, তাদের নানা আঘাত-যন্ত্রণা হাসিমুখে গ্রহণ করেন। তিনিও আঘাতকারীকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। কিন্তু এ বিষয়টা ছাড়াও ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর অনেক মানবীয় গুণ ও কর্মকাণ্ডের পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে মহানবি (স.)-এর মানবীয় গুণাবলি তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে তাঁর সহনশীলতা, ধৈর্য, উদারতা, ক্ষমা, নারীর প্রতি মর্যাদা, জ্ঞানের প্রতি গভীর অনুরাগ, কুসংস্কারের প্রতি ঘৃণা ইত্যাদি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে এতসব গুণের কথা প্রকাশ পায়নি। উদ্দীপকে মানবতাবোধসম্পন্ন একজন মানুষের স্বভাব বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। ঘর যে ভেঙে দেয়, তার জন্য ঘর নির্মাণ করেন; যে তাঁকে পথের বিবাগী করেছে, তার জন্য পথে পথে ঘুরে বেড়ান। এই মনোভাবসম্পন্ন মানুষের সঙ্গে মহানবি (স.)-এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও স্বভাবধর্ম সাদৃশ্যপূর্ণ। এসব দিক বিচারে তাই আমি স্বীকার করি যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০৫
ঈদের মাঠে যাওয়ার পথে রাসুল (স.) দেখলেন একটি শিশু বসে কাঁদছে। তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং বাড়িতে নিয়ে আসলেন। ছেলেটি ছিল এতিম। হজরত পরিবারে এসে ছেলেটির মুখে হাসি ফুটে উঠল।
ক. শিশুদের সঙ্গে হজরত কীভাবে মেশেন?
খ. মহাপুরুষের আবির্ভাবে পৃথিবী ধন্য হয়েছে কীভাবে?
গ. উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে উল্লিখিত রাসুল (স.)-এর কোন গুণের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ফুটে ওঠেনি- বিশ্লেষণ করো।
৫নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. শিশুদের সঙ্গে হজরত মেশেন একেবারে শিশুর মন নিয়ে।
খ. মহাপুরুষের চরিত্রের উত্তম গুণসমূহের বহিঃপ্রকাশের মধ্যমে পৃথিবী ধন্য হয়েছে । মহাপুরুষের আবির্ভাবে মানুষের জীবনে এসেছে সৌষ্ঠব, ফুটেছে লাবণ্য। যেসব মহাপুরুষের আগমনে পৃথিবী ধন্য হয়েছে তাঁদের মধ্যে হজরত মুহাম্মদ মোস্তফা (স.) সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি মানবতার গৌরব সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপনে, মানুষের প্রতি ভালোবাসার চরিত্রে কোমলতা আর কঠোরতার সংমিশ্রনে তিনি সারা আরবভূমিতে অবিসংবাদিত এবং শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। এভাবে মহাপুরুষের আবির্ভাবে পৃথিবী ধন্য হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে উল্লিখিত রাসুল (স.)-এর উদার মানবিকতা ও মানবীয় গুণের প্রতিফলন ঘটেছে। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধটি রচিত হয়েছে রাসুল (স.)-এর জীবনকে কেন্দ্র করে। তার জীবনের বিভিন্ন গুণ ও মাহাত্ম্যকে এ প্রবন্ধে তুলে ধরেছেন লেখক। আল্লাহর নবি হয়েও তিনি সারাজীবন সহস্র-সঙ্গ জীবনযাপন করেছেন এবং সাম্যের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
উদ্দীপকে রাসুল (স.)-এর মানবীয় গুণাবলির বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পথের ধারে একটি এতিম শিশুকে কাঁদতে দেখে রাসুল (স.) তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। তিনি শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে এলে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে লেখক হজরত মুহাম্মাদ (স.)-এর জীবন আলোচনা করতে গিয়ে তাঁর চরিত্রের উত্তম গুণাবলীর কথা বলেছেন। মানবকল্যাণে তাঁর আত্মনিয়োগ করার কথা, নাবী, শিশু, ক্রীতদাস সম্পর্কে তাঁর মানবীয় বোধ ইত্যাদি প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে উল্লিখিত রাসুল (স.)- এর মানবীয় গুণের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ. উদ্দীপকে শুধু মানবীয় গুণের প্রকাশ পাওয়ায় বলা যায়, “উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ফুটে ওঠেনি”- মন্তব্যটি যথার্থ। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের মূলভাব হচ্ছে মহানবি (স.)-এর জীবনাদর্শন। মানবতার গৌরব আল্লাহর নবি হজরত মোস্তফা (স.) সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। আরবের মরুময় জীবনে সৌষ্ঠব ও লাবণ্য এনে দিয়েছেন তিনি।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রাসুল (স.) ঈদের মাঠে যাওয়ার পথে দেখেন। একটি এতিম শিশু কাঁদছে। তিনি শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে এখনে রাসুলের মানবীয় গুণটির প্রতিফলন ঘটেছে।
মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর মানবীর চরিত্র ও তাঁর মহৎ কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা কর হয়েছে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) বিলাসী জীবন পছন্দ করতেন না। তিনি সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল, সত্যবাদী ও ন্যায়পরায়ণ মানুষ ছিলেন। তাঁর জীবনে তিনি এমন কোনো কাজ করেননি যা মানুষের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।
বরং তিনি মানুষকে অন্তর দিয়ে ভালোবেসেছেন। নিজে কষ্ট পেয়েও শত্রুকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। পৃথিবীর সব মানুষকে সমান মর্যাদার চোখে দেখেছেন। উদার মানসিকতার অধিকারী রাসুল (স.) শসত্রু আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েও তাদের জন্য অভিসম্পাত করেননি। উদ্দীপকেও রাসুল (স.)-এর মানবীয় গুণের প্রতিফলন ঘটেছে। ‘মরু- ভাস্কর’ প্রবন্ধেও রাসুল (স.)-এর উক্ত গুণটির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া প্রবন্ধে আরও নানা দিক আলোচিত হয়েছে, যা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়নি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সময় ভাব ফুটে ওঠেনি ।
প্রশ্ন ০৬ বিষয় : মহানবি (স.)-এর স্নেহপরায়ণতা।
রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন শিশুদের প্রতি অত্যন্ত স্নেহপরায়ণ। তিনি বলতেন শিশুরা হলো বেহেশতের ফুল! তিনি যখন কোনো সফর থেকে ফিরে আসতেন তখন পথে যে সকল শিশু সামনে পড়ত তাদেরকে তাঁর উটের সামনে পেছনে বসিয়ে কিছু দূর ভ্রমণ করিয়ে আনতেন। পথে শিশুদের সাথে যখনই দেখা হতো তিনি প্রথমে তাদের সালাম জানাতেন।
ক. আরবের লোকের স্মৃতিশক্তি কেমন ছিল?
খ. হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রের সংমিশ্রণ কেমন ছিল? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের কোন দিকটির সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে?
ঘ. উদ্দীপকটি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রের বিশেষ একটি ভাবকে ধারণ করেছে, সম্পূর্ণ নয়- মন্তব্যটি যাচাই করো ।
৬নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. আরবের লোকের স্মৃতিশক্তি অসাধারণ ছিল।
খ. হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রের সংমিশ্রণ ছিল কোমল ও কঠোরের। হজরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন একই সঙ্গে অনেক কোমল এবং কঠোর চরিত্রের অধিকারী। তাঁর বিশ্বাস ছিল অজেয়, অকুতোভয় তিনি সত্য ও সংগ্রামে ছিলেন পর্বতের মতো অটল, বজ্রের মতো কঠোর।
এরই পাশাপাশি তাঁর মাঝে দেখা যায় কুসুমের চেয়ে কোমল হৃদয়ের। বন্ধুবান্ধবের প্রতি তিনি খুবই আন্তরিক ছিলেন। সবসময় থাকতেন হাসিখুশি। ছোট ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অত্যন্ত শিশুসুলভ মন নিয়ে মিশতেন তিনি। বালক-বন্ধুকে তার বুলবুলি পাখি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে তিনি যেমন ভোলেন না, তেমনই বন্ধুবিয়োগে তাঁর চোখ ভিজে যায়। অনেক দিন পরে নিজের দাই মা মা হালিমাকে দেখে তিনি আবেগে আপ্লুত হয়ে আকুল হয়ে ওঠেন। আল্লাহর প্রেরিত রাসুল হয়েও তিনি সবার সঙ্গে অত্যন্ত সাধারণভাবে মিশতেন, কোনো অহংকার করতেন না ।
গ. উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর স্নেহ-মমতা ও শিশুবান্ধব চরিত্রের দিকটির সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনচিত্র। তিনি আল্লাহর নবি হয়েও সাধারণ জীবনযাপন করেছেন এবং নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শত কষ্ট সহ্য করেও মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিবেদন করেছেন।
উদ্দীপকে রসুলুল্লাহ (স.)-এর শিশুবান্ধব ও স্নেহসুলভ মানসিকতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তিনি শিশুদের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত স্নেহপরায়ণ । শিশুদের তিনি বেহেশতের ফুল বলতেন। তিনি শিশুদেরকে আগে সালাম জানাতেন। তিনি কোনো সফর থেকে ফিরে আসার পথে যেসব শিশু সামনে পড়ত তাদেরকে তাঁর উটের সামনে-পেছনে বসিয়ে ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াতেন।
‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স)-এর স্নেহ- মমতা ও শিশুবান্ধব চরিত্র সম্পর্কে আমরা ধারণা পাই। প্রবন্ধে উল্লেখ আছে তিনি শিশুদের সঙ্গে মিশতেন শিশুদের মতো মন নিয়ে। পথে বালক-বন্ধুর সঙ্গে দেখা হলে তার বুলবুলির খোঁজ পর্যন্ত তিনি নিতেন। উদ্দীপকেও রসুল (স.)-এর এই বৈশিষ্ট্যগুলো প্রকাশ পেয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর স্নেহ-মমতা ও শিশুবান্ধব চরিত্রের দিকটির সাদৃশ্য ফুটে উঠেছে।
ঘ. উদ্দীপকে শুধু স্নেহপরায়ণতার উল্লেখ থাকায় বলা যায় উদ্দীপকটি হজরত মুহম্মদ (স.)-এর চরিত্রের বিশেষ একটি ভাবকে ধারণ করেছে, সম্পূর্ণ নয়”- মন্তব্যটি যথার্থ। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সামগ্রিক জীবনাদর্শনকে তুলে ধরা হয়েছে। একই সাথে কঠোর ও কোমল চরিত্রের অধিকারী মহানবির একটি বিশেষ গুণ হচ্ছে শিশুদের প্রতি গভীর স্নেহ ও মমতা প্রদর্শন। শিশুদের সাথে তিনি সবসময় শিশুসুলভ কোমল আচরণ করতেন।
উদ্দীপকে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর শিশুবান্ধব ও স্নেহ-মমতার দিকটির প্রকাশ ঘটেছে। তিনি শিশুদের প্রতি অনেক আন্তরিক ছিলেন। এমনকি তিনি শিশুদের বেহেশতের ফুল বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাদেরকে নিজের উটের পিঠে নিয়ে ঘুরতেন। পথে দেখা হলে তিনিই প্রথমে শিশুদের সালাম জানাতেন। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রের নানান দিক ব্যক্ত হয়েছে।
উদ্দীপকে শুধু রসুল (স.)-এর শিশুসুলভ আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। অন্যদিকে ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে তাঁর আরও অনেক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তাঁর শিশুসুলভ আচরণ, উদারতা, মহত্ত্বসহ আরও অনেক দিক প্রকাশ পেয়েছে প্রবন্ধে। তিনি মদিনার অধিনায়ক থাকাকালীন তাঁর ঘরে আসবাবপত্র বলতে ছিল খেজুর- পাতার বিছানা আর একটি পানির সুরাহি। তিনি আল্লাহর নবি হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে সাধারণভাবে উপস্থাপন করতেন।
শিশুদের সঙ্গে মিশতেন শিশুদের মতো মন নিয়ে। আবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতেন একেবারে সাধারণ হয়ে। তাঁর ওপর অনেক অত্যাচার হলেও তিনি কখনো অভিশাপ দেননি, বরং তাদের হয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রের বিশেষ একটি ভাবকে ধারণ করেছে, সম্পূর্ণ নয়।
প্রশ্ন ০৭ বিষয় : মহানবি (স.)-এর দৃষ্টিতে ভেদাভেদহীন মানবসমাজ ।
মানুষে মানুষে জাতিতে জাতিতে এই যে ভেদের প্রাচীর সহস্রাধিক বর্ষ থেকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মানুষের জ্ঞান, পৌরুষ ও আত্মসম্মানকে নীরবে ধিক্কার দিচ্ছিল, ইসলামের পয়গম্বর হজরত মুহাম্মদ (স.) এসে তাকে নিদারুণভাবে ভূমিসাৎ করে দিলেন। তিনি উদার কণ্ঠে ঘোষণা করলেন : ভেদ নাই, ভেদ নাই, মানুষে মানুষে ভেদ নাই। অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নাই, আরবের ওপর অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নাই, সব মানুষ আদি পিতা আদমের সন্তান, আর আদম মাটিতে তৈরি। অতএব কারও গর্বিত হওয়ার কিছু নেই।
ক. ‘সুরাহি’ কথাটির মানে কী?
খ. হজরত মুহাম্মদ (স.) জ্ঞানচর্চা সম্পর্কে কী বলেছেন? ব্যাখ্যা করো।
গ. হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর কোন বৈশিষ্ট্যটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সমগ্র নয়, আংশিক ভাবকে ধারণ করেছে মাত্র।” বিশ্লেষণ করো।
৭নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. ‘সুরাহি’ হচ্ছে পানির এক রকম পাত্র বা জলের কুঁজো ।
খ. হজরত মুহাম্মদ (স.) জ্ঞানচর্চা সম্পর্কে বলেছেন— জ্ঞান হলো হারানো উটের মতো যা খুঁজে বের করতে হবে। মহানবি হজরত মুহাম্মদ (স.) জ্ঞানচর্চার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। জ্ঞান মানুষের ভেতরের সমস্ত অন্ধকার দূর করে। একজন ব্যক্তি জ্ঞানের আলোয় নিজেকে যেমন আলোকিত করেন, তেমনই সমাজেরও অনেক কল্যাণ সাধন করেন। তাই মহানবি (স.) জ্ঞানকে হারানো উটের সঙ্গে তুলনা করেছেন যা খুঁজে বের করতে বলেছেন এবং জ্ঞানসাধকের কলমের কালিকে শহিদের রক্তের চেয়েও পবিত্র বলেছেন।
গ. হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর উদার মানবিকতা ও সব মানুষের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি তথা সাম্যবাদী বৈশিষ্ট্যের দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে দেখা যায় হজরত মুহাম্মদ (স.) সারাজীবন সাম্যের প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তাঁর কাছে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। এ সত্যকে তিনি কেবল ধারণ করেননি বরং প্রতিষ্ঠাও করে গেছেন।
উদ্দীপকে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর সাম্যবাদী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি মানুষে-মানুষে কোনো বিভেদ মানতেন না। তাঁর কাছে পৃথিবীর সব মানুষই সমান। তিনি আরব ও অনারব সকলকে সমান চোখে দেখতেন। তিনি বলেন জাত নিয়ে গর্ব করার কিছুই নেই। তাঁর এ দৃষ্টিভঙ্গি ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধেও প্রকাশিত হয়েছে।
মহানবি (স.) একাধারে উদার, ধৈর্যশীল, ক্ষমাশীল, সত্যবাদী, ন্যায়বিচারক, মানবতাবাদী। তিনি মানুষকে প্রচণ্ড ভালোবাসতেন বলেই নিজেকে কখনো শ্রেষ্ঠ ভাবেননি। বরং অন্য দশজন সাধারণ মানুষের মতোই তিনি নিজেকে ভেবেছেন। তিনি মানুষকে অভয় দিয়ে বলেছেন, ‘আমি রাজা নই, কারও মুনিবও নই’। তাঁর কাছে ভৃত্য বা দাস বলতে কিছুই ছিল না। তিনি পৃথিবীর সব মানুষকে সমান মর্যাদার চোখে দেখতেন। উদ্দীপক ও আলোচ্য প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর এ বৈশিষ্ট্যটিই ফুটে উঠেছে।
ঘ. ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সামগ্রিক প্রকাশ “উদ্দীপকে না থাকায় বলা যায় “উদ্দীপকটি ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধের সমগ্র নয়,আংশিক ভাবকে ধরন করেছে মাত্র” মন্তব্যটি যথার্থ। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদের জীবনের আদর্শকে দেখতে পাওয়া যায়। তিনি ছিলেন সত্যের সংগ্রামে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রের মতো কঠোর। কিন্তু সবার সঙ্গে তার আচরণ ছিল কুসুমের মতো কোমল। তিনি সকল মানুষকে সমান চোখে দেখেছেন এবং সারা জীবন সাম্যের প্রতিষ্ঠা করে গেছেন।
উদ্দীপকে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর চরিত্রে বিদ্যমান সাম্যবাদ ও মানবপ্রেমের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এখানে কেবল তাঁর একটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় পাওয়া যায়। ‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মাদ (স.)-এর চরিত্রের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। মক্কার শ্রেষ্ঠ কুরাইশ বংশে জন্মগ্রহণ করলেও বংশগৌরব তার মনে কখনো স্থান লাভ করেনি।
‘মরু-ভাস্কর’ প্রবন্ধে হজরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবনের নানা ঘট্না উপদেশ, নীতি, আদর্শ এবং মানবীয় গুণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি ছিলেন সত্যের সাধক, মানবপ্রেমিক। শত্রুর অত্যাচারে বা্রবার রক্তাক্ত হলেও কখনো তিনি তাদের অভিশাপ দেননি। তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য প্রভুর কাছে প্রার্থনা করেছেন। এখানে ক্রীতদাসের ওপর মানবিক আচরণ, নারীর প্রতি মমত্ববোধ, তাদের যথাযোগ্য মর্যাদা জ্ঞানের প্রতি বিশেষ অনুরাগ, সৎ ও ন্যায়ের পথে মানুষকে আহব্বান প্রভৃতি বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে। এ বিষয়গুলোর মধ্যে তাঁর সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টিই উদ্দীপকে প্রধানরূপে প্রকাশ পেয়েছে। অন্যান্য বিষয় এখানে প্রতিফলিত হয়নি। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
.






