আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল রচনা
ভূমিকা: বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল। এত বড়ো ফল পৃথিবীতে আর আছে কি না সন্দেহ। এজন্য কাঁঠালকে কেউ কেউ ফলের রাজা বলে থাকে। কাঁঠাল দেখতে খুব সুন্দর, খেতেও সুস্বাদু। সারা গায়ে কাঁটা আছে বলেই এ ফলের নাম হয়েছে কাঁটাল বা কাঁঠাল। তাই কবি বলেছেন— “কাঁঠাল কণ্টকে ঘেরা ভিতরেতে কোষ তার তরে এই ফলে কে বা দেয় দোষ?
কাঁঠালের উৎপাদন স্থান: কাঁঠাল বাংলাদেশের সব জেলাতেই কমবেশি জন্মে থাকে। তবে ভাওয়াল ও মধুপুরের গড় এবং তার আশপাশের এলাকা কাঁঠালের জন্য বিখ্যাত। উত্তরবঙ্গের কোনো কোনো এলাকা এবং যশোর জেলায়ও কাঁঠালের ফলন ভালো হয়।
কাঁঠাল উৎপাদনের বর্ণনা: পৌষ-মাঘ মাসে কাঁঠাল গাছে মুচি আসে। মুচির সঙ্গে কচি কাঁঠালটিও জন্ম নেয়। কয়েকদিন পর মুচিটি পচে যায় কিন্তু কচি কাঁঠালটি আস্তে আস্তে বড়ো হতে থাকে। প্রথম অবস্থায় কচি কাঁঠালের গায়ে কোনো কাঁটা থাকে না। চৈত্র-বৈশাখ মাসে কাঁঠাল যখন আকারে বড়ো হয় তখন কাঁঠালের গায়ে কাঁটা দেখা দেয়। জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ দিকে কাঁঠাল পাকতে শুরু করে। তবে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসই কাঁঠাল পাকার সময়। এসময় বিভিন্ন হাটবাজার ও শহর-বন্দর পাকা কাঁঠালে ভরে যায়।
কাঁঠালের উপযোগিতা: যদিও কাঁঠালের বাইরে কাঁটায় ঘেরা কিন্তু এর ভেতর সুস্বাদু কোষে ভরপুর। গাছপাকা কাঁঠালের কোষ মধুর চেয়েও মিষ্টি মনে হয়। বড়ো আকারের কাঁঠালে শতাধিক কোষ থাকে। কাঁঠালের কোষের মাঝে থাকে আঁটি বা বিচি। এ বিচি একটা উৎকৃষ্ট তরকারি হিসেবে আমরা খাই। এছাড়া বিচি ভাজা খেতে ছেলেমেয়েরা খুবই পছন্দ করে।
উপসংহার: বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি কাঁঠাল জন্মে। ফলে প্রতি বছরই বহু কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য সরকার এ ফলটি টিনজাত করে রাখার কথা ভাবছে। যদি সে ব্যবস্থা করা সম্ভব হয় তবে আমরা সারা বছরই কাঁঠাল খেতে পারব। বিদেশে চালান দিয়েও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারব।
বাংলা দ্বিতীয় পত্র






