উত্তর : বাংলার রূপমুগ্ধ কবি জীবনানন্দ দাশের একটি বিখ্যাত কাব্য ‘রূপসী বাংলা’ (১৯৫৭)। এ কাব্যটি তাঁর মৃত্যু পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত হয়। এ কাব্যের মূল উপজীব্য বাংলার প্রকৃতি। বস্তুত বাংলা ভাষায় এমন প্রকৃতিস্তোত্র কাব্য আর দ্বিতীয়টি রচিত হয়নি।
তিনি তাঁর জন্মভূমিকে ভারতবর্ষ থেকে পৃথক করে আলাদাভাবে রূপসী বাংলা নামকরণ করেছেন এবং উৎসর্গ করেছেন ‘আবহমান বাংলা ও বাঙালিকে। তাঁর ‘রূপসী বাংলা’ মূলত শাশ্বত বাংলার স্বপ্নরূপ ।
এ কাব্যে কবি আবহমান বাংলার অন্তরঙ্গ রূপ অসাধারণ ক্ষমতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। কবিতাগুলোতে প্রকৃতির সৌন্দর্য মুগ্ধতা জৈবিক জীবনের সঙ্গে মিলে মিশে গেছে। তাই-
ক. পানতা ভাতের গন্ধে আম মুকুলের গন্ধ মিশে যায় যেন বারবার;-(একদিন এই দেহ)।
খ. ধানের নরম শিষে মেঠো ইঁদুরের চোখ নক্ষত্রের দিকে আরো চায়।-(একদিন কুয়াশায়) ।
গ. ভিজে পেঁচার শান্তস্নিগ্ধ চোখ মেলে কদমের ডালে বসে শোনাবে লক্ষ্মীর গল্প
ঘ. ভাঙনের গান নদী শোনাবে নির্জনে; (একদিন জলসিড়ি নদীটির)
আসলে জীবনানন্দ দাশের ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলোতে নিসর্গ এক মোহময় রূপের সৃষ্টি করেছে। একে ছোঁয়া গেলেও ধরা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। বাংলার নদী-নালা, মাঠঘাট, বৃক্ষ-তৃণলতা, পশুপাখি, আকাশ-বাতাস সবই স্থান পেয়েছে ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যে।




