লখার একুশে গল্পের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
প্রশ্ন ০১. প্রশ্ন
সভা শেষে এক বিশাল মিছিল বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে করতে শহর প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে ওরা হাত ধরে রাখে, পাছে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এক হাঁকে আহি বলে, জানিস যখন ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই’ বলি তখন দম একটুও ফুরায় না। মনে হয় একনাগাড়ে হাজার বার বলতে পারি।
ক. লখার পায়ে কী ঢুকে গেল?
খ. লখার দিন কীভাবে কাটে? ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের অহির সঙ্গে ‘লখার একুশে’ গল্পের কার সাদৃশ্য রয়েছে?
ঘ. উদ্দীপকটি ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, ‘লখার একুশে’ গল্পের সামগ্রিকতা নয়।”- যথার্থতা মূল্যায়ন করো।
১নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. লখার পায়ে কাঁটা ঢুকে গেল।
খ. কিশোর লখার দিন কাটে গুলি খেলে ও কাগজ কুড়িয়ে। লখাকে যত্ন নেওয়ার কেউ নেই। বাবাকে সে দেখেনি, আর মা সারাদিন ভিক্ষা করে। তাই লখার দিন কাটে গুলি খেলে, ছেঁড়া কাগজ কুড়িয়ে, বন্ধুদের সাথে মারামারি করে আর খাবারের দোকানের এঁটো পাতা চেটে।
গ. উদ্দীপকের অহির সঙ্গে ‘লখার একুশে’ গল্পের প্রধান চরিত্র লখার সাদৃশ্য রয়েছে। লখার একুশে’ গল্পে লখা কথা বলতে পারে না। কিন্তু মাতৃভাষার মাহাত্ম্য উপলব্ধি করতে পারে। যার ফলে সে উঁচু গাছের ডাল থেকে লাল ফুল সংগ্রহ করে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
উদ্দীপকের অহি ও আলোচ্য গল্পের লখা উভয়েই ভাষাপ্রেমিক। ভাষার জন্য তাদের মনে অসীম শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। তাই তো উদ্দীপকের অহি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য মিছিল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। অন্যদিকে ‘লখার একুশে’ গল্পের লখাও ভাষার প্রতি, ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকে প্রভাতফেরিতে অংশ নেয়। প্রভাতফেরিতে অংশ নেওয়ার জন্য অনেক কষ্টে ফুল সংগ্রহ করে। ফুল সংগ্রহ করতে গিয়ে কষ্ট পেলেও তা তার কাছে কিছুই মনে হয় না। যেমন অহির কষ্ট হয় না স্লোগান দিতে। তাই আমরা বলতে পারি যে, ভাষা ও ভাষাশহিদদের প্রতি ভালোবাসার দিক থেকে উদ্দীপকের অহির সঙ্গে ‘লখার একুশে’ গল্পের লখার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. ভাষার প্রতি ভালোবাসা থাকলেও লখার জীবন সংগ্রাম না থাকায় বলা যায়, “উদ্দীপকটি ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, লখার একুশে’ গল্পের সামগ্রিকতা নয়” মন্তব্যটি যথার্থ।
লখার একুশে’ গল্পে বাঙালির জীবনের মহান দিন একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি কথা বলতে না পারা বোবা লখার কাছেও মহান হয়ে উঠেছে। তাই শহিদদের স্মরণে শহিদ মিনারে ফুল নিবেদন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে লখা।
উদ্দীপকের বক্তব্যে ভাষা আন্দোলনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি মিছিল বের হয়। সেই সময়ে আন্দোলনরত মানুষের অনুভূতি উদ্দীপকে রয়েছে। ‘লখার একুশে’ গল্পে একুশে ফেব্রুয়ারির শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথা বর্ণিত হয়েছে। কিশোর লখা ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে প্রভাতফেরিতে যায়। ১৯৫২ সালের . ভাষাশহিদদের ভাষার জন্য ত্যাগ স্বীকার করার মনোভাব লখার মাঝেও পরিলক্ষিত হয় ।
উদ্দীপকটি আমাদের ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ভাষা আন্দোলনের অবিনাশী চেতনার কথা লখার একুশে’ গল্পেও বর্ণিত হয়েছে। গল্পের লখা অতি সাধারণ এক কিশোর। জন্মগতভাবে সে বোবা হওয়ার কারণে কথা বলতে পারে না। ভাষা আন্দোলনের কথা স্মরণ করে সে শহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য গাছের অনেক উঁচু ডাল থেকে কষ্ট করে ফুল সংগ্রহ করে। সে শহিদদের অবদানকে গর্বের আসনে অধিষ্ঠিত করে অনেক উঁচুতে স্থান দিতে চায়। কথা বলতে না পারলেও বাঙালির গর্বের উচ্চারণ তার মুখ দিয়ে বের হয়ে আসে। এর পাশাপাশি কিশোর লখার ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং কথা বলতে না পারলেও তার গর্বের উচ্চারণের কথা গল্পে আলোচিত হয়েছে। সেই বিবেচনায় উদ্দীপকটি গল্পের সামগ্রিকতা প্রকাশ করে না। তাই বলা যায় যে, মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০২
জাতীয়তার প্রধান উপাদান মাতৃভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এই ভাষার জন্য আমাদের বহু সংগ্রাম এবং জীবন দিতে হয়েছে। জাতির ডাব-কল্পনা, আত্মার আকুলতা, ব্যাকুলতা, হৃদয়ের প্রেম- ভালোবাসা মাতৃভাষার মাধ্যমেই রূপায়িত হয়। তাই মাতৃভাষা মায়ের মতো। ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগ আজ আন্তর্জাতিক পরিসরে মর্যাদা। লাভ করেছে। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরির সময় সকলের কণ্ঠে থাকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’। পদে পথে মিছিলের ঢল নামে। শত শত মানুষ হাতে ফুলের গুচ্ছ। ধীর পথে সকলে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায়।
ক. লখার বিছানা কেমন?
খ. ‘প্রভাতফেরি’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘লখার একুশে’ গল্পের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে?
ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘লখার একুশে’ গল্পটির সামগ্রিক “বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না।- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
২নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. লখার বিছানা ফুটপাতের কঠিন শান।
খ. প্রভাতফেরি হলো একুশে ফেব্রুয়ারির সকালবেলার বিশেষ অনুষ্ঠান। সাধারণত ভোরবেলায় দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় গান গেয়ে সবাইকে জাগিয়ে তোলার অনুষ্ঠানকে প্রভাতফেরি বলা হয়। তবে বাংলাদেশে এ অনুষ্ঠান একটি বিশেষ অর্থ বহন করে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহিদ হওয়া রফিক, সালাম, বরকত, জব্বারসহ অনেকের স্মরণে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করা হয়।
গ উদ্দীপকে ‘লখার একুশে’ গল্পের ভাষাশহিদদের জন্য লখার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার দিকটি ফুটে উঠেছে। লখার একুশে’ গল্পে একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে। বাংলাভাষী মানুষদের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারির যে কতটা মহান এ গুরুত্বপূর্ণ তা লখার মধ্য দিয়ে অনুধাবন করা যায়।
উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগের প্রতি এদেশের মানুষের শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য এদেশের মানুষকে আন্দোলন করতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে। সেই ভাষাশহিদদের প্রতি সম্মান জানাতে ২১শে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরি করা হয়। এ দিন সবার কণ্ঠে থাকে একটি গান- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ ‘লখার একুশে’ গল্পেও লখা ও অন্যরা ভাষাশহিদদের স্মরণে প্রভাতফেরির মিছিলে অংশ নিয়েছে। মিছিলে শত শত মানুষের হাতে ছিল ফুলের গুচ্ছ, কণ্ঠে প্রভাতফেরির গান। আর উদ্দীপকেও ‘লখার একুশে’ গল্পের এই দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. লখার জীবন সংগ্রামের চিত্র না থাকায় এবং বোবা কিশোরের ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো অনুপস্থিত থাকায় বলা যায়, “উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘লখার একুশে’ গল্পটির সামগ্রিক বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না” মন্তব্যটি যথার্থ।
লখার একুশে’ গল্পে কিশোর লখার মধ্য দিয়ে লেখক একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন। লখা কথা বলতে না পারলেও মাতৃভাষার প্রতি তার অসীম মমতা কাজ করেছে। প্রত্যেকটি বাংলাভাষী মানুষের মনে মাতৃভাষার জন্য একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্ব অনেক।
উদ্দীপকে মাতৃভাষা বাংলা এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে আত্মত্যাগকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর দিক প্রকাশ পেয়েছে। মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করতে বাঙালিকে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শত শত মানুষ ফুল হাতে এগিয়ে যায় শহিদ মিনারের দিকে। লখার একুশে’ গল্পেও ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
‘লখার একুশে’ গল্পে উদ্দীপকের মতো ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি প্রভাতফেরি, ফুল হাতে শহিদ মিনারে যাওয়া, একুশের গান গাওয়া ইত্যাদি বিষয় প্রকাশ পেয়েছে। অনেক আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছে। তাই ভাষা সৈনিকদের আত্মত্যাগ আজ অন্তর্জাতিক পরিসরেও স্বীকৃত। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রভাতফেরিতে সবাই সমস্বরে গেয়ে ওঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’ গান। আরও প্রকাশ পেয়েছে লখার জীবন সংগ্রাম। উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের প্রতি এক বোবা কিশোরের শ্রদ্ধা দেখানোর বিষয়টি অনুপস্থিত। এই দিক থেকে উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি ‘লখার একুশে’ গল্পটির সামগ্রিক বিষয়ের প্রতিনিধিত্ব করে না। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ।
প্রশ্ন ০৩
বিদেশের মাটিতেই নাবিলার জন্ম। ফলে বাংলা ভাষায় কথা বলতে সে অভ্যস্ত নয়। কিন্তু বাবা-মায়ের কাছ থেকে শুনে আর টিভিতে দেখে পিতৃভূমি বাংলাদেশ আর মাতৃভাষা বাংলার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা তৈরি হয়। তাই সে বাবা-মায়ের সাথে বাংলাদেশে আসে এবং শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানায়।
ক. প্রথম কত সালে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন। হয়?
খ. ভিড়ের মধ্যেও লখাকে চিনতে কষ্ট হয় না কেন?
গ. উদ্দীপকটির সাথে ‘লখার একুশে’ গল্পের কোন দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ? আলোচনা করো।
ঘ. “প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা থাকলেও লখা ও নাবিলার মধ্যে চেতনাগত সাদৃশ্য আছে” – উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
৩নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. ১৯৪৮ সালে প্রথম বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন হয় ।
খ. লখার খোলা উদাম ও কালো শরীর দেখে ভিড়ের মধ্যেও তাকে চিনতে কষ্ট হয় না । সেদিনের সকাল ছিল বড়ো আশ্চর্য সুন্দর। আকাশে হালকা কুয়াশা। অল্প অল্প শীত। পথে পথে মিছিলের ঢল নেমেছে। শত শত মানুষ ধীর পায়ে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে চলেছে। এই ভিড়ের মধ্যে টোকাই লখাকে চিনতে কষ্ট হয় না। কারণ মিছিলের। সবার গায়ে চাদর, কোট থাকলেও লখার শরীর ছিল খোলা উদাম ও গাঢ় কালো।
গ. মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশের ক্ষেত্রে উদ্দীপকের সঙ্গে লিখার একুশে’ গল্পের সাদৃশ্য রয়েছে। লখার একুশে’ গল্পের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে মাতৃভাষার প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসা। গল্পের প্রধান চরিত্র লখা কথা বলতে ন পারলেও মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা ব্যক্ত করেছে।
উদ্দীপকের নাবিলার জন্ম বিদেশের মাটিতে হলেও বাবা-মায়ের কাছে পিতৃভূমি বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার কথা শুনে দেশ ও ভাষার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়। সে বাবা-মায়ের সঙ্গে বাংলাদেশে এসে শহিদ মিনারে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ‘লখার একুশে’ গল্পেও মাতৃভূমি ও মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। বাক্প্রতিবন্ধী লখা অতি কষ্টে উঁচু ডালে উঠে ফুল সংগ্রহ করে। শীত উপেক্ষা করে খালি গায়ে সে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায়। গল্পের এই দিকটির সঙ্গেই উদ্দীপকটির সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. দুজনেরই মাতৃভাষার প্রতি আন্তরিকতা থাকায় বলা যায় “প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা থাকলেও লখা ও নাবিলার মধ্যে চেতনাগত সাদৃশ্য আছে” মন্তব্যটি যথার্থ । ‘লখার একুশে’ গল্পে মাতৃভাষার প্রতি বাংলাভাষী মানুষের গভীর ভালোবাসা ও মমত্ববোধ প্রকাশ পেয়েছে লখা চরিত্রের মধ্য দিয়ে। লখা নিজে কথা বলতে না পারলেও সে প্রতিকূল পরিবেশ থেকে ফুল সংগ্রহ করে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
উদ্দীপকের নাবিলার জন্ম বিদেশে হলেও দেশ ও মাতৃভাষার প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা অটুট। অন্যদিকে ‘লখার একুশে’ গল্পের লখার মাঝেও একই বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। যদিও তাদের অবস্থান ও প্রেক্ষাপটগত ভিন্নতা রয়েছে।
‘লখার একুশে’ গল্পের লখা বাকপ্রতিবন্ধী এবং বাস্তুহারা। দুবেলা ঠিকমতো খেতেও পায় না। কিন্তু জাতীয় চেতনা ও মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসা তার মধ্যে প্রবল। নাবিলার জন্ম বিদেশে হলেও বাবা- মায়ের মুখে দেশের কথা শুনে সে দেশকে ও মাতৃভাষাকে ভালোবেসেছে। তাদের অবস্থান ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন কিন্তু চেতনাগত | দিক থেকে তারা অভিন্ন । তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
প্রশ্ন ০৪ বিষয় : শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা ।
বাংলা ভাষার গান শোনালো যারা
বাংলাদেশের ঘুম ভাঙালো তারা
ওরা শহীদ ওরা আমার ভাই
ওদের দানের তুলনা যে নাই ।
মায়ের মুখের মধুর বাণী
সোনার চেয়ে দামি জানি
ওরা মায়ের মান বাঁচাতে
জীবন দিল তাই ।
ক. ‘মগডাল’ অর্থ কী?
খ. লখা হাতের মুঠো পাকিয়ে মনটাকে শক্ত করে নিল কেন?
গ. উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের কোন দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. উদ্দীপকটি লখার একুশে’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে। মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
৪নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. মগডাল অর্থ গাছের সবচেয়ে উঁচু ডাল।
খ. গাছের উঁচু ডাল থেকে ফুল পেড়ে আনার জন্য লখা হাতের মুঠো পাকিয়ে মনটাকে শক্ত করে নিল । লখা শহিদ মিনারে গিয়ে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে চায়। তাই সে খুব ভোৱে ভয়কে পিছনে ফেলে সেই অদ্ভুত গাছটার নিচে পৌঁছে যায়। গাছটির উচু ডালে রক্তের মতো টকটকে লাল ফুল ফুটে আছে। ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে গাছের উঁচু ডাল থেকে সে এক থোকা ফুল পেড়ে আনতে চায়। গাছে ওঠার সাহস সঞ্চয়ের জন্য সে হাতের মুঠো পাকিয়ে মনটাকে শক্ত করে নিল ।
গ. উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে” গল্পের একুশের চেতনা ও ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে। লখার একুশে’ গল্পে কিশোর লখা শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন। করার জন্য উঁচু গাছের ডাল থেকে লাল ফুল সংগ্রহ করে এনেছে । মহান একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্বের কথা অনুভব করেই সে হাসিমুখে ত্যাগ স্বীকার করেছে এবং শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে।
উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের আত্মদানের বিষয়টি উপস্থাপিত রয়েছে। ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁরা আমাদের ভাই। সোনার চেয়েও দামি যে ভাষা, সেই ভাষা যাঁরা শত্রুদের কাছ থেকে রক্ষা করেছেন উদ্দীপকে তাঁদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জাপন করা হয়েছে। ‘লখার একুশে’ গল্পে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাক্প্রতিবন্ধী লখা রাতের অন্ধকারে ফুল ছিঁড়ে নিয়ে গিয়ে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। সে কথা বলতে পারে না, তবু সে জানে ভাষাশহিদরা আমাদের ভাষার জন্য লড়াই করে গেছেন । তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেছে।
ঘ. ভাববস্তুর দিক থেকে বলা যায়, “উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করেছে” মন্তব্যটি যথার্থ। ‘লখার একুশে’ গল্পে দেখা যায়, লখা মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা অনুভব করেছে। এ ভালোবাসা থেকেই সে শহিদদের স্মৃতি রক্ষার জন্য নির্মিত মিনারে ফুল নিবেদন করেছে।
উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। আমাদের ভাষা মায়ের ভাষা, সোনার চেয়েও দামি ভাষা। এই ভাষার মান রক্ষা করতে যাঁরা জীবন দিলেন, উদ্দীপকে তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশিত হয়েছে। ‘লখার একুশে’ গল্পে লখা জন্ম থেকেই বোবা। সে কথা বলতে পারে না।
উদ্দীপকে ভাষাশহিদদের ত্যাগ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিকটি ফুটে উঠেছে। লখার একুশে’ গল্পে লেখার মাঝেও ভাষাশহিদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধার বিষয়টি দেখা যায়। সে জানে ভাষার জন্য যাঁরা জীবন দিয়েছেন তাঁরা আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার। তাঁরা সেসময় প্রাণ দিয়েছিলেন বলেই আমরা আজ বাংলা ভাষায় কথা বলতে পারছি। লখা এই বিষয়গুলো অনুভব করেছিল বলেই সে শহিদ মিনারে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের মূলভাবকে ধারণ করে।
প্রশ্ন ০৫
ফাগুন মাসে বুকের ক্রোধ ঢেলে
ফাগুন তার আগুন দেয় জ্বেলে।
বাংলাদেশের শহর গ্রামে চরে
ফাগুন মাসে রক্ত ঝরে পড়ে।
ফাগুন মাসে দুঃখী গোলাপ ফোটে।
বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে।
ক. তুলোমিঠে কী?
খ. ‘লখার একুশে’ গল্পে সেদিন সকাল কেমন ছিল?
গ. উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের কোন দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে?
ঘ. “বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে— উদ্দীপকের এ পক্তিটি উদ্দীপক ও ‘লখার একুশে’ উভয়েরই মূল সুর।” মূল্যায়ন করো।
৫নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. তুলোমিঠে হলো তুলোর মতো দেখতে মিষ্টি খাদ্যবিশেষ।
খ. ‘লখার একুশে’ গল্পে সেদিন সকাল ছিল আশ্চর্য সুন্দর। সেদিন সকালে আকাশে ছিল হালকা কুয়াশা। অল্প অল্প শীত। আর দক্ষিণের সামান্য বাতাস। পথে পথে মিছিলের ঢল নেমেছে। শত শত মানুষ সে মিছিলে, হাতে ফুলের গুচ্ছ আর কণ্ঠে প্রভাতফেরির গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’ ধীর পায়ে সবাই শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে চলেছে।
গ. উদ্দীপকটি ‘লখার একুশে’ গল্পের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে। ‘লখার একুশে’ গল্পে একুশে ফেব্রুয়ারির গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে। বাংলাভাষী মানুষদের কাছে ফেব্রুয়ারি এক আবেগভরা ভালোবাসা, ভক্তি ও শ্রদ্ধার মাস। লখা চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের এই গুরুত্বের কথা উঠে এসেছে এই গল্পে ।
উদ্দীপকের কবিতাংশে বলা হয়েছে, ফাগুন মাসে বুকের ক্রোধ ঢেলে ফাগুন তার আগুন জ্বেলে দেয়। বাংলাদেশের শহর গ্রাম চরে ফাগুন মাসে রক্ত ঝরে পড়ে। এ মাসে দুঃখী গোলাপ ফোটে। জনগণের বুকে জেগে ওঠে শহিদ মিনার অর্থাৎ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা। প্রতীকধর্মী ভাবসম্পন্ন এ কবিতাংশের সঙ্গে ‘লখার একুশে’ গল্পের লখার চেতনার সাদৃশ্য রয়েছে। লখার একুশে’ গল্পের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রভাতফেরির মিছিলে শত শত মানুষ হাতে ফুলের গুচ্ছ, ঠোঁটে প্রভাতফেরির গান, ধীর পায়ে শহিদ মিনারের দিকে এগিয়ে চলা- এসবের মূলে রয়েছে ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা, যে দিকটির প্রতিনিধিত্ব করে প্রদত্ত উদ্দীপকটি।
ঘ. ভাষাশহিদদের প্রতি ভালোবাসার দিক থেকে বলা যায়, “বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে উদ্দীপকের এ পঙক্তি উদ্দীপক ও ‘লখার একুশে’ উভয়েরই মূল সুর” মন্তব্যটি যথার্থ । লখার একুশে’ গল্পে লখা চরিত্রের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষার মহান মর্যাদার কথা উঠে এসেছে। মাতৃভাষার প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই লখা একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে ফুল নিবেদন করতে নানান প্রতিকূলতাকে হাসিমুখে পেরিয়ে গেছে।
উদ্দীপকে ‘৫২-এর ফার্গুন মাসে বাংলা ভাষার জন্য শহিদ ভাইদের স্মরণে শ্রদ্ধা, শোক, গৌরব ও চেতনার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। তাই, এ মাসে বুকের ক্রোধ ঢেলে ফাগুন তার আগুন জ্বেলে দেয়। ফাগুন মাসে বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে। যার মধ্য দিয়ে কবি স্মরণ করেছেন ভাষাশহিদদের। তাঁদের অবদানের কথা। ভাষাশহিদদের কীর্তি ও স্মৃতির প্রতি এমনই শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, শোক, গৌরব ও চেতনা প্রকাশ পায় ‘লখার একুশে’ গল্পে ।
উদ্দীপকে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় প্রাণ উৎসর্গীকৃত ভাইদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং তাঁদের চেতনা হৃদয়ের গভীরে দৃঢ়ভাবে ধারণ করার কথা বলা হয়েছে “বুকের ভেতর শহিদ মিনার ওঠে” পক্তির মাধ্যমে। এই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়েই ‘লখার একুশে’ গল্পের লখা এবং শত শত মিছিলের শত-সহস্র জনতা প্রভাতফেরি করে হাতে ফুলের তোড়া নিয়ে শহিদ মিনারে জড়ো হয়েছে। লখার কষ্ট মিছিল নিয়ে শত শত জনতার প্রভাতফেরিতে ফেব্রুয়ারির গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ হয়েছে।
প্রশ্ন ০৬ বিষয় : একুশের চেতনা ।
আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া ঘরে ঘরে শহরের পথে কেমন নিবিড় হয়ে। কখনো মিছিলে কখনো-বা একা হেঁটে যেতে যেতে মনে হয়- ফুল নয়, ওরা শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, স্মৃতিগন্ধে ভরপুর। একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং।
ক. ‘গাঢ়’ শব্দের অর্থ কী’
খ. বাংলা বুলি তার মুখে ফুটতে পায় না।”- কেন ?
গ. উদ্দীপকের ভাবার্থে ‘লখার একুশে’ গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং”— উদ্দীপকের এই চরণটিতে লখার একুশে’ ও উদ্দীপক উভয়ের মূল সুর প্রকাশিত হয়েছে।”— মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো ।
৬নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. গাঢ়’ শব্দের অর্থ ঘন।
খ. লখা কথা বলতে পারে না বলে তার মুখে বাংলা বুলি ফুটতে পায় না । লখা অতি সাধারণ এক কিশোর। সে কথা বলতে পারে না। কারণ সে জন্ম থেকেই বোবা। কথা বলতে না পারলেও সে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানতে ফুল হাতে শহিদ মিনারে যায়। সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে সেও গাইতে চায় ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’। কিন্তু জন্মবোবা হওয়ার কারণে তার মুখে সুর ফোটে না, শুধু শব্দ হয় আঁ আঁ আঁ ।
গ. উদ্দীপকের ভাবার্থ ‘লখার একুশে’ গল্পের ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।
“লখার একুশে’ গল্পটি রচিত হয়েছে ভাষা আন্দোলনের মহান চেতনাকে কেন্দ্র করে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগের কথা বাঙালি জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। এ বিষয়টি লখা চরিত্রের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। ভাষাশহিদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ রক্ষিত হয়েছে বাংলা ভাষার মর্যাদা। ভাষাকে ভালোবেসেই তাঁরা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। তাঁদের লাল রক্তই কৃষ্ণচূড়া হয়ে যেন ফোটে। সেগুলো যেন শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ, যা গর্বের স্মৃতি গন্ধে ভরপুর। ‘লখার একুশে’ গল্পেও কিশোর লখার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি বর্ণিত হয়েছে। লখা তার মাতৃভাষাকে ভালোবাসে আর ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা করে। তাই লখা কথা বলতে না পারলেও সবার সঙ্গে শহিদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যায়। শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে অনেক কষ্ট করে সে নিয়ে আসে গাছের উঁচু ডালের রক্তের মতো টুকটুকে লাল ফুল। এ কারণে বলা যায় যে, ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি গল্পের পাশাপাশি উদ্দীপকেও প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. ভাষাশহিদদের প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ থাকায় বলা যায়, “একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং’- উদ্দীপকের এই চরণটিতে লখার একুশে ও উদ্দীপক উভয়ের মূল সুর প্রকাশিত হয়েছে” মন্তব্যটি যথার্থ ।
‘লখার একুশে’ গল্পটি রচিত হয়েছে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে কেন্দ্র করে। বাংলা ভাষার মানুষদের কাছে ফেব্রুয়ারি গভীর শ্রদ্ধার মাস। লখা চরিত্রের মধ্য দিয়ে এ মাসের প্রতি বাঙালি সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাকেই ব্যক্ত করা হয়েছে এ গল্পে।
উদ্দীপকে ভাষা আন্দোলনের চেতনার দিকটি ফুটে উঠেছে। শহরের পথে ধরে ধরে কৃষ্ণচূড়া ফুটে থাকে। সেগুলো ফুল নয়, ভাষাশহিদদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ। যা তাঁদের গর্বের স্মৃতিগন্ধে ভরপুর হয়ে আছে । এই কৃষ্ণচূড়া যেন আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে আছে। একুশের কৃষ্ণচূড়াকে তাই আমাদের চেতনার রং বলা হয়েছে। ‘লখার একুশে’ গল্পেও সাধারণ এক কিশোর লখার মধ্য দিয়ে মাতৃ ভাষাপ্রেমের চেতনার দিকটি বর্ণিত হয়েছে।
উদ্দীপক এবং ‘লখার একুশে’ গল্প উভয় ক্ষেত্রেই ভাষার প্রতি প্রেম। এই চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। উদ্দীপকে শহিদের ঝলকিত রক্তের কথা এবং ‘লখার একুশে’ গল্পে বর্ণিত শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন যেন একই সূত্রে গাঁথা। লখা কথা বলতে না পারলেও গাছের উঁচু ডালে উঠে লাল ফুল সংগ্রহ করে ভাষাশহিদদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য। তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসে বাঙালির গর্বের উচ্চারণ। লখার মাঝেও যেন ভাষা আন্দোলনের চেতনা ফুটে উঠেছে। তাই আমরা বলতে পারি যে, আলোচ্য গল্পের মূল সুর উদ্দীপকেও প্রকাশিত হয়েছে।
প্রশ্ন ০৭
ফাহমিদা ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করে। ইংরেজিতে কথা বলতেই সে ভালোবাসে। বাংলায় বললেও সে অনেকটা ইংরেজির মতো করেই তা বলে। একুশে ফেব্রুয়ারি কেন পালন করা হয়। ফাহমিদা তা ভালো করে জানে না। তবু অনেকেই ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে শহিদ মিনারে ফুল দিতে যায় বলে সেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবার সেও ফুল দিতে যাবে।
ক. আবুবকর সিদ্দিক কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
খ. প্রভাতফেরি বলতে কী বোঝ?
গ. ফাহমিদা ও লখার চরিত্রের বৈসাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো ।
ঘ. লখার মাঝে কাজ করেছে একুশের চেতনা যা ফাহমিদার মাঝে পুরোপুরি অনুপস্থিত- এ সম্পর্কে তোমার মতামত যুক্তির সাথে উপস্থাপন করো ।
৭নং প্রশ্নের উত্তর :
ক. আবুবকর সিদ্দিক ১৯৩৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন ।
খ. প্রভাতফেরি হলো একুশে ফেব্রুয়ারির সকালবেলার বিশেষ অনুষ্ঠান। সাধারণত ভোরবেলায় দল বেঁধে পাড়ায় পাড়ায় গান গেয়ে সবাইকে জাগিয়ে তোলার অনুষ্ঠানকে প্রভাতফেরি বলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে এটি একটি বিশেষ অর্থ বহন করে। ১৯৫২ সালের ভাষার জন্য সংগ্রামের মিছিলে শহিদ হওয়া রফিক, সালাম, বরকত জব্বারসহ অনেকের স্মরণে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে প্রভাতফেরি করা হয়।
গ. চেতনাগত দিক থেকে উদ্দীপকের ফাহমিদা ও লখার একুশে গল্পের লখা চরিত্রের বৈসাদৃশ্য রয়েছে। লখার একুশে’ গল্পে লখা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে বাংলাভাষী মানুষদের মধ্যে একুশের চেতনার যে প্রভাব তা তুলে ধরা হয়েছে। বাঙালির অস্তিত্বে মিশে থাকা একুশের চেতনাকে মহিমান্বিত করে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
ফাহমিদা একুশে ফেব্রুয়ারির মাহাত্ম্য সম্পর্কে কিছুই জানে না। বাংলায় কথা পর্যন্ত বলতে পারে না। তার মনে ভাষাশহিদদের প্রতি কোনো শ্রদ্ধা নেই। কারণ সে তাদের সম্পর্কে জানেই না। ‘লখার একুশে’ গল্পের লখা অতি সাধারণ এক কিশোর। সে কথা বলতে পারে। না। কিন্তু বুকের মধ্যে একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনা লালন করে। কিশোর লিখা শীতের সকালে গাছের উঁচু ডালে উঠে লাল ফুল সংগ্রহ করে শহিদ মিনারে যায় শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। তাই আমরা বলতে পারি যে, ফাহমিদা ও লখার চরিত্রে চেতনাগত বৈসাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ. ভাষাশহিদদের প্রতি তীব্র ভালোবাসা থাকায় “লখার মাঝে কাজ করেছে একুশের চেতনা যা ফাহমিদার মাঝে পুরোপুরি অনুপস্থিত” মন্তব্যের সঙ্গে আমি একমত।
লখার একুশে’ গল্পটি রচিত হয়েছে ভাষা আন্দোলনের চেতনা নিয়ে। বাংলাভাষী মানুষদের কাছে একুশে ফেব্রুয়ারি অনেক শ্রদ্ধার ও ভালোবাসার। প্রত্যেকের মনে এ দিনটির গুরুত্ব অনেক। এ বিষয়টিকেই তুলে ধরা হয়েছে লখা চরিত্রের মধ্যে দিয়ে।
উদ্দীপকের ফাহমিদার মধ্যে একুশের চেতনা পুরোপুরি অনুপস্থিত। সে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করে। ভালো বাংলা বলতে পারে না। একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে জানে না। কেন এ দিবসটি পালন করা হয় তাও সে জানে না। লখার একুশে’ গল্পের লখা একজন সাধারণ কিশোর। সে কথা বলতে পারে না। ফুটপাতে থাকে। কিন্তু তার চেতনায় রয়েছে একুশে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন ও ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ।
লখা সাধারণ কিশোর হয়েও বুকে একুশের চেতনা লালন করে। কনকনে শীতের সকালে লখা উঁচু গাছের ডাল থেকে পেড়ে আনে লাল ফুল। শহিদ মিনারে যায় সে ফুল দিতে। কথা বলতে না পারলেও সবার সঙ্গে গলা মিলিয়ে প্রভাতফেরির গান গায় সে। কোনো কিছুর পরোয়া না করে সে ফুল পেড়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহিদ মিনারে যায়। কিন্তু ফাহমিদা একুশে ফেব্রুয়ারি সম্পর্কে জানেই না। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির সঙ্গে আমি একমত।
আরও পড়ুনঃ লখার একুশে গল্পের আরো প্রশ্ন দেখুন






